Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আজানঃ আজানের কারণে রক্তপাত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

باب مَا يُحْقَنُ بِالأَذَانِ مِنَ الدِّمَاءِ

পরিচ্ছেদ: আজানের কারণে রক্তপাত বন্ধ করে দেওয়া হয়।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ جَعْفَرٍ، عَنْ حُمَيْدٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم كَانَ إِذَا غَزَا بِنَا قَوْمًا لَمْ يَكُنْ يَغْزُو بِنَا حَتَّى يُصْبِحَ وَيَنْظُرَ، فَإِنْ سَمِعَ أَذَانًا كَفَّ عَنْهُمْ، وَإِنْ لَمْ يَسْمَعْ أَذَانًا أَغَارَ عَلَيْهِمْ، قَالَ فَخَرَجْنَا إِلَى خَيْبَرَ فَانْتَهَيْنَا إِلَيْهِمْ لَيْلاً، فَلَمَّا أَصْبَحَ وَلَمْ يَسْمَعْ أَذَانًا رَكِبَ وَرَكِبْتُ خَلْفَ أَبِي طَلْحَةَ، وَإِنَّ قَدَمِي لَتَمَسُّ قَدَمَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏.‏ قَالَ فَخَرَجُوا إِلَيْنَا بِمَكَاتِلِهِمْ وَمَسَاحِيهِمْ فَلَمَّا رَأَوُا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالُوا مُحَمَّدٌ وَاللَّهِ، مُحَمَّدٌ وَالْخَمِيسُ‏.‏ قَالَ فَلَمَّا رَآهُمْ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ اللَّهُ أَكْبَرُ، اللَّهُ أَكْبَرُ، خَرِبَتْ خَيْبَرُ، إِنَّا إِذَا نَزَلْنَا بِسَاحَةِ قَوْمٍ فَسَاءَ صَبَاحُ الْمُنْذَرِينَ ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত আনাস (রা.) বর্ণনা করেছেন, আল্লাহর নবী (সা.) যখনই আমাদের নিয়ে কোন সম্প্রদায়ের সাথে জিহাদ করতে যেতেন, ভোর না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ করতেন না, অপেক্ষা করতেন। যদি আজান শুনতে পেতেন তাহলে আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন। আর আজান শুনা না গেলে আক্রমণ করতেন। যথা নিয়মে আমরা খায়বারের লড়াইয়ের জন্য রওয়ানা হলাম। আমরা রাতে সেখানে পৌঁছলাম। যখন ভোর হলো এবং আজান শুনা গেল না, তখন তিনি (আল্লাহর নবী) সওয়ার হলেন এবং আমিও আবু তালহার পিছনে সওয়ার হলাম। এতে আমার পা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর পা স্পর্শ করছিলো। আনাস বলেন, তখন খায়বারের লোকজন তাদের থলে ও কাস্তে কোদাল নিয়ে আমাদের কাছে এসে আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে দেখে বলে উঠলো, মুহাম্মাদ! খোদার কসম এ যে মুহাম্মাদ! তাঁর সৈন্যবাহিনী এসে গেছে। আনাস আরো বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) তাদেরকে দেখে বলে ওঠলেন, আল্লাহু আকবার। আল্লাহু আকবার। খায়বার ধ্বংস হোক! আমরা যখন কোন জাতির দ্বারপ্রান্তে উপস্থিত হই তখন সতর্ককৃতদের দিনের সূচনা মন্দই হয়ে থাকে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَإِنْ سَمِعَ أَذَانًا كَفَّ عَنْهُمْ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৫৩-৫৪, ৮৬, ১২৫, ২৭৯, ২৯৮, ৪০৪, ৪০৫, ৪১৩, ৪১৪, ৪২০, ৫১২, ৬০৩, ৬০৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো আজানের ফযীলত ও ফলাফল বর্ণনা করা। কারণ, আজান হলো ইসলামের মহত্তর নিদর্শন। এর দ্বারা জনপদ সুরক্ষিত হয়ে যায়। রিসালাতের যুগে আজানের কারণেই আক্রমণ না করার সিদ্ধান্ত হতো। নবী করীম (সা.)-এর অভ্যাস ছিল কাফেরদের বস্তীতেও আক্রমণ করতেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত সকাল হত। যদি সকাল হওয়ার পর আজানের আওয়াজ আসত, তখন তিনি তাদের উপর আক্রমণ করতেন না। আর যদি আজানের আওয়াজ না শুনতেন তখন তাদের উপর আক্রমণ করতেন। এর দ্বারা আজানের বহুত বড় ফযীলত ও উপকারিতা বুঝা গেল, যে কেবলমাত্র আজানেরই কারণে আক্রমণ হতে রক্ষা পেল।

খায়বার সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে দেখুন নাসরুল বারী কিতাবুল মাগাযী পৃ. ২৬২


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.