আবু কিলাবাহ হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) হতে বর্ণনা করেন যে, উকাল গোত্রের কিছু লোক নবী করীম (সা.)-এর দরবারে এল। এবং তারা সুফফায় অবস্থান করল। আব্দুর রহমান বিন আবু বকর বলেন, সুফফায় অবস্থানকারীরা ছিলেন দরিদ্র মুসলমান।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ أَبِي حَازِمٍ، عَنْ سَهْلِ بْنِ سَعْدٍ، قَالَ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بَيْتَ فَاطِمَةَ، فَلَمْ يَجِدْ عَلِيًّا فِي الْبَيْتِ فَقَالَ " أَيْنَ ابْنُ عَمِّكِ ". قَالَتْ كَانَ بَيْنِي وَبَيْنَهُ شَىْءٌ، فَغَاضَبَنِي فَخَرَجَ فَلَمْ يَقِلْ عِنْدِي. فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم لإِنْسَانٍ " انْظُرْ أَيْنَ هُوَ ". فَجَاءَ فَقَالَ يَا رَسُولَ اللَّهِ، هُوَ فِي الْمَسْجِدِ رَاقِدٌ، فَجَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم وَهْوَ مُضْطَجِعٌ، قَدْ سَقَطَ رِدَاؤُهُ عَنْ شِقِّهِ، وَأَصَابَهُ تُرَابٌ، فَجَعَلَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَمْسَحُهُ عَنْهُ وَيَقُولُ " قُمْ أَبَا تُرَابٍ، قُمْ أَبَا تُرَابٍ ".
অনুবাদ: হযরত সাহল ইবনে সাদ (রা.) বলেন, একবার আল্লাহর রাসূল (সা.) ফাতিমার বাড়িতে এসে আলীকে না পেয়ে জানতে চাইলেন, তোমার চাচাত ভাই কোথায়? তিনি (ফাতিমা) বললেন, আমার ও তার মধ্যে ঝগড়া হওয়ায় তিনি আমার ওপর রাগ করে বাইরে চলে গেছেন এবং দুপুরে আমার কাছে বিশ্রাম করেনি। তিনি একজনকে বললেন, দেখতো সে কোথায় গেল? লোকটি এসে বললো, হে আল্লাহর রাসূল! তিনি মসজিদে ঘুমিয়ে আছেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) এসে দেখলেন, তিনি মাটিতে শুয়ে আছেন এবং চাদরটি এক পাশ থেকে পড়ে যাওয়ায় তার শরীরে ধুলো লেগেছে। আল্লাহর রাসূল (সা.) তাঁর দেহ থেকে ধূলো ঝাড়তে ঝাড়তে বলতে লাগলেন, হে আবু তুরাব ওঠো! হে আবু তুরাব ওঠো। (আবু তুরাব অর্থ হলো মাটির পিতা)
অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আমি সত্তর জন আসহাবে সুফফা দেখেছি। তাদের কারো পূর্ণ চাদর ছিল না। কারো হয় তহবন্দ বা ছোট চাদর থাকতো। সেটি তারা গলায় বেঁধে রাখতো। তার কোনটি তাদের হাঁটুর অর্ধেক পর্যন্ত এবং কোনটি গোড়ালী পর্যন্ত। লজ্জাস্থান অনাবৃত হবার আশঙ্কায় তারা হাত দিয়ে সেটি ধরে রাখতো।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য رَأَيْتُ سَبْعِينَ مِنْ أَصْحَابِ الصُّفَّةِ-এর সাথে। কেননা, সুূফফা হলো মসজিদে নববীর একটি অংশ। যার উপর ছাউনি ছিল। সেখানে দরিদ্র ছাত্ররা অবস্থান করত।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য তা-ই যা পূর্বের বাবে বর্ণিত হয়েছে। অর্থাৎ পুরুষ হোক বা মহিলা প্রয়োজনের ক্ষেত্রে মসজিদে ঘুমানো জায়েয আছে। কারণ, তিনি যে রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন তা দ্বারা জায়েয হওয়া বুঝে আসে। জুমহূরও এর প্রবক্তা। যদিও কতক বুযুর্গ মাকরূহ হওয়ার কথা বলেছেন।
ইমাম বুখারী نوم المرأة তথা মহিলাদের ঘুমানোর বাবকে আগে বর্ণনা করেছেন। কারণ, মহিলারা হলো ফিতনার স্থল, তাই তাদের অবস্থান নাজায়েয হওয়ার আশঙ্কা ছিল। ইমাম বুখারী তাকে মুকাদ্দাম করে জায়েয হওয়াটা স্পষ্ট করে দিলেন। কিন্তু এ বৈধতা প্রয়োজনের ক্ষেত্রের জন্য প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ যদি ঘর না থাকে। বিনা প্রয়োজনের মালেকীদের নিকট জায়েয নেই। আর জুমহূরের নিকট মাকরূহ।
ব্যাখ্যা: ইমাম বুখারী শিরোনাম প্রমাণের জন্য দুটি তা’লীক ও তিনটি হাদীস শিরোনামের অধীনে উল্লেখ করেছেন। তন্মধ্যে প্রথম তা’লীকটি كتاب المحاربين-এ মুত্তাসিল সনদে উল্লেখ করেছেন, যার সম্পর্ক উকাল ও উরাইনার সাথে। বিস্তারিত বিশ্লেষণের জন্য ঘটনার বিবরণ ‘নাসরুল বারী’ কিতাবুল মাগাযী অষ্টম খণ্ডে باب قصة عكل و عرينة পরিচ্ছেদে দেখুন।
দ্বিতীয় তা’লীকটির সম্পর্ক আসহাবে সুফফার সাথে। এরা ছিলেন দরিদ্র মুসলমান। বুঝা গেল যে, প্রয়োজনের ক্ষেত্রে এরা মসজিদের এক কোণে অবস্থান করতেন। আর মসজিদে অবস্থানের অনুমতি রুখসত-আযীমত নয়।
এরপর ইমাম বুখারী তিনটি হাদীস উল্লেখ করেছেন। এ তিনটি হাদীস দ্বারাও বৈধতা প্রমাণ করা উদ্দেশ্য।
أَيْنَ ابْنُ عَمِّكِ :
প্রশ্ন: হযরত আলী ফাতিমা (রা.)-এর চাচাত ভাই ছিলেননা; বরং তিনি ছিলেন নবী করীম (সা.)-এর চাচাতো ভাই। তাহলে কেন বলা হল তোমার চাচাতো ভাই কোথায়?
উত্তর: এর উত্তর নিম্নরূপ-
১. এখানে একটি মুযাফ উহ্য রয়েছে। মূল ইবারত হবে- اين ابن عم ابيك؟
২. আরবদের পরিভাষায় পিতার আত্মীয়-সজনদেরকেও চাচার ছেলে বলা হয়। তাছাড়া নবী করীম (সা.) ফাতিমা (রা.)-কে বলেননি যে, তোমার স্বামী কোথায়? বরং নৈকট্যতার কথা উল্লেখ করেছেন, যেন তাঁর প্রতি ফাতিমার মহব্বত সৃষ্টি হয়।
কোন মন্তব্য নেই