অনুবাদ: হযরত ইবরাহীম ইবনে মুনযির.....আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আমি একদিন প্রয়োজন অনুসারে আমার বোন হাফসার ঘরের ছাদের ওপর উঠলাম। সেখান থেকে আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে কিবলার দিকে পিঠ এবং সিরিয়ার (বায়তুল মুকাদ্দাস) দিকে মুখ করে পায়খানা করতে দেখলাম।
অনুবাদ: হযরত ইয়াকুব ইবনে ইবরাহীম....আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন, আমি একদিন আমাদের (বোন হাফসার) ঘরের ছাদের উপর উঠে দেখি যে, রাসূল (সা.) দুইটি ইটের ওপর বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে বসে আছেন।
যোগসূত্র: পূর্বের পরিচ্ছেদে মহিলাদের মলত্যাগের জন্য বাহিরে বের হওয়া প্রসঙ্গে আলোচনা ছিল, আর এটা স্পষ্ট যে, মহিলাদের মলত্যাগের জন্য বাহিরে বের হওয়া এজন্য প্রয়োজন হত যে, তখন বাড়িতে বাথরুম/টয়লেটের ব্যবস্থা ছিল না।
এখন এ বিষয় বর্ণনার জন্য এ পরিচ্ছেদ গঠন করেছেন যে, মহিলাদের বাহিরে বের হওয়াটা সর্বসময়ের জন্য ছিল না; বরং ঘরের মধ্যেই বাথরুম নির্মাণ করে নেওয়া হয়েছে। আর মহিলাদের শরিয়ত কর্তৃক নির্ধারিত প্রয়োজন ব্যতিরেকে ঘর থেকে বের হওয়া নিষিদ্ধ হয়ে গেছে। : ওমদাতুল কারী
বাবের উদ্দেশ্য: এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, ঘরের মধ্যে বাথরুম তৈরি করা জায়েয আছে।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য يَقْضِي حَاجَتَهُ -এর সাথে।
প্রশ্ন: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) কখনো নিজের ঘরের ছাদ, আবার কখনো হাফসার ঘরের ছাদ বলেছেন। মূলত এতে কোনো দ্ব›দ্ব বা বৈপরিত্ব নেই। কারণ, ঘর মূলত হাফসারই ছিল। তিনি বোনের ঘরকে নিজের ঘর বলেছেন।
প্রশ্ন: এখানে আরেকটি প্রশ্ন হয় যে, নাপাকী ও ময়লা-আবর্জনার প্রতি ফেরেশতাদের ঘৃণা এবং শয়তানের স্বভাবগত মিল রয়েছে। সুতরাং ঘরের মধ্যে যদি বাথরুম বানানো হয় তাহলে সেখানে শয়তানের সমাগম ঘটবে পক্ষান্তরে ফেরেশতাদের জন্ম হবে ঘৃণা। অধিকন্তু এক রেওয়ায়েতে আছে, ঘরের মধ্যে পাত্র ইত্যাদিতে প্রস্রাব জমা করা যাবে না। কারণ, এমন ঘরে ফেরেশতা প্রবেশ করে না।
উত্তর: ইমাম বুখারী (রা.) এর উত্তরে ইবনে ওমর (রা.)-এর হাদীস এনে জানিয়ে দিলেন যে, ঘরের এক কোণে বাথরুম তৈরি করাতে কোনো অসুবিধে নেই। কারণ, নবী করীম (সা.) নিজের আমল দ্বারা তা প্রমাণিত। আর শয়তানের অনিষ্টতা থেকে সুরক্ষার জন্য হুযুর (সা.) নিজেই দোয়া শিক্ষা দিয়েছেন: اللهم اني اعوذبك من الخبث و الخبائث ; হুযুর (সা.) নিজের আমল দ্বারা জানিয়ে দিলেন যে, বাথরুম হলো মানবিক প্রয়োজনের সাথে সম্পর্কিত। সুতরাং ফেরেশতাদের স্বভাবগত ঘৃণার কারণে আমরা আমাদের প্রয়োজন বর্জন করতে আদিষ্ট নই। যেখানে দুর্গন্ধ থাকে সেখানে ফেরেশতা আগমন করেনা; তেমনিভাবে উলঙ্গ হওয়ার সময়ও ফেরেশতা আগমন করেনা, তাই বলে ইসলাম আমাদেরকে আমাদের স্বভাবগত প্রয়োজন মিটাতে নিষেধ করেনি।
কোন মন্তব্য নেই