Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল অযুঃ অযুর অবশিষ্ট পানি বেহুঁশ ব্যক্তির উপর ছিটিয়ে

باب صَبِّ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَضُوءَهُ عَلَى الْمُغْمَى عَلَيْهِ
পরিচ্ছেদ: নবী করীম (সা.) অযুর অবশিষ্ট পানি বেহুঁশ ব্যক্তির উপর ছিটিয়ে দিয়েছেন।

حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنْ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْكَدِرِ، قَالَ سَمِعْتُ جَابِرًا، يَقُولُ جَاءَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يَعُودُنِي، وَأَنَا مَرِيضٌ لاَ أَعْقِلُ، فَتَوَضَّأَ وَصَبَّ عَلَىَّ مِنْ وَضُوئِهِ، فَعَقَلْتُ فَقُلْتُ يَا رَسُولَ اللَّهِ لِمَنِ الْمِيرَاثُ إِنَّمَا يَرِثُنِي كَلاَلَةٌ‏.‏ فَنَزَلَتْ آيَةُ الْفَرَائِضِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত জাবির (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) আমি অসুস্থ হবার কারণে আমাকে দেখতে এলেন। আমি জ্ঞানহারা অবস্থায় শুয়ে ছিলাম। তিনি অযু করে তার অবশিষ্ট পানি আমার দেহে ছিটিয়ে দিলেন। এতে আমার জ্ঞান ফিরে এলো। আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল (সা.)! আমার মীরাস কে পাবে? কেননা একমাত্র কালালাই আমার ওয়ারিস। এই সময় ফারায়েযের আয়াত অবতীর্ণ হয়। (যার পিতা ও সন্তান-সন্ততি নেই, তার উত্তরাধিকারীকে কালালা বলা হয়)

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য مِنْ وَضُوئِهِ وَصَبَّ عَلَىَّ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৩২৩২, ৬৫৮, ৮৪৪, ৮৪৬, ৮৪৭, ৯৯৫, ৯৯৮ ও ১০৭৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

পূর্বের সাথে যোগসূত্র: উভয় বাবের মধ্যে মিল এ হিসেবে যে, উভয় বাবেই অযুর প্রকার সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে।

বাবের উদ্দেশ্য: এ বাব দ্বারা ইমাম বখারী (র.)-এর উদ্দেশ্য হলো ব্যবহৃত পানির পবিত্রতা বর্ণনা করা। যতি তা নাপাক হত তাহলে হযরত জাবির (রা.)-এর উপর ছিটানো হলো কেমন করে?

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

مِنْ وَضُوئِهِ وَصَبَّ عَلَىَّ : এখানে উভয় ধরনের সম্ভাবন রয়েছে। অযুর পর পাত্রে অবশিষ্ট পানি তার উপর ছিটিয়ে দিয়েছেন। আবার ঐ পানিও উদ্দেশ্য হতে পারে অযু করার সময় অযুর অঙ্গ ধৌত হয়ে পৃথক হয়েছে। অর্থাৎ ব্যবহৃত পানি।

তবে যেহেতু উদ্দেশ্য হলো বরকত দেওয়া, তাই দেহ মুবারক হতে গড়িয়ে পানি হওয়াই অধিকতর যুক্তিসঙ্গত। যদিও প্রথম প্রকার পানিতেও আরোগ্য রয়েছে। নবী করীম (সা.)-এর বরকতময় হাতের ছোঁয়া সকল রোগের চিকিৎসা।

كلالة-এর সংজ্ঞা:

১.    কালালা ঐ মৃতব্যক্তিকে বলা হয় যার না সন্তানাদি আছে না বাপ-দাদা।

২.    এমন ব্যক্তির যে উত্তরাধিকারী হবে তাকেও কালালা বলা হয়ে।

৩.    তেমনিভাবে মিরাসের সম্পদকেও কালালা বলা হয়।

باب الْغُسْلِ وَالْوُضُوءِ فِي الْمِخْضَبِ وَالْقَدَحِ وَالْخَشَبِ وَالْحِجَارَةِ

ঈরিচ্ছেদ: বারকোষ, পেয়ালা এবং কাঠ ও পাথরের পাত্রে গোসল ও অযু করা প্রসঙ্গে

পূর্বের সাথে যোগসূত্র : এ বাব ও পূর্বের বাবগুলির মাঝে সামঞ্জস্য সুস্পষ্ট। কারণ, প্রতিটি বাবই অযু সম্পর্কিত।

حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مُنِيرٍ، سَمِعَ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ بَكْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا حُمَيْدٌ، عَنْ أَنَسٍ، قَالَ حَضَرَتِ الصَّلاَةُ، فَقَامَ مَنْ كَانَ قَرِيبَ الدَّارِ إِلَى أَهْلِهِ، وَبَقِيَ قَوْمٌ، فَأُتِيَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم بِمِخْضَبٍ مِنْ حِجَارَةٍ فِيهِ مَاءٌ، فَصَغُرَ الْمِخْضَبُ أَنْ يَبْسُطَ فِيهِ كَفَّهُ، فَتَوَضَّأَ الْقَوْمُ كُلُّهُمْ‏.‏ قُلْنَا كَمْ كُنْتُمْ قَالَ ثَمَانِينَ وَزِيَادَةً‏.‏

অনুবাদ: হযরত আনাস (রা.) বলেন, একদিন নামাযের সময় উপস্থিত হলে যাদের বাড়ি মসজিদের কাছাকাছি ছিল তারা বাড়িতে অযু করতে চলে গেল এবং অবশিষ্ট লোক রয়ে গেল। আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর কাছে পাথরের একটি পাত্র করে পানি আনা হলো। পাত্রটি এত ছোট ছিল যে, তাতে হাত মেলা যেত না। কিন্তু তারপরও সকলেই সেই পানি দিয়ে অযু করলো। আনাস (রা.)-কে প্রশ্ন করা হলো, আপনারা কতজন লোক ছিলেন? জবাবে তিনি বললেন, আশির কিছু বেশী।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য بِمِخْضَبٍ مِنْ حِجَارَةٍ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ২৯, ৩২, ৩৩, ৫০৪, ৫০৫ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْعَلاَءِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو أُسَامَةَ، عَنْ بُرَيْدٍ، عَنْ أَبِي بُرْدَةَ، عَنْ أَبِي مُوسَى، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم دَعَا بِقَدَحٍ فِيهِ مَاءٌ، فَغَسَلَ يَدَيْهِ وَوَجْهَهُ فِيهِ وَمَجَّ فِيهِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু মূসা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) এক বাটি পানি আনিয়ে তা দিয়ে নিজের দুই হাত ও মুখমন্ডল ধুলেন এবং কুলি করলেন।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য دَعَا بِقَدَحٍ فِيهِ مَاءٌ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৩২ ও মাগাযী ৬২০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ يُونُسَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْعَزِيزِ بْنُ أَبِي سَلَمَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ يَحْيَى، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ زَيْدٍ، قَالَ أَتَى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فَأَخْرَجْنَا لَهُ مَاءً فِي تَوْرٍ مِنْ صُفْرٍ فَتَوَضَّأَ، فَغَسَلَ وَجْهَهُ ثَلاَثًا وَيَدَيْهِ مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ، وَمَسَحَ بِرَأْسِهِ فَأَقْبَلَ بِهِ وَأَدْبَرَ، وَغَسَلَ رِجْلَيْهِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যায়েদ (রা.) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) একদিন আমাদের কাছে এলেন। আমরা তাঁর জন্য একটি ছোট পাত্রে পানি আনার পর তিনি অযু করলেন। তিন বার মুখমন্ডল ও দুইবার দুইবার দুই হাত ধুলেন এবং সামনে পিছনে হাত সঞ্চালন করে মাথা মাসাহ করলেন। শেষে পা দুুটো ধুলেন।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্যفَأَخْرَجْنَا لَهُ مَاءً فِي تَوْرٍ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ২৭, ৩১, ৩২ ও ৩৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عُتْبَةَ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ لَمَّا ثَقُلَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم وَاشْتَدَّ بِهِ وَجَعُهُ، اسْتَأْذَنَ أَزْوَاجَهُ فِي أَنْ يُمَرَّضَ فِي بَيْتِي، فَأَذِنَّ لَهُ، ذفَخَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بَيْنَ رَجُلَيْنِ تَخُطُّ رِجْلاَهُ فِي الأَرْضِ بَيْنَ عَبَّاسٍ وَرَجُلٍ آخَرَ‏.‏ قَالَ عُبَيْدُ اللَّهِ فَأَخْبَرْتُ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ عَبَّاسٍ فَقَالَ أَتَدْرِي مَنِ الرَّجُلُ الآخَرُ قُلْتُ لاَ‏.‏ قَالَ هُوَ عَلِيٌّ‏.‏ وَكَانَتْ عَائِشَةُ ـ رضى الله عنها ـ تُحَدِّثُ أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم قَالَ بَعْدَ مَا دَخَلَ بَيْتَهُ وَاشْتَدَّ وَجَعُهُ ‏ "‏ هَرِيقُوا عَلَىَّ مِنْ سَبْعِ قِرَبٍ، لَمْ تُحْلَلْ أَوْكِيَتُهُنَّ، لَعَلِّي أَعْهَدُ إِلَى النَّاسِ ‏"‏‏.‏ وَأُجْلِسَ فِي مِخْضَبٍ لِحَفْصَةَ زَوْجِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم، ثُمَّ طَفِقْنَا نَصُبُّ عَلَيْهِ تِلْكَ حَتَّى طَفِقَ يُشِيرُ إِلَيْنَا أَنْ قَدْ فَعَلْتُنَّ، ثُمَّ خَرَجَ إِلَى النَّاسِ‏.‏

অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) যখন রোগাক্রান্ত হলেন এবং তাঁর রোগ বৃদ্ধি পেল, তখন তিনি আমার ঘরে সেবা লাভ করার জন্য তাঁর অন্যান্য স্ত্রীদের কাছে অনুমতি চাইলেন। তাঁকে অনুমতি দেয়া হলো। আল্লাহর নবী (সা.) দুই ব্যক্তির ওপর ভর করে বের হলেন। তাঁর পদ যুগল আব্বাস ও আরেকজন লোকের মাঝখানে মাটিতে ঘষতে ঘষতে যাচ্ছিলো। উবায়দুল্লাহ এই হাদীসটির কথা বলায় তিনি বললেন, তুমি কি জান অন্য লোকটি কে? আমি বললাম, জী না। তিনি বললেন, অন্য লোকটি হলেন আলী ইবনে আবু তালেব। আয়িশা বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) তাঁর কক্ষে প্রবেশ করার পর রোগ আরো বৃদ্ধি পেলে তখন তিনি বললেন, এমন সাতটি মশকের পানি আমার ওপর ঢালো, এখন পর্যন্ত যেগুলোর বাঁধন খোলা হয়নি। তাহলে হয়তো আমি লোকজনকে কিছু উপদেশ দিতে সক্ষম হবো। তারপর তাঁকে তাঁর স্ত্রী হাফসার একটি গামলায় বসানো হলো এবং আমরা তাঁর ওপর মশকের পানি ঢালতে লাগলাম। অবশেষে তিনি ইঙ্গিত করে আমাদেরকে জানালেন তোমাদের কাজ শেষ হয়েছে। এরপর তিনি বাইরে লোকজনের কাছে গেলেন।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য ‏"‏‏.‏ وَأُجْلِسَ فِي مِخْضَبٍ لِحَفْصَةَ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৩২-৩৩, ৯১-৯২, ৬৩৯ ও ৮৫১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

বাবের উদ্দেশ্য : এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এ সমস্ত পত্র ব্যবহারের বৈধতা বর্ণনা করা। তবে শর্ত হলো পাত্র এবং পানি পবিত্র হওয়া। পাত্র মাটির হোক বা কাঠের বা পাথরের; ছোট হোক বা বড়। গোসল বা অযু সকল প্রকার পাত্রেই করা জায়েয। সুতরাং এর দ্বারা ঐ সমস্ত লোকদের মতবাদ খণ্ডন হয়ে গেল যারা এ সমস্ত পাত্র ব্যবহার মাকরূহ হওয়ার প্রবক্তা।

এ বাবে ইমাম বুখারী চারটি হাদীস বর্ণনা করেছেন, যাতে বিভিন্ন প্রকার পাত্র ব্যবহারের আলোচনা বর্ণনা করা হয়েছে। অযু সকল প্রকার পাত্র দ্বারাই জায়েয।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

بِمِخْضَبٍ مِنْ حِجَارَةٍ :( مবর্ণে যের, خ বর্ণে সুকূন ض বর্ণে যবর) অর্থ কাপড় ধৌত করা বা রঙ দেয়ার পাত্র, টব।

قدح : পানাহার করার পাত্র; পেয়ালা। এর বহুবচন হলো اقداح

خَشَب : অর্থ লাকড়ি, এখানে অর্থ হলো কাঠের পাত্র।

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

প্রথম হাদীস অর্থাৎ হাদীস নং ১৯৩ এর ব্যাখ্যার জন্য দেখুন নাসরুল বারী দ্বিতীয় খণ্ড হাদীস নং ১৬৮

দ্বিতীয় হাদীস অর্থাৎ হাদীস নং ১৯৪ এর ব্যাখ্যার জন্য দেখুন নাসরুল বারী কিতাবুল মাগাযী হাদীস নং ৩৩৩

তৃতীয় হাদীসের ব্যাখ্যা নিম্নরূপ:

اسْتَأْذَنَ أَزْوَاجَهُ :  এতে মতবিরোধ রয়েছে যে, নবী করীম (সা.)-এর স্ত্রীদের মধ্যে কাসাম তথা তাদের পালায় সমতা রক্ষা করা আবশ্যক ছিল কিনা? আল্লামা আইনী (র.) লিখেছেন যে, এর দ্বারা বুঝা যায় যে, নবীজীর উপরও স্ত্রীদের সাথে পালা বণ্টনে সমতা রক্ষা করা আবশ্যক ছিল। নতুবা তাদের নিকট অনুমতি গ্রহণের কোনো প্রয়োজন ছিল না।

কিন্তু নির্ভরযোগ্য মত হলো তাঁর জন্য এটা জরুরী ছিল না। তাদের সাথে পালা বণ্টন করা না করা তাঁর ইচ্ছাধীন ছিল। তাঁকে পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছিল যাকে ইচ্ছা তার পালা আগ-পিছ করতে পারেন। কুরাআনে আছে : ترجي من تشاء منهن تؤوي اليك من تشاء ঐ সকল স্ত্রীদের যাকে ইচ্ছা করেন আপনার থেকে দূরে রাখেন আর যাকে ইচ্ছা করেন আপনার নিকট রাখেন।”

এর দ্বারা জানা গেল যে, নবী করীম (স া.)-এর জন্য স্ত্রীদের অধিকারের ক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা জরুরী ছিল না। স্ত্রীদের সাথে পালা রক্ষা করা না করা তার অধিকারভুক্ত ছিল। কিন্তু তিনি তাঁর পূর্ণ জীবনে এ ইচ্ছা প্রয়োগ করেননি। অনুগ্রহ হিসেবে তিনি সবার সাথে পালা বণ্টন করে যেতেন। এমনকি অসুস্থতাবস্থায়ও তা রক্ষা করতেন যেন তা উম্মতের জন্য নমুনা হয়ে থাকে। কিন্তু অসুস্থতা বৃদ্ধি পেলে তিনি দুর্বল হয়ে পড়লেন। তখনও তিনি অনুমতি নিয়েই হযরত আয়েশা (রা.)-এর ঘরে তাশরীফ আনেন। 

وبين رجل اخر : রোগের দিনগুলিতে নবী করীম (স.) যে দুই জনের কাঁধে ভর করে নামাযের জামাতে অংশগ্রহণ করেছেন তারা ছিলেন হযরত আলী ও আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব। কিন্তু হযরত আয়েশা শুধুমাত্র একজনের নাম উলে­খ করেছেন আর অপরজনের নাম উলে­খ না করে وبين رجل اخر বললেন কেন?

উত্তর: এর কারণ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরাম নানান উক্তি করেছেন। তন্মধ্যে:

কেউ কেউ বলেছেন যে, اِفْك-এর ঘটনায় হযরত আলী (রা.) হযরত আয়েশা সম্পর্কে ভালো মন্তব্য করেননি; তিনি তাঁর চরিত্রের পবিত্রতা বর্ণনার পাশাপাশি বলেছিলেন “ইয়া রাসূলাল্লাহ! সে ব্যতীত আরো মহিলা আছে”  তাই রাগবশত তিনি তার নাম উলে­খ করেননি। কারণ, তিনিও মানবীয় গুণের উর্ধ্বে নন।

 যে দুব্যক্তির উপর ভর করেছেন, তন্মধ্যে একপাশের জন সর্বদা নির্দিষ্ট ছিলেন। অর্থাৎ আব্বাস ইবনে আব্দুল মুত্তালিব, কিন্ত অপর পাশের জন নির্দিষ্ট ছিলেন না; বরং তিনি পরিবর্তন হয়েছেন। কখনো হযরত আলী, কখনো ফযল ইবনে আব্বাস, কখনো উসামা আবার কখনো ছওবান (রা.) ছিলেন। সুতরাং যিনি সবসময় ছিলেন তাঁর কথা তিনি সুনির্দিষ্টভাবে বলেছেন, আর যিনি সবসময় ছিলেন না তার কথা তিনি وبين رجل اخر বলে দিয়েছেন। আল্লামা আইনী বলেন: وهذا الجواب احسن من الاول আরো ব্যাখ্যার জন্য দেখুন নাসরুল বারী কিতাবুল মাগাযী হাদীস নং ৪৩৯


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.