Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ মসজিদে তাঁবু অসুস্থ ইত্যাদি

 باب الْخَيْمَةِ فِي الْمَسْجِدِ لِلْمَرْضَى وَغَيْرِهِمْ

পরিচ্ছেদ: মসজিদে তাঁবু অসুস্থ ইত্যাদির জন্য তাঁবু টানানো প্রসঙ্গে

حَدَّثَنَا زَكَرِيَّاءُ بْنُ يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ أُصِيبَ سَعْدٌ يَوْمَ الْخَنْدَقِ فِي الأَكْحَلِ، فَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَيْمَةً فِي الْمَسْجِدِ لِيَعُودَهُ مِنْ قَرِيبٍ، فَلَمْ يَرُعْهُمْ ـ وَفِي الْمَسْجِدِ خَيْمَةٌ مِنْ بَنِي غِفَارٍ ـ إِلاَّ الدَّمُ يَسِيلُ إِلَيْهِمْ فَقَالُوا يَا أَهْلَ الْخَيْمَةِ، مَا هَذَا الَّذِي يَأْتِينَا مِنْ قِبَلِكُمْ فَإِذَا سَعْدٌ يَغْذُو جُرْحُهُ دَمًا، فَمَاتَ فِيهَا‏.‏

অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, খন্দকের যুদ্ধে সাদের হাতের শিরায় আঘাত লেগেছিল। আল্লাহর নবী (সা.) তার জন্য মসজিদে একটি তাঁবু নির্মাণ করালেন, যাতে কাছ থেকে সেবা করা যায়। মসজিদে বনু গিফারের একটি তাঁবু ছিল। তাদের দিকে রক্ত প্রবাহিত হয়ে আসতে দেখে তারা বললো, হে তাঁবুবাসী! এটা আমাদের দিকে তোমাদের পক্ষ থেকে কি আসছে? হঠাৎ দেখা গেল সাদের ক্ষত থেকে রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি এতেই ইন্তেকাল করলেন।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَضَرَبَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم خَيْمَةً فِي الْمَسْجِدِ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৬৬, ৫৫২ ও ৫৯১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা প্রমাণ করা যে, প্রয়োজনের সময় রোগী, মুসাফির ইত্যাদির জন্য মসজিদের এক প্রান্তে তাঁবু টানানো জায়েয আছে। বাহ্যত}ঃ এমনটা মনে হয় যে, মসজিদে রোগীদের জন্য তাঁবু টানানো জায়েয নেই। কারণ, রোগীদের কোনো ভরসা নেই, কখন কি হয়ে যায়। প্রস্রাব-পায়খানা নির্গত হয়ে যেতে পারে। অথচ মসজিদকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার নির্দেশ রয়েছে। তাই ইমাম বুখারী হাদীস পেশ করে এ সংশয় দূরীভূত করে দিলেন, এবং প্রমাণ করে দিলেন যে, জায়েয আছে।

ব্যাখ্যা:

أُصِيبَ سَعْدٌ يَوْمَ الْخَنْدَقِ : হিব্বান ইবনে আরিকা নামক কুরাইশ গোত্রের একজন লোক তাঁর দুই বাহুর মধ্যবর্তী রগে তীরবিদ্ধ করছিলো।

حِبَّان : সে হলো হিব্বান বিন আরিকা, আরিকা হলো তার মা। তার পিতার নাম হলো কাইস। যেমনটি কোনো কোনো রেওয়ায়েতে আছে।

الاكحَل: এটি বাহুর মধ্যবর্তীতে অবস্থিত একটি শিরার নাম। খলীল বলেন এটি হলো জীবন শিরা, কথিত আছে যে, দেহের প্রতিটি অঙ্গে এর শাখা-প্রাশাখা রয়েছে। সুতরাং হাতের শাখাকে বলা হয় اكحَل পিঠের শাখাকে বলা হয়ابهر উরুর শাখাকে বলা হয় النسا এগুলি কেটে গেলে তার রক্তক্ষরণ বন্ধ হয় না, এবং সে মারা যায়। - ফতহুল বারী

فِي الْمَسْجِدِ  : কারো মতে এখানে মসজিদ দ্বারা ঐ মসজিদ উদ্দেশ্য যা বনু কুরাইযায় অবরোধকালীন নামায আদায়ের জন্য নির্মিত হয়েছিল। তবে ইবনে ইসহাক বলেন, হযরত সা’দ মসজিদে নববীতে অবস্থান করছিলেন। বনু কুরাইযার সিদ্ধান্ত দেওয়ার জন্য হুযুর (স.) সেখান থেকে তাকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন। কারো কারো মতে, এখানে অর্থগত মসজিদ তথা নামাজের স্থান উদ্দেশ্য। তখন ইমাম বুখারীর শিরোনাম প্রমাণ হবে না। আইনী (র.) বলেন প্রথম উক্তিটি অধিক বিশুদ্ধ।

فَمَاتَ فِيهَا : অর্থাৎ তাঁবুর মধ্যে এবং উক্ত রোগেই তার মৃত্যু হয়। মুসতামলির কপিতে আছে- فمات منها অর্থাৎ উক্ত আঘাতেই তার মৃত্যু হয়।

পূর্ণ ঘটনার জন্য দেখুন  নাসরুল বারী কিতাবুল মাগাযী


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.