অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, তোমরা কি মনে করো আমার কিবলা এখানেই? আল্লাহর কসম, তোমাদের সিজদা তোমাদের রুকু কোনটিই আমার কাছে গোপন নয়। আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আমার পিছন দিক থেকে দেখতে পাই।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য স্পষ্ট। তা এভাবে যে, এ বাবের উভয় হাদীসেই নসীহত রয়েছে। বিশেষ করে মুক্তাদিদের রুকু-সিজদাও দেখি। তাই সেগুলো উত্তরূপে আদায় কর।
অনুবাদ: আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) একবার আমাদেরকে নামায আদায় করালেন। তারপর মিম্বরের উপর উঠলেন এবং নামায় ও রুকু সম্পর্কে বললেন, অবশ্যই আমি তোমাদের সামনের দিক থেকে যেমন দেখি পিছনের দিক থেকেও তেমনি দেখি।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য স্পষ্ট।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, ইমাম সাহেবের উচিত হলো মুক্তাদিদের দিকে দৃষ্টি রাখা, যদি নামাযের রোকন, আহকাম ইত্যাদিতে ত্র“টি দেখা দিলে তা সংশোধন করে দেওয়া, উপদেশ দেওয়া।
বুঝা গেল যে, এ বাবের মূল উদ্দেশ্য হলো ইমাম সাহেব লোকদেরকে উপদেশ দেওয়া। কিন্তু যেহেতু হাদীসে রয়েছে:هل ترون قبلتي ههنا তাই আনুসঙ্গিকভাবে কিবলার কথা এসে গেছে। তাই নবী করীম (সা.) বলে দিয়েছেন যে, তোমরা মনে করোনা যে, আমি শুধুমাত্র সামনের দিকে দেখি; বরং আমি পিছনের দিকেও দেখি।
ব্যাখ্যা:
مَا يَخْفَى عَلَىَّ خُشُوعُكُمْ وَلاَ رُكُوعُكُمْ : যেহেতু এখানে হাদীসের শব্দ خشوع আছে তাই কেউ কেউ রুকু দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন خضوع; কিন্তু এ উদ্দেশ্য নেওয়া সঠিক নয়; বরং সঠিক হলো এখানে রুকু-ই উদ্দেশ্য। কারণ, লোকেরা সাধারণতঃ রুকুতে ভুল করে থাকে। রুকুর জন্য সামান্য কোমর ঝুকিয়ে কিংবা রুকু হতে সামান্য মাথা তুলেই সিজদায় চলে যায়। মোটকথা, সাধারণতঃ রুকুতে অবহেলা করা হয়। এমন দ্রæত নামাযের রুকুন আদায় করে যে, নামায পুনরায় পড়[া ওয়াজিব হয়ে পড়ে। তবে সিজদা মাটিতে মাথা রাখা দ্বারা-ই আদায় হয়ে যায়। এ কারণে নবী করীম (সা.) বিশেষ করে রুকুর উলেখ করেছেন।
إِنِّي لأَرَاكُمْ مِنْ وَرَاءِ ظَهْرِي : [আমি অবশ্যই তোমাদেরকে আমার পিছন দিক থেকে দেখতে পাই।] এখানে رؤية বা দেখা দ্বারা কি উদ্দেশ্য? সে সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের কয়েকটি মন্তব্য রয়েছে। যথা:
১. কারো কারো মতে رؤية দ্বারা হলো علم বা জানা। এ জানা দু’ভাবে হতে পারে। ক. ওহীর মাধ্যমে। খ. ইলহামের মাধ্যমে। আল্লামা আইনী বলেন: هذا ليس بشئ এ উত্তর সঠিক নয়। কারণ, জানা উদ্দেশ্য নেওয়া হলে পিঠের পিছন দিকে দেখার কথা অর্থহীন হয়ে পড়ে।
২. অথবা رؤية দ্বারা উদ্দেশ্য হলো চাক্ষুষ দেখা। যেমন আল্লামা নবভী (র.) কাজী ইয়াযের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন যে, ইমাম আহমদ ও জুমহূর ওলামায়ে কেরামের মতে এ দেখা দ্বারা চাক্ষুষ দেখা-ই উদ্দেশ্য।
৩. তিনি চোখের কোণ দিয়ে ডান-বামে দেখে নিতেন। এ ব্যাখ্যায় প্রশ্ন জাগে যে, চোখের কিনার দিয়ে তো যে কেউ দেখতে পারে। এবং এ দেখা দ্বারা নামায ফাসেদ হয় না। তাহলে নবী করীম (সা.)-এর বিশেষত্ব রইল কোথায়?
৪. কিবলার প্রাচীরে মুক্তাদিদের আকৃতি আয়নার ন্যায় অঙ্কিত হয়ে যায়। শায়খুল হাদীস যাকারিয়া (র.) বলেন, অধিকাংশ মাশায়েখই এ মত গ্রহণ করেছেন।
৫. নবী করীম (সা.) সামনের ন্যায় পিছনের দিকও দেখতে পারেন। এটি তাঁর মু’জেযা এবং বৈশিষ্ট্য। এটি জুমহূরের মত এবং এটিই সঠিক।
কোন মন্তব্য নেই