Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ মাগরিবের ওয়াক্তের বর্ণনা।

 باب وَقْتِ الْمَغْرِبِ وَقَالَ عَطَاءٌ يَجْمَعُ الْمَرِيضُ بَيْنَ الْمَغْرِبِ وَالْعِشَاءِ


পরিচ্ছেদ: মাগরিবের ওয়াক্তের বর্ণনা। হযরত আতা (র.) বলেন, রুগ্ন ব্যক্তি মাগরিব ও ইশার নামাজ একত্র করে পড়বে

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مِهْرَانَ، قَالَ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو النَّجَاشِيِّ، صُهَيْبٌ مَوْلَى رَافِعِ بْنِ خَدِيجٍ قَالَ سَمِعْتُ رَافِعَ بْنَ خَدِيجٍ، يَقُولُ كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَيَنْصَرِفُ أَحَدُنَا وَإِنَّهُ لَيُبْصِرُ مَوَاقِعَ نَبْلِهِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত রাফে' ইবনে খাদীজের মুক্ত করা দাস আতা ইবনে সুহাইব (রা.) বলেছেন, আমি রাফে' ইবনে খাদীজকে বলতে শুনেছি যে, আমরা আল্লাহর নবী (সা.)এর সাথে মাগরিবের নামাজ এমন সময় আদায় করতাম যে, আমাদের মধ্যকার কেউ কেউ ফিরে এসে (তীর নিক্ষেপ করতো এবং) নিক্ষিপ্ত তীর পতিত হওয়ার জায়গা দেখতে পেতো।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য كُنَّا نُصَلِّي الْمَغْرِبَ- সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৯, ১৫৭ বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ جَعْفَرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ سَعْدٍ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ عَمْرِو بْنِ الْحَسَنِ بْنِ عَلِيٍّ، قَالَ قَدِمَ الْحَجَّاجُ فَسَأَلْنَا جَابِرَ بْنَ عَبْدِ اللَّهِ فَقَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ بِالْهَاجِرَةِ، وَالْعَصْرَ وَالشَّمْسُ نَقِيَّةٌ، وَالْمَغْرِبَ إِذَا وَجَبَتْ، وَالْعِشَاءَ أَحْيَانًا وَأَحْيَانًا، إِذَا رَآهُمُ اجْتَمَعُوا عَجَّلَ، وَإِذَا رَآهُمْ أَبْطَوْا أَخَّرَ، وَالصُّبْحَ كَانُوا ـ أَوْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّيهَا بِغَلَسٍ‏.‏

অনুবাদ: হযরত মুহাম্মাদ ইবনে আমার ইবনে হাসান ইবনে আলী (রা.) বলেছেন, হাজ্জাজ মদিনায় আগমন করলে আমরা জাবির ইবনে আব্দুল্লাহকে নামাজের সময় সম্পর্কে প্রশ্ন করলাম। (কারণ, হাজ্জাজ বিলম্ব করে নামাজ আদায় করতেন) তিনি (জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ) বললেন, আল্লাহর নবী (সা.) যুহরের নামাজ দুপুরে প্রচন্ড গরমের সময় আদায় করতেন। আসরের নামাজ এমন সময় আদায় করতেন, যখন সূর্যের তেজ ও আলো অপরিবর্তিত থাকতো, মাগরিবের নামাজ সূর্য অস্ত যাবার পর আদায় করতেন, ইশার নামাজ কোনো সময় দেরীতে এবং কোনো সময় তাড়াতাড়ি আদায় করতেন। যখন দেখতেন, সবাই উপস্থিত হয়েছে তখন তাড়াতাড়ি আদায় করতেন এবং যখন দেখতেন সবাই দেরী করছে তখন দেরীতেই আদায় করতেন এবং ফজরের নামাজ লোকজন সবাই অথবা (বর্ণনা কারীর সন্দেহ ) আল্লাহর নবী (সা.) রাতের অন্ধকার থাকতেই আদায় করতেন।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য وَالْمَغْرِبَ إِذَا وَجَبَتْ-এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৯, ৮০, পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا الْمَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ، عَنْ سَلَمَةَ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْمَغْرِبَ إِذَا تَوَارَتْ بِالْحِجَابِ‏.‏


অনুবাদ: হযরত সালামাহ (রা) বলেছেন, সূর্য যখন পর্দার আড়ালে চলে যেত অর্থাৎ অস্তমিত হত, তখন আমরা আল্লাহর নবী (সা.)-এর সাথে মাগরিবের নামাজ আদায় করতাম।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য كُنَّا نُصَلِّي مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم الْمَغْرِبَ-এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ دِينَارٍ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرَ بْنَ زَيْدٍ، عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ صَلَّى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سَبْعًا جَمِيعًا وَثَمَانِيًا جَمِيعًا‏.‏

 
অনুবাদ: হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) মাগরিব ও ইশার নামাজ সাত রাকাআত এবং যুহর ও আসরের নামাজ আট রাকাআত একসাথে আদায় করেছেন।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হবে سَبْعًا جَمِيعًا وَثَمَانِيًا جَمِيعًا-এর সাথে। অর্থাৎ সাত রাকাত, আর তা হলো মাগরিব ও ইশা।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৭, ৭৯, ১৫৭  হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো মাগরিবের নামাজের সূচনা ও শেষ বর্ণনা করা। যেমন হযরত আতা বিন আবী রাবাহ (র.)-এর আছর বর্ণনা করে মাগরিবের নামাজে শেষ সময় বর্ণনা করে দিয়েছেন যে, তা ইশা পর্যন্ত বাকি থাকে।
আর মাগরিবের নামাজের শুরু হলো সূর্যাস্ত হতে । আর রেওয়ায়েত উল্লেখ করে বলে দিলেন যে, নবী করীম (সা.) সর্বদা মাগরিবের নামাজ সূর্যাস্তের সাথে সাথে পড়তেন।
ব্যাখ্যা: ইমাম বুখারী এ বাবে চারটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। যার প্রথম হাদীসের সারমর্ম হলো মাগরিবের নামাযের সময় শুরু হয় সূর্যাস্ত হতেই মাগরিবের নামাযের সময় শুরু হয়ে যায়। এতে কারো কোনো দ্বিমত নেই। তাছাড়া মাগরিবের নামায তার নামকরণ হতেই বুঝে এটি বুঝে আসে। তবে সর্বসম্মতভাবে এ নামায তাড়াতাড়িই উত্তম।
বাবের তৃতীয় অর্থাৎ হাদীস নং ৫৪১ এ হাদীসটি হলো ثلاثيات البخاري-এর চতুর্থ নম্বর। অর্থাৎ ইমাম বুখারী ও নবী করীম (সা.)-এর মাঝে মাত্র তিনজন রাবী। এতে একথা স্পষ্ট রয়েছে যে, নবী করীম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম মাগরিবের নামাজ এমন সময় পড়তেন যখন সূর্য অস্ত যেত।
ইমাম নবভী বলেন, এতে শিয়াদের মতভেদ যার কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই।
শিয়ারা বলে যে, মাগরিবের নামায সূর্যাস্তের পর اشتباك نجوم-এর সময় মাগরিবের নামায পড়া হবে। তারা হযরত আবু বসরা গিফারীর হাদীস দ্বারা দলীল প্রদান করেন, যাতে আছে- حتي يطلع الشاهد والشاهد النجم (নাসাঈ পৃ. ১৬)
এর স্পষ্ট উত্তর হলো এ শেষ বাক্যটি হলো مدرج
২.    এখানে نجم দ্বারা উদ্দেশ্য হলো ঐ সমস্ত তারকা সূর্যাস্ত হতেই দৃষ্টিগোচর হতে থাকে।
৩.    এ হাদীসটি ঐ সমস্ত সহীহ হাদীসের মোকাবেলায় হয়েছে। কারণ নবী করীম (সা.) বলেছেন قال لا تزال امتي بخير حتي يؤخر يؤخر المغرب الي اشتباك النجوم
৪.    وقال عليه الصلوة السلام بادروا الي صلوة المغرب قبل طلوع النجم
 এ রেওয়ায়েতই শিয়াদের জবাবের জন্য যথেষ্ট।
বাবের চতর্থ অর্থাৎ হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাসের হাদীস (নং ৫৪২) এ রেওয়ায়েত দ্বারা جمع بين الصلوتين বা দুই নামাজ একত্রিকরণ বুঝা যায়, যার আলোচনা উপরে অতিবাহিত হয়েছে। প্রয়োজনে সেখানে দ্রষ্টব্য।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.