Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল গোসলঃ গোসল না করে দ্বিতীয়বার সহবাস

باب إِذَا جَامَعَ ثُمَّ عَادَ، وَمَنْ دَارَ عَلَى نِسَائِهِ فِي غُسْلٍ وَاحِدٍ

পরিচ্ছেদ : যদি কোনো ব্যক্তি স্ত্রী-সঙ্গম করল, আবার (গোসল না করেই) দ্বিতীয়বার সঙ্গম করল, আর  যে ব্যক্তি একই গোসলে একাধিক স্ত্রীর  সাথে সঙ্গম করে (তার হুকুম কি?)

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا ابْنُ أَبِي عَدِيٍّ، وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ إِبْرَاهِيمَ بْنِ مُحَمَّدِ بْنِ الْمُنْتَشِرِ، عَنْ أَبِيهِ، قَالَ ذَكَرْتُهُ لِعَائِشَةَ فَقَالَتْ يَرْحَمُ اللَّهُ أَبَا عَبْدِ الرَّحْمَنِ، كُنْتُ أُطَيِّبُ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم، فَيَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ، ثُمَّ يُصْبِحُ مُحْرِمًا يَنْضَخُ طِيبًا‏.‏

অনুবাদ: (মুহাম্মদ বিন মুনতাশির বলেন, আমি হযরত আয়েশার নিকট ইবনে উমরের উক্তি পেশ করলাম, তখন তিনি বললেন আল্লাহ ইবনে ওমরের মত প্রত্যাখ্যান করে বললেন, আল্লাহ তার প্রতি দয়া করুন) উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর শরীরে সুগন্ধি লাগিয়ে দিতাম। তারপর তিনি স্ত্রীদের কাছে যেতেন। এরপর সকালে গোসলের পর ইহরাম বাঁধতেন। কিন্তু এরপরও তাঁর শরীর থেকে খুশবু ছড়িয়ে পড়তো।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَيَطُوفُ عَلَى نِسَائِهِ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৪১, ৪১ এবং মুসলিম ৩৭৮, নাসাঈ ৪৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ حَدَّثَنَا مُعَاذُ بْنُ هِشَامٍ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ قَتَادَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدُورُ عَلَى نِسَائِهِ فِي السَّاعَةِ الْوَاحِدَةِ مِنَ اللَّيْلِ وَالنَّهَارِ، وَهُنَّ إِحْدَى عَشْرَةَ‏.‏ قَالَ قُلْتُ لأَنَسٍ أَوَكَانَ يُطِيقُهُ قَالَ كُنَّا نَتَحَدَّثُ أَنَّهُ أُعْطِيَ قُوَّةَ ثَلاَثِينَ‏.‏

وَقَالَ سَعِيدٌ عَنْ قَتَادَةَ إِنَّ أَنَسًا حَدَّثَهُمْ تِسْعُ نِسْوَةٍ‏.‏

অনুবাদ: আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) দিনরাতের কোনো এক সময় পর্যায়ক্রমে তাঁর সকল স্ত্রীদের কাছে যেতেন। তাঁরা সংখ্যায় এগারজন ছিলেন। প্রশ্ন করা হলো তাঁর কি এত শক্তি ছিল? আনাস বলেন, আমরা আলোচনা করতাম, তাঁকে ত্রিশজন পুরুষের শক্তি দেয়া হয়েছিল। সায়ীদ কাতাদাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, আনাস আমাকে নয় জন স্ত্রীর কথা বলেছেন।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য يَدُورُ عَلَى نِسَائِهِ فِي السَّاعَةِ الْوَاحِدَةِ  -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৪১, ৪২, ৭৫৮, ৭৮৫ এবং তিরমিযীতে ২০, মুসলিম ১৪৪, নাসাঈ ৫৬, ইবনে মাজাহ ৪৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

বাবের উদ্দেশ্য: শাহ ওয়ালি উল্লাহ (র.) বলেন, এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, স্ত্রী-সঙ্গমের পর গোসল না করে পুনঃরায় সঙ্গম করা জায়েয আছে। অর্থাৎ দুই বা ততোধিকবার সঙ্গম করার পর যদি সবশেষে একবার গোসল করে নেয় অথবা অন্য স্ত্রীর সাথে সহবাস করে ইমাম চতুষ্টয়ের ঐকমত্য রয়েছে যে, দুই সহবাসের মাঝে গোসল করা ফরয বা ওয়াজিব নয়।

দুই সঙ্গমের মাঝে গোসলের বিধান: ইমাম চতুষ্টয় এ ব্যাপারে একমত যে, দুই সঙ্গমের মাঝে গোসল ফরজ বা ওয়াজিব নয়। যেমন নবী করীম (সা.)-এর আমল كَانَ  النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يَدُورُ عَلَى نِسَائِهِ فِي السَّاعَةِ الْوَاحِدَةِ তারই বৈধতা প্রমাণের জন্য ছিল। নতুবা তার সাধারণ নিয়ম ছিল যা হযরত আবু রাফে’ (রা.) হতে বর্ণিত:

ان النبي (ص) طاف ذات يوم علي نسائه يغتسل عند هذه وعند هذه قال فقلت له يا رسول الله (ص) ألا تجعله غسلا واحدا فقال هذا ازكي واطيب واطهر

একদিন নবী করীম (সা.) তার সকল স্ত্রীদের নিকট তওয়াফ করলেন তথা প্রত্যেকের সাথে সঙ্গম করলেন এবং প্রত্যেকের সাথে সঙ্গমের পর গোসল করলেন। আমি বললাম ইয়া রাসুলাল্লাহ! আপনি কেন একবারই গোসল করলেন না? তিনি বললেন ইহা অধিকতর প্রফুল­কর, আনন্দদায়ক ও পবিত্রতর। : আবু দাউদ

এর দ্বারা বুঝা গেল যে, তিনি প্রত্যেক সঙ্গমের পর গোসল করতেন এবং তা উত্তম। 

প্রশ্ন:  বাহ্যিকভাবে হাদীস দুটির মাঝে দ্ব›দ্ব বিরাজমান।

উত্তর: হাদীস দুটির মাঝে বৈপরিত্য বা দ্ব›েদ্বর কিছুই নেই। কারণ, কখনো তিনি অধিকতর পরিচ্ছন্নতা অবলম্বন করেছেন, আবার কখনো তিনি বৈধতা বর্ণনার জন্য একবারই গোসল করেছেন। আবার কখনো মধ্যপন্থা অবলম্বন করেছেন তথা দু’ সঙ্গমের মাঝে অজু  করেছেন। আবার কখনো অজু না করে শুধুমাত্র লজ্জাস্থান ধৌত করার মধ্যেই সীমিত রেখেছেন।

فيطوف علي نسائه : ইমাম বুখারী একই গোসলে এশাধিকবার সঙ্গমের প্রমাণ এভাবে করছেন যে, যদি প্রত্যেক স্ত্রীর ক্ষেত্রে গোসল করতেন তা হলে নয়বার গোসল করতে হতো। সে ক্ষেত্রে সুগন্ধির চি‎হ্ন তার শরীরে বহাল থাকা সম্ভবপর ছিল না। কারণ, এটা বাস্তবতার পরিপন্থি যে, কয়েকবার গোসল করার পর সুগন্ধির চি‎হ্ন ও প্রভাব অবশিষ্ট থাকবে। অথচ হযরত আয়েশা বলছেন যে, সকালবেলাও তার শরীরে সুগন্ধির চি‎হ্ন বহাল ছিল। তাই বুঝা গেল তিনি একবারই গোসল করেছেন।

দুই সঙ্গমের মাঝে অজুর বিধান: ইমাম চতুষ্টয় ও জুমহূরের মতে দুই সঙ্গমের মাঝে অজু করাও ওয়াজিব নয়। তবে অবশ্যই মুস্তাহাব। তবে কতিপয় আহলে যাহের ও ইয়াযিদ ইবনে হাবীব মালেকীর মতে ওয়াজিব। তাদের দলীল হলো আবু সাঈদ খুদরী (র.) হতে বর্ণিত হাদীস ثم اذا اراد ان يعود فليتوضأ তারা বলেন এখানে فـلـتـوضـا এটি امر-এর সীগাহ। আর امر দ্বারা ওয়াজিব বুঝে আসে।

জমুহূরের জবাব:

১.    জমহুরের মতে এ নির্দেশটি মুস্তাহাব হিসেবে পালনীয়; জুমহূরের দলিল হলো এই যে, এ রেওয়ায়েতটিই সহীহ ইবনে খুযায়মাতে সুফিয়ান ইবনে উয়াইনা-(র) সূত্রে বর্ণিত আছে। সেখানে উপরিউক্ত নির্দেশের পরে এ বাক্যটির উল্লেখ আছে: فـانـه انـشط لـه فـى الـعـود কেননা পুনরায় সহবাসে এটা তাকে অধিক প্রফুল­তা দানকারী। এর দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় এ অজুর বিধান মূলত প্রফুল­তা সৃষ্টির জন্য। অতএব এটা মুস্তাহাব হবে, ওয়াজিব নয়।

২.    তাছাড়া ইমাম ত্বহাবী (র.) হযরত আয়েশা (রা.)-এর রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন-قـالـت كـان الـنبـى يجـامـع ثـم يعـود ولايتـوضـأ (مـعـارف الـسـنن جــ ـ صـ৪৬৯ অর্থাৎ, হযরত আয়েশা (রা.) বলেন: কখনো নবী  (সা.) একবার সহবাস করার পর পুনরায় সহবাস করতেন, কিন্তু অজু করতেন না। (মা‘আরিফুস সুনান, খ: ১: পৃ: ৪৬৯) -এর দ্বারাও বুঝা যায় মুসলিম শরীফে বর্ণিত হাদীসের নির্দেশটি মুস্তাহাব রূপে পালনীয়।

ذكرته لعائشة : অর্থাৎ ذكرتُ قول ابن عمرلعائشة ইবনে উমরের উক্তিটি হযরত আয়েশার নিকট পেশ করলাম। (উমদাহ, ফতহুল বারী)

মুহাম্মদ বিন মুনতাশির বলেন, আমি হযরত আয়েশার নিকট আব্দুল্লাহ ইবনে ওমরের উক্তি: ما احب ان اُصبح مُحرما انضخ طيبا উল্লেখ করলাম (অর্থাৎ আমি পছন্দ করছিলামনা যে, আমি ইহরাম অবস্থায় থাকব, আর  আমার শরীর হতে সুগন্ধি ছড়াতে থাকবে) যেহেতু ইবনে ওমর (রা.) ইহরামের পূর্বে এমন সুগন্ধি ব্যবহার সঠিক মনে করতেন না, যাকে তিনি جنايت মনে করতেন। যার প্রভাব ইহরামের পরও অবশিষ্ট থাকত। ইবনে ওমর বলেন, তার পরিবর্তে আমার নিকট আলকাতরা মাখা উত্তম যাতে দুর্গন্ধ থাকে।

প্রশ্ন: এখানে প্রশ্ন হয় যে, ইমাম বুখারী ذكرته-এর যমীরের মারজা কাকে বানিছেন। যদি ইবনে ওমরের উক্তি হয়ে থাকে, তা তো পূর্বে উল্লেখ নেই। বরং এক বাব অর্থাৎ باب غسل المذي-এর পর باب من تطيب ثم اغتسل وبقي اثر الطيب -এর অধীনে উল্লেখ করা হবে।

আল্লামা আইনী বলেন, কিরমানী বলেছেন এ জবাব দিয়েছেন যে, ইবনে ওমরের উক্তি আকাবিরে মুহাদ্দিসীনে কেরামের জানা ছিল। সুতরাং তাদের মনে থাকার কারণে যমীর তার দিকে ফিরানো হয়েছে। কিন্তু এ জবাবটি একটি বিস্ময়কর। কেননা, ইবনে ওমরের উক্তিটি তো শুধুমাত্র মুহাদ্দিসীনে কেরামের জানা ছিল। এখন যদি অন্য লোক যারা এ বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত নয়, তারা যখন এ হাদীস পড়বেন তখন তারা কোনদিক যাবেন যে, যমীরের মারজা কি?

সুতরাং ইমাম বুখারীর জন্য সমিচীন ছিল প্রথমে আবু নুমানের হাদীসটি উল্লেখ করতেন, যাতে ইবনে ওমরের উক্তিটি রয়েছে, তারপর বাবের হাদীসটি উল্লেখ করতেন।

প্রথম হাদীস দ্বারা দলীল: হযরত আয়েশা (রা.)-এর সম্মুখে যখন ইবনে ওমরের উক্তিটি পেশ করা হলো তখন হযরত আয়েশা (রা.) বললেন আল্লাহ তাআলা আবু আব্দুররহমানের উপর দয়া করুন, আবু আব্দুররহমান হলো হযরত ইবনে ওমরের কুনিয়াত। এরপর তিনি ইবনে ওমরের মতটি প্রত্যাখ্যান করেন যে, আমি নিজে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শরীরে সুগন্ধি মেখে দিতাম, এরপর তিনি অন্যান্য স্ত্রীগণের নিকট যেতেন। এরপর হুযুর (সা.) সকালবেলা ইহরাম বাঁধতেন যখন তার শরীর থেকে সুগন্ধি ছড়াতে থাকত।

মাসআলা : এ হাদীস দ্বারা আরো একটি বিষয় বুঝা গেল যে, ইহরামের পূর্বে ব্যবহৃত সুগন্ধি যদি ইহরামের পর পর্যন্ত অবশিষ্ট থাকে তাহলে তাকে ইহরামের পরিপন্থি মনে করা যাবে না।

ইমাম বুখারীর দলীল হলো এভাবে যে, যদি দুই সঙ্গমের মাঝে গোসল ওয়াজিব হতো তাহলে ৯ বার গোসলের পর সুগন্ধি অবশিষ্ট থাকত না। বুঝা গেল যে, হুযুর (সা.) সকল স্ত্রীগণের সাথে সঙ্গম শেষ করার পর শুধুমাত্র শেষে একবার গোসল করেছেন।

দ্বিতীয় হাদীস দ্বারা দলীল: এ হাদীসে আছে নবী করীম (সা.) এক মুহূর্তে তার সকল স্ত্রীদের নিকট গমন করতেন। এখানে في الساعة الواحدة দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অল্প সময়। পারিভাষিক ঘন্টা উদ্দেশ্য নয়।

ইমাম বুখারীর দলীল হলো এভাবে যে, এর দ্বারা বুঝা গেল যে, সকল সঙ্গমের পর গোসল করেননি। কেননা যদি প্রত্যেকের সাথে সঙ্গমের পর গোসল করতেন তাহলে তার জন্য দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন ছিল। অথচ এখানে আছে ساعت واحدة তাছাড়া কোনো কোনো রেওয়ায়েতে আছে তিনি শেষে একবার গোসল করেছেন।

প্রশ্ন: বাবের হাদীসে হযরত হিশামের রেওয়ায়েতে عن قتادة দ্বারা বুঝে আসে যে, নবী করীম (সা.) এক মুহূর্তে এগারজন স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করতেন। এ হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, নবী করীম (সা.)-এর এগারজন স্ত্রী ছিল। এটা ঠিক; কিন্তু তারা সবাই একই সময়ে ছিলেন না। একই সময়ে নয়জনের অধিক স্ত্রী কখনো একত্র হননি। কারণ, তার সর্বপ্রথম স্ত্রী ছিলেন হযরত খাদিজা (রা.)। হিজরতের পূর্বেই তিনি ইন্তেকাল করেছেন। তার জীবদ্দশায় তিনি দ্বিতীয় কোনো বিবাহ করেননি। আরেক স্ত্রী ছিলেন হযরত যয়নব বিনতে খুযাইমা। তার ইন্তেকালও তৃতীয় বা চতুর্থ হিজরীতে হয়েছিল। নবী করীম (সা.)-এর বিবাহে আঠারো মাস থাকার পর তার ইন্তেকাল হয়। সুতরাং একই সাথে এগারোজন স্ত্রী কখনো ছিল না।

উত্তর: এখানে যে এগারো জনের কথা বলা হয়েছে তাদের মধ্যে নয়জন ছিলেন সহধর্মিণী, আর দুই জন ছিলেন দাসী। এদের একজন হলেন মারিয়া কিবতিয়া, যার উদরে হযরত ইবরাহীম (রা.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন। অপরজন ছিলেন হযরত রায়হানা। আর হযরত সাঈদ (রা.)-এর রেওয়ায়েতে যে নয়জনের কথা উল্লেখ রয়েছে তা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো নয়জন সহধর্মিণী। তাহলে আর কোনো প্রশ্ন অবশিষ্ট রইল না।  

নবী করীম (সা.)-এর দৈহিক শক্তি:

قلت لانس اوكان يطيقه الخ : হযরত কাতাদাহ বলেন, আমি হযরত আনাস (রা.)-কে জিজ্ঞেস করলাম আপনি যা বলছেন যে, দিনরাতের এক সময়ে তিনি এগারজন স্ত্রীর সাথে সঙ্গম করতেন, তাহলে কি হুযুরের মধ্যে এত শক্তি ছিল?

এ প্রশ্ন উদয় হওয়ার কারণ হলো যখন সাধারণ লোকদের অবস্থা হলো এই যে, একবার সঙ্গম করার পর শক্তি হ্রাস পেয়ে যায়, আর যদি কেউ অধিক শক্তিশালী হয় তাহলে না হয় দু,তিনবার করে নিল, ব্যাস! এর অধিক নয়।

তাই তিনি নিজের উপর এবং নিজের ন্যায় অনুরূপদের উপর কেয়াস করে প্রশ্ন করেছেন। তার উত্তরে হযরত আনাস (রা.) বললেন যে, নবী করীম (সা.)-কে ত্রিশজন পুরুষের শক্তি প্রদান করা হয়েছিল। হুলিয়াতুল আউলিয়া গ্রন্থে আছে ৪০ জন জান্নাতী পুরুষের শক্তি দেয়া হয়েছিল। তিরমিযীর রেওয়ায়েতে আছে : كل رجل من اهل الجنة يُعطَي قوة مِائَةَ رجل ‘জান্নাতি একজন পুরুষকে দুনিয়ার ১০০ পুরুষের সমপরিমাণ শক্তি প্রদান করা হবে।’ সুতরাং সমষ্টিগত হিসাবে নবী করীম (সা.)-কে ৪০০০ পুরুষের সমপরিমাণ শক্তি প্রদান করা হয়েছিল। এ মহান শক্তি থাকা সত্তেও শুধুমাত্র নয়জন স্ত্রীকে নিয়েই ক্ষান্ত থাকাটা একটা মুজিযাই বটে।

দো-জাহানের সর্দারের ধৈর্য, তপস্যা, নিষ্পাপতা ও সচ্ছরিত্রতা: ধর্মহীন ব্যক্তিরা নবী করীম (সা.)-এর বহু স্ত্রী হওয়ার কারণে তাঁকে ভোগ-বিলাসী বলে অপবাদ আরোপ করে থাকে। অথচ তার জীবনের প্রতি লক্ষ্য করলে তার পূর্ণ ধৈর্য, অল্পেতুষ্টি ও দুনিয়া-বিমুখতা দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তাকে চার হাজার পুরুষের শক্তি প্রদান করা হয়েছিল। এতদসত্তেও তিনি যৌবনের প্রারম্ভের দীর্ঘ পঁচিশটি বছর বিবাহবিহীন কাটিয়ে দিলেন। অথচ মানুষের যৌবনের উন্ম্ত্ততা এবং কামাগ্নির বহিঃপ্রকাশ এ বয়সেই ঘটে। কিন্তু তিনি এ সময়টা এমন নিষ্কলূষ ও পবিত্রভাবে অতিক্রান্ত করেছেন যে, যতবড় শত্রæ বা বিদ্বেষী হোক না কেন আজ পর্যন্ত এ বিষয়ে মুখ খোলার সুযোগ পায়নি। তারপর লোকদের পীড়াপীড়িতে অনেক ভালো ভালো সুযোগ তার হাতে এসেছিল। বরং চারদিক থেকে তার প্রতি আকাক্সক্ষা থাকা সত্তেও পঁচিশ বছর বয়সে দু’বার বিধবা হওয়া চলি­শ বছর বয়ষ্কা হযরত খাদিজাতুল কুবরা (রা.)-কে বিবাহ করেন।

ও হে বে-ঈমানরা! বলোতো ভোগ-বিলাসী কামোন্মত্ত ব্যক্তির অবস্থা কি এরূপ হয়ে থাকে? তদুপরি বিবির সাথে যে সম্পর্ক ছিল তাও সবার জানা। কোথায় স্ত্রী আর কোথায় তিনি? মাসের পর মাস হেরা গুহায় ধ্যান-মগ্ন থেকে আল্লাহর স্মরণে কাটিয়েছেন। একজনই মাত্র স্ত্রী, তাও প্রায় তাঁর দ্বি-গুণ বয়সের, আবার দু-বারের বিধবাও। এ অবস্থায় জীবনের ৫৩টি বছর তিনি কাটিয়ে দিয়েছেন, এর মধ্যে কোনো দ্বিতীয় বিবাহ করেননি।

এ সমস্ত অবস্থা পর্যবেক্ষণের পর কোনো না-লায়েক কি বলতে পারবে যে, (নাউযুবিল্লাহ) তিনি ছিলেন ভোগ-বিলাসী? ভোগের জীবন কি এমন হয় যে, নিজের ভরা যৌবনটা কাটিয়ে দিয়েছেন একজন বৃদ্ধা রমণীর সাথে?

ও হে বে-ঈমানরা! একটু ইনসাফের সাথে দেখো, অহেতুক জাহান্নাম ক্রয় করো না! : ফযলুল বারী খ. ২, পৃ. ৪৪৩-৪৪৪

প্রশ্ন: যদি কারো এশাধিক স্ত্রী থাকে তাহলে তাদের মধ্যে ন্যায়সঙ্গত আচরণ ও সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব। অর্থাৎ খোরপোষ, রাত্রিযাপন ও অন্যান্য সকলক্ষেত্রে সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব। যেমন আল্লাহ বলেন: فان ختفم الا تعدلوا فواحدة  যদি তোমরা তাদের সাথে ন্যায়সঙ্গত আচরণ করতে পারবে না বলে আশঙ্কা কর, তাহলে একজন স্ত্রীর উপরই ক্ষান্ত কর। (সূরা নিসা: আয়াত ৩)

হাদীসে আছে: اذا كانت عند الرجل امأتان فلم يعدل بينهما جاء يوم القيامة وشقه ساقط (ترمذي) যদি কারো দু’জন স্ত্রী থাকে, এবং তাদের মাঝে ন্যায়সঙ্গত আচরণ না করে তাহলে কিয়ামতের দিন তার শরীরের অর্ধেক অবশ হয়ে যাবে।

বুঝা গেল যে, ন্যায়সঙ্গত আচরণ এবং সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব। ওলামায়ে কেরাম বলেছেন: اقل القسمة ليلة সর্বনিম্ন পালা হলো এশরাত।

এখন প্রশ্ন হলো একরাতে সকল স্ত্রীর সাথে কিভাবে মিলিত হলেন?

উত্তর:

১.    এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, স্ত্রীদের সাথে সমতা রক্ষা করা উম্মতের উপর ওয়াজিব, এর পরিপন্থি করা হারাম। কিন্তু হুযুর (সা.) সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের মতবিরোধ আছে যে, তার উপর এরকম করা আবশ্যক ছিল কিনা? তন্মধ্যে সর্বোত্তম জবাব হলো: স্ত্রীদের কাছে পালাক্রমে গমন হুজর (সা.) -এর জন্য আবশ্যক ছিল না। কুরআনের আয়াতتـرجـى مـن تـشاء مـنهـن وتؤوى الـيـك مـن تشاء থেকে যা বুঝা যায়।

বুঝা গেল যে, তাঁর উপর সমতা রক্ষা করা ওয়াজিব ছিল না; কিন্তু স্ত্রীদের মন রক্ষা করা ,তাদের সাথে সমতা রক্ষা করা এটা  নবী করীম (সা.)-এর অনুগ্রহ ছিল স্ত্রীদের উপর যে, তিনি তাদের সাথে ন্যায়ানুগত আচরণ করেছেন।

২.    এমতাবস্থায় উত্তর হবে যার পালা হতো তার অনুমতিক্রমে তিনি অন্যের নিকট গমন করতেন। 

৩.    আল্লামা আইনী (র.) বলেন: এ ঘটনাটি রাসূল (সা.) কোনো সফর থেকে আসার পরপরই ঘটেছিল। যখনও পালাক্রম শুরু হয়নি।

৪.    ইবনুল আরাবী বলেন, আল্লাহ তা‘আলা হুযুর (সা.)-এর জন্য এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত দান করেছেন যাতে কোনো স্ত্রীর অধিকার ছিল না। এ বিশেষ সময়ে তিনি সকল স্ত্রীদের নিকট গমন করতেন। মুসলিম শরীফে ইবনে আব্বাস (রা.)-এর রেওয়ায়েত অনুযায়ী উক্ত সময়টি ছিল আসরের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত।

৫.    বিদায় হজের সময় নবী করীম (সা.) এ কাজ করেছিলেন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.