Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ যে ব্যক্তি কোনো নামাজ পড়তে ভুলে যায়

 باب مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّ إِذَا ذَكَرَهَا وَلاَ يُعِيدُ إِلاَّ تِلْكَ الصَّلاَةَ وَقَالَ إِبْرَاهِيمُ مَنْ تَرَكَ صَلاَةً وَاحِدَةً عِشْرِينَ سَنَةً لَمْ يُعِدْ إِلاَّ تِلْكَ الصَّلاَةَ الْوَاحِدَةَ


حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، وَمُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالاَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، عَنْ قَتَادَةَ، عَنْ أَنَسٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّ إِذَا ذَكَرَهَا، لاَ كَفَّارَةَ لَهَا إِلاَّ ذَلِكَ ‏"‏‏.‏ ‏{‏وَأَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي‏}‏ قَالَ مُوسَى قَالَ هَمَّامٌ سَمِعْتُهُ يَقُولُ بَعْدُ ‏{‏وَأَقِمِ الصَّلاَةَ لِذِكْرِي‏}‏‏.‏وَقَالَ حَبَّانُ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، حَدَّثَنَا قَتَادَةُ، حَدَّثَنَا أَنَسٌ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم نَحْوَهُ‏.‏

পরিচ্ছেদ: যে ব্যক্তি কোনো নামাজ পড়তে ভুলে যায় তাহলে সে তা যখন স্মরণ হয় তখন আদায় করবে, এবং শুধুমাত্র ঐ নামাজকে আদায় করবে;(অন্য নামাজ নয়)
ইবরাহীম নখয়ী বলেন, যে ব্যক্তি বিশ বছর পর্যন্ত এক ওয়াক্ত নামাজ তরক করে রেখেছে সে শুধুমাত্র ঐ এক নামাজই কাজা করবে। (অর্থাৎ ঐ নামাজ একবারই কাজা আদায় করবে, একাধিকবার নয়)
অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) আল্লাহর নবী (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেছেন, কেউ কোনো নামাজের কথা ভুলে গেলে তা যখনই স্মরণ হবে তখন আদায় করে নিবে। উক্ত নামাজের এছাড়া আর কোনো কাফ্ফারা নেই। কারণ আল্লাহ বলেছেন, আমাকে স্মরণের উদ্দেশ্যে নামাজ কায়েম করো।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হবে مَنْ نَسِيَ صَلاَةً فَلْيُصَلِّ إِذَا ذَكَرَهَا -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৮৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো কিছু লোকের ভুল ধারণা নিরসন করা। নাসাঈ শরীফের একটি রেওয়ায়েত ও আবু দাউদের একটি দীর্ঘ হাদীসের শেষে রয়েছে- فليصلها حين ذكرها وم الغد للوقت হাদীসের এ শব্দের কারণে কেউ কেউ এ শব্দের বাহ্যিকতা দ্বারা এর উদ্দেশ্য এমন বুঝেছেন যে, যখন স্মরণ হবে তখন একবার পড়বে, আবার পরের দিন যখন ঐ নামাজের সময় হবে তখন আবার পড়তে হবে। এমনই একটি রেওয়ায়েত মুসলিম শরীফ (খ.১, পৃ. ২৩৯)-এ আছে, যার শব্দ হলো- فليصلها حين ينبه لها فاذا كان الغد فليصلها عند وقتها  অর্থাৎ যখন স্মরণ হবে তখন পড়বে, এবং পরবর্তী দিন যখন এ ওয়াক্তের সময় হবে তখন ঐ সময় নামাজ পড়বে।
হাদীসে এ শব্দের বাহ্যিক অর্থ দ্বারা কেউ কেউ এটা বুঝেছেন যে, ফওত হওয়া নামাজ দু’বার পড়তে হবে। একবার স্মরণ হওয়ার সময়, আবার পরের দিন ঐ নামাজের সময়।
ইমাম বুখারী তাদের এ মতকে খণ্ডন করছেন- لا يعيد الا تلك الصلوة বলে।
ومن الغد للوقتএর আসল ও সঠিক উদ্দেশ্য হলো এই যে, পরবর্তি দিন যখন নামাজের সময় হবে তখন নিয়ম অনুযায়ী সময়মত নামাজ পড়বে। এ অর্থ নয় যে, ফওত হওয়া নামাজ পুনরায় পড়বে।
সুতরাং যদি কোনো দিন কারো ঘুমের কারণে বা ভুলে যাওয়ার কারণে নামাজ কাজা হয়ে যায়, তাহলে জাগ্রত হলে বা স্মরণ হলে সাথে সাথে ঐ নামাজ পড়ে নিতে হবে। (তবে শর্ত হলো নিষিদ্ধ ওয়াক্ত না হওয়া) তবে এমন যেন না হয় যে, পরের দিনও আবার কাজা হয়ে যায়; বরং من الغد الموقت অর্থাৎপরবর্তী দিন ঐ নামাজ সময়মত পড়বে।
তবে যদি মাকরূহ ওয়াক্তে স্মরণ হয় বা ঘুম থেকে জাগ্রত হয় তাহলে হানাফীদের মতে সে অপেক্ষা করবে সহীহ ওয়াক্ত আসা পর্যন্ত। এটিই হলো জুমহূর ইমামগণের মাযহাব। কিন্তু ইমাম শাফেয়ী এর বিপক্ষে। তিনি বলেন যখন স্মরণ হবে তখনই আদায় করবে, যদিও তখন মাকরূহ ওয়াক্ত হয়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.