পরিচ্ছেদ: কোনো কারণে মসজিদে হতে বের হতে পারবে কিনা?
অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল (সা.) মসজিদ থেকে বাইরে গেলেন, (অথচ) সে সময় নামাজের জন্য ইকামত হয়ে গেছে এবং কাতারও সোজা করা হয়েছে। তিনি মুসাল্লার ওপরও দাঁড়ালেন। আমরা তাঁর তাকবীর বলার অপেক্ষা করছিলাম। কিন্তু তিনি বেরিয়ে গেলেন এবং আমাদেরকে নিজ নিজ স্থানে অপেক্ষা করতে বলে গেলেন। সে অবস্থায় আমরা দাঁড়িয়ে থাকলাম। (কিছুক্ষণ পর) তিনি আমাদের কাছে ফিরে এলেন। তখন তাঁর মাথা থেকে ফোটা ফোটা পানি ঝরছিল, তিনি গোসল করেছিলেন।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা প্রমাণ করা যে, প্রয়োজনের কারণে মসজিদ হতে বের হওয়া জায়েয হবে। প্রয়োজন স্বভাবগত হোক, যেমন মল-মূত্র ত্যাগ করা, বা জুনুবী অথবা মুহদিস ব্যক্তি ভুলে মসজিদে এসে পড়েছিল, তাদের জন্য মসজিদ হতে বের হওয়া জায়েয আছে। অথবা প্রয়োজনটা শরয়ী হোক, যেমন অন্য কোনো মসজিদে ইমামতি করতে হবে। এ সমস্ত প্রয়োজনের কারণে মসজিদ হতে বের হওয়া জায়েয আছে। যদিও ইকামত হয়ে যায়।
আর যে সমস্ত রেওয়ায়েতে মসজিদ হতে বের হওয়ার নিষেধাজ্ঞা এসেছে তা হলো বিনা প্রয়োজনের বের হওয়া।
প্রশ্ন: হাদীসে যেহেতু মসজদি হতে বের হওয়ার কথা স্পষ্ট রয়েছে, তারপরও ইমাম বুখারী শিরোনামে সংশয়মূলক শব্দ (هل)ব্যবহার করলেন কেন?
উত্তর: হাদীসের মধ্যে নবী করীম (সা.)-এর বিশেষ ঘটনা বিবৃত হয়েছে। তাই তার মধ্যে এ সম্ভাবনা ছিল যে, এটা নবী করীম (সা.)-এর বৈশিষ্ট্য। তাছাড়া এ সম্ভাবনাও ছিল যে, বের হওয়ার অনুমতি শুধুমাত্র জুনুবীর জন্য প্রযোজ্য হবে। এ সমস্ত সম্ভাবনার কারণে তিনি هل শব্দ ব্যবহার করেছেন।
কোন মন্তব্য নেই