Header Ads

৩য় হাদিসঃ হেরা গুহায় কৃত ইবাদতের ধরণ ও প্রকৃতি

এ ব্যাপারেও কথা হয়েছে যে, নবী করীম (সা.) হেরা গুহায় কোন ধর্ম অনুযায়ী ইবাদত করতেন? নূহ, ইবরাহীম, মূসা (আ.) প্রমুখের দীন অনুযায়ী ইবাদত করতেন। এ ধরনের বিভিন্ন উক্তি বর্ণনা করা হয়েছে।

১. শায়খ আব্দুল হক মুহাদ্দিসে দেহলবী (র.) বলেন:كـان عـبـادَتُـه صـ قـبـل الـبـعـثـة عـلـي مـلـة ابـراهـيـم عـ  নবুওয়তির পূর্বে তার ইবাদত ছিল ইবরাহীম (আ.)-এর র্ধম অনুসারে। এ অভিমতটি সমধিক প্রসিদ্ধ। অধিকন্তু আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (র.)স্বীয় অভিমতের স্বপক্ষে প্রমাণ উল্লেখ করতে গিয়ে লেখেন যে, সীরাতে ইবনে হিশামের এক রেওয়ায়েতে يـتـحـنـث শব্দের স্থলে يـتـحـنـف শব্দ উল্লেখ হয়েছে। (ফতহুল বারী ১ : ৩১) আর يـتـحـنـف অর্থ হচ্ছে : তিনি হানাফিয়ার অনুসরণ করতেন। আর হানাফিয়া হচ্ছে হযরত ইবরাহীম (আ.) -এর ধর্ম। সুতরাং তার বক্তব্যের অর্থ দাঁড়ায় যে, তিনি হেরা গুহাতে হযরত ইবরাহীম (আ.)-এর ধর্মমত অনুসরণ করে ইবাদত করতেন। কিন্তু  এ ক্ষেত্রে প্রশ্ন উত্থাপিত হতে পারে যে, পূর্ববর্তী ধর্মের মধ্যে তো বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটেছিল। সুতরাং হযরত ইবরাহীম (আ.) -এর ধর্মমত তখন অবিকৃত ছিল এ সম্পর্কে তিনি সন্দেহমুক্ত হতে পারলেন কিভাবে? তার নির্ভরযোগ্য উপকরণ কি ছিল?

তাই প্রাধান্য হলো যা در مـخـتـار গ্রন্থকার লিখেছেন:والـمـخـتـار عـنـدنـا انـه كـان يـعـمـل بـمـا ظـهـرلـه مـن الـكـشـف الـصـادق مـن شـريـعـة ابـراهـيـم وغـيـره (در مـخـتـارجـلـد اول) অর্থাৎ আমাদেও হানাফীদের মতে কাশ্ফ ও ইলহামের মাধ্যমে তাঁর কাছে ইবাদতের যে বিষয়গুলি পৌঁছতে থাকত তিনি সে মোতাবেক ইবাদত করতেন। বিশেষ কোনো নবীর অনুসরণ তিনি করতেন না। তবে হতে পার কাশফ ও ইলহাম ইবরাহীম (আ.)-এর ধর্ম অনুযায়ী হত। যেমন পরবর্তীতে মিল্লতে ইবরাহীমীর অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

قـولـه قـبـل ان يـنـزع الـي اهـلـه : [অর্থাৎ যতক্ষণ পর্যন্ত পরিবার-পরিজনের প্রতি আগ্রহ না হত, ততক্ষণ পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করতেন।] কখনো কখনো এক মাস পর্যন্ত অবস্থানেরও অবকাশ হতো। যেমন মুসলিমের এক রেওয়ায়েতে আছে:جـاورت بـحـراء شـهـرا আমি হেরা গুহায় একমাস পর্যন্ত থেকেছি।

قـولـه ويـتـزود لـذلـك : [এবং তিনি পানাহারদ্রব্য এবং পাথেয় সাথে নিয়ে যেতেন।] এর দ্বারা বুঝা গেল যে, তাওয়াক্কুলের উপকরণ পরিহার করা উচিত নয়। বস্তুত উপকরণ বর্জন তাওয়াক্কুল নয়; বরং তা হলো বৈরাগ্য। অবশ্য এটা লক্ষ্য রাখতে হবে যে, এগুলি মাল ও আসবাব হলো উপকরণ, এগুলি রব বা প্রতিপালক নয়। এ সমস্ত উপকরণ সত্তেও আল্লাহ তাআলা ইচ্ছা করলে কার্যসিদ্ধি হবে নতুবা নয়।

قـولـه حـتـي جـاءه الـحـق الخ : [এমনকি তার নিকট সত্য আগমন করে, যখন তিনি হেরা গুহায় ছিলেন।] অর্থাৎ আকস্মিক এবং অপ্রত্যাশিতভাবে তার নিকট অহী এসে পৌঁছায়। কিতাবুত্তাফসীরের রেওয়ায়েতে আছে:حـتـي فـجـئـة অর্থাৎ حـتـي আকস্মিকতার জন্যে। আর حـق দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অহী।

قـولـه فـجـاءَهُ الـمـلـك : অতঃপর তাঁর নিকট ফেরেশতা আগমন করল। ফেরেশতা আগমনের দিনটি ছিল:يـوم الاثـنـيـن لـسـبـع عـشـرة خـلـت مـن رمــضـان وهـو ابـن اربـعـيـن سـنـة  রমযানের ১৭ তারিখ সোমবার, যখন তাঁর বয়স হয়েছিল ৪০ বছর। (উমদাতুল কারী ১/৬১)

উল্লেখ্য فـجـاءه -এর মধ্যে فـا টি تـعـقـيـبـيـة নয়; কারণ ফেরেশতার আগমন অহীর পরে ছিলনা, বরং ফেরেশতা তথা জিবরাঈল (আ.) ই তো অহী নিয়ে আসেন।  সুতরাং فـا টি হলো তাফসীরিয়্যাহ ও তাফসীলিয়্যাহ।

قـولـه إقْـرأ : [ফেরেশতা এসে বললেন] পাঠ করুন। প্রশ্ন ঃ এখানে প্রশ্ন উত্থাপিত হয় যে, ফেরেশতার তো জানা ছিল যে, নবী কারীম (স.) ছিলেন উম্মী। সুতরাং উম্মী বা অপড়া ব্যক্তিকে পড়ার নির্দেশ করা সাধ্যাতীত বিষয়ে বাধ্যকরণ নয় কি? তাহলে ফেরেশতার পক্ষ থেকে পড়ার নির্দেশপ্রদান কেন?

 উত্তর : এ নির্দেশটি تـكـلـيـفـي বা দায়িত্ব চাপানোর জন্যে নয়; বরং এটি হলো امـر تـلـقـيـنـي তথা শিক্ষামূলক নির্দেশ। অর্থাৎ  আমি পড়ছি, আপনিও আমার সাথে সাথে পড়ন। সুতরাং জিবরাঈল (আ.)-এখানে পাঠের নির্দেশ দেননি;  বরং পাঠ-শিক্ষার নির্দেশ দিয়েছেন। কিন্তু হুযুর (স.) এটিকে শব্দের বাহ্যিক অর্থের প্রতি লক্ষ্য করেছেন যে, পাঠের নির্দেশ প্রদান করা হচ্ছে, তাই উত্তরে তিনি বলেছেন:مَـا انـا بِـقَـارِئ আমি পড়তে পারিনা অথবা আমি সুন্দর করে পড়তে পারি না।

যখন এটা বুঝা গেল যে, এ নির্দেশটি تـكـلـيـفـي বা দায়িত্ব চাপানোর জন্যে নয়; বরং এটি হলো امـر تـلـقـيـنـي তথা শিক্ষামূলক নির্দেশ। সুতারং এর অর্থ আমি শিক্ষিত নই এমন তর্জমা করা সঠিক নয়। কেননা মৌখিক শিক্ষার মাধ্যমে শিখানো বাক্যগুলি মুখে আওড়ানো এটা উম্মী হওয়ার পরিপন্থি নয়। যেমন মক্তব-মাদরাসায় রাতদিন এটা আমরা দেখে থাকি। সুতরাং ما انا بقارئ-এর সঠিক তরজমা হবে অহীর ভারীত্ব ও কঠিনতার কারণে আমার মুখ চলছেনা। অর্থাৎ আমি পড়তে পারছি না।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.