Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল হায়েযঃ হায়েযা রমণীর সাথে আলিঙ্গন প্রসঙ্গে

باب مُبَاشَرَةِ الْحَائِضِ

পরিচ্ছেদ: হায়েযা রমণীর সাথে আলিঙ্গন প্রসঙ্গে

ব্যাখ্যা: مباشرة শব্দটি بشر থেকে উ™ভূত, যার অর্থ হলো ত্বক, শরীরের চামড়া। শব্দটি বাবে مفاعلة-এর মাসদার, যার অর্থ হলো একে অপরকে ছোঁয়া; ত্বকের সাথে ত্বক লাগানো। এখানে উদ্দেশ্য হলো এক সঙ্গে শয়ন করা। তবে এখানে مباشرة দ্বারা সঙ্গম করা কখনোই উদ্দেশ্য নয়। যেমনটি হাদীস শরীফে اتزار-এর শর্ত দ্বারা তা স্পষ্ট বুঝে আসে।

حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ، عَنِ الأَسْوَدِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كُنْتُ أَغْتَسِلُ أَنَا وَالنَّبِيُّ، صلى الله عليه وسلم مِنْ إِنَاءٍ وَاحِدٍ، كِلاَنَا جُنُبٌ‏.‏ وَكَانَ يَأْمُرُنِي فَأَتَّزِرُ، فَيُبَاشِرُنِي وَأَنَا حَائِضٌ‏.‏ وَكَانَ يُخْرِجُ رَأْسَهُ إِلَىَّ وَهُوَ مُعْتَكِفٌ، فَأَغْسِلُهُ وَأَنَا حَائِضٌ‏.‏

অনুবাদ : উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, আমি ও আল্লাহর নবী (সা.) অপবিত্র অবস্থায় একই পাত্র থেকে পানি নিয়ে গোসল করতাম। তাঁর নির্দেশে ঋতুবতী অবস্থায় আমি ঋতুর কাপড় পরতাম এবং তিনি আমার সাথে (স্বাভাবিক) মেলামেশা করতেন। তিনি এতেকাফ অবস্থায় মসজিদ থেকে আমার দিকে মাথা বাড়িয়ে দিতেন এবং আমি ঋতু অবস্থায় তাঁর মাথা ধুয়ে দিতাম।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَيُبَاشِرُنِي وَأَنَا حَائِضٌ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে এখানে ৪৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে। তাছাড়া মুসলিম ১৪১ নাসাঈ ৪৩ আবুদাউদ ৩৫ তিরমিযী ১৯ ইবনে মাজা ৪৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ خَلِيلٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَلِيُّ بْنُ مُسْهِرٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو إِسْحَاقَ ـ هُوَ الشَّيْبَانِيُّ ـ عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الأَسْوَدِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَتْ إِحْدَانَا إِذَا كَانَتْ حَائِضًا، فَأَرَادَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم أَنْ يُبَاشِرَهَا، أَمَرَهَا أَنْ تَتَّزِرَ فِي فَوْرِ حَيْضَتِهَا ثُمَّ يُبَاشِرُهَا‏.‏ قَالَتْ وَأَيُّكُمْ يَمْلِكُ إِرْبَهُ كَمَا كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَمْلِكُ إِرْبَهُ‏.‏ تَابَعَهُ خَالِدٌ وَجَرِيرٌ عَنِ الشَّيْبَانِيِّ‏.‏

অনুবাদ : উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, আমাদের কেউ ঋতুবতী হলে এবং সেই অবস্থায় আল্লাহর রাসূল (সা.) তার সাথে মেলামেশা করতে চাইলে তাকে অধিক রক্তস্রাবের কারণে ঋতুর কাপড় পরার নির্দেশ দিতেন। তারপর তিনি তার সাথে মেলামেশা করতেন। আয়িশা বলেন, তোমাদের মধ্যে কে আল্লাহর নবী (সা.)-এর মত নিজের কাম প্রবৃত্তি দান করতে সক্ষম?

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য ثُمَّ يُبَاشِرُهَا‏ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৪৪, ৪৪ ও ২৭২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا أَبُو النُّعْمَانِ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ حَدَّثَنَا الشَّيْبَانِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ شَدَّادٍ، قَالَ سَمِعْتُ مَيْمُونَةَ، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِذَا أَرَادَ أَنْ يُبَاشِرَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ أَمَرَهَا فَاتَّزَرَتْ وَهْىَ حَائِضٌ‏.‏ وَرَوَاهُ سُفْيَانُ عَنِ الشَّيْبَانِيِّ‏.‏

অনুবাদ : উম্মুল মুমিনীন হযরত মায়ুমনা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) তার কোনো স্ত্রীর সাথে ঋতু অবস্থায় মেলামেশা করতে চাইলে তাকে ঋতুর কাপড় পরার নির্দেশ দিতেন।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য إِذَا أَرَادَ أَنْ يُبَاشِرَ امْرَأَةً مِنْ نِسَائِهِ -এর সাথে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো কুরআনের আয়াত: فَاعْتَزِلُوا النِّسَآءَ فِى الْمَحِيْضِ এর ব্যাপকতাকে নির্দিষ্ট করা। এ আয়াতে হায়েযকালীন স্ত্রীদের থেকে দূরে থাকার কথা বলা হয়েছে। এর ব্যাপকতা দ্বারা সকল প্রকার قربان তথা নৈকট্যের নিষেধাজ্ঞা বুঝে আসে। ইমাম বুখারী এখানে কুরআনের ব্যাপকতা থেকে ঐ সকল استثناء সমূহ উলে­খ করছেন যেগুলো হাদীসে উদ্ধৃত রয়েছে। যেমন একসাথে পানাহার, একে অপরের চুল আঁচড়ানো ইত্যাদি। অর্থাৎ ইমাম বুখারী বলতে চাচ্ছেন যে, হায়েযার সাথেও কোনো কোনো مباشرة জায়েয আছে।

ব্যাখ্য-বিশ্লেষণ

আল্লামা আইনী (র.) বলেন: اعلم ان مباشرة الحائض علي اقسام

ঋতুবর্তী মহিলার সাথে আলিঙ্গন তিনভাবে হতে পারে:

১.    সহবাসের মাধ্যমে, এটি উম্মতের ঐক্যমতে হারাম। এমনকি ইমাম নববী (র.) এটাকে হালাল বলে ধারণা কারীর উপর কুফরের হুকুম আরোপ করেছেন। وفيه بحث

২.    নাভির উপরের অংশ এবং হাটুর নিচের অংশ দ্বারা সম্ভোগ করা। এটা জায়েজ হওয়ার ব্যাপারে ঐকমত্য রয়েছে।

৩.    সহবাস ব্যতীত অন্য কোনো উপায়ে নাভির নিচের অংশ এবং হাটুর উপরের অংশ দ্বারা (গুহ্যদ্বার ও যোনীপথ ব্যতীত) উপভোগ করা, এ ব্যাপারে মতানৈক্য রয়েছে।

ইমামত্রয় ইমাম আজম, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম মালেক ও ইমাম আবু ইফসুফের মতে এটা নাজায়েয। ইমাম আহমদ ও ইমাম মুহাম্মদ (র.)-এর মতে সঙ্গম না হওয়ার শর্তে এর সূরত বৈধ।

ইমাম আহমদ প্রমুখের দলিল হলো: সহীহ মুসলিম শরীফে: (খ : ১. পৃ: ১৪৩) হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত এক সুদীর্ঘ হাদীস। তাতে রাসূল  (সা.) -এর উক্তি রয়েছে: اصنعـوا كـل شـئ الا الـنكـاح - অর্থাৎ সঙ্গম ব্যতীত সব কিছু করতে পার। এ রেওয়ায়েতটির প্রত্যক্ষ ভাষ্য দ্বারা বুঝাচ্ছে যে, সঙ্গম ছাড়া সব কিছুই হালাল।

জমহুরের দলিল হলো বুখারী শরীফের এ বাবে বর্ণিত তিনটি হাদীস এবং তিরমিযী, আবূ দাঊদ, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ, ও মুসনাদে আহমদে বর্ণিত হযরত আয়েশা উম্মে সালামা উম্মে হাবীবা হযরত আনাস ও হযরত মু‘আয ইবনে জাবাল প্রমুখের হাদীসসমূহ। সবগুলো হাদীসের যৌথ মর্ম হলো ইযার পরিধানের পর রাসূল  (সা.)  তাদের সাথে আলিঙ্গন করেছেন। ইমাম বুখারী এ মাসআলায় জুমহূরের সাথে রয়েছেন।

শায়খুল হাদীস (র.) এত মতভেদকে এভাবে বর্ণনা করতেন যে, এ মাসআলায় বৃদ্ধরা একদিকে আর জোয়ানরা একদিকে। বৃদ্ধদের মতে জায়েয, আর জোয়ানদের মতে নাজায়েয। ইমাম মুহাম্মদ যেহেতু ইমাম আবু ইফসুফ থেকে ছোট ছিলেন, আবার ইমাম আহমদ (র.) ইমাম চতুষ্টয়ের মাঝে কারগতভাবে সর্বশেষ ছিলেন, সম্ভবত এ কারণে তিনি এদেরকে জোয়ান বলে আখ্যায়িত করছেন। :  আদ্দুররুল মানযুদ

ايكم يملك الخ : হযরত আয়েশা (রা.) বলেন, তোমাদের কে আছে যে, নিজের খায়েশকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পাওে, যেমনটি নবী করীম (সা.) রাখতে পারতেন।

হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ (র.) বলেন: ان مذهب عائشة كراهة المباشرة لغير المتوثق بنفسه


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.