Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ মসজিদের মিম্বরের উপর ক্রয়-বিক্রয়ের আলোচনা

 باب ذِكْرِ الْبَيْعِ وَالشِّرَاءِ عَلَى الْمِنْبَرِ فِي الْمَسْجِدِ
পরিচ্ছেদ: মসজিদের মিম্বরের উপর ক্রয়-বিক্রয়ের আলোচনা করা প্রসঙ্গে
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ عَمْرَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أَتَتْهَا بَرِيرَةُ تَسْأَلُهَا فِي كِتَابَتِهَا فَقَالَتْ إِنْ شِئْتِ أَعْطَيْتُ أَهْلَكِ وَيَكُونُ الْوَلاَءُ لِي‏.‏ وَقَالَ أَهْلُهَا إِنْ شِئْتِ أَعْطَيْتِهَا مَا بَقِيَ ـ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً إِنْ شِئْتِ أَعْتَقْتِهَا وَيَكُونُ الْوَلاَءُ لَنَا ـ فَلَمَّا جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ذَكَّرَتْهُ ذَلِكَ فَقَالَ ‏"‏ ابْتَاعِيهَا فَأَعْتِقِيهَا، فَإِنَّ الْوَلاَءَ لِمَنْ أَعْتَقَ ‏"‏‏.‏ ثُمَّ قَامَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ ـ وَقَالَ سُفْيَانُ مَرَّةً فَصَعِدَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَلَى الْمِنْبَرِ ـ فَقَالَ ‏"‏ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا لَيْسَتْ فِي كِتَابِ اللَّهِ، مَنِ اشْتَرَطَ شَرْطًا لَيْسَ فِي كِتَابِ اللَّهِ فَلَيْسَ لَهُ، وَإِنِ اشْتَرَطَ مِائَةَ مَرَّةٍ ‏"‏‏.‏ قَالَ عَلِيٌّ قَالَ يَحْيَى وَعَبْدُ الْوَهَّابِ عَنْ يَحْيَى عَنْ عَمْرَةَ‏.‏ وَقَالَ جَعْفَرُ بْنُ عَوْنٍ عَنْ يَحْيَى قَالَ سَمِعْتُ عَمْرَةَ قَالَتْ سَمِعْتُ عَائِشَةَ‏.‏ رَوَاهُ مَالِكٌ عَنْ يَحْيَى عَنْ عَمْرَةَ أَنَّ بَرِيرَةَ‏.‏ وَلَمْ يَذْكُرْ صَعِدَ الْمِنْبَرَ‏.‏
অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, বারীরাহ তার কিতাবাত সম্পর্কে জানার জন্য আমার কাছে এলো। আমি বললাম, যদি তুমি চাও, তাহলে আমি তোমার মূল্য তোমার মনিবকে দিয়ে দিতে পারি এবং তোমাকে মুক্ত করে দিতে পারি। তবে অভিভাবকত্বের অধিকার আমার থাকবে। তার মনিব (আয়িশাকে) বললো, যদি আপনি চান তাহলে অবশিষ্ট পাওনা অর্থ তাকে (বারীরাহ) দিতে পারেন। সুফিয়ান প্রায়ই বলতেন, যদি আপনি চান, তাহলে তাকে মুক্ত করতে পারেন, তবে অভিভাবকত্বের অধিকার আমাদের থাকবে। আল্লাহর রাসূল (সা.) এলো আমি তাঁকে বিষয়টি জানালে তিনি বললেন, তুমি তাকে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দাও। কারণ অভিভাবকত্বের অধিকার তার, যে তাকে মুক্ত করে দেয়। এরপর আল্লাহর রাসূল (সা.) মিম্বারের ওপর দাঁড়ালেন। সুফিয়ান প্রায়ই বলতেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) মিম্বারের ওপর উঠলেন এবং বললেন, লোকজনের কি হয়েছে? তারা এমন শর্ত আরোপ করে যা আল্লাহর কিতাবে পাওয়া যায় না। যদি কেউ কিতাবুল্লাহর বাইরে শর্ত আরোপ করে, তাহলে সে কোনো অংশ পাবে না, যদি সে একশটি শর্তও আরোপ করে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য عَلَى الْمِنْبَرِ ـ فَقَالَ ‏"‏ مَا بَالُ أَقْوَامٍ يَشْتَرِطُونَ شُرُوطًا -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৫, ২০২, ৩৪৪, ৩৪৮ (ছয় সনদে) ৩৪৯, ৩৫০, ৩৭৫, ৩৭৬, ৩৭৭, ৩৮১, ৭৯৫-৭৯৬, ৮১৬-৮১৭, ৯৯৪, ৯৯৯, ১০০০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো ক্রয়-বিক্রয় সম্পর্কিত যে আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে, মিম্বরে এসে তার আলোচনা করা জায়েয আছে। তাছাড়া ক্রয়-বিক্রয়ের মাসআলা বর্ণনা করাও জায়েয আছে। এ উদ্দেশ্যই বর্ণনা করেছেন হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী। অর্থাৎ ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি তথা ইজাব ও কবুল মসজিদে নিষিদ্ধ। তবে মু’তাকিফের জন্য প্রয়োজনবশত}ঃ পণ্য হাজির না করার শর্তে ইজাব-কবুলেরও অনুমতি রয়েছে।
কিন্তু শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) বলেন, ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, যদি পণ্য হাজির করা না হয় তাহলে ক্রয়-বিক্রয়ের চুক্তি তথা ইজাব-কবুল করা জায়েয।
কিন্তু শিরোনামের হাদীস দ্বারা এ উদ্দেশ্য স্পষ্ট নয়। রেওয়ায়েত দ্বারা শুধুমাত্র মাসআলা বর্ণনা করার আলোচনা রয়েছে।
ব্যাখ্যা: এ হাদীসটি বুখারী শরীফে ২৫ স্থানে এসেছে। 
قَالَتْ أَتَتْهَا بَرِيرَةُ : এখানে قالت-এর فاعل সম্পর্কে দু’ধরনের সম্ভাবনা রয়েছে। ১. এর ফায়িল হলো عمرة ২. আর যদি হযরত আয়েশা ফায়িল হয় তাহলে التفات من الحاضر الي الغائب হবে। হযরত বারীরার স্বামীর নাম মুগীছ। 
تَسْأَلُهَا فِي كِتَابَتِهَا : হযরত বারীরা ছিলেন ‘مكاتبة’ দাসী।  مكاتب ও مكاتبة এমন দাস-দাসীকে বলা হয় যে তার মালিকের সাথে এই মর্মে চুক্তিবদ্ধ হয় যে, এত পরিমান অর্থ পরিশোধ করলে আপনি আমাকে মুক্ত করে দিবেন, এবং মালিক তা কবুল করে নেয়। এ ধরনের চুক্তি বা লেনদেনকে مكاتبت বলা হয়। এবং নির্দিষ্ট পরিমান অর্থকে বলা হয় بدل كتابت ; এখন ইচ্ছা করলে বদলে কিতাবাত এক সাথে আদায় করতে পারে অথবা নির্ধারিত মেয়াদে কিস্তিতে আদায় করতে পারে। 
হযরত বারীরা তার মালিকের সাথে ৯ আওকিয়া কিস্তিতে পরিশোধের চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল। এ অর্থ যোগানোর ব্যাপারে সহযোগিতার জন্য তিনি হযরত আয়েশা (রা.)-এর নিকট এসেছিলেন। তখন তার যিম্মায় ৫ আওকিয়া পরিশোধ করতে বাকি ছিল। 
ذَكَّرَتْهُ ذَلِكَ : বুখারী শরীফের অধিকাংশ কপিতে এভাবে তাশদীদযোগেই রয়েছে। তখন এটি বাকে تفعيل-এর মাসদার تذكير হতে নির্গত হবে। যার অর্থ হলো স্মরণ করিয়ে দেওয়া। এর উপর কেউ কেউ অভিযোগ উত্থাপন করেন যে, নবী করীম (সা.)-এর এ ঘটনা সম্পর্কে পূর্ব হতে জানা ছিল না। কারণ, মুয়াত্তা মালিকের একটি রেওয়ায়েতে আছে فذكرت ذلك الخ তখন তো কোনো অভিযোগই নেই। কিন্তু বুখারীর রেওয়ায়েতের শব্দ দ্বারা জানা যায় যে, নবী করীম (সা.) হযরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনার পূর্বেই জানতে পেরেছিলেন। কিন্তু যখন হযরত আয়েশা অভিভাবকত্বের শর্ত শুনে বিষয়টি মুলতবি করে দিয়েছিলেন তখন নবী করীম (সা.) জানতে পেরেছেন এবং হযরত আয়েশা তাকে স্মরণ করিয়ে দেন।
مُكَاتِب-এর ক্রয়-বিক্রয়: হানাফী ও শাফেয়ীদের মতে মুকাতিবের ক্রয়-বিক্রয় জায়েয নেই। কিন্তু যদি মুকাতিব নিজে যদি রাজি হয় তাহলে জায়েয আছে। এটা স্পষ্ট যে, এখানে স্বয়ং মুকাতিবাহ হযরত বারীরা হযরত আয়েশা (রা.)-এর নিকট নিজে বিক্রয় হওয়ার প্রস্তাব করেছেন। তাহলে প্রশ্ন হবে না। 
প্রশ্ন: বাবের হাদীসে আছে من اشترط ليس في كتاب الله الخ প্রশ্ন হলো এখানে কিতাবুল্লাহ দ্বারা কি উদ্দেশ্য?
উত্তর: মূলতঃ كتاب الله দ্বারা উদ্দেশ্য হলোحكم الله অর্থাৎ আল্লাহর নির্দেশ, যার মধ্যে হুযুর (সা.)-এর হুকুমও অন্তর্ভুক্ত। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন- ما اتاكم الرسول فخذوه ومانهاكم عنه فانتهوا
অথবা كتاب الله দ্বারা লওহে মাহফূযও উদ্দেশ্য হতে পারে। 


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.