পরিচ্ছেদ: নামাজ দীর্ঘকারী ইমামের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা প্রসঙ্গে। আবু উসাইদ বলেন, বেটা! তুমি আমাদের নামাজ দীর্ঘ করে দিয়েছো।
অনুবাদ: হযরত আবু মাসউদ (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি ফজরের নামাজে (জামাআতে) আসি না। কারণ, অমুক ব্যক্তি (ইমাম) নামাজ অনেক দীর্ঘ করে থাকে। (এক কথা শুনে) আল্লাহর রাসূল (সা.) সেদিন এত বেশী রাগানি¦ত হলেন যে, ভাষণ দানের সময় আমি তাঁকে এতটা রাগানি¦ত হতে কোনদিন দেখিনি। তিনি বললেন, হে লোকেরা! তোমাদের মধ্যে এমন অনেকে আছে যারা (দ্বীনের প্রতি) মানুষকে বীতশ্রদ্ধ করে তোলে। সুতরাং তোমাদের কেউ লোকজনের নামাজে ইমামতি করলে তার নামাজ সংক্ষিপ্ত করতে হবে। কারণ, তার পিছনে দুর্বল, বৃদ্ধ ও জরুরী প্রয়োজনে ব্যস্ত লোকেরাও নামাজ আদায় করে থাকে।
অনুবাদ: হযরত জারির ইবনে আব্দুল্লাহ আনসারী (রা.) বলেন, এক ব্যক্তি দুটি উটের পিঠে পানি বহন করে নিয়ে যাচ্ছিলো। তখন রাতের অন্ধকার ঘনীভ‚ত হয়ে এসেছিলো। এই সময় সে মুআযকে নামাজরত দেখতে পেয়ে উট দুটি বসিয়ে মুআযের সাথে নামাজে শামিল হলো। তিনি নামাজে সূরা বাকারাহ অথবা নিসা পাঠ করতে থাকলে লোকটি (বিরক্ত হয়ে নামাজ ছেড়ে) চলে গেলো। পরে সে জানতে পারলো, তার এ কাজে মুআয দুঃখিত হয়েছে। সুতরাং সে আল্লাহর নবী (সা.)-এর কাছে গিয়ে মুআযের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আল্লাহর নবী (সা.) তাকে তিনবার বললেন, হে মুআয! তুমি কি ফিতনা সৃষ্টিকারী (হিসেবে গণ্য থেকে চাও)? তুমি সাব্বিহিসমা রাব্বিকাল আ'লা, ওয়াশশামসি ও দুহাহা বা ওয়াল লাইলে ইযা ইয়াগশা-এর মত সূরা পাঠ করে নামাজ আদায় করলে কতই না উত্তম হত। কারণ তোমার পিছনে বৃদ্ধ, দুর্বল ও (জরুরী) প্রয়োজনে ব্যস্ত (সব রকমের) লোকই নামাজ আদায় করে থাকে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিস দেহলভী (র.) বলেন, ক্ষমতাসীন শাসকদের নিকট এ ধরনের অভিযোগ করা হারাম ও নিষিদ্ধ গীবতের অন্তর্ভুক্ত হবে না। অর্থাৎ এ ধরনের অভিযোগ করা জায়েয আছে।
২. কোনো কোনো ওলামাগণ হতে বর্ণিত আছে যে, সন্তান তার পিতার ইমামতি করা মাকরূহ। ইমাম বুখারী তাদের মত খণ্ডন করার জন্য এ বাব কায়েম করেছেন।
কোন মন্তব্য নেই