Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ রেশমী জুব্বা পরে নামায আদায় করা

باب مَنْ صَلَّى فِي فَرُّوجِ حَرِيرٍ ثُمَّ نَزَعَهُ

পরিচ্ছেদ: রেশমী জুব্বা পরে নামায আদায় করার পর তা খুলে ফেলা প্রসঙ্গে

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ يَزِيدَ، عَنْ أَبِي الْخَيْرِ، عَنْ عُقْبَةَ بْنِ عَامِرٍ، قَالَ أُهْدِيَ إِلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَرُّوجُ حَرِيرٍ، فَلَبِسَهُ فَصَلَّى فِيهِ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَنَزَعَهُ نَزْعًا شَدِيدًا كَالْكَارِهِ لَهُ وَقَالَ ‏ "‏ لاَ يَنْبَغِي هَذَا لِلْمُتَّقِينَ ‏

অনুবাদ: হযরত উকবা ইবনে আমের (রা.) বলেন, নবী (সা.)-কে একটি রেশমী ফররুজ (পিছনে কাটা লম্বা কোট) হাদিয়া দেয়া হলো। তিনি সেটি পরে নামায আদায় করলেন। নামায শেষ করে তিনি সেটি দ্রুত খুলে ফেললেন। মনে হলো তিনি সেটি অপছন্দ করছেন। তারপর তিনি বললেন, মুত্তাকীদের জন্য এটি শোভনীয় নয়।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَصَلَّى فِيهِ، ثُمَّ انْصَرَفَ فَنَزَعَهُ  -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৫৪, ৮৬৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) বলেন এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, তার নামায ফাসেদ হবেনা; বরং মাকরূহ হবে। কারণ, নবী করীম (সা.) নামায পুনরায় আদায় করেননি; বরং খুলে ফেলেছেন, যেন তিনি তা অপছন্দ করেছেন। এটিই মাকরূহ হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ। তিনি বলেন: اي لا تفسد صلوته لكنه مكروه لانه (ص) لم يعد الصلوة ولكن نزعه كالكاره له صريح في الكراهية 

ব্যাখ্যা:

فَرُّوجُ : ফাররূজ এমন লম্বা কোট যার পিছন দিকে ফাড়া থাকে। এ ধরনের পোশাক যুদ্ধক্ষেত্র এবং সফরে অধিক উপযোগী, বিশেষতঃ অশ্বারোহীর জন্য। শাহ সাহেব (র.) লিখেছেন এ ধরনের পোশাক সর্বপ্রথম পরিধান করেছিল ফেরাউন।

أُهْدِيَ : মাজহূলের সীগাহ। আল্লামা আইনী (র.) লিখেছেন যে, এ কোটটি নবী করীম (সা.)-এর নিকট হাদিয়াস্বরূপ প্রেরণ করেছিল দুমাতুল জান্দালের বাদশাহ উকাইদার বিন আব্দুল মালিক। তিনি ছিলেন খ্রিস্টান এবং বিশুদ্ধ মতানুসারে তিনি মুসলমান হননি। তাবুকের যুদ্ধের সফরে নবী করীম (সা.)-এর নির্দেশে হযরত খালিদ বিন ওয়ালিদ (রা.) উকাইদারকে বন্দী করে নিয়ে আসেন। পরবর্তীতে মুসলমানদের সাথে সন্ধির কারণে সে তার কেল্লায় ফিরে যায়। বিস্তারিত দেখুন কিতাবুল মাগাযী

রেশমী কাপড় ব্যবহারের বিধান:এ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মতামত নিম্নরূপ:

১.    ইমাম আহমদ (রা.)-এর মতে রেশমী কাপড়ের কোট পরে নামায পড়লে নামায সহীহ হবে না।

২.    ইমাম মালেক (রা.)-এর মতে যদি ওয়াক্তের মাঝে অন্য কাপড় পাওয়া যায় তাহলে নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

৩.    ইমাম আবু হানিফা ও শাফেয়ী (রা.)-এর মতে নামায মাকরূহসহ আদায় হয়ে যাবে, তবে গুনাহগার হবে। কারণ, নবী করীম (সা.) নামাযের পরে তৎক্ষণাৎ তা খুলে ফেলেছিলেন, এবং বললেন: نهاني جبريل الخ এর নিষেধাজ্ঞা নামাযের পরেই হয়েছিল। কিন্তু নবী করীম (সা.) নামায পুনরায় আদায় করেননি।

মোটকথা, রেশমী কাপড় পরিধান করা পুরুষের জন্য হারাম, এবং মহিলাদের জন্য জায়েয।

হযরত আলী (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী করীম (সা.) ডান হাতে রেশমী কাপড় এবং বাম হাতে স্বর্ণ নিয়ে বললেন: ان هذين حرام علي ذكور امتي এ উভয়টি আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম এবং নিষিদ্ধ।

হযরত আবু মূসা আশআরী (রা.) হতে বর্ণিত আছে নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন: حرم لباس الحرير والذهب علي ذكور امتي واحل لاناثهم (ترمذي) রেশম ও স্বর্ণ পরিধান করা আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য হারাম করা হয়েছে এবং মহিলাদের জন্য হালাল অর্থাৎ জায়েয করা হয়েছে।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.