Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল গোসলঃ অজু এবং গোসলের মধ্যে বিরতি দেওয়া

باب تَفْرِيقِ الْغُسْلِ وَالْوُضُوءِ وَيُذْكَرُ عَنِ ابْنِ عُمَرَ أَنَّهُ غَسَلَ قَدَمَيْهِ بَعْدَ مَا جَفَّ وَضُوءُهُ


পরিচ্ছেদ: অজু এবং গোসলের মধ্যে বিরতি দেওয়া (অর্থাৎ লাগাতার না ধোয়া) প্রসঙ্গে। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) হতে বর্ণিত আছে যে, তিনি তার পা ধৌত করেছেন অন্যান্য অঙ্গগুলো শুকিয়ে যাওয়ার পর।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مَحْبُوبٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَاحِدِ، قَالَ حَدَّثَنَا الأَعْمَشُ، عَنْ سَالِمِ بْنِ أَبِي الْجَعْدِ، عَنْ كُرَيْبٍ، مَوْلَى ابْنِ عَبَّاسٍ عَنِ ابْنِ عَبَّاسٍ، قَالَ قَالَتْ مَيْمُونَةُ وَضَعْتُ لِرَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم مَاءً يَغْتَسِلُ بِهِ، فَأَفْرَغَ عَلَى يَدَيْهِ، فَغَسَلَهُمَا مَرَّتَيْنِ مَرَّتَيْنِ أَوْ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَفْرَغَ بِيَمِينِهِ عَلَى شِمَالِهِ، فَغَسَلَ مَذَاكِيرَهُ، ثُمَّ دَلَكَ يَدَهُ بِالأَرْضِ، ثُمَّ مَضْمَضَ وَاسْتَنْشَقَ، ثُمَّ غَسَلَ وَجْهَهُ وَيَدَيْهِ ثُمَّ غَسَلَ رَأْسَهُ ثَلاَثًا، ثُمَّ أَفْرَغَ عَلَى جَسَدِهِ، ثُمَّ تَنَحَّى مِنْ مَقَامِهِ فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ‏.‏

অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত মায়মুনা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম এবং পর্দার ব্যবস্থা করলাম। তিনি নিজের হাতে পানি ঢেলে একবার বা দুইবার ধুলেন। রাবী সুলাইমান বলেন, তিনবার কিনা তা আমি জানি না। তারপর তিনি ডান হাত দিয়ে বাঁম হাতে পানি ঢেলে গোপনস্থান ধুলেন। তারপর নিজের হাত মাটিতে বা প্রাচীরের ওপর রগড়ালেন। এরপর কুলি করলেন ও নাকে পানি নিলেন এবং নিজের মুখমণ্ডল, দুইহাত ও মাথা ধুলেন। তারপর সারা শরীরে পানি ঢাললেন। এরপর সরে গিয়ে পা দু'টি ধুলেন। আমি তাঁর গা মোছার জন্য এক টুকরা কাপড় এনে দিলাম। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে হাত দিয়ে শরীর মুছলেন।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য ثُمَّ تَنَحَّى مِنْ مَقَامِهِ فَغَسَلَ قَدَمَيْهِ  -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৩৯, ৩৯, ৪০, ৪১, ৪২ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

বাবের উদ্দেশ্য: এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো অজু এবং গোসলে অঙ্গসমূহ বিরতি দিয়ে ধৌত করাকে জায়েয প্রমাণ করা এবং ঐ সমস্ত লোকদের মতবাদ খণ্ডন করা যারা অঙ্গসমূহ লাগাতার ধৌত করাকে ফরজ বলেন। এ মতের প্রবক্তা হলেন ইমাম মালেক, তিনি বলেন অজু এবং গোসলে অঙ্গসমূহ ধৌত করার ক্ষেত্রে موالات তথা লাগাতার করা ফরজ। কিন্তু  জুমহূরের মতে موالات ফরজ নয়, তাই তাদের মতে পূর্বে ধৌত করা অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পরও যদি পরবর্তী  অঙ্গ ধৌত করা হয় তাহলেও অজু-গোসল বিশুদ্ধ হবে। এটাই হানাফীদের মত। ইমাম শাফেয়ী’র শেষ মতও এটিই। সুতরাং এক্ষেত্রে ইমাম বুখারী জুমহূরের পক্ষ সমর্থন করছেন।

ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ

ইমাম বুখারী নিজের উদ্দেশ্যের সমর্থনে প্রথমে ইবনে ওমর (রা.)-এর আছর দ্বারা দলীল পেশ করেছেন। যার বিশ্লেষণ করেছ্নে হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.)। ইবনে ওমর (রা.) বাজারে অজু করেছেন এবং সেখানে পা না ধুয়ে মসজিদে গিয়ে মোজার উপর মাসাহ করেছেন। এতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে যে, অজুর অঙ্গ শুকিয়ে যাওয়ার পর তিনি মসজিদে এসে মোজার উপর মাসাহ করেছেন। তারপর নামায আদায় করেছেন। এর দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল যে, ইবনে ওমর (রা.) تفريق (অঙ্গ ধৌত করার মাঝে বিরতি)-কে জায়েয মনে করতেন এবং অজু গোসলে موالات তথা লাগাতার ধৌত করাকে ফরজ মনে করতেন না। 

ইমাম বুখারী দ্বিতীয় দলীলস্বরূপ হযরত মায়মুনা (রা.)-এর হাদীস পেশ করেছেন যে, নবী করীম (সা.) গোসলের শুরুতে অজু করেছেন; কিন্তু পা ধৌত করেননি। অতঃপর গোসল করলেন, তারপর গোসলের স্থান হতে সরে গিয়ে পা ধৌত করেছেন।

এর দ্বারা বুঝা গেল যে, অজুর অঙ্গসমূহ ধৌত করার মধ্যে موالات বা লাগাতার হওয়া ফরজ নয়।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.