Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সালাতঃ স্তম্ভের দিকে মুখ করে নামায পড়া

 باب الصَّلاَةِ إِلَى الأُسْطُوَانَةِ وَقَالَ عُمَرُ الْمُصَلُّونَ أَحَقُّ بِالسَّوَارِي مِنَ الْمُتَحَدِّثِينَ إِلَيْهَا. وَرَأَى عُمَرُ رَجُلاً يُصَلِّي بَيْنَ أُسْطُوَانَتَيْنِ فَأَدْنَاهُ إِلَى سَارِيَةٍ فَقَالَ صَلِّ إِلَيْهَا


حَدَّثَنَا الْمَكِّيُّ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ أَبِي عُبَيْدٍ، قَالَ كُنْتُ آتِي مَعَ سَلَمَةَ بْنِ الأَكْوَعِ فَيُصَلِّي عِنْدَ الأُسْطُوَانَةِ الَّتِي عِنْدَ الْمُصْحَفِ‏.‏ فَقُلْتُ يَا أَبَا مُسْلِمٍ أَرَاكَ تَتَحَرَّى الصَّلاَةَ عِنْدَ هَذِهِ الأُسْطُوَانَةِ‏.‏ قَالَ فَإِنِّي رَأَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم يَتَحَرَّى الصَّلاَةَ عِنْدَهَا‏.‏

পরিচ্ছেদ: স্তম্ভের দিকে মুখ করে নামায পড়া। হযরত ওমর (রা.) বলেন, নামায আদায়কারী ব্যক্তি স্তম্ভের অধিক যোগ্য- ঐ সমস্ত লোকদের তুলনায় যারা তার সাথে হেলান দিয়ে কথাবার্তা বলে। ইবনে ওমর (রা.) একজন লোককে দুটি খুঁটির মাঝে দাঁড়িয়ে নামায পড়তে দেখে তাকে ধরে এনে একটি খুঁটির নিকটবর্তী দাঁড় করিয়ে দিয়ে বললেন এর দিকে মুখ করে নামায পড়ো।
ব্যাখ্যা:
أُسْطُوَانَةِ : শব্দটি একবচন, বহুবচনে اساطين ; খুঁটি; স্তম্ভ; খাম্বা।
الْمُصَلُّونَ أَحَقُّ بِالسَّوَارِي : নামাযী অধিক উপযুক্ত/দাবীদার। আল্লামা আইনী লিখেছেন নামায আদায়কারী ও কথাবার্তাকারী উভয়েই খঁটির প্রয়োজনের অংশীদার। অর্থাৎ কথাবার্তাকারীর হেলান দেওয়ার প্রয়োজন আর নামায আদায়কারীর সুতরা বানানোর প্রয়োজন। কিন্তু নামাযী যেহেতু ইবাদতের জন্য প্রয়োজন তাই তারা অধিক দাবীদার।

السَّوَارِي : এটি سارية-এর বহুবচন। অর্থ, খুঁটি; খাম্বা।
অনুবাদ: হযরত সালামা ইবনে আকওয়া (রা.) মসজিদে নববীর স্তম্ভের কাছে নামায আদায় করতেন, যেটি মুসহাফের পাশে স্থাপিত ছিল। তাকে প্রশ্ন করা হলো, হে আবু মুসলিম! আপনি এই স্তম্ভটির পাশে নামায আদায়ের চেষ্টা করেন কেনো? তিনি জবাবে বলরেন, কারণ আমি আল্লাহর নবী (সা.)-কে এর পাশে নামায আদায়ের জন্য চেষ্টা করতে দেখেছি।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَيُصَلِّي عِنْدَ الأُسْطُوَانَةِ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا قَبِيصَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ، عَنْ عَمْرِو بْنِ عَامِرٍ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ لَقَدْ رَأَيْتُ كِبَارَ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم يَبْتَدِرُونَ السَّوَارِيَ عِنْدَ الْمَغْرِبِ‏.‏ وَزَادَ شُعْبَةُ عَنْ عَمْرٍو عَنْ أَنَسٍ حَتَّى يَخْرُجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‏.‏
অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর নবী (সা.)-এর বড় বড় সাহাবায়ে কেরামকে দেখেছি। তারা মাগরিবের সময় স্তম্ভের কাছে নামায আদায়ের জন্য তাড়াহুড়া করতেন। আনাস থেকে বর্ণিত, আরেক বর্ণনায় এ কথা অতিরিক্ত পাওয়া যায়। নবী (সা.)-এর বাইরে চলে আসা পর্যন্ত।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য يَبْتَدِرُونَ السَّوَارِيَ عِنْدَ الْمَغْرِبِ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭২ ও ৮৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য এ শিরোনাম দ্বারা এই যে, সুতরার বিষয়ে ব্যাপকতা স্পষ্ট করা। অর্থাৎ একে তো সুতরার জন্য বর্শা, নেযা বা লাঠি আবশ্যক নয়; বরং সুতরা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো সীমানা নির্ধারণ- তা যা দ্বারা-ই হোক।
দ্বিতীয়তঃ সুতরার প্রয়োজনীয়তা যদিও ময়দানে অধিক জরুরী, মসজিদে সুতরার পয়োজন কম, কিন্তু উত্তম ও মুস্তাহাব হলো ফরজের পূর্বে বা পরে সুন্নত-নফলেও কোনো খুঁটির আড়ালে পড়ে নিবে, যেন নামাযীদের বের হওয়া বা প্রবেশ করতে সহজ হয়। সুন্নত, নফলে এদিকে খেয়াল রাখা চাই যে, কোনো খুঁটির নিকটবর্তী পড়বে, যেন যাতায়াতকারীদের সমস্যা না হয়।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.