Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আজানঃ নামাজ দীর্ঘকারী ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ

باب مَنْ شَكَا إِمَامَهُ إِذَا طَوَّلَ وَقَالَ أَبُو أُسَيْدٍ طَوَّلْتَ بِنَا يَا بُنَيَّ

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ يُوسُفَ، حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ إِسْمَاعِيلَ بْنِ أَبِي خَالِدٍ، عَنْ قَيْسِ بْنِ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لأَتَأَخَّرُ عَنِ الصَّلاَةِ فِي الْفَجْرِ مِمَّا يُطِيلُ بِنَا فُلاَنٌ فِيهَا‏.‏ فَغَضِبَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَا رَأَيْتُهُ غَضِبَ فِي مَوْضِعٍ كَانَ أَشَدَّ غَضَبًا مِنْهُ يَوْمَئِذٍ ثُمَّ قَالَ ‏ "‏ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّ مِنْكُمْ مُنَفِّرِينَ، فَمَنْ أَمَّ النَّاسَ فَلْيَتَجَوَّزْ، فَإِنَّ خَلْفَهُ الضَّعِيفَ وَالْكَبِيرَ وَذَا الْحَاجَةِ ‏"‏‏.‏

পরিচ্ছেদ: নামাজ দীর্ঘকারী ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা প্রসঙ্গে। আবু উসাইদ বলেন, বেটা! তুমি আমাদের নামাজ দীর্ঘ করে দিয়েছো।

অনুবাদ: হযরত আবু মাসউদ (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ফজরের নামাজে (জামাআতে) আসি না। কারণ, অমুক ব্যক্তি (ইমাম) নামাজ অনেক দীর্ঘ করে থাকে। (এক কথা শুনে) আল্লাহর রাসূল (সা.) সেদিন এত বেশী রাগানি¦ত হলেন যে, ভাষণ দানের সময় আমি তাঁকে এতটা রাগানি¦ত হতে কোনদিন দেখিনি। তিনি বললেন, হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা (দ্বীনের প্রতি) মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। সুতরাং তোমাদের কেউ লোকজনের নামাজে ইমামতি করলে তার নামাজ সংক্ষিপ্ত করতে হবে। কারণ, তার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও জরুরী প্রয়োজনে ব্যস্ত লোকেরাও নামাজ আদায় করে থাকে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য قَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ إِنِّي لأَتَأَخَّرُ عَنِ الصَّلاَةِ فِي الْفَجْرِ مِمَّا يُطِيلُ بِنَا فُلاَنٌ فِيهَا -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ১৯, ৯৭, ৯৮, ৯০২, ১০২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَارِبُ بْنُ دِثَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ الأَنْصَارِيَّ، قَالَ أَقْبَلَ رَجُلٌ بِنَاضِحَيْنِ وَقَدْ جَنَحَ اللَّيْلُ، فَوَافَقَ مُعَاذًا يُصَلِّي، فَتَرَكَ نَاضِحَهُ وَأَقْبَلَ إِلَى مُعَاذٍ، فَقَرَأَ بِسُورَةِ الْبَقَرَةِ أَوِ النِّسَاءِ، فَانْطَلَقَ الرَّجُلُ، وَبَلَغَهُ أَنَّ مُعَاذًا نَالَ مِنْهُ، فَأَتَى النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فَشَكَا إِلَيْهِ مُعَاذًا، فَقَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ يَا مُعَاذُ أَفَتَّانٌ أَنْتَ ـ أَوْ فَاتِنٌ ثَلاَثَ مِرَارٍ ـ فَلَوْلاَ صَلَّيْتَ بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ، وَالشَّمْسِ وَضُحَاهَا، وَاللَّيْلِ إِذَا يَغْشَى، فَإِنَّهُ يُصَلِّي وَرَاءَكَ الْكَبِيرُ وَالضَّعِيفُ وَذُو الْحَاجَةِ ‏"‏‏.‏ أَحْسِبُ هَذَا فِي الْحَدِيثِ‏.‏ قَالَ أَبُو عَبْدِ اللَّهِ وَتَابَعَهُ سَعِيدُ بْنُ مَسْرُوقٍ وَمِسْعَرٌ وَالشَّيْبَانِيُّ‏.‏ قَالَ عَمْرٌو وَعُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ مِقْسَمٍ وَأَبُو الزُّبَيْرِ عَنْ جَابِرٍ قَرَأَ مُعَاذٌ فِي الْعِشَاءِ بِالْبَقَرَةِ‏.‏ وَتَابَعَهُ الأَعْمَشُ عَنْ مُحَارِبٍ‏.

অনুবাদ: হযরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি দুটি উটের পিঠে পানি বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলো। তখন রাতের অন্ধকার ঘনীভ‚ত হয়ে এসেছিলো। এই সময় সে মুআযকে নামাজরত দেখতে পেয়ে উট দুটি বসিয়ে মুআযের সাথে নামাজে শামিল হলো। তিনি নামাজে সূরা বাকারাহ অথবা নিসা পাঠ করতে থাকলে লোকটি (বিরক্ত হয়ে নামাজ ছেড়ে) চলে গেলো। পরে সে জানতে পারলো, তার এ কাজে মুআয দুঃখিত হয়েছে। সুতরাং সে আল্লাহর নবী (সা.)-এর কাছে গিয়ে মুআযের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আল্লাহর নবী (সা.) তাকে তিনবার বললেন, হে মুআয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী (হিসেবে গণ্য থেকে চাও)? তুমি সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা, ওয়াশশামসি ও দুহাহা বা ওয়াল লাইলে ইযা ইয়াগশা-এর মত সূরা পাঠ করে নামাজ আদায় করলে কতই না উত্তম হত। কারণ তোমার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল ও (জরুরী) প্রয়োজনে ব্যস্ত (সব রকমের) লোকই নামাজ আদায় করে থাকে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَشَكَا إِلَيْهِ مُعَاذًا -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৯৭, ৯৮, ৯০২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (র.) বলেন, ক্ষমতাসীন শাসকদের নিকট এ ধরনের অভিযোগ করা হারাম ও নিষিদ্ধ গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। অর্থাৎ এ ধরনের অভিযোগ করা জায়েয আছে।

২. কোনো কোনো ওলামাগণ হতে বর্ণিত আছে যে, সন্তান তার পিতার ইমামতি করা মাকরূহ। ইমাম বুখারী তাদের মত খণ্ডন করার জন্য এ বাব কায়েম করেছেন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.