১. আল্লামা সিন্ধী (র.) তাহকীকের ভিত্তিতে কোনো প্রশ্ন নেই। কারণ আল্লামা সিন্ধী বলেছেন যে, بـدأ -এর ইযাফত وحـي -এর দিকে হলো ইযাফতে বায়ানিয়া। এমতাবস্থায় শিরোনাম كـيـف كـان بـدأالـوحـي -এর অর্থ হবে হুযুর (স.) প্রতি অহী কিভাবে এসেছে? হাদীসে এর উত্তর দেওয়া হয়েছে ফেরেশতা অহী নিয়ে আসেন কখনো ঘণ্টির ধারাবাহিক আওয়াজের ন্যায় আবার কখনো মানবাকৃতিতে।
২. শিরোনামের দুটি দিক রয়েছে। একটি বাহ্যিক দিক, অপরটি হলো বাস্তব দিক। বাহ্যিক দিক দিক হিসেবে এ হাদীসের সামঞ্জস্য হবে এভাবে যে, হাদীসে অধিকাংশ সময় অহী যে যে পন্থায় অবতীর্ণ হতো তা বর্ণনা করা হয়েছে। তা হলো : এক. ঘণ্টির ধারাবাহিক আওয়াজের ন্যায় অবতরণ। দুই. ফেরেশতার মাধ্যমে অবতরণ। ফেরেশতার মাধ্যমে অবতরণ আবার দুই প্রকার। ফেরেশতা নিজের আকৃতিতে অবতরণ অথবা মানুষের আকৃতিতে অবতরণ। এ বর্ণনা থেকে অহীর সাধারণভাবে আগমনের পন্থাসমূহ বুঝা গেল। সুতরাং সূচনালগ্নে অহীর আমনের পন্থা কি ছিল এখান থেকে এ দিকনির্দেশনাও পাওয়া গেল; অর্থাৎ অহী আগমনের সূচনাকালেও অহী এ পন্থায়ই অবতীর্ণ হতো।
দ্বিতীয় হলো এ শিরোনাম দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অহীর মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা। এ দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের আলোচ্য হাদীসটি এদিকে পরিষ্কার দিকনির্দেশনা দিচ্ছে। হযরত আয়েশা (রা.) বলেন: وكرب و تربَّد وجهه অহী অবতরণের সময় রাসূলুল্লাহ (স.) অস্থির হয়ে পড়তেন। তাঁর মুখমন্ডলের রঙ বিবর্ণ হয়ে যেত। খুব কষ্টের সাথে তিনি তা বরদাস্ত করতেন। অধিকন্তু একবার দুবার এ অবস্থার শিকার হননি; বরং যতবার অহীর আগমন হতো ততবারই এ অবস্থার শিকার হতেন। হুযুরের দেহ মুবারক নিংড়িত হয়ে যেত। এ থেকে বুঝা যায় যে, অহী একটি খুব গুরুত্বপূর্ণ ও মর্যাদাশীল বিষয়। অন্যথায় বারবার এরূপ কষ্ট করার কি অর্থ হতে পারে। গুরুত্ব ও মর্যাাদার দিকে লক্ষ্য রেখেই কষ্ট সহ্য করতেন। এমনকি জীবনের এক তৃতীয়াংশেরও অধিক সময় এ কষ্ট সহ্য করেছেন। যদি কৃত্রিমতা হত, তবে একে দিনদে কযেকবার তা বরদাশত করতে পারতেন না। হযরত আদম (আ.)-এর প্রতি সারা জীবনে শুধু দশবার অহীঅবতীর্ণ হয়েছে। হযরত নূহ (আ.)-এর প্রতি তাঁর নবুওয়াত যুগে ৫০ বার অহী এসেছে, হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর প্রতি ৪৮ বার। হযরত ঈসা (আ.)-এর প্রতি শুধু দশবার অহী অবতীর্ণ হয়েছে। অথচ সবৃশৈষ নবী হযরত মুহাম্মদ স্লাাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর প্রতি অবতীর্ণ হয়েছে ২৪ হাজার বার। প্রতিবারই তিনি এ কষ্ট সহ্য করেছেন। এর ফলে নবী করীম (স.)-এর সত্যতার সাথে সাথে অহীর মর্যাদা ও গুরুত্ব ভাল করে বুঝা যায়।
কোন মন্তব্য নেই