Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্বে কোনো নামাজ পড়ার ইচ্ছা করবে না

 باب لاَ يَتَحَرَّى الصَّلاَةَ قَبْلَ غُرُوبِ الشَّمْسِ

 
পরিচ্ছেদ: (আসরের নামাজের পর) সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্বে কোনো নামাজ পড়ার ইচ্ছা করবে না।

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ لاَ يَتَحَرَّى أَحَدُكُمْ فَيُصَلِّي عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلاَ عِنْدَ غُرُوبِهَا ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন সূর্য উদয়ের সময় বা সূর্য অস্ত যাওয়ার সময় নামাজ আদায়ে উদ্যোগী না হয়।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হবে لاَ يَتَحَرَّى أَحَدُكُمْ فَيُصَلِّي عِنْدَ طُلُوعِ الشَّمْسِ وَلاَ عِنْدَ غُرُوبِهَا -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৮২, ৮৩, ১৫৯, ২২১, ৪৬৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ سَعْدٍ، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، قَالَ أَخْبَرَنِي عَطَاءُ بْنُ يَزِيدَ الْجُنْدَعِيُّ، أَنَّهُ سَمِعَ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيَّ، يَقُولُ سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ لاَ صَلاَةَ بَعْدَ الصُّبْحِ حَتَّى تَرْتَفِعَ الشَّمْسُ، وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.) বর্ণনা করেন, ফযরের নামাজ আদায়ের পর সূর্য উদিত হয়ে ওপরে না ওঠা পর্যন্ত এবং আসরের নামাজের পর সূর্য সম্পূর্ণ অস্ত না যাওয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার নামাজ আদায় করা চলবে না।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হবে وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغِيبَ الشَّمْسُ  -এর সাথে, তবে এখানে ইঙ্গিতার্থে শিরোনাম প্রমাণিত হবে। হাফিজ আসকালানী বলেন, শিরোনাম প্রমাণিত হবে এভাবে যে, নিষিদ্ধ নামাজ সহীহ নয়; যা একথাকে আবশ্যক করে যে, কেউ তার ইচ্ছা করবে না। কারণ, জ্ঞানবান ব্যক্তি অনর্থক কাজে নিযুক্ত হয় না।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ أَبَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا غُنْدَرٌ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ أَبِي التَّيَّاحِ، قَالَ سَمِعْتُ حُمْرَانَ بْنَ أَبَانَ، يُحَدِّثُ عَنْ مُعَاوِيَةَ، قَالَ إِنَّكُمْ لَتُصَلُّونَ صَلاَةً، لَقَدْ صَحِبْنَا رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَمَا رَأَيْنَاهُ يُصَلِّيهَا، وَلَقَدْ نَهَى عَنْهُمَا، يَعْنِي الرَّكْعَتَيْنِ بَعْدَ الْعَصْرِ‏.

অনুবাদ: হযরত মুআবিয়া (রা.) বলেছেন, হে লোকজন! তোমরা এমন এক নামাজ আদায় করো যা আমি কখনো রাসূল (সা.)-কে আদায় করতে দেখিনি। অথচ আমি তাঁর ঘনিষ্ঠ সাহচর্য লাভ করেছি। তিনি ঐ দুই রাকআত নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন। অর্থাৎ আসরের পরে যে দু'রাকআত নামাজ আদায় করা হয়।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হবে -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৮৩, ৫৩১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
ব্যাখ্যা:
এখানে হযরত মুআবিয়া (র.) আসরের পরের দু রাকআত পড়ার অস্বীকার করছেন না, যা হযরত আয়েশা (রা.)-এর রেওয়ায়েতের সাথে বিরোধপূর্ণ। তবে হযরত মুআবিয়া (রা.) তার স্বচক্ষে দেখার অস্বীকার করছেন। যেহেতু নবী করীম (সা.) দু’ রাকআত পড়েছেন ঘরের মধ্যে। তাই হযরত মুআবিয়া (রা.) তা জানতে পারেননি। তাছাড়া নবী করীম (সা.)-এর সাথে মুআবিয়া (রা.)-এর সাহচর্য অল্প সময়ের।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سَلاَمٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ، عَنْ خُبَيْبٍ، عَنْ حَفْصِ بْنِ عَاصِمٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ نَهَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ صَلاَتَيْنِ بَعْدَ الْفَجْرِ حَتَّى تَطْلُعَ الشَّمْسُ، وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) দুই সময়ে নামাজ আদায় করতে নিষেধ করেছেন। ফজরের নামাজের পর সূর্য উদিত হওয়ার পূর্বে নামাজ আদায় করতে এবং আসরের নামাজের পর সূর্য অস্ত যাওয়ার পূর্বে নামাজ আদায় করতে।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হবে وَبَعْدَ الْعَصْرِ حَتَّى تَغْرُبَ الشَّمْسُ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৮১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: تَحَرِّي শব্দের অর্থ হলো কোনো কিছুর ইচ্ছা করা। ইমাম বুখারী শিরোনাম কায়েম করেছেন আসরের নামাজ আদায়ের পর সূর্য অস্তমিত হওয়ার পূর্বে নামাজ পড়ার ইচ্ছা করবে না। সুতরাং এর দ্বারা ইমাম বুখারীর কি উদ্দেশ্য সে সম্পর্কে বিভিন্ন কওল রয়েছে। যা নিম্নরূপ-
১.    ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, আসরের পরে ইচ্ছাহীনভাবে নামাজে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। কিন্তু কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে সূর্য অস্তমিত হওয়ার সময় নামাজ পড়লে মাকরূহ হবে। এর কারণ হলো এই যে, ইমাম বুখারী এখানে লাগাতার কয়েকটি বাব কায়েম করে চলছেন। পূর্বের শিরোনাম হলো بعد الفجر এর পূর্বের বাব হলো الصلوة قبل غروب الشمس অর্থাৎআসরের পরে। এবং উভয়ের ব্যাপারেই নবী করীম (সা.) হতে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। পূর্বের বাবের হাদীসে রয়েছে- نهي عن الصلوة بعد الصبح حتي تشرق الشمس وبعد العصر حتي تغرب এ উভয় নামাজের নিষেধাজ্ঞা সাধারণভাবে বর্ণিত হয়েছে।
এখানে প্রশ্ন জাগে যে, যখন রেওয়ায়েতসমূহের মাঝে কোনো মতবিরোধ নেই; বরং সেগুলির পদ্ধতি একই রকম, তাহলে ইমাম বুখারী শিরোনাম কেন পরিবর্তন করেছেন? যেমন প্রথমে باب صلوة الفجر-এ তো সাধারণ/নিঃশর্ত বাব কায়েম করেছেন, সেখানে تحري উল্লেখ করেননি, কিন্তু এ প্রথম বাবের দ্বিতীয় রেওয়ায়েতটিতে تحري উল্লেখ রয়েছে। আর এ দ্বিতীয় বাবে যে صلوة العصر-এর বাব কায়েম করেছেন, এর শিরোনামে تحري শব্দ উল্লেখ করেছেন, অথচ হাদীসের দাবী হলো উভয় বাব একইরকম হওয়া।
জবাব- ১: تحري অর্থ হলো ইচ্ছা করে নামাজ আদায় করা। আর নামাজ হলো ইচ্ছাধীন কর্ম, সুতরাং تحري অর্থও এই হলো যে, কোনো ব্যক্তি এ ওয়াক্তসমূহে যেন নামাজ না পড়ে। আর শিরোনামের বিভিন্নতা ইবারতের বিভিন্নতামাত্র। নতুবা একথা স্পষ্ট যে, আসরের পরে নামাজ পড়া হলো ইচ্ছাধীন কর্ম। তাহলে যেখানে তা পড়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে তাহলে تحري-এর নিষেধাজ্ঞা হয়ে গেল।
জবাব-২: হযরত শায়খুল হাদীস (র.) বলেন, ইমাম বুখারী প্রথম বাবে (تحريবিহীন) জুমহূরের মাযহাব অবলম্বন করেছেন। যাদের মাযহাব হলো ফজরের পরে নামাজ পড়া সাধারণভাবে নিষেধ। (এমনটি যদি ফজরের দুই রাকাত সুন্নতে মুয়াক্কাদা ফওত হয়ে যায় তাও সূর্যোদয়ের পর পড়তে হবে)
আর بعد العصر এর মাসআলায় ইমাম বুখারী কতক যাহেরীদের মাযহাব অবলম্বন করেছেন। যাদের মাযহাব হলো যখন تحري করা নিষিদ্ধ  তখন যদি ইচ্ছাকৃত তাহররী করে তাহলে তা নিষিদ্ধ ও মাকরূহ হবে।
জবাব-৩ : কতক আকাবির হতে বর্ণিত আছে যে, আসরের পর নামাজ নিষিদ্ধ হওয়ার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ইচ্ছাকৃত আসরের পরে নফল নামাজ না পড়া; কিন্তু যদি অনিচ্ছাকৃতভাবে নফল নামাজ পড়ে ফেলে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। উদাহরণতঃ কেউ কাজা নামাজ আদায় করছে, এমতাবস্থায় নামাজের মধ্যে এমন কোনো ত্রুটি সংঘটিত হয়ে গেল যা দ্বারা নামাজের ফরযিয়্যাতের গুণ বাতিল হয়ে গেল, যার পরিপ্রেক্ষিতে নামাজ নফলে পরিণত হয়ে গেল। তো যেহেতু তাতে তাহাররীর কোনো ইচ্ছা নেই, তাই তাতে কোনো সমস্যা নেই।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.