পরিচ্ছেদ: জোহরের নামাজের জন্য সকাল সকাল যাওয়ার ফযীলত সম্পর্কে
অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, রাস্তায় চলতে চলতে একটি লোক পথের ওপর একটি কাঁটাওয়ালা ডাল দেখতে পেয়ে সেটা সরিয়ে ফেললো। এতে আল্লাহ তার গুনাহ মাফ করে দিলেন এবং তাকে পুরস্কৃত করলেন। এরপর তিনি বললেন, শহীদ পাঁচ প্রকার। প্লেগে বা মহামারীতে মৃত, পেটের রোগে মৃত, পানিতে ডুবে মৃত, চাপা পড়ে মৃত এবং আল্লাহর পথে শহীদ। তিনি আরো বললেন, লোকজন যদি জানতো আজান দেয়ায় ও প্রথম কাতারে দাঁড়ানোর কি ছওয়াব তাহলে (সেই ছওয়াব পাবার জন্য) লটারী ছাড়া অন্য উপায় না পেলে তারা অবশ্যই লটারী করতো। যদি তারা প্রথম ওয়াক্তে নামাজ আদায় করার ছওয়াব জানতো তাহলে অবশ্যই তারা এজন্য দৌড়ে যেতো। যদি তারা ইশা ও ফজরের নামাজ (জামাআতে) পড়ার ছওয়াব জানতো, তাহলে তারা এজন্য অবশ্য হামাগুড়ি দিয়ে হলেও আসতো।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে এখানে ৯০ পৃষ্ঠায় রয়েছে। কিন্তু এ হাদীসের মতনে তিনটি হাদীস রয়েছে। সবগুলিই হযরত কুতাইবা হযরত ইমাম মালেক থেকে বর্ণনা করেছেন। কিন্তু ইমাম বুখারী সংক্ষিপ্ত করণার্থে একসাথে বর্ণনা করে দিয়েছে।
সে তিনটির প্রথম হলো রাস্তা থেকে গাছের ডাল সরানোর ঘটনা। যা ৩৩৬ পৃষ্ঠা ابواب المظالم-এর অধীনে আসছে।
দ্বিতীয়টি হলো الشهداء خمس যা ১০০ পৃষ্ঠায় باب الصف الاول-এর অধীনে এবং ৩৯৭ পৃষ্ঠায় باب الشهادة سبع এবং كتاب الطب-এর অধীনে ৮৫৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
তৃতীয়টি ৮৬, ৩৭০ ও ৯০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
কিন্তু যেহেতু হযরত কুতাইবা একসাথে ইমাম বুখারী থেকে বর্ণনা করছেন তাই মুসান্নেফ তাতে কোনো পরিবর্তন করেননি। আমাদেও হিন্দুস্তানী নুসখায় সবগুলি একত্রে রয়েছে। তাছাড়া আল্লামা আইনী প্রমুখ এগুলোর উপর পৃথক পৃথক হাদীস নম্বর লাগাননি। তেমনিভাবে বুখারীর প্রবীণতম ব্যাখ্যাতা আল্লামা কিরমানীও সবগুলিকে একত্রে উলেখ করেছেন।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারী ফজরের নামাজ জামাতের সাথে পড়ার ফযীলত বর্ণনা করার পর জোহরের নামাজ তাড়াতাড়ি পড়ার বাব কায়েম করেছেন। যেহেতু উভয় নামাজের মধ্যে কষ্ট সমান। ফজরের নামাজে ভোরের প্রিয় ও মিষ্টি ঘুম ছাড়তে হয় তেমনিভাবে জোহরের নামাজও কায়লুলা ছেড়ে যেতে হয়।
تهجير অর্থ হলো تبكير সকাল সকাল যাওয়া, শুরু সময়ে যাওয়া। সুতরাং ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো জোহরের নামাজ আউয়াল ওয়াক্তে পড়ার ফযীলত বর্ণনা করা।
আল্লামা আইনী মাসআলা উদ্ভাবনের অধীনে লিখেছেন ইমাম বুখারী تهجير الي الظهر-এর ফযীলত শিরোনাম করেছেন। এর দ্বারা ابراد ظهر-এর হাদীসের সাথে কোনো বিরোধ হবে না। কেননা:ابراد عند اشتداد الحرّ অর্থাৎ ابراد হলো প্রচণ্ড গরমের সময়। তাইতো বুখারী ৭৬ পৃষ্ঠায় যে বাব কায়েম করেছেন সেখানে আছে :باب الابراد بالظهر في شدة الحر বুঝা গেল প্রচন্ড গরমের সময় জোহরের নামাজ বিলম্বে পড়া হলো رخصت কিন্তু তার মূল ওয়াক্ত হলো تهجير
শায়খুল হাদীস (র.) বলেন, যেহেতু الابراد - বাবের রেওয়ায়েতের মধ্যে ابردوا بالصلوة নির্দেশবাচক শব্দে বর্ণিত। তাই কেউ যেন এটাকে ওয়াজিব মনে না করে, তাই ইমাম বুখারী বলে দিলেন বিষয়টি এমন নয়; বরং তা হলো উত্তম। অন্য ওয়াক্তেও পড়া যাবে।
ব্যাখ্যা:
الشُّهَدَاءُ خَمْسَةٌ : এ হাদীসের পাঁচ প্রকার শহীদের কথা রয়েছে। পক্ষান্তরে মুয়াত্তা ইমাম মালেক, আবু দাউদ, নাসাঈ ইত্যাদিতে আছে الشهداء سبعة ; তেমনিভাবে ইবনে আব্বাস (রা.) হতে ثمانية; অন্যসূত্রে تسعة অন্য সূত্রে احد عشر রয়েছে।
কোন মন্তব্য নেই