অনুবাদ : হযরত আবু যুর'আহ (রাঃ) বলেছেন, আমি আবু হুরাইরাকে বলতে শুনেছি যে, আল্লাহর নবী (সাঃ) বলেছেন, যে লোক আল্লাহর পথে জিহাদের উদ্দেশ্যে বের হয়ে যায়, সর্বশক্তিমান ও মহামহিম আল্লাহ তার দায়িত্ব এই বলে গ্রহণ করেন, শুধু আমার প্রতি বিশ্বাস অথবা আমার রসূলগণের সত্যতা স্বীকারের দাবীই তাকে এ পথে বের করে, যাতে আমি যেন তাকে তার পুরস্কার অথবা গণীমতের মালসহ বাড়ীতে ফিরিয়ে আনি অথবা জান্নাতে প্রবেশ করিয়ে দেই। আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন, আমি যদি আমার উম্মতের পক্ষে কঠিন মনে না করতাম, তাহলে আমি কোনো ছোট সেনাদলেরও পেছনে থাকতাম না। আমি অবশ্যই আকাংখা করি যে, আমি আল্লাহর পথে নিহত হই, আবার জীবিত হই, আবার নিহত হই, আবার জীবিত হই, আবার নিহত হই।
পূর্ববর্তী বাবের সাথে যোগসূত্র: এর পূর্বের বাবে লাইলাতুল কদরের আলোচনা ছিল। আর এটা স্পষ্ট যে, লাইলাতুল কদরের তালাশে অনেক কষ্ট-মুজাহাদা করতে হয়। অধিকন্তু পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হতে হয়। তেমনিভাবে জিহাদেও নিজ জীবনকে আশঙ্কায় নিপতিত করতে হয়, পরিবার-পরিজন থেকে দূরে থাকতে হয়। তাছাড়া লাইলাতুল কদরের তালাশে চেষ্টা-পরিশ্রম ও কষ্ট স্বীকার করে অনেক মুজাহাদা ও সাধনা করে লাইলাতুল কদরের তালাশ করতে হয়,এতদসত্তেও কখনও তা অর্জিত হয়, আবার কখনও তা অর্জিত হয় না। তেমনিভাবে আল্লাহর রাস্তার মুজাহিদও আল্লাহর কালিমাকে বুলন্দ করার উদ্দেশ্যে জিহাদ ও সংগ্রাম করে শাহাদাতের আকাক্সক্ষী হয়ে থাকে। পরন্তু কখনও শাহাদাতের সৌভাগ্য অর্জিত হয়, কখনও অর্জিত হয় না। সুতরাং উভয় অধ্যায়ের মধ্যে শক্তিশালী সামঞ্জস্যতা বিদ্যমান। মোটকথা উভয়ের মধ্যেই কষ্ট-মুজাহাদা ও পরিশ্রম রয়েছে, আবার উভয়টিই ইমানের অন্তর্ভুক্ত।
শিরোনামের সাথে হাদীসের মিল: তরজমাতুল বাব الجهاد من الإيمان-এর সাথে হাদীসের অংশ مَن خَرَجَ في سَبيله الخ -এর সাথে মিল রয়েছে।
প্রশ্ন: জিহাদ দু’প্রকার। এক. নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ, দুই. কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ। আর এটা স্পষ্ট যে, কাফিদের বিরুদ্ধে জিহাদে কষ্ট অধিক। জীবনকে আশঙ্কায় ফেলতে হয়। এ দৃষ্টিকোণ থেকে জিহাদকে লাইলাতুল কদরের আগে উল্লেখ করা উচিত ছিল।
উত্তর : ১. নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের মর্যাদা উঁচু। এর দ্বারা মানুষ নিজেকে আল্লাহর অনুগত বানায়। নবী করীম (স.)-এর ইরশাদ রয়েছে: المجاهد من جاهد نفسه অন্য এক হাদীসে রয়েছে:رجعنا من الجهاد الاصغر الي الجهاد الاكبر বুঝা গেল নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ হলো বড় জিহাদ। কেননা মানুষের শত্রæসমূহের মধ্যে সবচেয়ে বড় শত্রæ হলো তার নফস। সুতরাং নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ হলো সর্বোত্তম। তাছাড়া কাফেরদের সাথে যুদ্ধের অবকাশ তো কদাচিৎ হয়ে থাকে। পক্ষান্তরে নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ সবসময়ই করতে হয়। আবার শত্রæর বিরুদ্ধে জিহাদের ক্ষেত্রে কখনও মানুষ মজাও পেয়ে থাকে। যেমন গনিমতের মাল পাওয়া যায়। কিন্তু নফসের বিরুদ্ধে জিহাদে কোনো মজা নেই। এ কারণেই নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ অপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ; বরং কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদের জন্য নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করতে হয়। কেননা, যতক্ষণ পর্যন্ত নিজের নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ করে নফসকে সন্তুষ্ট না বানাবে, তাকে নিয়ন্ত্রণে না আনবে, ততক্ষণ পর্যন্ত জিহাদের জন্য প্রস্তুত হওয়া কঠিন। কারণ, এমতাবস্থায় শত-সহস্র কুমন্ত্রণা মনে উদিত হবে যে, আমি শহীদ হলে আমার পরিবার পরিজন ও সন্তানসন্ততির কি হবে? ইত্যাদি ইত্যাদি। এ জন্য নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের কথা আগে বর্ণনা করেছেন। এর দ্বারা সমস্ত ওসওয়াসা ও কুমন্ত্রণা নিঃশেষ হয়ে যাবে।
২. যদি নফসের বিরুদ্ধে জিহাদ ব্যতীত কাফিরদের বিরুদ্ধে জিহাদ করে তাহলে হয়ত মালে গনিমতের লোভে করবে, বা প্রতিশোধ প্রবণতার অধীনে করবে, বা বাঁদীর আশায় করবে, বা অন্য কোনো স্বার্থে করবে। যা মূলত জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ হবে না। এ কারণে নফসের বিরুদ্ধে জিহাদের কথা আগে উল্লেখ করেছেন।
শব্দ বিশ্লেষণ:
اِنْتَدَبَ : এখানে শব্দটির অর্থ تكفل তথা দায়িত্ব গ্রহণ করা, জিম্মাদার হওয়া। কেননা কিতাবুল জিহাদে হাদীসটি এভাবে বর্ণিত হয়েছে:تكفل الله من جاهد في سبيله আল্লাহ তার দায়িত্ব নিয়ে নিয়েছেন, তার জিম্মাদার হয়ে গেছেন।
لا يخرجه الا ايمان بي-এর মর্মার্থ: এখানে ايمانٌ শব্দটি মারফূ’ হবে। কারণ এটি يخرج-এর ফায়েল। যে ব্যক্তির আল্লাহর রাস্তায় বের হওয়াটা শুধু আল্লাহর প্রতি তার ইমান এবং রাসূলের প্রতি তার আস্থার ফলে হয়। আল্লাহর কালিমা উচ্চ করা ব্যতীত অন্য কোনো উদ্দেশ্য না হয় অর্থাৎ আল্লাহর প্রতি পূর্ণ বিশ্বাস এবং পয়গাম্বরের বিভিখন্ন সুসংবাদের প্রতি আস্থাশীল হয়ে আল্লাহর রাস্তায় বের হয়। পক্ষান্তরে সে কোনো ক্ষমতার মোহ এবং ধন-সম্পদ অর্জনের কোনো উদ্দেশ্য না হয় শুধু আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য ইখলাসের সাথে বের হয়, আল্লাহ তা‘আলা তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
প্রশ্ন : لا يخرجه الا ايمان بي و تصديق برسلي এখানে ايمان শব্দটি ফায়েল হিসেবে মারফূ’ হয়েছে। وتصديق অথবা او تصديق এখানে বুখারী শরীফের প্রসিদ্ধ ও অধিকাংশ নুসখায় وتصديق برسلي আছে। বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্থ উমদাতুল কারী, ইরশাদুস সারী ইত্যাদিতে و-ই আছে। তাছাড়া আমাদের দেশীয় পাঠ্য নুসখার টীকায়ও অনুরূপ আছে। সেক্ষেত্রে و হলে কোনো প্রশ্ন নেই। কারণ, আল্লাহর প্রতি ইমানও জরুরী, রাসূলের প্রতি বিশ্বাসও আবশ্যক। কিন্তু আমাদের দেশীয় পাঠ্য নুসখার মতনে রয়েছে او تصديق برسلي তখন অবশ্য প্রশ্ন হবে যে, বাহ্যত মনে হচ্ছে যে, (আল্লাহ ও রাসূল) উভয়ের একজনের উপর ইমানই যথেষ্ট। অথচ যদি কোনো ব্যক্তি শুধুমাত্র আল্লাহর উপর ইমান রাখে, এবং রাসূলের উপর ইমান না থাকে, তাহলে অথবা শুধুমাত্র রাসূলের উপর ইমান থাকে, কিন্তু আল্লাহর উপর ইমান না থাকে, তাহলে সর্বসম্মতিক্রমে এরূপ লোক মুক্তি পেতে পারে না।
উত্তর : এর উত্তর হলো: যদি او-কে تخيير বা تسوية بين الامرين-এর জন্য নেওয়া হয় তখন নিঃসন্দেহে প্রশ্ন উত্থাপন হবে। আয যদি او শব্দটি و অর্থে নেওয়া হয় তখন অন্য নুসখার করিনা দ্বারা কোনো প্রশ্ন উত্থাপিত হবে না। তেমনিভাবে او শব্দটি যদি রাবীর সংশয়ের জন্য নেওয়া হবে যে, রাসূল (স.) তো একটিই বলেছিলেন, কিন্তু বর্ণনাকারীর সহীহ শব্দ মনে ছিল না, তাই رواية بالمعني হিসেবে বলেছেন:او تصديق برسلي এমতাবস্থায়ও কোনো প্রশ্ন হবে না। কারণ, আল্লাহর প্রতি ইমান রাসূলগণের প্রতি ইমানকে আবশ্যক করবে। আর রাসূলগণের প্রতি বিম্বাস আল্লাহর প্রতি ইমানকে আবশ্যক করবে।
ان ارجعه بما نال من اجر او غنيمة : ارجع হামযাহ বর্ণে যবর হবে। এটি ضرب থেকে অর্থ প্রত্যাবর্তন করানো; অর্থাৎ আমি তাদেরকে ফিরিয়ে আনব। আবার এটি লাযেমও ব্যবহৃত হয়। অর্থাৎ প্রত্যাবর্তন করা; ফিরে আসা। তবে এখানে এটি প্রথম অর্থেই তথা মুতাআদ্দিহিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। কোনো কপিতে হামযাহ বর্ণে পেশও বর্ণিত হয়েছে।
مِنْ اجر او غنيمة : او শব্দটি এখানে مانعة الخلو-এর জন্য এসেছে, مانعة الجمع-এর জন্য নয়। অর্থাৎ কমপক্ষে এক ছওয়াব তো পাবেই। হতে পারে ছওয়াব এবং গনিমত উভয়টিই লাভ করবে।
অথবা او শব্দটি و অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন মুসলিম শরীফ ইত্যাদির রেওয়ায়েতে রয়েছে: مِن اجر و غنيمة الخ
আল্লামা কুরতুবী বলেন, মূল ইবারত হবে: مِن اجر فقط او اجر مع غنيمة اذا كانت “শুধু ছওয়াবসহ ফিরিয়ে আনবো, অথবা যদি গনিমতের মাল থাকে তাহলে উভয়টিসহ ফিরিয়ে আনবো। এখানে اجر শব্দটি বারবার আসার কারণে সংক্ষেপের উদ্দেশ্যে একটিকে বিলুপ্ত করে দেওয়া হয়েছে।
او ادخله الجنة : বাক্যাংশে ব্যবহৃত او শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে انفصال অর্থে। এ অর্থের সারকথা হচ্ছে যে, او শব্দটি দুটি বিষয়কে একত্রিত হতে দেবে না, তবে কোনোটি হতে পারবে না এমন হবে না; বরং যে দুটি বিষয়ের মাধ্যখানে او শব্দটি ব্যবহৃত হয় এদের যে কোনো একটি অবশ্যই হবে। হাদীসাংশের আলোচ্য او শব্দটি এ অর্থই প্রদান করছে। او যেহেতু হরফে আত্ফ, তাই এর মা’তূফ আলাইহি হচ্ছে ان ارجعه بما نال হাদীসের অর্থ হচ্ছে: আল্লাহ তা‘আলা দায়িত্ব নিয়েছেন যে, মুজাহিদকে জীবিত অবস্থায় ছওয়াব ও গনিমতের মালসহ ফেরত আনবেন। যদি জীবিত না রাখেন, তাহলে সোজা জান্নাতে প্রবিষ্ট করাবেন। মোটকথা উপকারই উপকার; ক্ষতির কিছুই নেই। যেমন আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেছেন:
قل هل تربصون بنا الا احدي الحسنيين .....متربصون তোমরা তো আমাদের ব্যাপারে দুটি কল্যাণকর জিনিসের একটির অপেক্ষা করতে থাক। আমরা তোমাদের ব্যাপারে অপেক্ষমান যে, আল্লাহ তা‘আলা তাঁর পক্ষ থেকে তোমাদের উপর আযাব অবতীর্ণ করুন অথবা আমাদের হাতে তোমাদের শাস্তি দিন। তোমরাও অপেক্ষা কর। আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান।: সূরা তওবা
প্রশ্ন: হাদীসে বর্ণিত হয়েছে শহীদকে আল্লাহ তা‘আলা জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। অথচ প্রতিটি ইমানদার ব্যক্তিই জান্নাতে প্রবেশ করবে। তাহলে শহীদের বিশেষ মর্যাদা কি হলো?
উত্তর : আল্লামা আইনী (র.) বলেন, প্রতিটি ইমানদার ইমানের কারণে জান্নাতে প্রবেশ করবে এ সম্পর্কে কোনো প্রকার বিতর্কের অবকাশ নেই। তবে ইমানদাররা সকলে একই সময় জান্নাতে প্রবেশ করবে কিনা এ সম্পর্কে ব্যাখ্যার অবকাশ রয়েছে। কেননা, কতক মুমিন এমনও হবে যারা কোনো প্রকার শাস্তি ভোগ করার পর জান্নাতে প্রবেশ করবে। কিন্তু আল্লাহর রাস্তায় যারা শাহাদত বরণ করবেন আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে মৃত্যুর পরপরই জান্নাতে প্রবেশ করাবেন। পবিত্র কুরআনেও বিষয়টি বিবৃত হয়েছে:بل احياء عند ربهم يرزقون
ولو لا ان اشق علي امتي ماقعدت خلف سرية : “আমি যদি আমার উম্মতের পক্ষে কঠিন মনে না করতাম, তাহলে আমি কোনো ছোট সেনাদলেরও পেছনে থাকতাম না।” তিনি প্রতিটি যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলে উম্মতের বিভিন্নভাবে কষ্ট হতে পারে। যথা:
১. তিনি যদি এখন প্রতিটি জিহাদে যোগদান করেন, তাহলে তাঁর পরে যারা খলিফা হবেন তাদেরও প্রতিটি জিহাদে যোগদান করা ওয়াজিব হয়ে পড়বে।
(سرية ও غزوة-এর সংজ্ঞা এবং উভয়ের মধ্যে পার্থক্য নাসরুল বারী কিতাবুল মাগাযীতে দ্রষ্টব্য)
২. তিনি যদি মদিনায় অবস্থান করে বিশেষ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ তৎক্ষণাত সম্পাদন না করেন তাহলে তা মুমিনদের জন্য কষ্টের কারণ হয়ে পড়ত।
৩. কিছু মাযূর ও অক্ষম ব্যক্তি যারা জিহাদে অংশগ্রহণ করতে সক্ষম নয় তাদের মনঃকষ্টের কারণ হতে পারে। সুতারং তাদের মন জয়ের উদ্দেশ্যে কোনো সময় রাসূলুল্লাহ (স.)ও তাদের সাথে মদিনা মুনাওয়ারায় অবস্থান করতেন।
ولوَدِدْتُ اني اُقْتَلُ في سبيل الله : আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করা আমার এত প্রিয় যে, মনে চায় একবার, দুবার নয়; বরং বারবার তাতে অংশগ্রহণ করি, এবং একবার নিহত হই, আবার জীবিত হই, আবার নিহত হই, আবার জীবিত হই, আবার নিহত হই।
প্রশ্ন : শহীদের উপর সিদ্দীকের স্তর, তার উপর নবীর স্তর। সুতরাং নবী শহীদের দুই স্তর উপরের মর্যাদাসম্পন্ন। তা সত্তেও তিনি শাহাদতের আকাক্সক্ষা করছেন কেন?
উত্তর : এর কয়েকটি কারণ হতে পারে:
১. এই আকাক্সক্ষা প্রকাশের দ্বারা হুযুর (স.)-এর উদ্দেশ্য হলো উম্মতকে জিহাদের ও শাহাদতের অনুপ্রেরণা যোগানো।
২. নিঃসন্দেহে নবুওয়াত ও রিসালাত শাহাদত অপেক্ষা উত্তম ও উচ্চমর্যাদাসম্পন্ন। কিন্তু কখনও কখনও উত্তম জিনিস থাকার পরও কোনো কোনো কারণে অপক্ষোকৃত নিম্নমানের জিনিসেরও আকাক্সক্ষা করার প্রয়োজন দেখা দেয়। কারণ উত্তম জিনিসের সাথে অপেক্ষাকৃত নিম্ম পর্যায়ের জিনিসটি একত্রিত হলে উত্তম জিনিসটি আরও মজাদার হয়ে যায়। একটি উদাহরণের মাধ্যমে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হতে পারে। যেমন কারও সামনে পাত্রভর্তি পোলাও-কোর্মা রয়েছে, সে ব্যক্তি পাত্র হতে মনমতো পোলাও-কোর্মা খাচ্ছে। কিন্তু এ খাদ্যটি আরও মাজাদার করার জন্য অনেক সময় পিয়াজ, কাঁচামরিচ অথবা চাটনীর চাহিদা থাকে অথচ এগুলো কখনও পোলাও কোর্মা অপেক্ষা অধিক মল্যবানও নয় আবার অধিম মর্যাদাবানও নয়।
যখন উমর (রা.) খালিদ বিন ওয়ালিদকে বরখাস্ত করে দেন, তখন তিনি একটি আনন্দের প্রকাশ করে বলেন যে, এতদিন পর্যন্ত সেনাবাহিনী দ্বারা যুদ্ধ করাতাম। আর এখন নিজে যুদ্ধে লড়ব। এটা স্পষ্ট যে, জেনারেলের মর্যাদা সিপাহী অপেক্ষা অনেক বেশী। কিন্তু সিপাহী হয়ে লড়ার মধ্যে এক বিশেষ প্রকার মজা রয়েছে।
হযরত হাজী ইমদাদুল্লাহ (র.) বলেন যদি জান্নাত পেয়ে যাই, তাহলে আল্লাহর নিকট একটি জায়নামাজের জায়গা চেয়ে নিব, যাতে বসে বসে ইবাদতই করতে থাকব। দেখুন! জান্নাত কোনো ইবাদতের স্থান নয়, কিন্তু ইবাদতের মজার কারণে তার আকাক্সক্ষা করছেন।
হযরত শাইখুল হিন্দ (র.)কে কেউ বলল, আপনার কবর হযরত নানূতুবী (র.)-এর কবরের পাশে হলে কতইনা উত্তম হবে? এটা শুনে হযরত শাইখুল হিন্দ বললেন, আমি এটা চাইনা, আমার কামনা হলো আল্লাহর রাস্তায় আমার দেহটি টুকরা টুকরা হয়ে যাবে।
কোন মন্তব্য নেই