باب يَقُومُ عَنْ يَمِينِ الإِمَامِ، بِحِذَائِهِ سَوَاءً إِذَا كَانَا اثْنَيْنِ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الْحَكَمِ، قَالَ سَمِعْتُ سَعِيدَ بْنَ جُبَيْرٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ ـ رضى الله عنهما ـ قَالَ بِتُّ فِي بَيْتِ خَالَتِي مَيْمُونَةَ فَصَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الْعِشَاءَ، ثُمَّ جَاءَ فَصَلَّى أَرْبَعَ رَكَعَاتٍ ثُمَّ نَامَ، ثُمَّ قَامَ فَجِئْتُ فَقُمْتُ عَنْ يَسَارِهِ، فَجَعَلَنِي عَنْ يَمِينِهِ، فَصَلَّى خَمْسَ رَكَعَاتٍ، ثُمَّ صَلَّى رَكْعَتَيْنِ، ثُمَّ نَامَ حَتَّى سَمِعْتُ غَطِيطَهُ ـ أَوْ قَالَ خَطِيطَهُ ـ ثُمَّ خَرَجَ إِلَى الصَّلاَةِ.
পরিচ্ছেদ: ইমামের বরাবর ডান দিকে দাঁড়াবে, যদি মুক্তাদি দু’জন হয়।
অনুবাদ: হযরত ইবনে আবক্ষাস (রা.) বলেন, এক সময়ে আমি আমার খালা মায়মুনার বাড়িতে রাত যাপন করলাম। দেখলাম, আল্লাহর রাসূল (সা.) মসজিদ থেকে ইশার চার রাকাআত নামাজ আদায় করে ঘরে এসে আরো চার রাকাআত পড়লেন তারপর নিদ্রা গেলেন। পরে জেগে উঠে নামাজ আদায় করতে দাঁড়ালেন। তখন আমি গিয়ে (তাঁর সাথে নামাজের জন্য) তাঁর বাঁম পাশে দাঁড়ালে তিনি আমাকে তাঁর ডান পাশে দাঁড় করালেন এবং পাঁচ রাকাআত নামাজ আদায় করে পরে আরো দুই রাকাআত পড়ে নিদ্রা গেলেন। তখন আমি নিদ্রাবস্থায় তাঁর শ্বাস-প্রশ্বাসের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছিলাম। পরে তিনি (ফজর) নামাজের জন্য (মসজিদে) গেলেন।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো একজন মুক্তাদির নামাজে দাঁড়ানোর অবস্থান বর্ণন করা। অর্থাৎ যদি নামাজী কেবলমাত্র দু’জন হয়, একজন ইমাম, অপরজন মুক্তাদি তাহলে মুক্তাদি ইমামের ডান দিকে ইমাম বরাবর দাঁড়াবে। ইমামের পিছনে দাঁড়াবে না।
ইমামগণের মতামত: ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মালেক (র.)-এর মাসলাক হলো এই যে, যদি মুক্তাদি একজন হয় তাহলে ইমাম মুক্তাদী উভয় সমান হয়ে দাঁড়াবে। আগে-পিছে দাড়াবে না। এটিই ইমাম বুখারীর মত।
ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম মুহাম্মদ (র.)-এর মাসলাক হলো, মুক্তাদীর পায়ের আঙ্গুলসমূহ ইমামের পায়ের গোড়ালী বরাবর থাকবে। যেমন মুক্তাদি ইমামের আগে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা না থাকে।
৩. ইবরাহীম নখয়ী বলেন, যদি মুক্তাদি আসার সম্ভাবনা থাকে তাহলে পিছনে দাঁড়াবে। নতুবা নয়।
ইমাম বুখারী হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর রেওয়ায়েত দ্বারা মাসআলা উদ্ভাবন করেছেন যে, নবী করীম (সা.) ইবনে আব্বাস (রা.)-কে ডান দিকে এনে দাঁড় করিয়েছেন। কিন্তু এর পদ্ধতি বর্ণনা নেই যে, বরাবর দাড়িয়েছেন না কিছু আগ-পিছে। ইমাম বুখারী তার নিজের স্বভাবসুলভ بحذائه سواء এর উপর দলীল গ্রহণ করেছেন। এ হাদীসের বিশ্লেলণের জন্য দেখুন নাসরুল বারী প্রথম খণ্ড ৫০৪-৫০৫, দ্বিতীয় খণ্ড ১৬-১৭ পৃষ্ঠা।
কোন মন্তব্য নেই