باب إِذَا اسْتَوَوْا فِي الْقِرَاءَةِ فَلْيَؤُمَّهُمْ أَكْبَرُهُمْ
حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ بْنُ حَرْبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حَمَّادُ بْنُ زَيْدٍ، عَنْ أَيُّوبَ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ قَدِمْنَا عَلَى النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَنَحْنُ شَبَبَةٌ، فَلَبِثْنَا عِنْدَهُ نَحْوًا مِنْ عِشْرِينَ لَيْلَةً، وَكَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم رَحِيمًا فَقَالَ " لَوْ رَجَعْتُمْ إِلَى بِلاَدِكُمْ فَعَلَّمْتُمُوهُمْ، مُرُوهُمْ فَلْيُصَلُّوا صَلاَةَ كَذَا فِي حِينِ كَذَا، وَصَلاَةَ كَذَا فِي حِينِ كَذَا، وَإِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَلْيُؤَذِّنْ لَكُمْ أَحَدُكُمْ، وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ ".
পরিচ্ছেদ: যদি কিছু লোক কেরাতের দিক দিয়ে সমান হয় তাহলে যে বয়সে বড় সে ইমামতি করবে।
অনুবাদ: হযরত মালেক ইবনে হুয়াইরিস (রা.) বলেছেন, আমরা একবার নবী (সা.)-এর কাছে উপস্থিত হলাম। আমরা ছিলাম সমবয়সী যুবক। আমরা তাঁর খেদমতে প্রায় বিশ দিন অবস্থান করেছিলাম। নবী (সা.) ছিলেন øেহপরায়ণ। তিনি আমাদেরকে বললেন, তোমরা বাড়ী ফিরে গিয়ে লোকদের দ্বীনের শিক্ষা দিবে। তাদেরকে নামাজের সময় ও নিয়ম-কানুন জানিয়ে বলবে, এ সময় এমনিভাবে এবং এ সময় এমনিভাবে নামাজ আদায় করতে হয়। তোমাদের একজন আজান দিবে এবং তোমাদের মধ্যে যার বয়স সবচেয়ে বেশী সে ইমাম হবে।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য وَلْيَؤُمَّكُمْ أَكْبَرُكُمْ-এর সাথে। হযরত গাংগুহী (র.) বলেন, শিরোনামে এদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে যে, হাদীসে যে বয়সে বড় ব্যক্তিকে ইমামতির যোগ্য বলা হয়েছে এটা তখনকার জন্য প্রযোজ্য হবে, যখন উপস্থিতদের মধ্যে সকলেই ইলম ও কেরাতের দিক দিয়ে সমান হয়। নতুবা শুধুমাত্র বয়সে বড় ব্যক্তি ইমামতির জন্য অগ্রগণ্য হবে না। মূলতঃ শিরোনাম দ্বারা হাদীসের ব্যাখ্যা করা হয়েছে। এবং হাদীস দ্বারাও বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে যায়। যেহেতু এ লোকগুলি ইলম ও কেরাতের দিক দিয়ে সমান ছিল। কেননা, তাদের সকলেই একসাথে হিজরত করেছে, একই সাথে মুসলমান হয়েছে, নবী করীম (সা.)-এর দরবারে বিশদিন একসাথে থেকেছে। তাই ইমামতির ক্ষেত্রে বড়জনকে প্রাধান্য দিতে বলেছেন। আর এ মাসআলা অতিবাহিত হয়েছে যে, জুমহূর আইম্মায়ে ছালাছা ও ইমাম মুহাম্মদ (র.) প্রমুখের মতে اَعْلَم [অধিক ইলমের অধিকারী] ব্যক্তি প্রাধান্য পাবে।
ইমাম আহমদ, ইমাম আবু ইউসুফ (র.) বলেন, اَقْرَأ [কেরাতে প্রাজ্ঞ ব্যক্তি] অগ্রগণ্য হবে। ইমাম বুখারীর ঝোঁক জুমহূরে দিকে বলে মনে হচ্ছে। কারণ, তিনি এর পূর্বে باب اهل العلم والفضل احق بالامامة নাম শিরোনাম গঠন করেছেন।
আল্লামা আইনী বলেন, এ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত হলো যে, ইমামতির মর্যাদা আজান অপেক্ষা উত্তম।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো হাদীসের ব্যাখ্যা করা। কারণ, হাদীসে যে বয়সে বড়কে ইমামতির হকদার বলা হয়েছে, এটা তখনই হবে যখন إِذَا اسْتَوَوْا فِي الْقِرَاءَةِ অর্থাৎ উপস্থিত সকলেই কেরাতের দিক দিয়ে সমান হয় তখন যে বয়সে বড় সে ইমামতির হকদার হবে।
কোন মন্তব্য নেই