Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আজানঃ (শিরোনামহীন)

 باب

حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ فَضَالَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، عَنْ يَحْيَى، عَنْ أَبِي سَلَمَةَ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ لأُقَرِّبَنَّ صَلاَةَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم‏.‏ فَكَانَ أَبُو هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ يَقْنُتُ فِي الرَّكْعَةِ الآخِرَةِ مِنْ صَلاَةِ الظُّهْرِ وَصَلاَةِ الْعِشَاءِ، وَصَلاَةِ الصُّبْحِ، بَعْدَ مَا يَقُولُ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ‏.‏ فَيَدْعُو لِلْمُؤْمِنِينَ وَيَلْعَنُ الْكُفَّارَ‏.‏

পরিচ্ছেদ: (শিরোনামহীন)

অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা থেকে বর্ণিত। তিনি মুকতাদীদেরকে বললেন, আমি (তোমাদের) নামাজকে আল্লাহর নবী (সা.)-এর নামাজের সাথে অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ করে দিব। সুতরাং আবু হুরাইরা যুহর, ইশা ও ফজরের নামাজের শেষ রাকাআতে سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَه বলার পর দোআ কুনুত পড়তেন এবং তাতে মুমিনদের জন্য মঙ্গল কামনা করে দোয়া এবং কাফিরদের জন্য অভিসম্পাত করতেন।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: উলে­খ্য যে, এটি হলো শিরোনামহীন বাব। এমনকি অধিকাংশ কপিতে এরকমই আছে। কিন্তু উসাইলী তো بابও বিলুপ্ত করে দিয়েছেন। হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.) বলেন, باب হওয়াটাই কাম্য। কেননা, এ বাবের অধীনে বর্ণিত তিনটি রেওয়ায়েতের কোনোটিতেই اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ‏-এর ফযীলতের কথা উলে­খ নেই। সুতরাং এখানে باب হওয়া চাই, যেন এটি كالفصل من الباب السابق হয়ে যায়।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ১০৯-১১০, ১১০, ১৩৬, ৪১০-৪১১, ৪৭৯, ৬৫৫, ৬৬১, ৯১৫, ৯৪৬, ১০২৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ أَبِي الأَسْوَدِ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ أَنَسٍ ـ رضى الله عنه ـ قَالَ كَانَ الْقُنُوتُ فِي الْمَغْرِبِ وَالْفَجْرِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.)-এর সময়ে ফজর ও মাগরিবের নামাজে কুনুত পড়া হতো।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: এটি শিরোনামহীন পরিচ্ছেদ, যেমনটি পূর্বে বর্ণিত হয়েছে।  

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ১১০ ও ১৩৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।


حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ نُعَيْمِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ الْمُجْمِرِ، عَنْ عَلِيِّ بْنِ يَحْيَى بْنِ خَلاَّدٍ الزُّرَقِيِّ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ رِفَاعَةَ بْنِ رَافِعٍ الزُّرَقِيِّ، قَالَ كُنَّا يَوْمًا نُصَلِّي وَرَاءَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَلَمَّا رَفَعَ رَأْسَهُ مِنَ الرَّكْعَةِ قَالَ ‏"‏ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ ‏"‏‏.‏ قَالَ رَجُلٌ وَرَاءَهُ رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ، فَلَمَّا انْصَرَفَ قَالَ ‏"‏ مَنِ الْمُتَكَلِّمُ ‏"‏‏.‏ قَالَ أَنَا‏.‏ قَالَ ‏"‏ رَأَيْتُ بِضْعَةً وَثَلاَثِينَ مَلَكًا يَبْتَدِرُونَهَا، أَيُّهُمْ يَكْتُبُهَا أَوَّلُ ‏"‏

অনুবাদ: হযরত রিফাআ ইবনে রাফে যুরাকী (রা.) বলেন, একদিন আমরা আল্লাহর নবী (সা.)-এর পিছনে নামাজ আদায় করছিলাম। তিনি রুক‚ থেকে মাথা উঠানোর সময় সামিআল্লাহু লিমান হামিদাহ বললে পিছন থেকে এক ব্যক্তি বলে উঠলো, رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ، حَمْدًا كَثِيرًا طَيِّبًا مُبَارَكًا فِيهِ নামাজ শেষ করে আল্লাহর নবী (সা.) জিজ্ঞেস করলেন, কে কথা বলছিল? লোকটি বললো, আমি বলেছি। তখন আল্লাহর নবী (সা.) বললেন, আমি দেখলাম (কথাগুলো বলার সাথে সাথে) ত্রিশ জনেরও অধিক ফিরিশতা সর্বাগ্রে তা লিখে নেয়ার জন্য (নিজেদের মধ্যে) প্রতিযোগিতা শুরু করে দিয়েছে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: এটি শিরোনামহীন পরিচ্ছেদ, যা সম্পর্কে বাবের শুরুতে আলোচনা হয়েছে।  

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ১১০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: এটি হলো শিরোনামহীন পরিচ্ছেদ। যা كالفصل من الباب السابق অর্থাৎ এক দৃষ্টিকোণ থেকে পূর্বের বাবের সাথে সম্পর্ক রয়েছে, তা হলো اللَّهُمَّ رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ‏ বলার ফযীলত বর্ণনা করা উদ্দেশ্য। যেমন তৃতীয় রেওয়ায়েত রিফা‘আ ইবনে রাফে’-র রেওয়ায়েতে تحميد উলে­খ আছে, তবে কিছু অতিরিক্ত বাক্য রয়েছে। আরেক দৃষ্টিকোণ থেকে পূর্বের বাব থেকে এটি ভিন্ন। কেননা, বাবের অধীনে বর্ণিত দুটি রেওয়ায়েতের কোনোটিতেই تحميد-এর উলে­খ নেই; বরং তাতে কুনূতের উলে­খ রয়েছে। তাই باب বৃদ্ধি করে পূর্বের বাব হতে পার্থক্য সষ্টি করা হয়েছে।

হাশিয়ার নুসখা হলো باب القنوت  হাফিয  আসকালানীর মনোভাব এটা সহীহ নয়। (ফাতহুল বারী)

শায়খুল হাদীস (র.)ও একথাই বলেছেন যে, এটা সহীহ নয়; বরং এটা অর্থাৎ باب القنوت তো হলো বিতিরের পরিচ্ছেদে হওয়া চাই। : তাকরীরে বুখারী

ব্যাখ্যা: যদি হাশিয়ার নুসখাকে সহীহ মানা হয় যেমনটি শায়খুল মাশায়েখ শাহ ওয়ালিউল্লাহ (র.)-এর মনোভাব। তখন এর ব্যাখ্যা এই হবে যে, অর্থাৎ বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, কুনূত হবে রুকুর পরে।

কুনূতে নাযেলা : এখানে কুনূত দ্বারা কুনূতে নাযেলা উদ্দেশ্য। কুনূতে নাযেলার আলোচনা কুনূত অধ্যায়ে আসবে ইনাশাআল্লাহ। সংক্ষেপে এখানে এতটুকু জেনে রাখা যেতে পারে যে, হানাফী ও মালেকীগণের মতে বিপদাপদ ও শঙ্কটাপন্ন মুহূর্তে ফজরের নামাজে কুনূতে নাযেলা পড়া হবে।

২. শাফেয়ীগণের মতে সকল ফরজ নামাজেই পড়া যাবে।

মূলতঃ কুনূতে নাযেলার ভিত্তি হলো বিপদাপদ ও শঙ্কটের তীব্রতা ও দুর্বলতা তথা হ্রাস-=বৃদ্ধির উপর। সুতরাং অবস্থা এবং পরিস্থিতি যদি খুবই অস্থিতিশীল ও মারাত্মক হয় তাহলে হানাফীদের মতেও সকল নামাজে পড়া যাবে। আল্লাহ তা‘আলা এমন পরিস্থিতি থেকে সকলকে রক্ষা করুন। আমীন


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.