Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতবুল আজানঃ (শিরোনামহীন)

 باب

حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي مَرْيَمَ، قَالَ أَخْبَرَنَا نَافِعُ بْنُ عُمَرَ، قَالَ حَدَّثَنِي ابْنُ أَبِي مُلَيْكَةَ، عَنْ أَسْمَاءَ بِنْتِ أَبِي بَكْرٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم صَلَّى صَلاَةَ الْكُسُوفِ، فَقَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ، ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ، ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ ثُمَّ رَفَعَ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ رَفَعَ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ قَامَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ ثُمَّ رَفَعَ فَأَطَالَ الْقِيَامَ ثُمَّ رَكَعَ فَأَطَالَ الرُّكُوعَ ثُمَّ رَفَعَ فَسَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ، ثُمَّ رَفَعَ، ثُمَّ سَجَدَ فَأَطَالَ السُّجُودَ ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ ‏"‏ قَدْ دَنَتْ مِنِّي الْجَنَّةُ حَتَّى لَوِ اجْتَرَأْتُ عَلَيْهَا لَجِئْتُكُمْ بِقِطَافٍ مِنْ قِطَافِهَا، وَدَنَتْ مِنِّي النَّارُ حَتَّى قُلْتُ أَىْ رَبِّ وَأَنَا مَعَهُمْ فَإِذَا امْرَأَةٌ ـ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ ـ تَخْدِشُهَا هِرَّةٌ قُلْتُ مَا شَأْنُ هَذِهِ قَالُوا حَبَسَتْهَا حَتَّى مَاتَتْ جُوعًا، لاَ أَطْعَمَتْهَا، وَلاَ أَرْسَلَتْهَا تَأْكُلُ ‏"‏‏.‏ قَالَ نَافِعٌ حَسِبْتُ أَنَّهُ قَالَ ‏"‏ مِنْ خَشِيشِ أَوْ خُشَاشِ الأَرْضِ ‏"‏‏.‏

পরিচ্ছেদ: (শিরোনামহীন)

অনুবাদ: হযরত আসমা বিনতে আবু বকর (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) সূর্যগ্রহণের নামাজ আদায় করতে শুরু করলে দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করলেন অর্থাৎ দাঁড়িয়ে থাকলেন। পরে দীর্ঘক্ষণ ধরে রুক‚ আবার দীর্ঘক্ষণ ধরে কিয়াম করলেন। পরে আবার রুক‚তে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ থাকলেন। এরপর রুক‚ থেকে উঠে সিজদায় গিয়ে দীর্ঘক্ষণ থাকলেন এবং উঠে আবার সিজদায় গিয়ে দীর্ঘসময় থাকলেন। তারপর দ্বিতীয় রাকাআত পড়ার জন্য উঠলেন এবং দীর্ঘক্ষণ দাড়িয়ে থাকলেন অর্থাৎ কিয়াম করলেন। এরপর রুক‚ করে দীর্ঘক্ষণ থেকে উঠলেন এবং দীর্ঘক্ষণ কিয়াম করে অর্থাৎ দাঁড়িয়ে থেকে আবার রুক‚তে গেলেন। এবারও দীর্ঘসময় রুক‚তে থাকলেন। পরে রুক‚ থেকে উঠে সিজদায় গিয়ে দীর্ঘসময় থাকলেন এবং মাথা উঠিয়ে আবার সিজদায় গিয়ে দীর্ঘসময় কাটালেন। এরপর নামাজ শেষ করে বললেন, এ নামাজের মধ্যে জান্নাত আমার অনেক কাছে আনা হয়েছিল। আমি ইচ্ছা করলে জান্নাতের এক ছড়া ফল তোমাদের কাছে আনতে পারতাম। আর জাহান্নামও আমার অনেক কাছে আনা হয়েছিল, এতো কাছে আনা হয়েছিল যে, আমি বললাম, হে প্রভু! আমিও কি তাদের সাথে থাকবো? অর্থাৎ দোযখবাসীদের মধ্যে গণ্য? এই সময় আমি একজন স্ত্রীলোককে দেখতে পেলাম। আবু হুরাইরা বলেন, আমার মনে হয় আল্লাহর নবী (সা.) বলেছিলেন একটি বিড়াল তাকে থাবা মেরে মেরে নখর বিধিয়ে রক্তাক্ত করে দিচ্ছে। আল্লাহর নবী (সা.) বলেন, আমি বললাম, এ স্ত্রীলোকটির এমন অবস্থা কোনো? সেখানে উপস্থিত লোকেরা বললো, এ স্ত্রীলোকটি বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল, কিন্তু খেতে দেয়নি বা মুক্ত করে দিয়ে খাওয়ার সুযোগ করে দেয়নি এবং এভাবে বিড়ালটি মারা গিয়েছিল। নাফে বলেন, আমার মনে হয় তিনি বলেছিলেন, বিড়ালটিকে বন্ধন মুক্ত করে দিয়ে পোকা-মাকড় ধরে খাওয়ার সুযোগ দেয়নি।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: এটি শিরোনামহীন বাব। তখন এটি كالفصل من الباب السابق হবে, যদিও কোনো কোনো কপিতে এখাবে বাবও নেই। তখন এটি পূর্বেব বাব ما يقرأ بعد التكبير -এরই তৃতীয় হাদীস মানা হবে। তখন হাদীসের সামঞ্জস্য হবে أَىْ رَبِّ وَأَنَا مَعَهُمْ -এর সাথে। এতে হামযাটি ইসতিফহাম এবং ওয়াও আতেফা হবে। হামযায়ে ইসতিফহামের مدخول উহ্য আছে। ইবারত হবে اَي ربّ اتعذبهم واَنَا معهم  হে পরওয়ারদেগার! তুমি তাদেরকে শাস্তি দিবে? অথচ আমি তাদের সাথে উপস্থিত আছি।

এতে নবী করীম (সা.) আল্লাহর নিকট অনুগ্রহের আবেদন করছেন। এবং ঐ প্রতিশ্র“তির দিকে ইঙ্গিত করা হচ্ছে যা আল্লাহ তা‘আলা কুরআন মাজীদে দুটি জিনিসকে শাস্তি থেকে রক্ষার কারণ বর্ণনা করা হয়েছে। সেগুলি হলো وما كان الله ليعذبهم وانت فيهم এবং وما كان الله معذبهم وهم يستغفرون (সূরা আনফাল)

আর যদি এটি স্বতন্ত্র্য বাব এবং শিরোনামহীন, যেমনটি অধিকাংশ কপিতে রয়েছে। তখন كالفصل من الباب السابق হবে। অর্থাৎ কোনোভাবে পূর্বের বাবের সাথে সমাঞ্জস্য হবে। যদিও এখানে কোনো সামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হচ্ছে না।

উত্তর: فاطال القيام  দ্বারা ما يقرأ بعد التكبير -এর সাথে সামঞ্জস্য প্রমাণিত হয়। কারণ, দীর্ঘ কিয়াম দোয়ার কারণেই হয়ে থাকে।

উত্তর:২: এ হাদীসে ছানা ও تعوذ -এর উলে­খ নেই, তাই সম্ভবত দীর্ঘ কিয়ামের কারণ এটিই ছিল।

উত্তর : ৩: নবী করীম (সা.) اي رب وانا معهم বলে দোয়া করেছেন। সুতরাং দোয়া প্রমাণিত হলো।

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

رَبِّ وَأَنَا مَعَهُمْ : কতেক লোক এমনকি অনেক আহলে ইলমও এখানে বিভ্রান্তির স্বীকার হয়েছেন। তারা এর অর্থ এটা বুঝেছেন যে, “হে আল্লাহ! আমিও কি তাদের সাথে ধ্বংস হয়ে যাব?” নাউযুবিল্লাহ! এ বাক্যের এ অর্থ কিছুতেই হতে পারে না। মূলতঃ এর অর্থ হলো ঐ সময় আল্লাহ তা‘আলার ক্রোধান্বিতাবস্থার দিকে লক্ষ্য করে নবী করীম (সা.) -এর উপর ভয়ের অবস্থা প্রবল হয়ে গিয়েছিল। কারণ, প্রবাদ রয়েছে: نزديكان را  بيش بود حيراني ‘নৈকট্যশীলদের আতঙ্কও বেশী।’ এবং ভয়ের প্রবলতার কারণে নবী করীম (সা.) - এমন চিন্তা করতে লাগলেন সম্ভবত এখনই লোকদের উপর শাস্তি এসে পড়বে। তাই আল্লাহর অনুগ্রহ আকৃষ্ট করার জন্য তিনি বলেছিলেন: يا الله! اتعذبهم وأنا معهم মূলত এর দ্বারা একটি আয়াতের  দিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। যার সারমর্ম হলো হে আল্লাহ! আপনি কি তাদেরকে ধ্বংস করে দিবেন, অথচ আমি তাদের সাথে রয়েছি। অথচ আপনার প্রতিশ্র“তি রয়েছে: وما كان الله ليعذبهم وانت فيهم

صَلاَةَ الْكُسُوفِ : সূর্যগ্রহণের নামাজ সম্পর্কিত বাব সামনে আসছে। সেখানে বিস্তরিত আলোচনা হবে ইনশাআল্লাহ।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.