Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কুতাবুল ইমানঃ বায়াত সম্পর্কে

بابٌ

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَبُو إِدْرِيسَ، عَائِذُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ أَنَّ عُبَادَةَ بْنَ الصَّامِتِ ـ رضى الله عنه ـ وَكَانَ شَهِدَ بَدْرًا، وَهُوَ أَحَدُ النُّقَبَاءِ لَيْلَةَ الْعَقَبَةِ ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ وَحَوْلَهُ عِصَابَةٌ مِنْ أَصْحَابِهِ ‏ "‏ بَايِعُونِي عَلَى أَنْ لاَ تُشْرِكُوا بِاللَّهِ شَيْئًا، وَلاَ تَسْرِقُوا، وَلاَ تَزْنُوا، وَلاَ تَقْتُلُوا أَوْلاَدَكُمْ، وَلاَ تَأْتُوا بِبُهْتَانٍ تَفْتَرُونَهُ بَيْنَ أَيْدِيكُمْ وَأَرْجُلِكُمْ، وَلاَ تَعْصُوا فِي مَعْرُوفٍ، فَمَنْ وَفَى مِنْكُمْ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّهِ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا فَعُوقِبَ فِي الدُّنْيَا فَهُوَ كَفَّارَةٌ لَهُ، وَمَنْ أَصَابَ مِنْ ذَلِكَ شَيْئًا ثُمَّ سَتَرَهُ اللَّهُ، فَهُوَ إِلَى اللَّهِ إِنْ شَاءَ عَفَا عَنْهُ، وَإِنْ شَاءَ عَاقَبَهُ ‏"‏‏.‏ فَبَايَعْنَاهُ عَلَى ذَلِكَ‏.‏


অনুবাদ : হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রাঃ) বলেন, একবার একদল সাহাবী আল্লাহর রাসূল (সাঃ)-কে পরিবেষ্টন করে বসে আছেন এমন সময় তিনি বললেন, তোমরা আমার কাছে এ বিষয়ের বাইয়াত গ্রহণ করো যে, তোমরা কোনো কিছুকে আল্লাহর সাথে অংশীদার স্থাপন করবে না, চুরি করবে না, ব্যভিচার করবে না, নিজেদের সন্তানদের হত্যা করবে না। কারো প্রতি মনগড়া মিথ্যা অপবাদ দিবে না এবং কোনো ন্যায় কাজে আমার আদেশ অমান্য করবে না। তোমাদের  যে কেউ এই অঙ্গীকার পালন করবে, সে আল্লাহর কাছে পুরস্কার পাবে। আর যে ব্যাক্তি এ বিষয়গুলোর কোনো কিছু করে এবং পৃথিবীতে তার শাস্তি পায়, তার জন্য এ শাস্তি কাফফারা হবে। আর যে ব্যক্তি ওগুলোর কোনো কিছু করে এবং তা আল্লাহ গোপন রাখেন, সে ব্যাপারটা আল্লাহর ইচ্ছাধীন। তিনি ইচ্ছা করলে ক্ষমা করবেন, আর ইচ্ছা করলে শাস্তি দিবেন। তখন আমরা (সাহাবায়ে কেরাম) ঐ শর্তে তাঁর কাছে বাইয়্যাত গ্রহণ করলাম। (নবুয়াত লাভ করার ১২ সনে হজ্জের সময় মদীনা থেকে ৭২ জন লোক মক্কা এসেছিলো। তারা রাতে সকলের আড়ালে আকাবাহ নামক জায়গায় আল¬াহর রাসূল (সাঃ)-এর সাথে সাক্ষাৎ করে ইসলাম কবুল করেন। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) তাদের মধ্য থেকে ১২ জনকে প্রতিনিধি ও নেতা নির্বাচিত করেন। এই রাতের নামই আকাবাহ্র রাত নামে পরিচিত)

বুখারী শরীফে হাদীসটির পুনরাবৃত্তি : ইমাম বুখারী (র.) এ হাদীসটি ১০ স্থানে উল্লেখ করেছেন। পৃষ্ঠা নং: ৭, ৫৫০, ৫৫১, ৫৭০, ৭২৭, ১০০৩, ১০০৪, ১০১৫, ১০৬৯, ১০৭১ ও ১১১২। তাছাড়া ইমাম মুসলিম ও তিরমিযীও হাদীসটি বর্ণনা করেছেন।

পূর্ববর্তী বাবের সাথে যোগসূত্র : পূর্ববর্তী অধ্যায়ে বলা হয়েছে:علامة الايمان حب الانصار এ শিরোনামহীন অধ্যায়টি হলো  তার দলিল যে, আনসারদেরকে মহব্বত করা ইমানের নিদর্শন। কারণ তাঁরা ভীষণ এক নাজুক মুহূর্তে রাসূল (স.) এর ইসলামের দাওয়াতের উপর নিজেদের জান-মাল দ্বারা সাহায্য করার জন্য বাই‘আত গ্রহণ করেছিলেন। এ কারণেই তাদের উপাধি হয়েছে আনসার বা সাহায্যাকারী।

উবাদা বিন সামিত (রা.) : নাম ও বংশ: উবাদাহ বিন সামিত বিন কায়স বিন আহরাম খাযরাজী আনসারী। বাই‘আতে আকাবায়ে ঊলা ও ছানিয়া, বদর, উহদ ও বাই‘আতে রিযওয়ানে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনিই সর্বপ্রথম ফিলিস্তিনের বিচারক নিযুক্ত হন। তিনি ছিলেন দীর্ঘাঙ্গী, স্বাস্থ্যবান, সুদর্শন ও গুনবান। ৩৪ হিজরী সনে বাইতুল মুকাদ্দাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।  মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

উল্লেখ্য, উবাদাহ নামে ১২জন রাবি আছেন, তবে উবাদাহ বিন সামিত শুধু এই একজনই সাহাবী।

باب শব্দটি উহ্য মুবতাদার খবর, অর্থাৎ هذا بابٌ  ;

বুখারী শরীফের অধিকাংশ নুসখায় বিশেষত ভারতীয় কপিগুলিতে  باب আছে কিন্তু শিরোনাম নেই। আবার কোনো কোনো নুসখায় بابও নেই। সেক্ষেত্রে শিরোনাম অনুসন্ধানের প্রয়োজনই নেই। কারণ, এ হাদীসটিও পূর্বের বাবের সাথে সম্পৃক্ত হবে। তবে যেহেতু অধিকাংশ নুসখায় بابটি শিরোনামবিহীন, এবং সহীহ বুখারীতে অনেক স্থানেই এরকম শিরোনামবিহীন বাব আসবে, এবং এটি হলো তার প্রথম স্থান। তাই প্রশ্ন হয় ইমাম বুখারী (র.) এখানে শিরোনাম গঠন করেননি কেন? অথচ তার উদ্দেশ্য শিরোনাম দ্বারাই প্রমাণিত হয়।

তরজমাতুলবাব বা শিরোনাম না লেখার কারণ : ব্যাখ্যাতাগণ এর অনেকগুলো কারণ উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে কয়েকটি নিম্নরূপ:

১.    আল্লামা কুস্তুল্লানী (র.) বলেন এটি হলো كالفصل  من الباب السابق তথা পূর্বের বাবের অনুচ্ছেদসদৃশ, যাকে অধীনস্থ অনুচ্ছেদ বলা হয়ে থাকে। কেননা এটি এক দৃষ্টিকোণ থেকে পূর্ববর্তী অধ্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যতা রাখে, কিন্তু অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে রাখে ভিন্নতা। তাই উভয়ের প্রতি দৃষ্টি রাখা হয়েছে। ভিন্নতার দৃষ্টিকোণ বিবেচনা করে باب রাখা হয়েছে, আবার সামঞ্জস্যতার দৃষ্টিকোণ বিবেচনা করে শিরোনামের প্রয়োজনয়ীতা অনুভব করা হয়নি। কারণ পূর্ববর্তী অধ্যায়ে حب الانصار বা আনসারদের প্রতি ভালবাসার কথা আলোচনা ছিল, আর এ শিরোনামহীন অধ্যায়ে আনসারদের কিছু বৈশিষ্ট্য এবং নিদর্শন বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ সামঞ্জস্যতা এজন্য নেই যে, এখানে حب الانصار বা আনসারদের প্রতি মহব্বতের আলোচনা নেই; বরং আনসারদের নামকরণের কারণ এবং তাদের ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে।

 নামকরণ এভাবে যে, আলোচ্য অধ্যায়ের হাদীস:وهو احد النقباء ليلة العقبة  এর দ্বারা নামকরণের কারণ জানা যায়। তা এভাবে যে, মক্কা থেকে মিনা যাওয়ার পথে রাস্তার বাম দিকে মিনার নিকটবর্তী এ ‘আকাবা’ অবস্থিত, যেখানে মদিনার কিছু সংখ্যক লোক হুযুর আকদাস (স.)-এর হাতে বাই‘আত গ্রহণ করেছিল, যাকে বাইআতে আকাবায়ে উলা বলা হয়। এরপর দ্বিতীয় বৎসর এরা আরো কিছু সাথীদেরকে নিয়ে এই একই স্থানে হাজির হয়ে পুনরায় বাই‘আত গ্রহণ করে, যাকে বাই‘আতে আকাবায়ে ছানিয়া বলা হয়। এবারে লোক ছিলেন প্রায় ৭৫জন। এরা হুযুর (স.)-এর নিকট দরখাস্ত করলেন যে, আপনি মদিনা চলে আসুন, আমরা জান-মাল দিয়ে আপনার সর্বাত্মক সাহায্য-সহযোগিতা করব। যেহেতু আনসার অর্থ সাহায্যকারী, তাই তাদেরকে আনসার উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

২. হযরত শায়খুল হিন্দ (র.) বলেন, মূলত ইমাম বুখারী (র.) تشحيذ اذهان তথা শিক্ষার্থীদের মেধা যাছাইয়ের জন্য শিরোনাম উল্লেখ করেননি। অর্থাৎ তিনি বলতে চাচ্ছেন যে, আমি তো এতগুলি স্থানে বাবের সাথে শিরোনাম গঠন করে দেখালাম, যার দ্বারা তোমরা আমার পদ্ধতি সম্পর্কে ওয়াকিফহাল হতে পেরেছো। এবার তোমরা আমার বর্ণিত শিরোনামের আলোকে মেধা খাটিয়ে বর্ণিত হাদীসের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ শিরোনাম গঠন করে দেখাও। বস্তুত এ ব্যাখ্যা ইমাম বুখারীর শান উপযোগীও বটে। কারণ, সামনে কিতাবুল ইলমের পঞ্চম পরিচ্ছেদে শিরোনাম গঠন করবেন:باب طرح الامام المسألة الخ যার অর্থ হল শিক্ষকের উচিত কখনো কখনো শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা  গ্রহণ অব্যাহত রাখা, যেন তারা অলসতার সুযোগ না পায়। তদুপরি শিক্ষকেরও শিক্ষার্থীর মেধা সম্পর্কে ধারণা থাকল, এবং তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষা দিতে পারবেন। সুতরাং এখানে হাদীসের আলোকে শিরোনাম এরূপ হতে পারে: ক. باب اجتناب الكبائر من الايمان খ. باب اجتناب المعاصي من الايمان গ.من الايمان ترك البهتان  ইত্যাদি।

৩.    কখনো শিরোনাম দ্বারা উহ্য প্রশ্নের উত্তর প্রদানও উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। অর্থাৎ ইমাম বুখারী (র.) পূর্ববর্তী অধ্যায়সমূহে উল্লেখ করেছেন যে, ইমান হলো মুরাক্কাব বা যৌগিক বিষয় এবং আমল ইমানের অন্তর্ভুক্ত বিষয়। এর দ্বারা মুরজিয়া স¤প্রদায়ের মতবাদ খণ্ডিত হয়েছিল। (যাদের আকিদা হলো ইমানের সাথে আমলের কোনো সম্পর্ক নেই।) কিন্তু এর দ্বারা আশঙ্কা ছিল যে, খারেজী স¤প্রদায়ের মতবাদ সমর্থন হয়ে যায় কিনা। যাদের আকিদা হলো কবিরা গুনাহ করলে ইমান বাকি থাকে না।  ইমাম বুখারী (র.) এখানে দো-ধারী তলোয়ার ব্যবহার করেছেন। যার দ্বারা মুরজিয়া স¤প্রদায়েরও মতবাদ খণ্ডিত হয়ে যায়। এবং খারেজী স¤প্রদায়ের মূলোৎপাটনও হয়ে যায়। তা এভাবে যে, ان شاء عاقبه  দ্বারা মুরজিয়া স¤প্রদায়ের মতবাদ খণ্ডন হয়ে গেছে, কারণ যদি গুনাহের দ্বারা ইমানের কোনোই ক্ষতি না হয়, তাহলে عقاب বা শাস্তির কি অর্থ হতে পারে? পক্ষান্তরে وان شاء عفا عنه দ্বারা  মোতাজিলা স¤প্রদায়ের মতবাদও খণ্ডন হয়ে গেছে, তা এভাবে যে, এর দ্বারা স্পষ্ট প্রমাণিত যে, কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তির ইমান বাকি থাকে। কিন্তু সে অপরাধী, আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে অপরাধের শাস্তিও দিতে পারেন, অথবা ইচ্ছা করলে ক্ষমাও করে দিতে পারেন। আর এটা তখনই সম্ভব যখন অপরাধীর ইমান স্বীকৃত হবে। নতুবা অ-মুমিনের ক্ষমার প্রশ্নই আসে না। আল্লাহ বলেন:ان الله لا يغفر ان يشرك  به و يغفر ما دون ذلك لمن يشاء তাছাড়া فهو كفارة لهদ্বারাও খারেজী ও মুতাজিলা স¤প্রদায়ের মতবাদ খণ্ডন হতে পারে, কারণ তাদের মতে কবিরা গুনাহে লিপ্ত ব্যক্তি মুমিন থাকেনা। অথচ অ-মুমিনের জন্য কোনো শাস্তি গুনাহের কাফফারা হতে পারে না।


وكانَ شَهِدَ بَدرًا : شَهِدَ শব্দটি حَضَرَ অর্থে ব্যবহৃত, অর্থ হাজির বা উপস্থিত হওয়া। হযরত উবাদা বিন সামিত (রা.) বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। যেহেতু বদরের যুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের অনেক ফযিলত রয়েছে। তাই হাদীসের রাবী আবূ ইদরীস (র.) ফযিলতরূপে উল্লেখ করছেন যে, উবাদা বিন সামিত একজন বদরী সাহাবী।

وهُوَ اَحَدٌ النقَبَاءِ : نُقَبَاء শব্দটি نَقِيب-এর বহুবচন। যার অর্থ নেতা, দায়িত্বশীল,  গোত্রপ্রধান, অফিসার প্রভৃতি। আর এ বারো সংখ্যাটি তিনি কুরআনে হাকীম থেকে উৎসারণ করেছেন: وبعثنا عليهم اثنا عشر نقيبا (مائدة)

عِصَابَة : আল্লামা আইনী ও কুসতুল্লানী (র.) লিখেছেন, عصابة শব্দটি ১০ থেকে নিয়ে ৪০ পর্যন্ত যে কোনো সংখ্যার জন্য ব্যবহৃত হয়। বর্ণনাকারী উদ্দেশ্য হলো যে, এ মজলিসে বায়‘আতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা ছিল ১০-এর অধিক এবং ৪০-এর কম।

এর দ্বারা এতটুকু বিষয় অবশ্যই জানা গেল যে, এ হাদীসে যে বাইআতের উল্লেখ রয়েছে, সেটি ছিল কোনো ক্ষুদ্র দলের বায়‘আত। হোদায়বিয়া ও মক্কাবিজয়ের সময় মুসলমানদের যে বিপুল সংখ্যা ছিল এ বায়‘আতের সময় এত বিপুল সংখ্যা ছিল না।

حدود বা শরয়ী শাস্তিসমূহ গুনাহ মাফের জন্য কাফফারা হবে কিনা?

এ ব্যাপারে মতবিরোধ রয়েছে যে, ইসলামি দণ্ডবিধি বা হদ্দসমূহ সতর্ককারী না কাফফারা? বাহ্যত বাবের হাদীস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে যে, এগুলো গুনাহ মাফের জন্য কাফফারা হয়ে যাবে। এতদ্সংক্রান্ত ওলামায়ে কেরামের মতামত নিম্নরূপ:

১.    ইমাম শাফিঈ ও ইমাম বুখারী (র.)-এর অভিমত হলো ইসলামি দণ্ডবিধি বা হদ্দসমূহ হলো গুনাহ মাফের জন্য কাফফারাস্বরূপ, অর্থাৎ হদ্দ কার্যকর করার দ্বারা তার গুনাহ মাফ হয়ে যাবে, পরকালে এর জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে না।

২.    কারো কারো মত হলো হদ্দ বা দণ্ডবিধি কাফফারা নয়; বরং এগুলি হলো সতর্ককারী। সুতরাং কারো উপর হদ্দ কার্যকর হলে এর দ্বারা তার গুনাহ মাফ হবে না; বরং তার জন্য তওবা করা আবশ্যক।

৩.    ইমাম আবু হানিফা ও সাহেবাইন থেকে এ ব্যাপারে কোনো মতামত পাওয়া যায় না; তবে হানাফী মাশায়েখগণের এ ব্যাপারে বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। দুররে মুখতারে আছে, হদ্দ হলো সতর্ককারী, কাফফারা নয়। পক্ষান্তরে মুলতাকিত গ্রন্থকার হানাফী হওয়া সত্তেও হদ্দ কাফফারা হওয়ার প্রবক্তা।  আবার শায়খ নাজমুদ্দিন নাসাফী তার তাফসীরগ্রন্থ তাইসীরে:فمن اعتدي بعد ذلك فله عذاب اليم-এর তাফসীর প্রসঙ্গে ইহরাম অবস্থায় শিকারের বদলা সম্পর্কে বলেন, যারা বারবার তা করে না, তাদের জন্য কাফফারা, আর যারা বারবার করে, তাদের জন্য কাফফারা নয়। তাইসীর গ্রন্থাকরের এ উক্তি হানাফীদের বিভিন্ন উক্তিতে সমন্বয় সাধনের পন্থা হতে পারে।


শাফিঈদের দলিল : শাফিঈ ওলামায়ে কেরামগণ বাব-এর হাদীস দ্বারা দলিল পেশ করেন। কারণ হাদীসে স্পষ্ট আছে:فهو كفارة له ‘এ হদ্দ তার জন্য কাফফারা হয়ে যাবে।’

হানাফীগণের পক্ষ থেকে উত্তর : হানাফীগণের পক্ষ থেকে এর অনেকগুলি উত্তর দেওয়া হয়ে থাকে। যেমন:

১.    হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদীসে রয়েছে: لا اَدْرِي الحُدُوْدُ كفارَة لاهْلِهَا اَمْ لا؟ হাদীসটি হাকেম ও মুসতাদরাকে বর্ণিত হয়েছে, যা বুখারী ও মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহীহ। আবু হুরায়রা (রা.)-এর হাদীসটি নিশ্চয়ই অধ্যায়ের হাদীসের পরবর্তীকালের হাদীস। কারণ আবু হুরায়রা (রা.) ইসলাম গ্রহণ করেছেন ৭ম হিজরীতে। আর অধ্যায়ের হাদীস হলো হিজরতের পূর্বে লাইলাতুল আকাবার ঘটনা। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, বাবের হাদীসে বর্ণিত:فعوقِبَ في الدنيَا দ্বারা হদ্দ উদ্দেশ্য নয়; বরং সাধারণ বিপদাপদ উদ্দেশ্য। যদি হদ্দ উদ্দেশ্য হতো তাহলে এর পরে لا اَدْرِي الحُدُوْدُ كفارَة لاهْلِهَا اَمْ لا؟ -এর কি অর্থ হতে পারে?

তাছাড়া এ ঘটনাটি হিজরতের পূর্বেকার, আর দণ্ডবিধি ফরজ হয়েছে মদিনায়: হিজরতের পরে।

বাবের হাদীসে যে সমস্ত গুনাহের কথা উল্লেখ রয়েছে, সেগুলো থেকে চুরি ও যিনা ব্যতীত অন্য কোনো গুনাহের জন্য হদ্দের বিধান নেই। এর দ্বারাও প্রমাণিত যে, فعوقِبَ في الدنيَا দ্বারা হদ্দ উদ্দেশ্য নয়; বরং প্রাকৃতিক বিপদাপদ উদ্দেশ্য।

হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.) অবশ্য প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, আলোচ্য অধ্যায়ের হাদীসটি হযরত আবু হুরায়রার হাদীসের পরবর্তীকালের। তিনি বলেন, আলোচ্য অধ্যায়ের হাদীসে وهُوَ اَحَدٌ النقَبَاءِ لَيْلَة العَقَبَة  দ্বারা উদ্দেশ্য হযরত উবাদা ইবনে সামিত (রা.)-এর মর্যাদা বর্ণনা করা।  এ উদ্দেশ্য নয় যে, এ হাদীসের বিষয় আকাবা রজনীর সাথে সংশ্লিষ্ট।

হাফেজ ইবনে হাজার (র.) এর উপর কয়েকটি নিদর্শন পেশ করেছেন যে, বাবের হাদীসটি মুসতাদরাকে বর্ণিত হাদীসের পরবর্তী সময়ের হাদীস। যেমন:

ক. মুসতাদরাকে বর্ণিত হাদীসে عدم علم বা না জানার কথা আছে, আর অধ্যায়ে বর্ণিত হাদীসে আছে علم বা জানার কথা। একথা স্বীকৃত যে, না জানাটি জানার পূর্বে হয়ে থাকে।

খ. অধ্যায়ের হাদীসের বিষয়বস্তু হলো সূরা মুমতাহিনার আয়াত :يا ايها النبي اذا جاءَك المؤ منات  يبايعنك থেকে গৃহিত হয়েছে। যা সর্বসম্মতিক্রমে  হোদায়বিয়ার সন্ধির পরে অবতীর্ণ হয়েছে। সুতরাং বুঝা গেল যে, বাবের হাদীসে আকাবা রাত্রির বাই‘আতের আলোচনা নেই।

গ. ইবনে হাজার (র.) কয়েকটি রেওয়ায়েত দ্বারা প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, মক্কা বিজয়ের পরেও হুযুর (স.) এ ধরনের বায়‘আত গ্রহণ করেছেন। সুতরাং অধ্যায়ের হাদীসে ঐ সমস্ত বাই‘আতের কথা বলা হয়েছে।

আল্লামা কুসতুল্লানী (র.) জোরদারভাবে এর খণ্ডন করেছেন। তিনি প্রমাণ করেছেন যে, এ ঘটনাটি আকাবা রজনীরই; বরং নাসাঈর একটি সুস্পষ্ট হাদীস তিনি উল্লেখ করেছেন, যাতে সুস্পষ্ট ভাষায় আকাবা রজনীর বাই‘আতের কথা উল্লেখ রয়েছে।

প্রশ্ন : হাদীসে عوقب-এর বিপরীতে দ্বিতীয় বাক্যে ثم ستره الله শব্দ রয়েছে। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, عوقب في الدنيا দ্বারা এমন শাস্তি উদ্দেশ্য যাতে ستر নেই। আর এটা হদ্দ-এর মধ্যেই হয়ে থাকে। প্রাকৃতিক বিপদাপদের ক্ষেত্রে এরূপ হয়না যে, ঐ ব্যক্তি কোনো গুনাহর কাজ করেছে, এটা তো ভালো-মন্দ সকলের উপরই আপতিত হয়।

উত্তর : কখনো প্রাকৃতিক বিপদাপদও এমনভাবে আসে যে, সকলেই বুঝতে পারে যে, এটা অমুক অপরাধের কারণে হয়েছে। সুতরাংعوقب في الدنيا দ্বারা এমন বিপদাপদ উদ্দেশ্য, এবং এর বিপরীতে ثم ستره الله দ্বারা এটা উদ্দেশ্য যে, গুনাহের পরে কোনো কষ্ট পৌঁছেনি অথবা বিপদাপদ এসেছে ঠিকই কিন্তু লোকেরা তা বুঝতে পারেনি যে, এটা অমুক অপরাধের শাস্তি।

উভয় হাদীসের মধ্যে সমন্বয়সাধন: মূলত হদ্দ বা ইসলামি দণ্ডবিধির দুটি দিক রয়েছে। এক. হদ্দ হলো বিপদসমূহের মধ্য হতে একটি বিপদ। দুই. এটি একটি শরয়ী শাস্তি। সুতরাং প্রথম দৃষ্টিকোণ থেকে তা গুনাহসমূহের জন্য কাফফারা হওয়াটা আমরা স্বীকার করি। যদি কাঁটা বিদ্ধ হলে, পিঁপড়ায় কামড় দিলে গুনাহ মাফ হতে পারে, তাহলে দোররা মারলে, হাত কাটলে বা প্রস্তরাঘাতে হত্যা করলে গুনাহ মাফ হবে না কেন?

মোটকথা আমরা এটা স্বীকার করি যে, হদ্দ হলো একটি বিপদ, সে দৃষ্টিকোণ থেকে এটি গুনাহসমূহের জন্য কাফফারা। তবে আমরা এটা নির্দিষ্ট করিনা যে, যে গুনাহের জন্য হদ্দ জারি হয়েছে, নির্দিষ্টভাবেই সেটিই মাফ হয়েছে। সাধারণ ক্ষমার কথা আমরাও স্বীকার করি। যেমনিভাবে প্রাকৃতিক বিপদাপদ দ্বারা অনির্দিষ্টভাবে সাধারণ গুনাহ মাফ হয়।

এর পরিপন্থি শাফিঈগণ সে গুনাহের জন্য কাফফারা সাব্যস্ত করেন, যার উপর এ দণ্ড আরোপিত হয়েছে।

তিরমিযী শরীফে باب لا يزني الزاني  وهو مؤمن অধ্যায়ে হযরত আলী (রা.) থেকে বর্ণিত আছে: عن النبي صلي الله عليه وسلم قال مَنْ اَصَابَ حدًا فعجل عقوبته في الدنيا فالله اعدل مِنْ اَن يثني علي عبده العقوبة في الاخرة ومَنْ اصاب حدا فستره الله عليه وعفا عنه فالله اكرم من اَن يعود في شئ قد عفا عنه

এ হাদীস দ্বারা নির্দিষ্ট গুনাহ ক্ষমার আশা প্রতীয়মান হচ্ছে, প্রতিশ্রæত গুনাহ মাফের নয়। কারণ এতে সে গুনাহের কথাও উল্লেখিত হয়েছে, যার ফলে দণ্ডবিধি আরোপিত হয়নি।  অতএব, দণ্ডবিধি সুনির্দিষ্ট গুনাহের কাফফারা প্রমাণিত হয়নি। মোটকথা, আমরা বলি দণ্ডবিধিগুলো সত্তাগতভাবে সতর্ককারী এবং সাময়িক গুনাহ ঢেকে রাখে। শাফিঈগণ এর পরিপিন্থী সত্তাগতভাবে গুনাহ ঢেকে রাখে বলে উল্লেখ করেন, এবং যৌগিকভাবে সতর্ককারী হয় বলে উল্লেখ করেন।

হানাফীদের দলিল : হদ্দসমূহ গুনাহ মাফের জন্য কাফফারা নয়: এতদ্সংক্রান্ত হানাফীদের দলিল-প্রমাণাদি নিম্নে প্রদত্ত হলো:

১.    والسارق والسارقة فاقطعوا .......... ان الله غفوررحيم  এ আয়াতে فاقطعوا ايديهما পর্যন্ত চুরির বিধান সমাপ্ত হয়ে গেছে। পরবর্তিতে বলেছেন:جزاءً بما كسبا অর্থাৎ হস্তকর্তন হলো তার কর্মের শাস্তি। তারপর نكالاً من الله দ্বারা এটা বর্ণনা করা উদ্দেশ্য যে, হদ্দ জারির বিধান কেন প্রচলন হয়েছে? نكال এমন শাস্তিকে বলা হয়, যা অপরাধী ছাড়া অন্যান্য দর্শকশ্রোতাকেও অপরাধ থেকে বিরত রাখে। এর আভিধানিক অর্থ হলো বিরত রাখা, নিষেধ করা। তাছাড়া হ্যাণ্ডকাপকেও نكال বলা হয়। হিন্দি শব্দ نكيل (উটের নাকের রশি) সম্ভবত এ থেকে গৃহিত হয়েছে। মোটকথা نكالاً مِنَ الله শব্দটি বৃদ্ধি করে এটা বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, হদ্দ দ্বারা সতর্কীকরণ উদ্দেশ্য। আরো আগে গিয়ে ইরশাদ হচ্ছে: والله عزيز حكيم অর্থাৎ তার কোনো কর্মই প্রজ্ঞামুক্ত নয়। সা¤প্রতিকালীন মানবরচিত আইনের ন্যায় নয় যে, যে ব্যক্তি একবার জেল খেটে আসে সে পুনরায় জেলে যেতে আকাক্সক্ষী থাকে। নব্য জাহিলীযুগের লোকেরা ইসলামি আইনের উপর সমালোচনা করে বলে চোরের হাত কাটা হলো বর্বরতা ও নিষ্ঠুরতা। এ সমস্ত জ্ঞানপাপীরা একথা চিন্তা করেনা যে, চুরি করা কোন ধরনের সম্ভ্রান্ত ও সভ্য কাজ? যদি একটিমাত্র বর্বর ও নিষ্ঠুর কাজের দ্বারা লাখো বর্বরতার পথ রুদ্ধ হয় তাহলে এটিই হলো প্রজ্ঞার দাবি। পবিত্র কুরআনে এ প্রজ্ঞার কথাই বলা হয়েছে:ولكم في القصاص حياة يا اولي الالباب “কিসাসের মধ্যে তোমাদের জন্য প্রাণ রয়েছে।”

নাস্তিক কবি আবুল আলা মুআররা হস্তকর্তন বিধানের উপর সমালোচনা করে কবিতা লিখেছিল:

يدٌ بِخَمْسٍ مئينَ عَسْجدٍ وُدِيَتْ = ما بالُها قُطِعَتْ في رُبع  دينار

 যে হাতের দিয়ত পাঁচশত দিরহাম নির্ধারিত, সে হাত কেন এক চতুর্থাংশ দিনারের বিনিময়ে কেটে দেওয়া হবে?

تَحَكمٌ ما لَنا الا السكوت له = واَن نَعُوذَ بمَوْلانا من النار

এটি একটি বিচারকসূলভ সিদ্ধান্ত,  যে ব্যাপারে নীরবতা অবলম্বন ব্যতীত আমাদের গত্যন্তর নেই। আর আমরা আমাদের প্রভুর নিকট জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করি।

তার এ কবিতায় ক্ষিপ্ত হয়ে যখন ফুকাহায়ে কেরাম তাকে তলব করলেন, তখন সে ভয়ে পালিয়ে যায়। বিদগ্ধ কবিগণ সুন্দর সুন্দর কবিতা রচনা করে তার কবিতার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন:

আলামুদ্দিন সাখাবী লিখেছেন:

عِز الامانة اَغْلا ها واَرْخَصَها = ذَل الخِيانَة فَافْهَمْ حِكمةَ الباري

আমানতের মর্যাদা ও আভিজাত্য হাতের মূল্য বৃদ্ধি করে দিয়েছিল। কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতার অপদস্থতা তার মূল্য হ্রাস করে দিয়েছে। সুতরাং বুঝ তুমি সৃষ্টিকর্তার রহস্য।

ইমাম শাফেঈ (র.) লিখেছেন:

هُناك مَظْلومَةٌ غَالَتْ بقيمتها = و ههنا ظَلَمَتْ هانَتْ عَلي البَاري

যখন তা মজলূম ছিল তখন স্বকীয়ভাবেই তা মূল্যবান ছিল, আর যখন বিশ্বাসঘাতকতা করে সে জুলুম করেছে, ফলে আল্লাহর নিকট অপমানিত হয়েছে।

আল্লামা শামসুদ্দিন কুর্দী লিখেছেন:

فَقيمةُ اليد نصف الاَلْف من ذَهَبٍ = فان تَعَدتْ فلا تَسْوَي بدينار

হাতের মূল্য পাঁচশত দিনার ছিল, কিন্তু এই হাতই সীমালঙ্ঘন করার কারণে এর মূল্য এক দিনারও থাকে না।

আব্দুল ওয়াহাব মালেকী লিখেছেন:

لما كانت امينة كانت ثمينة لما خانت هانت

যখন হাত বিশ্বস্ত ছিল তখন মূল্যবান ছিল, কিন্তু যখন তা বিশ্বাসঘাতকতা করেছে তখন তা অইমান-অপদস্থ হয়েছে।


আরো আগে গিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: فمن تاب من بعد ظلمه واصلح فان الله يتوب عليه যদি হাত কাটা কাফফরা হত, তাহলে তওবার কি প্রয়োজন ছিল? আয়াতের তারতীব অনুযায়ী হুযুর (স.)-এরও সিদ্ধান্ত তদনুযায়ী ছিল। ইমাম তাহাবী (র.) এক রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যে, এক ব্যক্তির হাত কাটার পর হুযুর (স.) তাকে বললেন: تب الي الله عز وجل فقال تبت الي الله فقال تاب الله عليكএবার তওবা কর, সে বলল আমি তওবা করলাম, অতঃপর হুযুর (স.) বললেন আল্লাহ তোমার তওবা কবুল করেছেন। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, তওবা ব্যতীত শুধুমাত্র হাত কাটার দ্বারা গুনাহ মাফ হবে না।

২.    انما جزاء الذين يُحاربون الله ورسوله و يسعون في الارض فسادا اَن يقتلوا او يصلبوا  او تقطع ايديهم وارجلهم من خلاف او ينفوا من الارض  ইমাম আবুবকর জাসসাস (র.) এ আয়াত দ্বারা দলিল দিতে গিয়ে বলেছেন যে, এখানে ডাকাতদের শাস্তি উল্লেখ করার পর বলছেন:ذلك لهم خزي في الدنيا ولهم في الاخرة عذاب عظيم আয়াতে সুস্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ রয়েছে যে, দুনিয়াবী শাস্তি পরকালের শাস্তিকে রহিত করে না।

যদিও আয়াতের উত্তর এই দেওয়া হয়ে থাকে যে, এ বিধান মুরতাদদের সম্পর্কে। কিন্তু সঠিক ও বিশুদ্ধ কথা হলো এ আয়াতে যে শাস্তির বিবরণ রয়েছে এটি ডাকাতদেরই শাস্তি, মুরতাদদের শাস্তি নয়। কারণ মুরতাদ হওয়ার শাস্তি হলো হত্যা। বাকি রইল يحاربون الله ورسوله  বাক্যটি? এর কারণ হল, সহীহ রেওয়ায়েতগুলো দ্বারা প্রমাণিত যে, এর শানে নুযূল উরাইনা স¤প্রদায়ের সাথে সংশ্লিষ্ট। মুরতাদ হওয়া, ডাকাতি ও হত্যা সবগুলোই একত্র হয়েছে। এই আয়াতে তো ডাকাতদেরই হুকুম বর্ণনা করা হয়েছে, কিন্তু আয়াতে এরূপ শব্দও এসেছে, যেগুলো মূল ঘটনার দিকে ইঙ্গিত বহন করে।

মোটকথা, আয়াতে কারিমার শব্দাবলি ব্যাপক, যদিও শানে নুযূল নির্দিষ্ট। আর মূলনীতি হলো:والعبرة لعموم الالفاظ لا لخصوص المورد শব্দের ব্যাপকতা ধর্তব্য হবে,  প্রেক্ষাপটের নির্দিষ্টতা ধর্তব্য নয়।

৩.     যেহেতু সর্বসম্মতিক্রমে তওবা দ্বারা হদ্দ রহিত হয় না, অথচ গুনাহ মাফ হয়ে যায়: التائب من الذنب كمن لا ذنب له অতএব, দণ্ডবিধি কার্যকর হওয়ার পর তওবাও রহিত না হওয়া উচিত ছিল।

সুতরাং বুঝা গেল যে, হদ্দ-এর বিধান গুনাহ ক্ষমার জন্য নয়; তাহলে তো তওবার পর হদ্দ কার্যকর করা অনর্থক হয়ে যাবে।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.