যোগসূত্র: উভয় বাবের মধ্যে যোগসূত্র স্পষ্ট। কারণ, উভয় বাবে প্রস্রাবের হুকুম বর্ণিত হয়েছে। তদ্রƒপ পরবর্তী বাব এবং তার পরবর্তী বাবও। মোটকথা, এখানে নয়টি বাব রয়েছে, যার সবগুলোই প্রস্রাবের বিধিবিধান সম্পর্কিত এবং সবগুলোর মধ্যে সুস্পষ্ট যোগসূত্র বিদ্যমান।
حَدَّثَنَا آدَمُ، قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ، عَنِ الأَعْمَشِ، عَنْ أَبِي وَائِلٍ، عَنْ حُذَيْفَةَ، قَالَ أَتَى النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم سُبَاطَةَ قَوْمٍ فَبَالَ قَائِمًا، ثُمَّ دَعَا بِمَاءٍ، فَجِئْتُهُ بِمَاءٍ فَتَوَضَّأَ.
অনুবাদ: হযরত হুযাইফা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) একদিন লোকজনের ময়লা ফেলার স্থানে গিয়ে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করলেন। তারপর তিনি পানি চাইলেন। আমি তাঁর কাছে পানি নিয়ে গেলাম এবং তিনি অযু করলেন। (এখানে অযু অর্থে প্রশাবের পরে পানি ব্যবহারকে বুঝিয়েছে)
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَبَالَ قَائِمًا -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৩৫, ৩৬, ৩৬, ৩৩৫-৩৩৬ পৃষ্ঠায় এবং মুসলিম শরীফ ১৩৩, আবু দাউদ ৪ পৃষ্ঠায় তাছাড়া তিরমিযী, নাসাঈ ইবনে মাজাহ প্রভৃতি কিতাবেও বর্ণিত হয়েছে।
বাবের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো প্রয়োজন হলে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করার বৈধতা প্রমাণ করা। যদিও বসে প্রস্রাব করাটাই সুন্নাত এবং মুস্তাহাব। কারণ নবী করীম (সা.)-এর সব সময়ের আমল হলো বসে প্রস্রাব করা। তিনি সব সময় বসে প্রস্রাব করতেন। যেমন হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত আছে:
قالت من حدثكم ان النبي (ص) كان يبول قائما فلا تصدقوه وما كان يبول الا قاعدا
فَبَالَ قَائِمًا : দাঁড়িয়ে পেশাব করা সম্পর্কে ফুকাহায়ে কেরামের মতামত:
১. ইমাম আবু হানিফা, শাফেয়ী তথা সংখ্যাগরিষ্ঠ ওলামায়ে কেরামের মত হলো ওজর ব্যতীত এরূপ করা মাকরূহে তানযীহী। কারণ নিষিদ্ধতা সংক্রান্ত কোনো রেওয়ায়েত সহীহ সনদে প্রমাণিত নেই।
২. ইমাম মালেক (র.)-এর মতে ছিটা উড়ে আসার আশঙ্কা না হওয়ার শর্তে জায়েজ, অন্যথায় মাকরূহ।
৩. ইমাম আহমদ (র.) প্রমুখ দাঁড়িয়ে পেশাব করাকে সর্বাবস্থায় জায়েজ বলেন। বাহ্যত ইমাম বুখারী ইমাম আহমদের মত গ্রহণ করেছেন।
পশ্ন: ইমাম বুখারী শিরোনামে প্রস্রাব করার দুটি সূরতের কথা উলেখ করেছেন। একটি হলো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা, অপরটি হলো বসে প্রস্রাব করার কথা। কিন্তু রেওয়ায়েত এনেছেন শুধুমাত্র দাঁড়িয়ে প্রস্রাব বিষয়ে। বসে প্রস্রাব করা সম্পর্কিত কোনো হাদীস তিনি আনেননি। এর কারণ কি?
উত্তর: এর অনেকগুলি কারণ থাকতে পারে। যথা:
১. ইবনে বাত্তাল বলেন, দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করা যখন বৈধ প্রমাণিত হলো তখন বসে প্রস্রাব করা তো আরো উত্তমরূপেই প্রমাণিত হবে, যা বলার অপেক্ষা রাখেনা। তাই এ সম্পর্কিত কোনো হাদীস আনার প্রয়োজন তিনি মনে করেননি।
২. বসে প্রস্রাব করা নবী করীম (সা.)-এর সব সময়ের আমল ছিল। যেমন হযরত আয়েশা (রা.)-এর হাদীস দ্বারা তা জানা গেছে: مـا كـان يبـول إلا قـاعـدا রাসূল (সা.) কখনো দাঁড়িয়ে পেশাব করেননি। তাই তা প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই।
৩. ইমাম বুখারী (রা.)-এর নিয়ম হলো, যদি কোনো সহীহ হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করা তার উদ্দেশ্য হয়, আর তা তার হাদীস গ্রহণের শর্ত মুতাবিক না হয় তাহলে তিনি তা শিরোনামের মধ্যে উলেখ করেন। এখানে তাই করেছেন।
মাকরূহ হওয়া সম্পর্কিত জুমহূরের দলীল:
১. হযরত ওমর (রা.) বলেন, নবী করীম (সা.) আমাকে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে দেখে বললেন, হে ওমর! দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করো না। তারপর আমি কখনো দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করিনি। - তিরমিযী পৃ. ৪
২. হযরত জাবির (রা.) হতে বর্ণিত, নবী করীম (সা.) দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করতে নিষেধ করেছেন।: বায়হাকী
ব্যাখ্যা: উপরিউক্ত বক্তব্য ও ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ দ্বারা বুঝা গেল যে, হযরত হুযায়ফা (রা.)-এর হাদীস ওযরের জন্য প্রযোজ্য হবে। চাই হাঁটুর ব্যথার কারণে বা স্থানটি বসার অনুপযোগী হওয়ার কারণে ছিল, যে বসে প্রস্রাব করলে প্রস্রাবের ছিটা এসে শরীরে লাগার সম্ভাবনা ছিল। অথবা নবী করীম (সা.) জায়েয হওয়া বুঝানোর জন্য একবার দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করেছেন।
কোন মন্তব্য নেই