Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ নামাযের মধ্যে এবং বাইরে উলঙ্গ হওয়া মাকরূহ প্রসঙ্গে

باب كَرَاهِيَةِ التَّعَرِّي فِي الصَّلاَةِ وَغَيْرِهَا

পরিচ্ছেদ: নামাযের মধ্যে এবং বাইরে উলঙ্গ হওয়া মাকরূহ প্রসঙ্গে

حَدَّثَنَا مَطَرُ بْنُ الْفَضْلِ، قَالَ حَدَّثَنَا رَوْحٌ، قَالَ حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ إِسْحَاقَ، حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ، يُحَدِّثُ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم كَانَ يَنْقُلُ مَعَهُمُ الْحِجَارَةَ لِلْكَعْبَةِ وَعَلَيْهِ إِزَارُهُ‏.‏ فَقَالَ لَهُ الْعَبَّاسُ عَمُّهُ يَا ابْنَ أَخِي، لَوْ حَلَلْتَ إِزَارَكَ فَجَعَلْتَ عَلَى مَنْكِبَيْكَ دُونَ الْحِجَارَةِ‏.‏ قَالَ فَحَلَّهُ فَجَعَلَهُ عَلَى مَنْكِبَيْهِ، فَسَقَطَ مَغْشِيًّا عَلَيْهِ، فَمَا رُئِيَ بَعْدَ ذَلِكَ عُرْيَانًا صلى الله عليه وسلم‏.‏

অনুবাদ:
হযরত জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) কুরাইশদের সাথে কা'বাঘর (মেরামতের জন্য) পাথর বহন করছিলেন। তাঁর পরনে ছিল লুঙ্গি। তাঁর চাচা আব্বাস তাঁকে বললেন, হে ভাতীজা! যদি তোমার লুঙ্গিটা খুলে কাঁধে পাথরের নীচে রাখতে, তাহলে ভাল হতো। বর্ণনাকারী বলেন, তিনি তা খুলে নিজের কাঁধে রাখলেন এবং সেই মুহ‚র্তে জ্ঞানহারা হয়ে পড়লেন। এরপর আর কখনও তাঁকে উলঙ্গ হতে দেখা যায়নি। (এটা নবীর শিশু বয়সের ঘটনা)

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَمَا رُئِيَ بَعْدَ ذَلِكَ عُرْيَانًا -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৫২, ২১৫, ৫৪০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো  এটা প্রমাণ করা যে, উলঙ্গ হওয়া নামাযের ভিতরে এবং বাইরে সর্বাবস্থায় নিষিদ্ধ। তার দলীল হলো উলঙ্গ হওয়া যখন নামাযের বাইরে নিষিদ্ধ (যেমনটি বাবের হাদীসে রয়েছে) তাহলে নামাযের মধ্যে তো আরো  উত্তমরূপেই তা নিষিদ্ধ হবে। 

সম্ভবত ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো মালেকীদের মত খণ্ডন করা, যারা বলেন যে, নামাযের মধ্যে সতর ঢাকা সুন্নত: ফরজ নয়। ইমাম বুখারী في الصلاة وغيرها বলে এটা বুঝিয়ে দিলেন যে, সতর ঢাকা নামাযের মধ্যে ফরজ।

প্রশ্ন: ইমাম বুখারী এখানে كراهية শব্দ এনেছেন কেন?

উত্তর: এখানে كراهية-এর পারিভাষিক অর্থ উদ্দেশ্য নয়; বরং আভিধানিক অর্থ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ নিষিদ্ধ এবং অপছন্দনীয়তা। এর অধীনে সকল প্রকার নিষিদ্ধ বিষয় অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেছে, চাই তা মাকরূহ হোক বা হারাম হোক।

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

ইমাম বুখারী (র.) ঘটনা বর্ণনা করছেন যে, কুরাইশরা যখন কা’বাঘর নির্মাণ শুরু করল সেখানে নবী করীম (সা.)ও পাথর বহন করতে লাগলেন। পাথরের ঘর্ষণে তার কাঁধের চামড়া ছুলে যাওয়ার আশঙ্কা ছিল। এটা তখনকার ঘটনা যখন তিনি নবুওয়াতপ্রাপ্ত হননি, এবং তখন মক্কার কুরাইশরা সতর ঢাকার বিষয়ে যতœবান ছিল না, এমনকি কা’বাঘরও তারা উলঙ্গ হয়ে তওয়াফ করত। তাই তার চাচা দয়াপরবশ হয়ে তাকে বলল, ভাতিজা! লুঙ্গিটা খুলে কাঁধের উপর রাখ, এবং তার উপর পাথর রাখ তাহলে সহজ হবে। তিনি চাচার কথা মেনে নিয়ে লুঙ্গি খুলে কাঁধের উপর রাখতে চাইলেন, এমন সময় তিনি বেহুঁশ হয়ে পড়ে গেলেন। 

তখন নবীজীর বয়স কত ছিল? এ বিষয়ে মুহাদ্দিসীনদের মতভেদ রয়েছে। আল্লামা আইনী এ সম্পর্কে কয়েকটি মত উলে­খ করেছেন।

১.    ইমাম যুহরী বলেন, তখন তিনি প্রাপ্তবয়ষ্ক হননি।

২.    ইবনে বাত্তাল এবং ইবনুত তীন বলেন, তখন তাঁর বয়স হয়েছিল পনের বছর।

৩.    হিশাম বলেন, কা’বাঘর নির্মাণ এবং নবুওয়াতপ্রাাপ্তির মাঝে ব্যবধান হলো পাঁচ বছর, সে মতে তখন তার বয়স হয়েছিল পঁয়ত্রিশ বছর।

রাবী বলেন, এরপর তিনি কখনো বিবস্ত্র হননি; না নবুওয়তের পূর্বে না নবুওয়াতির পর। কিন্তু সমস্ত মুহাদ্দিসে কেরামের মত হলো এ বিবস্ত্রতা নবুওয়াতি পূর্বে সংঘটিত হয়েছিল।  এরপরই হুযুর (সা.)-কে বেহুশ করানো হয়েছিল, যেন ভবিষ্যতে এমন আর না হয়। এক রেওয়ায়েতে এটাও আছে যে, একজন ফেরেশতা আকাশ থেকে অবতীর্ণ হয়ে হুযুরকে লুংগি পরিয়ে দিয়েছিলেন।

তাছাড়া এ সম্ভাবনাও আছে যে, হযরত আব্বাস (রা.) লুংগি খুলে কাঁধে বাঁধার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু এতে জামার বিষয়ে কোনো কথা নেই। তাই এটাও হতে পারে যে, (তিনি জামা পরিহিত ছিলেন) তাই পূর্ণাঙ্গরূপে বিবস্ত্র তিনি হননি।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.