অনুবাদ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, আমি আমার স্ত্রী-লিঙ্গের গাধার ওপর সওয়ার হলাম। তখন আমি সাবালক হওয়ার পথে। আল্লাহর রাসূল (সা.) দেয়াল ছাড়া অন্য কিছুর আড়ালে মিনায় লোকজনকে নামায আদায় করাচ্ছিলেন। আমি বাহনসহ কাতারের এক অংশের সামনে দিয়ে পার হলাম। তারপর নেমে গাধাকে ছেড়ে দিলাম। সে ঘাস খেতে থাকলো, আমি কাতারে শামিল হলাম। কিন্তু কেউ আমাকে এই কাজে নিষেধ করলো না।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য إِلَى غَيْرِ جِدَارٍ -এর সাথে। অর্থাৎ দেয়াল ছাড়া অন্য কিছুর দিকে মুখ করে তথা সুতরা বানিয়ে নামায পড়েছেন। উল্লেখ্য, এখানে দেয়ালের নফীর উপকারিতা তখনই হবে যখন অন্য কোনো কিছু বর্শা, লাঠি ইত্যাদিকে সুতরা বানানো হবে। সুতরাং শিরোনামের সাথে সামঞ্জস্য স্পষ্ট।
প্রশ্ন: এখানে কিভাবে প্রমাণিত হলো যে, হুযুর (সা.) সে সম্পর্কে অবহিত ছিলেন? হতে পাওে ইবনে আব্বাস (রা.) দ্বিতীয় বা শেষ সারিতে শামিল হয়েছিলেন।
জবাব: আল্লামা কুসতুল্লানী এর জবাবে বলেন- ان النبي صلي الله عليه وسلم كان يري في الصلوة من ورائه كما يري من امامه – فلا اشكال
এ হাদীসে বিস্তারিত আলোচনা নাসরুল বারী প্রথম খণ্ড, হাদীস ৭৫ দেখুন।
অনুবাদ: হযরত ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) ঈদের দিন নামায আদায়ের জন্য বের হলে আমাদেরকে তার সামনে বল্লম গেঢ়ে রাখতে নির্দেশ দিতেন। নির্দেশ অনুসারে তা গেঢ়ে রাখা হতো। তিনি সেদিকে মুখ করে নামায আদায় করতেন। এবং লোকজন তার পিছনে দাঁড়াতো। তিনি সফরেও এমন করতেন। এ থেকে শাসকগণ এ পন্থা অনুসরণ করেছেন।
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ عَوْنِ بْنِ أَبِي جُحَيْفَةَ، قَالَ سَمِعْتُ أَبِي أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى بِهِمْ بِالْبَطْحَاءِ ـ وَبَيْنَ يَدَيْهِ عَنَزَةٌ ـ الظُّهْرَ رَكْعَتَيْنِ، وَالْعَصْرَ رَكْعَتَيْنِ، تَمُرُّ بَيْنَ يَدَيْهِ الْمَرْأَةُ وَالْحِمَارُ.
অনুবাদ: হযরত আবু জুহাইফা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) যাতহা নামক স্থানে তার সামনে বর্শা গেঢ়ে রেখে লোকজনকে নামায আদায় করান। যুহরের দুই রাকাআত ও আসরের দুই রাকাআত (কসর নামায)। এসময় তার সামনে দিয়ে নারী ও গর্দভ চলাচল করছিলো।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) বলেন- غرض المؤلف من عقد هذا الباب ان سترة الامام كاف للقوم الخ অর্থাৎ জামাতের নামাজে সকলের জন্য আলাদা সুতরা লাগানোর প্রয়োজন নেই; বরং ইমামের জন্য যে সুতরা লাগানো হয়েছে তা-ই সকলের জন্য যথেষ্ট। মোটকথা, ইমামের সুতরা মুক্তাদিদের জন্য যথেষ্ট হবে। মুক্তাদিদের আলাদা সুতরা লাগানোর প্রয়োজন নেই।
ব্যাখ্যা:
سُتْرَة : سترة-র শাব্দিক অর্থ - ما يستر به এমন বস্তু যা দ্বারা পর্দা বা আড়াল করা হয়।
আর ফোকাহায়ে কেরামের পরিভাষায় এমন বস্তুকে সুতরা বলা হয় যা নামাযীর সম্মুখ দিয়ে অতিক্রমকারী হতে আড়াল করা হয়। যা উচ্চতায় এক হাত এবং দৈর্ঘ্যে এক আঙুল পরিমাণ হওয়া আবশ্যক। তাছাড়া সুতরা পূর্ণরূপে কপাল বরাবর না রাখা চাই; বরং একটু ডান-বামে রাখা চাই।
ইমাম বুখারী মসজিদের আলোচনা হতে ফারেগ হওয়ার পর সুতরার আহকাম বর্ণনা শুরু করছেন। যেহেতু সাধারণতঃ মসজিদে সুতরার প্রয়োজন হয়, তাই মসজিদের আহকাম বর্ণনা শেষ করে সুতরার আহকাম বর্ণনা শুরু করছেন। কারণ, যদি মসজিদের বাইরে মাঠে-ময়দানে কোথাও নামায পড়তে হখন সুতরা স্থাপন করে নেওয়া চাই।
ইমাম চতুষ্টয়ের সর্বসম্মত মতে সুতরা স্থাপন করা মুস্তাহাব। কেবলমাত্র ইমাম আহমদ হতে কেউ কেউ বলেছেন যে, ওয়াজিব।
এ ব্যাপারে সকলেই একমত যে, জামাতের নামাজে ইমামের জন্য সুতরা স্থাপন করা যথেষ্ট হবে। তবে এ ব্যাপারে মতৈক্য রয়েছে যে, ইমামের যে সুতরা তা-ই কি মুক্তাদিদের সুতরা; নাকি মুক্তাদিদের সুতরা হলো ইমাম সাহেব নিজে।
জুমহূর আইম্মায়ে ছালাছা তথা হানাফী, শাফেয়ী ও হাম্বলীগণ তো একথাই বলেন যে, যে সুতরাটি ইমামের সেটিই মুক্তাদির সুতরা। কিন্তু ইমাম মালেকের নির্ভরযোগ্য ও প্রসিদ্ধ উক্তি হলো ইমাম সাহেবের সামনে যে সুতরা স্থাপন করা হয়েছে তা ইমামের সুতরা, আর মুক্তাদিদের সুতরা হলো ইমাম সাহেব নিজে।
কোন মন্তব্য নেই