অনুবাদ: হযরত মালেক ইবনে হুয়াইরিছ (রা.) বর্ণনা করছেন, আমি এবং আমাদের গোত্রের একদল লোক আল্লাহর নবী (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হলাম। আমরা সেখানে বিশ দিন অতিবাহিত করলাম। আল্লাহর নবী (সা.) বড়ই দয়ালু ও কোমল হৃদয়ের ছিলেন। তিনি যখন অনুভব করতে পারলেন, আমরা আমাদের পরিবার-পরিজনের জন্য অস্থির হয়ে পড়েছি, তখন তিনি আমাদের বললেন, তোমরা আপন আপন পরিবারের কাছে ফিরে যাও এবং তাদের সাথে অবস্থান করো। তোমরা তাদেরকে দ্বীনের শিক্ষা দেবে (যথারীতি) নামাজ আদায় করাবে। নামাজের সময় হলে তোমাদের কেউ আজান দেবে এবং তোমাদের মধ্যে যিনি বড় (দীনদারী ও বয়স উভয় দিক দিয়ে) তিনি তোমাদের ইমাম হবেন।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য সম্পর্কে অনেকগুলি মন্তব্য পাওয়া যায়। যথা:
১. হাফিজ ইবনে হাজার (র.) বলেন:كانه يشير الي مارواه عن ابن عمر كان يؤذن للصبح في السفر اذانين অর্থাৎ ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো ঐ রেওয়ায়েতটির খণ্ডন করা যা ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি সফরে নামাজের জন্য দুই আজান দেওয়াতেন। সুতরাং তার উদ্দেশ্য হলো যে, বরং এক আজানই যথেষ্ট। তবে নিজ এলাকায় যদি আশ-পাশের লোকদেরকে অবহিত করার প্রয়োজন হয় তাহলে একাধিক আজানের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু সফরে যেহেতু সকল নামাজী সমবেত থাকে তাই এক আজানই যথেষ্ট। অধিক আজানের প্রয়োজন নেই।
২. শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) বলেন, সফরের قيد টি قيد اتفاقي; উদ্দেশ্য হলো মুকিম অবস্থায়ও এক আজান যথেষ্ট। হারামাইন শরীফাইনে যে, একাধিক আজান দেওয়া তা জরুরী ও আবশ্যক নয়।
৩. সামনে একটি বাবে একটি হাদীস আছে: اذا انتما خرجتما فاذنا ثم اقيما ثم ليؤمكما اكبركما ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এ হাদীসের ব্যাখ্যা করা। কারণ, এ হাদীসের বাহ্যিকতা দ্বারা বুঝে আসছে যে, উভয়কে আজান দিতে হবে। ইমাম বুখারী বলছেন যে, উভয়কে আজান দিতে হবে না; বরং হাদীসের অর্থ হলো يؤذن احدهما তাদের একজন আজান দিবে। অথবা অর্থ হল يؤذن احدكما ويجيب الآخر একজন আজান দিবে অপরজন আজানের জওয়াব দিবে।
তবে ইমামতির বিষয়টি যেহেতু সেক্ষেত্রে উভয়ই সমান, কেননা একসাথে হিজরত করেছে, একই সাথে মুসলমান হয়েছে, নবী করীম (সা.)-এর দরবারে বিশদিন একসাথে থেকেছে। তাই ইমামতির ক্ষেত্রে বড়জনকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন।
আল্লামা আইনী বলেন, এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ইমামতির মর্যাদা আজান অপেক্ষা উত্তম।
কোন মন্তব্য নেই