Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল অযুঃ আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা সম্পর্কে

باب الْبَوْلِ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ

পরিচ্ছেদ: আবদ্ধ পানিতে প্রস্রাব করা সম্পর্কে

পূর্বের সাথে যোগসূত্র: উভয় বাবের মধ্যে যোগসূত্র স্পষ্ট। কারণ, পূর্বের বাবে এমন ঘি এবং পানির বিধিবিধান বণনা করা হয়েছে যার মধ্যে নাপাকি পড়েছে। আর এ বাবের মধ্যেও এমন স্থির পানির আলোচনা করা হয়েছে যার মধ্যে কোনো প্রস্রাব করেছে। সুতরাং উভয়টির হুকুমের দিক থেকে নিকটবর্তী।

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو الزِّنَادِ، أَنَّ عَبْدَ الرَّحْمَنِ بْنَ هُرْمُزَ الأَعْرَجَ، حَدَّثَهُ أَنَّهُ، سَمِعَ أَبَا هُرَيْرَةَ، أَنَّهُ سَمِعَ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَقُولُ ‏ "‏ نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ ‏"‏‏وَبِإِسْنَادِهِ قَالَ ‏ "‏ لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ الَّذِي لاَ يَجْرِي، ثُمَّ يَغْتَسِلُ فِيهِ ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) নবী করীম (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, তিনি বলছিলেন, نحن الآخرون السابقون (আমরা দুনিয়াতে সবার পরে এসেছি, আর আখিরাতে সবার আগে থাকব।) ঐ সনদেই আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যেন বদ্ধ-পানিতে প্রস্রাব না করে যা প্রবাহিত হয় না। কেননা পরে হয়তো সে-ই উক্ত পানিতে গোসল করবে।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য সম্পর্কে আল্লামা আইনী বলেন, এখানে দুটি হাদীস। একটি হলো نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ অপরটি হলো لاَ يَبُولَنَّ أَحَدُكُمْ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ হাদীস দুটি ভিন্ন ভিন্ন। আর শিরোনামের সাথে দ্বিতীয় হাদীসের মিল স্পষ্ট। এবং প্রথম হাদীসটির শিরোনামের কোনো মিল নেই। আর তা তালাশ করারও কোনো প্রয়োজন নেই।

প্রথম হাদীসটি উলে­খ করার কারণ: এর দুটি কারণ হতে পারে।

ইমাম বুখারী এ রেওয়ায়েতটি এবং পরবর্তী রেওয়ায়েতটি একই সনদে শ্রবণ করেছেন। তাই উভয়টিকে প্রসঙ্গক্রমে উলে­খ করে দিয়েছেন।

মূল বিষয় হলো আবু হুরায়রার শাগরেদদের মধ্যে আব্দুর রহমান বিন হুরমুয ওরফে আ’রাজ এবং হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ এ দু’জনের নিকট হযরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণিত হাদীসের দুটি সহীফা ছিল। তন্মধ্যে ইমাম বুখারীর নিকট আব্দুর রহমান বিন হুরমুজের সহীফা মজুদ ছিল। সুতরাং ইমাম বুখারী যখন কোনো হাদীস এ সহীফা  হতে বর্ণনা করেন তখন نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ বলে চি‎িহ্নত করে দেন যে, এটি উক্ত আব্দুর রহমান বিন হুরমুজের সহীফা হতে বর্ণিত। অতঃপর বাবের সাথে সম্পৃক্ত যে হাদীস উলে­খ করতে চান তা উলে­খ করেন।

তেমনিভাবে ইমাম মুসলিম (র.)-এর নিকটও হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ-এর একটি সহীফা ছিল। যখন তিনি উক্ত সহীফা হতে কোনো হাদীস উলে­খ করার ইচ্ছা করতেন তখন নিদর্শনস্বরূপ প্রথমে هذا ما حدثنا ابو هريرة فذكر احاديث منها দ্বারা শুরু করতেন। অতঃপর উদ্দেশ্য অনুযায়ী উক্ত সহীফা হতে রেওয়ায়েত বর্ণনা করতেন। উদ্দেশ্য হলো যে রেওয়ায়েতটি আমি বর্ণনা করছি তার সম্পর্ক হলো হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ-এর সহীফা হতে বর্ণিত।

এ রকম ইমাম বুখারী (র.) অন্য হাদীসের সাথে نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ বুখারী শরীফে সর্বমোট ছয় স্থানে উলে­খ করেছেন। যেমন:

কিতাবুল অযু পৃ: ৩৭ باب الْبَوْلِ فِي الْمَاءِ الدَّائِمِ ---- আ’রাজের সূত্রে।

কিতাবুল জিহাদ পৃ: ৪১৫ باب  يقاتل من وراء الامام ويتقي به  --- আ’রাজের সূত্রে।

কিতাবুল আইমান ওয়ান্নুযূর পৃ. ৯৮০  باب قول الله لا يؤواخذكم الله باللغو الخ হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ-এর সূত্রে।

কিতাবুল আয়াত পৃ: ১০১৭ باب من اخذ حقه واقتص دون السلطان আ‘রাজের সূত্রে।

কিতাবুত্তাবীর পৃ: ১০৪২ باب النفخ في المنام  --- হাম্মাম বিন মুনাব্বিহ-এর সূত্রে।

কিতাবু তাওহীদ পৃ. ১১১৬  باب قول الله يريدون ان يبدلوا كلام الله আ’রাজের সূত্রে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ২৬, ৭০৭,৭৮৮ ও ৯২২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

উলে­খ্য যে,  نَحْنُ الآخِرُونَ السَّابِقُونَ এটি দীর্ঘ হাদীসের অংশ। এটিকে পূর্ণাঙ্গভাবে শুধুমাত্র এক স্থানে উলে­খ করেছেন। তা হলো  পৃ. ১২০ كتاب الجمعة

আর অন্য হাদীসের সাথে এটিকে পূর্ণাঙ্গরূপে উলে­খ করেছেন দুই স্থানে। যথা:

কিতাবুল জুমুআহ পৃ. ১২৩  باب هل علي من يشهد الجمعة غسل الخ

কিতাবুল আম্বিয়া পৃ. ৪৯৫ باب حديث الغار

যেমনিভাবে ইমাম মুসলিমের নিয়ম হলো যখন হুমাম ইবনে মুনাব্বিহ হতে রেওয়ায়েত করেন তখন তিনি আলামতস্বরূপ هذا ما حدثنا ابو هريرة فذكر احاديث منها  দ্বারা উলে­খ করা শুরু করেন। এরপর স্থান অনুযায়ী ঐ সহিফা থেকে অন্য হাদীস উলে­খ করেন। তার দ্বারা উদ্দেশ্য থাকে যে হাদীসটি আমি উলে­খ করছি তার সম্পর্ক হলো ইবনে হুমামের সহীফার সাথে।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.