Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আজানঃ আজান ও ইকামতের মাঝে কতক্ষণ বিরতি হওয়া উচিত

باب كَمْ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ وَمَنْ يَنْتَظِرُ الإِقَامَةَ

পরিচ্ছেদ: আজান ও ইকামতের মাঝে কতক্ষণ বিরতি হওয়া উচিত

حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ الْوَاسِطِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا خَالِدٌ، عَنِ الْجُرَيْرِيِّ، عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةَ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ مُغَفَّلٍ الْمُزَنِيِّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ ـ ثَلاَثًا ـ لِمَنْ شَاءَ ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল আল মুযাননী (রা.) থেকে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেন, যদি কোন ব্যক্তি চায়, তাহলে আজান ও ইকামতের মাঝখানে কিছু নামাজ পড়ে নিতে পারে। এ কথা তিনি তিন বার বললেন।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য بَيْنَ كُلِّ أَذَانَيْنِ صَلاَةٌ  -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৮৭, ৮৭, ১৫৭-১৫৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَو بْنَ عَامِرٍ الأَنْصَارِيَّ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ الْمُؤَذِّنُ إِذَا أَذَّنَ قَامَ نَاسٌ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَبْتَدِرُونَ السَّوَارِيَ حَتَّى يَخْرُجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَهُمْ كَذَلِكَ يُصَلُّونَ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ، وَلَمْ يَكُنْ بَيْنَ الأَذَانِ وَالإِقَامَةِ شَىْءٌ‏.‏ قَالَ عُثْمَانُ بْنُ جَبَلَةَ وَأَبُو دَاوُدَ عَنْ شُعْبَةَ لَمْ يَكُنْ بَيْنَهُمَا إِلاَّ قَلِيلٌ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) থেকে বর্ণিত। মুয়াযযীন আজান দিলে, আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর আগমনের পূর্বে কিছু সংখ্যক সাহাবা (মসজিদের) খুটির কাছে গিয়ে মাগরিবের আগে দুই রাকআত নামাজ পড়ে নিতেন। অথচ আজান ও ইকামতের মাঝখানে কোন সময়ের ব্যবধান থাকতো না। উসমান ইবনে জাবাল্লাহ ও আবু দাউদ শু'ওবা এর কাছ থেকে শুনে বর্ণনা করছেন, এই দুয়ের (ইকামত ও নামাজের) মাঝখানে সময়ের ব্যবধান থাকতো অতি সামান্য।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য وَهُمْ كَذَلِكَ يُصَلُّونَ الرَّكْعَتَيْنِ قَبْلَ الْمَغْرِبِ -এর সাথে। কারণ, মাগরিবের পূর্বে যে নামাজ পড়া হয়েছে তা নিশ্চয়ই আজান ও ইকামতের মাঝে ছিল।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা প্রমাণ করা যে, আজান ও ইকামতের মাঝে কিছুক্ষণ হলেও বিরতি দেওয়া প্রয়োজন। কেননা আজানের উদ্দেশ্য হলো নামাজের ঘোষণা দেওয়া যে, আজান শোনামাত্রই লোকদের নামাজের জন্য আসা উচিত।

তিরমিযীতে হযরত জাবির (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূল (সা.) বলেছেন: اجعل بين اذانك واقامتك قدر ما يفرغ الآكل الخ

অর্থাৎ আজান ও ইকামতের মাঝে এতটুকু বিরতি হওয়া চাই  যেন পানাহারকারী তার  পানাহার হতে, মল-মূত্র ত্যাগকারী তার কর্ম হতে ফারেগ হতে পারে। এ রেওয়ায়েতটি যেহেতু বুখারীল শর্ত অনুযায়ী নয়; কিন্তু হাদীসটি সহীহ তাই তিনি তার মূলনীতি অনুযায়ী সেদিকে ইঙ্গিত করে দিয়েছেন। এবং بين كل اذانين صلوة দ্বারা তার সমর্থন করে দিয়েছেন। আর যেহেতু মাগরিবের নামাজে বিরতির কথা প্রমাণিত হলো তাহলে অন্য নামাজে  তো আরো উত্তমরূপেই বিরতি হবে।

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

ـ لِمَنْ شَاء : বুঝা গেল যে, এ দু’ রাকাত জরুরী নয়। যার ইচ্ছা সে পড়বে, যার ইচ্ছা সে পড়বে না।

ইমামগণের মতামত: এ ব্যাপারে তো সকলেই একমত আছেন যে, মাগরিব ব্যতীত সকল নামাজেই আজান ও ইকামতের মাঝে সুন্নত বা মুস্তাহাব নামাজ আছে। তবে মাগরিবের আজান ও ইকামতের মাঝে নামাজের ব্যাপারে ইমামগণের মতপার্থক্য রয়েছে।

ইমাম নবভী (র.) বলেন, আমাদের শাফেয়ীদের নিকট এ ব্যাপারে দু’ধরনের উক্তি রয়েছে। তন্মধ্যে মশহূর হলো মুস্তাহাব না হওয়া, তবে বিশুদ্ধতর হলো মুস্তাহাব হওয়া। তিনি আরো লিখেছেন চার খলীফা, অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম, ইমাম মালেক ও অধিকাংশ ফোকাহায়ে কেরামের নিকট তা মুস্তাহাব নয়। এটিই হলো হানাফীদের মাযহাব, যেমনটি আল্লামা ইবনে হুমাম লিখেছেন। যদিও কোনো কোনো কিতাবে মাকরূহ হওয়ার কথাও আছে। কিন্তু রেওয়ায়েতের কারণে সঠিক ঐটিই যা  ইবনে হুমাম লিখেছেন।

بَيْنَ الاَذَانَيْنِ : এখানে দুই আজান দ্বারা উদ্দেশ্য হলো আজান ও ইকামত। ইকামতের জন্য আজানের প্রয়োগ تغليب হিসেবে। যেমন বলা হয়: والدين ، قمرين ইত্যাদি। মূলতঃ ইকামত হলো নামাজের মধ্যে প্রবেশের ঘোষণা, আর আজান হলো নামাজের ওয়াক্ত প্রবেশের ঘোষণা। 


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.