Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল ইমানঃ জিবারাঈল আঃ এর প্রশ্ন প্রসঙ্গে

باب سُؤالِ جبريلَ النبيَّ صلى الله عليه و سلم عن الإيمانِ والإسلامِ والإحسانِ وعلمِ الساعةِ و بيانِ النبيَّ صلي الله عليه وسلم لَهُ ثُمَّ قَالَ: ্রجَاءَ جِبْرِيلُ- عَلَيْهِ السَّلاَمُ- يُعَلِّمُكُمْ دِينَكُمْ  فَجَعَلَ ذَلِكَ كُلَّهُ دِينًا، وَمَا بَيَّنَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِوَفْدِ عَبْدِ الْقَيْسِ مِنَ الإِيمَانِ، وَقَوْلِهِ تَعَالَى: {وَمَنْ يَبْتَغِ غَيْرَ الإِسْلاَمِ دِينًا فَلَنْ يُقْبَلَ مِنْهُ}.

পরিচ্ছেদ : জিবরাঈল (আ.) কর্তৃক রাসূলুল্লাহ (স.)-এর কাছে ঈমান, ইসলাম, ইহসান ও কিয়ামতের জ্ঞান সম্পর্কে প্রশ্ন করা এবং তাকে দেওয়া রাসূল (স.)-এর উত্তর প্রসঙ্গে।

অতঃপর তিনি বললেন: জিবরাঈল (আ.) তোমাদের দীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন। তিনি এসব বিষয়কে দীন বলে আখ্যায়িত করেছেন। (এ বাবে আরো বর্ণনা হবে) ঈমান সম্পর্কে আব্দুল কায়েস গোত্রের প্রতিনিধি দলকে রাসূল (স.) যা বিবরণ দিয়েছেন , এ সম্পর্কে আল্লাহর ইরশাদ রয়েছে: ومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه আর কেউ ইসলাম ছাড়া অন্য কোনো দীন গ্রহণ করতে চাইলে তা কখনো কবুল করা হবে না। : আলে ইমরান : ৮৫

بابُ শব্দটি سُوال-এর দিকে মুযাফ হয়েছে, আর سُوال মুযাফ হয়েছে جبريل-এর দিকে। যা মাসদারের ইযাফত তার ফায়েলের প্রতি হওয়ার প্রক্রিয়া। আর جبريل শব্দটি علمية এবং عجمة হওয়ার কারণে গায়রে মুনসারিফ।

قوله : النبيّ এখানে نبيَّ মানসূব হবে, কারণ এটি মাসদারের মাফউল। (উমদাতুল কারী)

ব্যাখ্যা : এ তরজমাতুল বাব পুর্বোক্ত সকল তরজমাতুল বাবের সমন্বয়কারী। কারণ পুর্বোক্ত বাবসমূহে ঈমান, ইসলাম ও দীন শব্দসমূহকে একই অর্থবোধক প্রমাণিত করা হয়েছিল। এ অধ্যায়েও তার প্রমাণ রয়েছে। তা এভাবে যে, প্রথমে হাদীসে জিবরাঈল আনা হয়েছে, যাতে সকল আহকামকে দীন বলা হয়েছে। অতঃপর আব্দুল কায়েস গোত্রেরে প্রতিনিধির ঘটনা বিবৃত হয়েছে, যাতে সকল আহকামকে ঈমান বলা হয়েছে, যার দ্বারা دين ও ايمان-এর মাঝে ঐক্য প্রমাণিত হলো। অতঃপর আয়াতে কারীমাومن يبتغ غير الاسلام دينا فلن يقبل منه দ্বারা دين ও اسلام-এর মাঝে ঐক্য প্রমাণিত হলো। : ইরশাদুল কারী

পূর্ববর্তী বাবের সাথে যোগসূত্র: আল্লামা আইনী (র.) বলেন, পূর্বের বাব ছিল خوف المؤمن ان يحبط عمله আর এ অধ্যায়ে বলা হচ্ছে যে, ঈমান কিভাবে অর্জিত হবে, এবং শরীয়তের দৃষ্টিতে মুমিন কে?

 

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، أَخْبَرَنَا أَبُو حَيَّانَ التَّيْمِيُّ، عَنْ أَبِي زُرْعَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَارِزًا يَوْمًا لِلنَّاسِ، فَأَتَاهُ جِبْرِيلُ فَقَالَ مَا الإِيمَانُ قَالَ ‏"‏ الإِيمَانُ أَنْ تُؤْمِنَ بِاللَّهِ وَمَلاَئِكَتِهِ وَبِلِقَائِهِ وَرُسُلِهِ، وَتُؤْمِنَ بِالْبَعْثِ ‏"‏‏.‏ قَالَ مَا الإِسْلاَمُ قَالَ ‏"‏ الإِسْلاَمُ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ وَلاَ تُشْرِكَ بِهِ، وَتُقِيمَ الصَّلاَةَ، وَتُؤَدِّيَ الزَّكَاةَ الْمَفْرُوضَةَ، وَتَصُومَ رَمَضَانَ ‏"‏‏.‏ قَالَ مَا الإِحْسَانُ قَالَ ‏"‏ أَنْ تَعْبُدَ اللَّهَ كَأَنَّكَ تَرَاهُ، فَإِنْ لَمْ تَكُنْ تَرَاهُ فَإِنَّهُ يَرَاكَ ‏"‏‏.‏ قَالَ مَتَى السَّاعَةُ قَالَ ‏"‏ مَا الْمَسْئُولُ عَنْهَا بِأَعْلَمَ مِنَ السَّائِلِ، وَسَأُخْبِرُكَ عَنْ أَشْرَاطِهَا إِذَا وَلَدَتِ الأَمَةُ رَبَّهَا، وَإِذَا تَطَاوَلَ رُعَاةُ الإِبِلِ الْبُهْمُ فِي الْبُنْيَانِ، فِي خَمْسٍ لاَ يَعْلَمُهُنَّ إِلاَّ اللَّهُ ‏"‏‏.‏ ثُمَّ تَلاَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏{‏إِنَّ اللَّهَ عِنْدَهُ عِلْمُ السَّاعَةِ‏}‏ الآيَةَ‏.‏ ثُمَّ أَدْبَرَ فَقَالَ ‏"‏ رُدُّوهُ ‏"‏‏.‏ فَلَمْ يَرَوْا شَيْئًا‏.‏ فَقَالَ ‏"‏ هَذَا جِبْرِيلُ جَاءَ يُعَلِّمُ النَّاسَ دِينَهُمْ ‏"‏‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ جَعَلَ ذَلِكَ كُلَّهُ مِنَ الإِيمَانِ

অনুবাদ : হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেন, একদিন আল্লাহর নবী (সাঃ) লোকজনের সম্মুখে বসেছিলেন। এমন সময় একজন লোক এসে তাঁকে প্রশ্ন করলো, ঈমান কি? তিনি বললেন, ঈমান হলো, তুমি আল্লাহ, তাঁর ফিরেশতা, আখিরাতে তাঁর সাথে সাক্ষাত ও তাঁর রাসূলগণের প্রতি বিশ্বাস রাখবে। মৃত্যুর পর আবার জীবিত হতে হবে, তাও বিশ্বাস করবে। লোকটি জানতে চাইলো, ইসলাম কি? তিনি বললেন, ইসলাম হলো, তুমি আল্লাহর দাসত্ব করতে থাকবে এবং তাঁর সাথে অংশীদার স্থাপন করবে না, নামায আদায় করবে, নির্ধারিত ফরয যাকাত আদায় করবে এবং রমযানে রোযা পালন করবে। সে প্রশ্ন করলো, ইহসান কি? তিনি বললেন, ইহসান হলো, তুমি এমনভাবে আল্লাহর দাসত্ব করবে যে, তাঁকে দেখছো, যদি তাকে না দেখো, তিনি তোমাকে দেখছেন বলে অনুভব করবে। সে জানতে চাইলো, কিয়ামত কখন হবে? তিনি বললেন, এ ব্যাপারে যাকে প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি প্রশ্নকারীর চেয়ে বেশী জানেন না। তবে আমি তোমাকে কিয়ামতের লক্ষণসমূহ বলে দিচ্ছি, যখন দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে এবং কালো উটের রাখালরা যখন ইমারত নিয়ে পরস্পর গর্ব করবে। যে পাঁচটি জিনিসের জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ রাখেন, কিয়ামতের জ্ঞান তারই মধ্যে শামিল। এরপর নবী (সাঃ) এই আয়াত পড়লেন:

‘আল্লাহর নিকটই কিয়ামতের জ্ঞান রয়েছে। আর তিনি বৃষ্টি বর্ষণ করেন এবং মাতৃগর্ভে কি আছে তা তিনিই জানেন। কোন জীবই আগামীকাল কি উপার্জন করবে তা জানে না এবং কোন জমিনে সে মরবে তাও জানে না। আল্লাহই সব জানেন ও খবর রাখেন।' এরপর লোকটি চলে গেল। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বললেন, তোমরা তাকে ফিরিয়ে আন। কিন্তু সাহাবায়ে কেরাম দেখতে পেলেন না। তখন তিনি বললেন, ইনি ছিলেন জিবরাঈল, লোকজনকে তাদের দ্বীন শিক্ষা দিতে এসেছিলেন।

তরজমাতুল বাবের সাথে সম্পর্ক: হাদীসটির সম্পর্ক তরজমাতুল বাবের সাথে সুস্পষ্ট। কারণ তরজমাতুল বাবে যে সমস্ত জিনিস সম্পর্কে হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর প্রশ্ন এবং হুযুর (স.)-এর উত্তর বর্ণিত হয়েছিল, এ হাদীস তারই বিস্তারিত বিবরণ।

হাদীসটির পুনরাবৃত্তি : এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (র.) বুখারী শরীফে ১২ ও ৭০৪ নং পৃষ্ঠায় এবং মুসলিম, তিরমিযী, আবু দাউদ ও ইবনে মা-জাহ শরীফে বর্ণিত হয়েছে।

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ : হাদীসটি এখানে সংক্ষিপ্ত। মুসলিম শরীফে বিস্তারিতভাবে বর্ণিত হয়েছে। এ হাদীসটিকে সাধারণত হাদীসে জিবরাঈল নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে। হাদীসটি খুবই মাহাত্মপূর্ণ ও ব্যাপক অর্থবোধক। যার কারণে আল্লামা কুরতুবি বলেন: يصلح ان يقال له ام السنة হাদীসটিকে উম্মুস্সুন্নাহ নামে অভিহিত করার উপযুক্ত। অর্থাৎ যেমনিভাবে সূরা ফাতিহা পূর্ণ কুরআন শরীফের সার-নির্যাস হওয়ার কারণে তাকে উম্মুল কুরআন নামে অভিহিত করা হয়ে থাকে,  তেমনিভাবে হাদীস ভান্ডারের যাবতীয় বিষয়াবলীর সার-নির্যাস সংক্ষিপ্তাকারে এ হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, এবং হুযুর (স.)-এর ২৩ বছর জিন্দেগীর দিক নির্দেশনার মগজ ও সারসংক্ষেপ। এ কারণেই ইমাম মুসলিম (র.) তার কিতাব সহীহ মুসলিমের সূচনা এ হাদীস দ্বারা করেছেন। এবং মিশকাত গ্রন্থকারও তার অনুসরণ করেছেন। অধিকন্তু ইমাম বুগভী (র.) মাসা-বিহুস্সুন্নাহ ও শরহুস্সুন্নাহ গ্রন্থদ্বয়ের সূচনাও এ হাদীস দ্বারা করেছেন। তাছাড়া এ হাদীসটি হুযুর (স.)এর শেষ জীবনের। ২৩ বছর জিন্দেগীতে যে সমস্ত বিধিবিধান তাঁর উপর অবতীর্ণ হয়েছে এবং তিনি তার যে তাফসীর করে গেছেন, তার সবকিছুর সারমর্ম তিনি এ হাদীসে বর্ণনা করেছেন।

দীনের যাবতীয় শিক্ষা এ হাদীসে এসে গেছে। যেমন দীনের বিষয়াবলী নিম্নরূপ:

১. আকাইদ: যা ঈমানের অধীনে এসে গেছে।

২. আহকাম ও আমল : যা ইসলামের অধীনে এসে গেছে।

৩. আধ্যাত্মিক উন্নতি তথা আত্মশুদ্ধিকরণ : যা ইহসানের অধীনে এসে গেছে।

ঈমান হলো মূল আর ইসলাম হলো তার শাখা-প্রশাখা। কারণ ঈমানের পূর্ণাঙ্গতা ও সৌন্দর্য ইসলাম দ্বারা হয়ে থাকে। এবং সর্বশেষ স্তর হলো ইহসান। যা ফলের পর্যায়ভুক্ত।  আর এটা আল্লাহ তা‘আলার মহা অনুগ্রহ যে, জিবরাঈল (আ.)-এর মাধ্যমে তিনি দীর্ঘ ২৩ বছরব্যাপী দীনের বিষয়াদি অবতীর্ণ করে অবশেষে তার মাধ্যমেই এই দীনের সারমর্ম বর্ণনা করিয়ে দিয়েছেন। হুযুর (স.) যে বলেছেন:  هذا جبريل جاء يعلم الناس دينهم দ্বারা এটাই উদ্দেশ্য যে, পশ্নোত্তর দ্বারা দীনের সারনির্যাস জানা হয়ে যায়।

كان النبي صلي الله عليه وسلم بارزا يوما للناس : নবী করীম (স.) একদা জনসম্মুখে  একটি স্বতন্ত্র্য স্থানে উপবিষ্ট ছিলেন। তার বিস্তারিত বিবরণ আবু দাউদ শরীফের রেওয়ায়েতে রয়েছে। যার সারমর্ম হলো শুরুতে হুযুর (স.) কোনো স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্য ছাড়া মিলেমিশে বসতেন। বাহির থেকে কোনো মুসাফির এলে অপরিচিত হওয়ার কারণে নবী করীম (স.)-এর পরিচয় জিজ্ঞেস করতে হতো। উদাহরণত যিমাম ইবনে ছা’লার হাদীসে আছে যে তিনি এসে জিজ্ঞেস করেছিলেন:ايكم محمد صلي الله عليه وسلم (তোমাদের মধ্যে মুহাম্মদ কে?)

সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বলেন, আমরা রাসূল (স.)-এর নিকট আবেদন করলাম, যদি অনুমতি হয় তাহলে আমরা আপনার বসার জন্য একটি উঁচু আসন বানিয়ে দেই। আর আপনি সেখানে তাশরীফ রাখবেন, যাতে অপরিচিতদের জিজ্ঞেস করার প্রয়োজন না হয়। নবী করীম (স.)-এর অনুমতিক্রমে আমরা মাটির আসন বানিয়ে দেই। তিনি তাতে উপবেশন করতেন। সাহাবায়ে কেরাম (র.) চতুর্দিকে বসতেন। এটাকেই এ হাদীসে بارزا শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করা হয়েছে।

একটি মাসআলা: এ হাদীস থেকে একটি মাসআলা জানা গেল যে, শিক্ষক বা বক্তার জন্য যদি বিশেষ কোনো উচ্চ আসন বা স্টেজ তৈরি করা হয় অথবা তাকে কোনো স্বতন্ত্র্য আসনে বসানো হয়, তাহলে তা জায়েয হবে। কিন্তু অতিরিক্ত কৃত্রিম ও জাকজমকপূর্ণ না বানানো চাই। যেমন রাসূল (স.)-এর সেই আসন সম্পর্কে বর্ণিত হয়েছে যে: فبنينا له دكانا من طين আমরা তাঁর জন্য মাটির একটি আসন (চবুতরা) তৈরি করলাম।

فاتاه رجل : অর্থাৎ হযরত জিবরাঈল (আ.) মানবাকৃতিতে আগমন করলেন। মুসলিম শরীফে তাঁর সম্পর্কে বিস্তারিত বিবরণ এসেছে। যা নিম্নরূপ:

 رجل شديد بياض الثياب : অর্থাৎ তিনি ধবধবে সাদা ও পরিচ্ছন্ন পোশাক পরিহিত ছিলেন। এর দ্বারা সাদা পোশাক ও পরিচ্ছন্নতা মুস্তাহাব হওয়া বুঝা যায়।

شديد سواد الشعر : তাঁর চুল ছিল কুচকুচে কালো। এর দ্বারা বুঝা যায় বার্ধক্যের পূর্বে যৌবনকালে ইলম অর্জন করা উচিত। কেননা তখন শরীরে শক্তি থাকে প্রচুর, স্মরণশক্তিও প্রবল থাকে।

لا يري عليه اثر السفر : তার শরীরে ভ্রমণের কোনো চি‎হ্ন পরিলক্ষিত হচ্ছিল না। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, তিনি দূর-দূরান্তের কোনো মুসাফির ছিলেন না, অন্যথায় তার শরীরে ধুলাবালি লেগে থাকত, এবং কাপড় এত পরিচ্ছন্ন হতো না। তাহলে তিনি স্থানীয় কোনো বাসিন্দা ছিলেন, অথচ আমরা কেউ তাকে চিনতে পারছিনা। এটা প্রমাণ করে যে, তিনি বাইরের লোক ছিলেন। কেননা স্থানীয় লোক হলে আমরা কেউ না কেউ তাকে চিনতাম।

প্রশ্ন : নাসাঈ শরীফে আবূ ফারওয়ার সূত্রে বর্ণিত হয়েছে:وانه جبرئيل نزل في صورة دحية الكلبي তখন প্রশ্ন হয় যদি জিবরাঈল (আ.) দিহইয়ায়ে কলবী (রা.)-এর আকৃতিতে আসতেন তাহলে তাকে কেউ চিনতে পারলেননা কেন? তিনি তো প্রসিদ্ধ ব্যক্তি ছিলেন।

উত্তর : এ প্রশ্নের দুটি উত্তর দেওয়া যেতে পারে।

সম্ভবত হযরত দিহইয়ায়ে কালবী পূর্ব থেকেই সেখানে উপস্থিত ছিলেন, যখন জিবরাঈল (আ.) দিহইয়ায়ে কলবীর আকৃতিতে এলেন তখন সাহাবাগণের একিন ছিল যে, ইনি তো আমাদের দিহইয়া নন, কারণ তিনি তো পূর্ব থেকেই মজলিসে আছেন, তাই জিবরাঈল (আ.) কে কেউ চিনতে পারেন নি।

আল্লামা আইনী (র.) বলেন نزل في صورة دحية الكلبي বাক্যটি বর্ণনাকারীর ভুল। সঠিক বর্ণনায় এ বাক্য নেই। : উমদাতুল কারী

মূলত এবার জিবরাঈল (আ.) নিজের অবস্থা গোপন রাখার পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন। হাদীসে এটাও এসেছে , তিনি প্রশ্ন করেছিলেন: ماالايمان؟ ঈমান কি? নবী করীম (স.) যখন উত্তর দেন তখন তিনি বলেন صَدَقْتَ আপনি সঠিক বলেছেন। সাহাবায়ে কেরাম (রা.) বলেন:فعجبنا له يسأله و يصدقه আমাদের বিস্ময় হলো যে, তিনি প্রশ্নও করছেন যা অজ্ঞতার নির্দশন, আবার সত্যায়নও করছেন যা হলো জানার নিদর্শন। এটাও নিজেকে গোপন রাখার একটি কৌশল। মোটকথা প্রতিটি স্তরে চেষ্টা করা হয়েছে যেন তাকে কেউ চিনতে না পারে। এমনকি স্বয়ং রাসূল (স.)-এর নিকট হযরত জিবরাঈল (আ.) দীর্ঘ ২৩ বছরের পরিচিত হওয়া সত্তেও তখন চিনতে পারেননি; বরং তিনি চলে যাওয়ার চিনতে পেরেছেন। যিনি উম্মতকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য এসেছিলেন

নিজের পরিচয় গোপন রাখার কারণ সম্ভবত এটা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য হতে পারে যে, হুযুর (স.)-এর উপর পৃথিবীর শুরু থেকে শেষ পর্যন্তের যাবতীয় জরুরী ইলম ও মা’রিফাত এবং জ্ঞান-বিজ্ঞানের বিদ্যা পূর্ণাঙ্গরূপে দান করা সত্তেও বান্দার অবস্থা এই যে, নিজের সত্তা থেকে কিছুই হতে পারে না, তার যা কিছু আছে তার সবই আল্লাহ প্রদত্ত। তিনি ইচ্ছা করলে অনুভূত ও প্রত্যক্ষদৃষ্ট জ্ঞানও ছিনিয়ে নিতে পারেন। হাকীকত মারেফাতের বিষয় তো জিজ্ঞাসার অবকাশও রাখে না। আল্লাহ নিজে বলেন:ولئن شئنا لنذهبن بالذي اوحينا اليك ثم لا تجد لك به علينا وكيلا ‘আমি ইচ্ছা করলে আপনার প্রতি যে পরিমাণ ওহী প্রেরণ করেছি সব ছিনিয়ে নিতে পারি, অতঃপর এ ওহী ফিরিয়ে আনার জন্য আমার বিপরীতে কোনো সাহায্যাকরীও পাবেন না।’ : বানী ইসরাঈল: ৮৬

অন্যত্র আছে: الا رحمة من ربك ان فضله كان عليك كبيرا কিন্তু এটা আপনার প্রভুর অনুগ্রহ (যে, তিনি এরূপ করেননি) নিশ্চয়ই আপনার প্রতি তাঁর অনুগ্রহ অনেক বড়।’ সূরা বনী ইসরাঈল : ৮৭

অর্থাৎ যদিও আমি এরূপ করব না, কিন্তু করলে করতে পারি। তার একটা দৃষ্টান্ত দেখিয়ে দিলেন যে, ২৩ বছরের পরিচিতি সত্তেও এবার জিবরাঈল (আ.) অপরিচিত থাকেন, তাঁকে তিনি চিনতে পারেন নি। আপনার অবস্থাই যেখানে এরকম, তাহলে অন্যদের অবস্থা কি হতে পারে? সুতরাং মানুষের কোনো কিছুর উপর গর্ব করা উচিত নয়।

হযরত মাওলামা ইয়াকুব নানূতুবী (র.) যিনি দারুল উলুম দেওবন্দের সর্বপ্রথম সদরুল মুদাররিসীন ছিলেন, একদিন তিনি ফতোয়ায় দস্তখত করার সময় নিজের নাম ভুলে যান। হাকীমুল উম্মত থানবী (র.) খানকা থেকে বাড়ি যাচ্ছিলেন, রাস্তায় নেমে তিনি বাড়ির পথ ভুলে দীর্ঘক্ষণ পর্যন্ত বিভ্রান্তের ন্যায় ঘুরতে থাকেন। হযরত থানবী বলেন, তখনই আমার এ হাদীসের কথা স্মরণ হয়ে যায়।

যেহেতু রাসূল (স.)কে র্প্ণূাঙ্গ ইলম দান করা হয়েছিল, যেমন তিনি বলেন:علمت علم الاولين والاخرين আমাকে পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সকলের জ্ঞান দান করা হয়েছে। তাই তার একটা দৃষ্টান্ত দেখিয়ে দিলেন যে, তা ছিনিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা আমার সবসময় রয়েছে। যাকে ইচ্ছা ইলম দিয়ে আবার ফেরত নিতে পারি, তিনি নবী হোন বা ওলী হোন।

قال الايمان اَنْ تُؤمِنَ بالله الخ  : আল্লাহর উপর ঈমান আনার অর্থ হলো আল্লাহর অস্তিত্ব ও তাঁর একত্ববাদের উপর একিন করা, এবং এ ব্যাপারে দৃঢ় বিশ্বাস রাখা যে, তিনি সমস্ত পরিপূর্ণ গুণাবলীর উৎস এবং যাবতীয় ত্রæটি থেকে মুক্ত ও পূতপবিত্র।

প্রশ্ন : এখানে তো تعريف الشئ بنفسه (বস্তুর সংজ্ঞা ঐ বস্তু দ্বারা করা) হয়েছে, অর্থাৎ প্রশ্ন করা হয়েছে ماالايمان؟ দ্বারা, আর উত্তরেও ঐ একই জিনিস অর্থাৎ الايمان ان تؤمن بالله الخ দ্বারা করা হয়েছে। এ ধরনের করা সঠিক নয়।

উত্তর : এর দুটি উত্তর দেওয়া যেতে পারে।

১.    এখানে تعريف الشئ بنفسه হয়নি; বরং বস্তুর সংজ্ঞা ভিন্ন জিনিস দ্বারা করা হয়েছে। তা এভাবে যে, সংজ্ঞায়িত বস্তু তথা الايمان দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঈমানের শরয়ী অর্থ,  আর সংজ্ঞা তথা ان تؤمن  দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঈমানের আভিধানিক অর্থ, অর্থাৎ সত্যায়ন করা, বিশ্বাস করা।

২.    প্রশ্ন মুল ঈমান সম্পর্কে ছিল না; বরং ঈমানের আনুসঙ্গিক বিষয় সম্পর্কে ছিল। যা হুযুর (স.)-এর উত্তর দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যাচ্ছে যে, তিনি উত্তরে ঐ সমস্ত জিনিস উল্লেখ করেছেন যেগুলির সাথে সত্যায়নের বিষয় সংশ্লিষ্ট।

قال ماالاسلام : এটা ছিল জিবরাঈল (আ.)-এর দ্বিতীয় প্রশ্ন। ইসলাম কি জিনিস? উত্তরে হুযুর (স.) বলেনان تعبد الله كانك تراه الخ কোনো রেওয়ায়েতে আছে ان تشهد ان لااله الاالله  ঝুঝা গেল যে, تعبد الله দ্বারাও উদ্দেশ্য হলো কালিমা পড়া। কেননা এটা ماالاسلام-এর জবাব। আর পূর্বেই বলা হয়েছে যে, ইসলাম হলো দেহের ন্যায়, আর ঈমান হলো রূহ বা আত্মার ন্যায়। আর এটা ছিল ঈমান ও ইসলামের পূর্ণ সংজ্ঞাদান ও উভয়ের মাঝে পার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট করার সঙ্গত স্থান। তাই এখানে সেই পার্থক্যটি স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যদিও রূপকার্থে এবং পূর্ণাঙ্গ স্তরে একটির প্রয়োগ অপরটির উপর প্রযোজ্য হয়। এ কারণে হাফেজ ইবনে রজব হাম্বলী (র.) এর প্রসিদ্ধ উক্তি রয়েছে: اذا اجتمعا افترقا واذا افترقا اجتمعا অর্থাৎ যখন ঈমান ও ইসলাম দুটি একসাথে একত্র হয়, তখন পৃথক পৃথক আসল অর্থ উদ্দেশ্য হয়, আর যখন উভয়টি পৃথক পৃথক হয় অর্থাৎ শুধু ঈমান বা শুধু ইসলাম বর্ণিত হয় তখন একটির প্রয়োগ অপরটির উপর প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ, উভয়টিই উদ্দেশ্য হতে পারে।

قال ماالاحسان : [ইহসান কি জিনিস?] এটা ছিল জিবরাঈল (আ.)-এর তৃতীয় প্রশ্ন। احسان শব্দের অর্থ হলো সুন্দর করা, উত্তম বানানো, সজ্জিত করা। প্রশ্নের উদ্দেশ্য হলো ঈমান ও ইসলামের হাকীকত তো জানা হলো, এখন এটাকে সুশোভিত ও সুন্দর করার পদ্ধতি বলুন? জবাবে রাসূল (স.) বললেন:ان تعبد الله كانك تراه ‘তুমি আল্লাহর ইবাদত এমনভাবে কর, যেন তিনি তোমাকে দেখছেন। এতে মূলত ইখলাসের তাকিদ ও পূর্ণ মনোনিবেশের প্রতি উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে যে, এমন কল্পনা করে ইবাদত কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছো।

প্রশ্ন : এখন সন্দেহ হতে পারত যে, এ পৃথিবীতে আল্লাহ তা‘আলাকে দেখা সম্ভব নয়; তাহলে একটি অসম্ভব জিনিসের কল্পনা কিভাবে হতে পারে? সহীস মুসলিম শরীফে একটি হাদীস আছে:واعلموا انكم لن تروا ربكم حتي تموتوا ‘তোমার মৃত্যুর আগ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলাকে দেখতে পারবে না।’ তাছাড়া পবিত্র মুসা (আ.) প্রশ্ন করেছিলেন: رب ارني انظر اليك তার জবাবে আল্লাহ তা‘আলা বলে দিয়েছিলেন:لن تراني আমাকে কখনো দেখতে পারবে না। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, দুনিয়াতে জড় দেহে আল্লাহ তা‘আলার দর্শন সম্ভব নয়।

বাকী রইল, হুযুর (স.) লাইলাতুল মি’রাজে আল্লাহ তা‘আলাকে দেখার ব্যাপার, যা বিতর্কিত হওয়ার কারণে যদি দর্শনের উক্তিটি গ্রহণ করা হয়, তখন বলা হবে যে, হুযুর (স.) এর থেকে ব্যতিক্রম। অথবা বলা হবে এটি উর্ধ্ব জগতের বিষয়, যা ইহজগতের বিষয়ের সাথে তুলনা হতে পারে না।

উত্তর : এ সংশয়ের নিরসন করা হয়েছে:فان لم تكن تراه فانه يراك দ্বারা, অর্থাৎ যদিও তোমরা আল্লাহ তা‘আলঅকে দেখতে পাবে না, তাহলে এটাতো তোমাদের দৃঢ় বিশ্বাস রয়েছে যে, তিনি তোমাদেরকে দেখছেন। সে কথাই অন্তরে বদ্ধমূল কর, এবং সেই একিন দৃঢ় হওয়ার পর তাকে দেখার মতই ইবাদত হবে। কারণ, আমল সুদৃঢ় করা নির্ভর করে আল্লাহ তা‘আলার দেখার উপর, তোমাদের দেখার উপর নয়। ইখলাস একথা অন্তরে হাজির রাখার উপর নির্ভরশীল যে, আল্লাহ তা‘আলা আমার প্রতিটি গতি-স্থিতি এবং অন্তরের  কুমন্ত্রণা ও ইচ্ছাসমূহকে প্রত্যক্ষ করছেন। একারণেই অন্ধ ব্যক্তি যদিও দেখতে পায় না, কিন্তু রাজ দরবারে পৌঁছে রাজকীয় সম্মান প্রদর্শনে কোনো প্রকার ত্রæটি করে না; বরং একথা চিন্তা করে যে, আমি যদিও বাদশাকে দেখছি না, কিন্তু বাদশাহ তো আমাকে অবশ্যই দেখছেন। সুতরাং এখানে বাদশার মতের পরিপন্থি এমন কোনো আচরণ যেন না হয়ে যায়, যার কারণে আমি এখান থেকে বহিষ্কৃত হই। মালিক যদি উপস্থিতও থাকে, এবং সে অন্ধ হয়, তাহলেও কর্মচারীরা যথারীতি কাজ করে না। কিন্তু যদি মালিক সামনে না থাকে, আর কর্মচারীদের যদি জানা থাকে যে, মালিক দূরে বসে বসে আমাদের দেখছেন, তাহলে মনোনিবেশসহকারে তারা যথারীতি কাজ চালিয়ে যায়। একারণেই তো সুলায়মান (আ.)-এর মৃত্যুর পরও বায়তুল মুকাদ্দাস মসজিদের নির্মাণকাজে জিনরা  কর্মব্যস্ত ছিল,  তারা যদি হযরত সুলায়মান (আ.)কে জীবিত কল্পনা না করত তাহলে তারা তৎক্ষণাৎ পালিয়ে যেত।

বুঝা গেল যে, দরবারীর দেখার কোনো কার্যকারিতা নেই; বরং দরবারওয়ালার দেখার কার্যকারিতা রয়েছে।

মোটকথা ইবাদত এমনভাবে কর যেন তুমি আল্লাহকে দেখছ। যদি মেনে নেই যে, তুমি তাকে দেখছ, তাহলে তুমি কি করতে, তখন যা করতে এখন না দেখেও তা-ই কর। কারণ যদি তুমি নাও দেখ কিন্তু তিনি তো তোমাকে দেখছেন। মোটকথা কাজ  নির্ভর করে আল্লাহ তা‘আলার দেখার উপর, তোমার দেখার উপর নয়।

ايمان- اسلام ও احسان-এর ক্রমবিন্যাস: প্রথম স্তর হলো ঈমানের। যার উপর পরকালে মুক্তি নির্ভর করে। ঈমানের পর দ্বিতীয় স্তর হলো ইসলামের। যার উপর পূর্ণাঙ্গ মুক্তি নির্ভর করে। ঈমান জাহান্নামের স্থায়ীত্ব  থেকে বিরত রাখে, আর ইসলাম জাহান্নামের সাধারণ প্রবেশ থেকেই রক্ষা করে। তাহলে স্থায়ীত্ব থেকে রক্ষা করা হলো প্রথম স্তর, আর সাধারণ প্রবেশ থেকে রক্ষা করা হলো দ্বিতীয় স্তর। এর পর হলো মর্যাদা বৃদ্ধির সর্বশেষ স্তর, যা অর্জিত হয় ইহসান দ্বারা। মোটকথা ঈমান ও ইসলামের জন্য ইহসান হলো পূর্ণাঙ্গের স্তর, তাই ঈমান ও ইসলামের পরে ইহসানের উল্লেখ করা হয়েছে।

قال متي الساعة : ‘কিয়ামত কবে আসবে? এটি হলো জিবরাঈল (আ.)-এর চতুর্থ প্রশ্ন, যা তিনি রাসূল (স.)-এর নিকট করেছিলেন। সর্বপ্রথম প্রশ্ন ছিল ঈমান সম্পর্কে, যা হলো সকল আমলের মূলভিত্তি, যা ব্যতীত কোনো আমলই গ্রহণযোগ্য হবে না। অতঃপর প্রশ্ন ছিল ইসলাম সম্পর্কে, যা হলো ঈমানের জন্য পূর্ণাঙ্গতাদানকারী, যা অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সুস্থতার পর্যায়ভুক্ত। এরপর হলো ইহসান সম্পর্কিত প্রশ্ন, যা হলো পূর্ণাঙ্গ সুস্থতা এবং মর্যাদাবৃদ্ধির কারণ। সুতরাং বাক্যত্রয়ের মধ্যকার পারস্পরিক যোগসূত্র স্পষ্ট। কিন্তু এরপর কিয়ামত সম্পর্কিত প্রশ্ন, যা বাহ্যত যোগসূত্রহীন মনে হয়।

উত্তর : আল্লামা নানূতুবি (র.) পূর্ববর্তী প্রশ্নের সাথে এ প্রশ্নের যোগসূত্র স্থাপন প্রসঙ্গে বলেন, এখানে  দুটি বিষয় লক্ষণীয়:

১.    সমগ্র বিশ্ব মানবজাতির জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে। যেমন আল্লাহর বাণী:خلق لكم مافي الارض جميعا ، وقال سخرنكم مافي السموات وما في الارض ، وغير ذلك من النصوص

২.    মানবজাতিকে সৃষ্টি করা হয়েছে আল্লাহর ইবাদতের জন্য। যেমন:وما خلقت الجن والانس الا ليعبدون

এখন এ দুটি বিষয়কে একত্র করলে যে ফল বের হয়, তাহলো সমগ্র বিশ্বের সৃষ্টি দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আল্লাহর ইবাদত। কেননা সমগ্র বিশ্ব হলো মানবজাতির জন্য, আর মানবজাতি হলো আল্লাহর ইবাদতের জন্য। সুতরাং বিশ্ব সৃষ্টির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আল্লাহর ইবাদত। আর ইবাদতের পূর্ণাঙ্গ ও সর্বোচ্চ স্তর হলো احسان ; সুতরাং পূর্ণাঙ্গ মানব হযরত মুহাম্মদ (স.) দুনিয়াতে আগমন করেছেন, তার স্তরের কাছাকাছিও কারো পৌঁছা সম্ভব নয়। আর তিনি ইবাদতে ইহসানের শিক্ষা ইলমী ও আমলীভাবে পরিপূর্ণ করেছেন, অতএব বিশ্বজগতের উদ্দেশ্য অর্জিত হয়ে গেছে।

এখন স্বভাবতই প্রশ্ন হয়, উদ্দেশ্য অর্জনের পর এই বিশ্বকারখানা কখন ধ্বংস করে দেওয়া হবে? উদাহরণত সভা-সমাবেশের জন্য বিভিন্ন প্রস্ততি গ্রহণ করা হয়, স্টেজ, মাইক, বিদ্যুৎ ও বাতি ইত্যাদির ব্যবস্থা করা হয়। সমাবেশ শেষে এসব কিছু ভেঙ্গে গুটিয়ে যথাস্থানে পৌঁছে দেওয়া হয়। তেমনিভাবে বিশ্ব সৃষ্টির উদ্দেশ্য তথা ইবাদত তার সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছে যাওয়ার পর স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে যে, কিয়ামত কখন আসবে? এ কারণেই রাসূল (স.) ইরশাদ করেন:بُعِثتُ انا والساعةُ كهاتين আমি এবং কিয়ামত কাছাকাছি। তাই হুযুর (স.)-এর আগমন কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার সংবাদ দিচ্ছে। যেমন আল্লাহ বলেন:اقتربت الساعة وانشق القمر ; তাই মু’জিযা হিসেবে চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া নবী করীম (স.)-এর নবুওয়াতের প্রমাণ। আর নবীজী (স.)-এর নবুওয়াত কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার প্রমাণ।

প্রশ্ন : নবী করীম (স.)-এর আগমনের পর অনেক যুগ পার হয়ে গেছে, অথচ এখনও কিয়ামত সংঘটিত হলো না কেন?

উত্তর : মুহাদ্দিসীনে কেরাম এ প্রশ্নের বিভিন্ন উত্তর দিয়েছেন। যেমন:

১.    বিশ্বজগতের হাজারো বছর উর্ধ্ব জগতের হিসেবে কয়েক দিন সময় বলে গণ্য হবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:ان يوما عند ربك كألف سنة مما تعدون তাই আমাদের হিসেবে যদিও দীর্ঘকাল অতিক্রান্ত হয়েছে, কিন্তু আল্লাহ তা‘আলার হিসেবে এখনো দেড় দিনও অতিক্রান্ত হয়নি।

২.    আল্লামা কাসেম নানূতুবী (র.) এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন এভাবে যে, ইবাদতের পূর্ণাঙ্গতা দুভাবে হয়ে থাকে। এক. ইবদাতকারীর সংখ্যাধিক্য হিসেবে পরিমাণ ও সংখ্যাগতভাবে। দুই. ইবাদতের ধরণ হিসেবে অবস্থা ও ধরণগতভাবে। তাই ধরণগত পূর্ণাঙ্গতা তো হুযুর (স.) করে দিয়েছেন। কেননা নবী করীম (স.)-এর দু রাকআত নামাজ উম্মতের সকল নামাজের তুলনায় ধরণগতভাবে অনেক উর্ধ্বে। বাকী রইল সংখ্যা ও পরিমাণগতভাবে ইবাদতের পূর্ণাঙ্গতা, তা এখনো সংঘটিত হয়নি; বরং ভবিষ্যতে হবে, যখন পৃথিবীর প্রতিটি ঘর ইসলামের আলোয় আলোকিত হবে। যেমনটি হাদীসে আছে:لا يبقي علي ظهر الارض بيت مَدَرولا وَبَر الا ادخله الله الاسلام এবং তা হবে হযরত ঈসা (আ.) পুনরায় দুনিয়াতে আগমনের পর। তখন এ বিশ্ব ভূবনকে ধ্বংস করে দেওয়া হবে। যেমনিভাবে স্টেজ সাজাতে এবং তা ভাঙ্গতে সময় লাগে। তাই যেমনিভাবে এ পৃথিবীকে পর্যায়ক্রমে তৈরি করা হয়েছে, তেমনিভাবে ধ্বংস করতেও কয়েক বছর সময় লাগবে। অবশ্য পরিশেষে كلمح البصر او هو اقربমুহূর্তে চোখের পলকে  বা তারও কম সময়ে কিয়ামত বাস্তবায়িত হবে। প্রথমে বাইতুল্লাহ ও উম্মুল কুরা তুলে নেওয়া হবে, অতঃপর অন্যান্য স্থানসমূহ।

যদি কোনো ব্যক্তি এখন বায়তুল্লাহকে ধ্বংস করার ইচ্ছা কওে তাহলে সে স্বয়ং আসহাবে ফীলের ন্যায় ধ্বংস হয়ে যাবে। আর যখন আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করবেন তখন একজন হাবশী গোলাম কা’বার একটি একটি ইট খুলে ফেলবে। যেমনটি হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। : ইরশাদুল কারী

ماالمسؤل عنها باعلم من السائل : এ বাক্যে مسؤل ও سائل-এর আলিফ লামটি عهديএবং استغراقي উভয়ই হতে পারে। عهدي হলে مسؤل ও سائل নির্দিষ্ট, তথা হুযুর (স.) ও জিবরাঈল (আ.)। আর আলিফ-লামটি استغراقي হলে অর্থ হবে কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সময়কাল সম্পর্কে না জানার বিষয়ে পৃথিবীর সকল জিজ্ঞাসাকারী ও জিজ্ঞাসিত ব্যক্তিই সমান। যেমন এর পূর্বে হযরত ঈসা (আ.) একই প্রশ্ন করেছিলেন হযরত জিবরাঈল (আ.)-এর নিকট। এবং জিবরাঈল (আ.)ও একই উত্তর দিয়েছিলেন।

ساحدثك عن اشراطها : আমি কিয়ামতের কিছু আলামত ও নিদর্শন তোমাকে বলে দিব। اشراط শব্দটি شَرَط এর বহুবচন। যার অর্থ নিদর্শন, আলামত ইত্যাদি। আর شَرْط-এর বহুবচন হলো شروط و شرائط যার অর্থ শর্ত। এখানে اشراط الساعة দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিকট পূর্ববর্তী নিদর্শনাবলী। একেবারেই সংঘটনমুহূর্তের নিদর্শনাবলী উদ্দেশ্য নয়; যেমনটি উত্তর দ্বারা বুঝে আসছে।

اذا وَلَدَتِ الأمَةُ رَبَّها : কোনো রেওয়ায়েতেرَبَّتَهَا  আবার কোনো রেওয়ায়েতে بَعْلَهَا আছে। শব্দত্রয় দ্বারা এ হাদীসে মালিক বা মনিব উদ্দেশ্য। এ বাক্যের ব্যাখ্যায় ওলামায়ে কেরামের বিভিন্ন উক্তি রয়েছে:

১.    সবচেয়ে শক্তিশালী উত্তর হলেঅ এখানে رب শব্দটি مربي অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ কিয়ামতের পূর্বমুহূর্তে পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়ে যাবে যে, مُرَبِّي (অভিভাবক) مُرَبَّي (অধীনস্থ) হয়ে যাবে। অর্থাৎ উচ্চশ্রেণীর লোক নিম্মশ্রেণীতে পরিণত হয়ে যাবে, ছোটরা বড়দের সম্মান করবে না।

২.    এর দ্বারা পিতামাতার অবাধ্যতার দিতে ইঙ্গিত করা হয়েছে। অর্থাৎ সন্তানসন্ততিরা পিতামাতার সাথে এমন আচরণ করবে, মালিকরা চাকর-বাকর ও দাসদাসীদের সাথে  যেমন করে থাকে। অর্থাৎ কিয়ামত পূর্বমুহূর্তে সন্তানসন্ততিরা পিতামাতাকে ধমক দিবে, তাদের সাথে দাপট দেখাবে, এবং তাদের উপর কর্তৃত্ব করবে

৩.    তৃতীয় মত হলো কিয়ামত পূর্বমুহূর্তে পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে যাবে যে, মানুষ জায়েয-না জায়েয ও হালাল-হারামের তারতম্য করবে না, তাই উম্মে ওয়ালাদ  (যে দাসীর ঘরে মালিক থেকে সন্তান হয়) ক্রয়-বিক্রয় করবে।  এভাবে সে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ক্রেতাদের কব্জায় যাবে, এমনকি তার সন্তান যে তার পিতার স্থলে মালিক হয়েছে, সে নিজ মাকে (ঐ উম্মে ওয়ালাদকে) ক্রয় করবে। এ অর্থে ان تلد الامة ربها বাক্যটি প্রকৃত অর্থে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া আরো অনেকগুলি উত্তর রয়েছে, তবে এর মধ্যে প্রথম ও দ্বিতীয়টিই অধিক নির্ভরযোগ্য, কারণ এর মধ্যে অন্য উত্তরগুলিও এসে গেছে।

শব্দ-বিশ্লেষণ:

تطاول : অর্থাৎ তারা উঁচু অট্টালিকা নির্মাণের ব্যাপারে একে অপরের সাথে গর্ব করবে।

حفاة : শব্দটি حافي-এর বহুবচন। অর্থ : নগ্নপদ; জুতাবিহীন খালি পা।

عراة : এটি عاري-এর বহুবচন। অর্থ: নগ্নদেহ; জামাবিহীন খালি শরীর।

رُعاة : শব্দটি راعي-এর বহুবচন। অর্থ : রাখাল।

بُهْمٌ : শব্দটি اَبْهُم-এর বহুবচন। অর্থ: বকরী, মেষ, ভেড়া, দুম্বার ছোট ছোট বাচ্চা। এবং গরুর বাচ্চার জন্যও শব্দটির ব্যবহার হয়ে থাকে। এর একবচন بهمة ; এ থেকেই بهيمة চতুস্পদ জন্তু, যার বহুবচন হলো بهائم

মোটকথা এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নিম্নস্তরের লোকজন কর্তৃত্ব ও ক্ষমতার অধিকারী হবে, এবং সম্ভ্রান্ত ও অভিজাত লোকেরা অপদস্থ ও দুর্বল হয়ে যাবে। নেতৃত্ব ও কর্তৃত্ব অযোগ্য লোকদের হাতে চলে যাবে, যোগ্য লোকেরা তা হতে বঞ্চিত হবে। কোনো রেওয়ায়েতে আছে:اذا وسد الامر الي غير اهله فانتظر الساعة যখন বিষয়াদি অযোগ্যদের নিকট অর্পণ করা হবে, তখন তোমরা কিয়ামতের অপেক্ষা করতে থাকবে। সা¤প্রতিককালে রাষ্ট্রের প্রতিটি শাখায়, প্রতিটি স্তরে, মাদরাসা ও খানকাগুলোতে যা হচ্ছে, তার প্রতিটি কর্মকান্ডই কিয়ামতের আলামত বলে বিবেচিত হওয়ার যোগ্য।

في خمس لا يعلمهن الاالله : কিয়ামতের সুনির্দিষ্ট সময়ের জ্ঞান ঐ পাঁচটি জিনিসের অন্তর্ভুক্ত, যেগুলো আল্লাহ ব্যতীত আর কেউ জানে না। অতঃপর তিনি এ আয়াত তিলাওয়াত করলেন:ان الله عنده علم الساعة কিয়ামত সংঘটিত হওয়ার সুনির্দিষ্ট জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই আছে, তিনিই বৃষ্টি বর্ষণ করেন, তিনিই জানেন মাতৃগর্ভে কি আছে, (সন্তান ছেলে না মেয়ে? এবং তাদের আকৃতি কি?) আর কেউ জানেনা আগামি কাল সে উপার্জন করবে? (ভাল না মন্দ) কেউ জানে না সে কোন ভূমিতে মৃত্যুবরণ করবে।

প্রশ্ন: ইমাম রাজী (র.) এখানে দুটি প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। এক. আয়াতের আলোকে এটা হওয়া উচিৎ ছিল যে, এ পাঁচটির মধ্যে থেকে কোনো একটি অংশবিশেষের ইলমও গায়রুল্লাহর না হওয়া। অথচ আমরা শত-সহস্র আওলিয়া কেরামের ঘটনা এ নির্দিষ্টতার পরিপন্থিকেই বুঝায়।  তেমনিভাবে مافي الارحام সম্পর্কে সিদ্দীকে আকবর (রা.)-এর ঘটনা রয়েছে যে, তিনি মৃত্যুর পূর্বেই জানতে পেরেছিলেন যে, তার গর্ভবতী স্ত্রীর গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে। এবং তিনি মৃত্যুর সময় মিরাস বণ্টন সম্পর্কে নিজ কন্যা হযরত আয়েশা (রা.) কে অসিয়ত করে বলেছিলেন তোমার আরো একটি বোন আছে। অথচ সে তখন মাতৃগর্ভে ছিল।

দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো এ পাঁচটির মধ্যে সীমাবদ্ধ কেন? আরো তো অনেকগুলি বিষয় রয়েছে যার জ্ঞান্য অন্যদের নেই। সুতরাং এ সীমাবদ্ধকরণ কিভাবে সঠিক হলো?

উত্তর : দ্বিতীয় প্রশ্নের সহজতর উত্তর আল্লামা সুয়ূতী (র.) লূবাবুন্নকূল গ্রন্থে দিয়েছেন যে, প্রশ্নকারীর প্রশ্ন এ পাঁচটি সম্পর্কেই ছিল। আর যে সংখ্যাটি কোনো প্রশ্নকারীর অনুযায়ী উল্লেখ করা হয় তা সর্বসম্মতিক্রমে সীমাবদ্ধের জন্য হয় না।

প্রথম প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য একটি ভূমিকা জেনে নিই। একটি জিনিসের কিছু আছে মূলনীতি, আর কিছু আছে শাখা ও প্রাসঙ্গিক বিষয়।  এখন যদি কেউ তার মূলনীতি সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে পারে তাহলে তাকে ঐ জিনিসের পারদর্শী বলা হবে। শুধুমাত্র কতগুলি শাখা ও প্রাসঙ্গিক বিষয় জানতে পারলে তাকে ঐ বিষয়ের বিজ্ঞ বলা হবে না। যেমন ডাক্তারি বিদ্যার অনেকগুলি মূলনীতি রয়েছে। কেউ যদি সেসব মূলনীতি সম্পর্কে পূর্ণরূপে অবগত হতে পারে তাহলে তাকে সে বিষয়ের পারদর্শী তথা ডাক্তার বলা হবে। কেউ যদি কোনো একটি রোগের কয়েকটি লক্ষণ ও তার ঔষধ মুখস্ত করে নিল তাহলে তাকে ডাক্তার বলা যাবে না। তেমনিভাবে কেউ যদি বেহেশতি যেওর পূর্ণ কিতাব মুখস্ত করে নেয় তাহলে তাকে ফকীহ বলা হবে না। যতক্ষণ পর্যন্ত উসূল ও মূলনীতি সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফ না হবে। কারণ, উসূল ও মলনীতি হলো চাবির পর্যায়ভুক্ত।

এ সৃষ্টিজগতের অদৃশ্য বিষয়াবলীর মূলনীতি সম্পর্কিত পূর্ণ জ্ঞান আল্লাহ তা‘আলা নিজের জন্য নির্দিষ্ট রেখেছেন। এসব মূলনীতিকে مفتاح الغيب বলে ব্যক্ত করা হয়েছে।

মোটকথা সৃষ্টিজগতের মূলনীতির জ্ঞান একমাত্র আল্লাহরই আছে। কোনো নৈকট্যশীল ফেরেশতা, আম্বিয়া, আউলিয়া বা অন্য কাউকে দেওয়া হয়নি।

সুতরাং বুঝা গেল যে, অদৃশ্য বিষয়াবলী দুই প্রকার: এক. تشريعي তথা শরীয়ত সম্পর্কিত। দুই. تكويني তথা সৃষ্টি সম্পর্কিত। تشريعي   যেমন ওহী। এগুলো সব গায়েবের অন্তর্ভুক্ত। এবং এর মৌলিক বিষয়াবলীও প্রয়োজন অনুপাতে শিক্ষা দেওয়া হয়। যেগুলো আম্বিয়া (আ.) এর দায়িত্বের সাথে সংশ্লিষ্ট। আর تكوينيات এর মূলনীতিগুলো আল্লাহ তা‘আলার জন্য নির্দিষ্ট। এগুলো থেকে আল্লাহ তা‘আলা যাকে  যে পরিমাণ সঙ্গত মনে করেন দান করেন। কিন্তু এসব শাখাগত জিনিস। কাজেই এগুলো জানলে তাকে আলিমুল গায়েব বা অদৃশ্যজ্ঞানী বলা জায়েয হবে না।

নোট: ইলমুল গাইব সম্পর্কিত বিস্তারিত ও দলিলভিত্তিক বিভিন্ন কিতাবাদি প্রচারিত হয়েছে। ইমদাদুল বারী শরহে বুখারী চতুর্থ  খন্ডে হযরত মাওলানা আব্দুল জাব্বার আজমী সাহেব (র.) এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। এবং রেজাখানী বেদাতীদের দলিল উল্লেখ করে কুরআনের আয়াত ও হাদীস দ্বারা সেগুলির পূর্ণাঙ্গরূপে খন্ডন করেছেন; যা অধ্যয়নযোগ্য। তাছাড়া ইরশাদুল কারীতে মাওলানা মুফতী রশীদ আহমদ (দাঃবা) অত্যন্ত সুন্দর দলিলভিত্তিক বিস্তারিতভাবে বেদাতীদের চূড়ান্তভাবে খন্ডন করেছেন। فجزاهم الله خير الجزاء


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.