Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল অযুঃ প্রস্রাব ধৌত করা প্রসঙ্গে

باب مَا جَاءَ فِي غَسْلِ الْبَوْلِ وَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ لِصَاحِبِ القبر كَانَ  لاَ يَسْتَتِرُ مِنْ بَوْلِهِ وَلَمْ يَذْكُرْ سِوَى بَوْلِ النَّاس

পরিচ্ছেদ: প্রস্রাব ধৌত করা প্রসঙ্গে। এবং নবী করীম (সা.) কবরবাসীর প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে, সে প্রস্রাবের ছিঁটা হতে সতর্ক থাকত না। তিনি মানুষের প্রস্রাব ব্যতীত অন্য কোনো প্রস্রাব সম্পর্কে কিছু বলেন নি।

পূর্বের সাথে যোগসূত্র : উভয় বাবের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে। তা এভাবে যে, পূর্বের বাবে ঐ প্রস্রাব সম্পর্কে আলোচনা হয়েছিল যা কবরবাসীর শাস্তির কারণ হয়েছিল। আর এ বাবে উক্ত প্রস্রাব ধৌত করা সম্পর্কে আলোচনা হয়েছে। সুতরাং উভয়ের মাঝে মিল সুস্পষ্ট।

حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنَا إِسْمَاعِيلُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، قَالَ حَدَّثَنِي رَوْحُ بْنُ الْقَاسِمِ، قَالَ حَدَّثَنِي عَطَاءُ بْنُ أَبِي مَيْمُونَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم إِذَا تَبَرَّزَ لِحَاجَتِهِ أَتَيْتُهُ بِمَاءٍ فَيَغْسِلُ بِهِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আনাস (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) যখন প্রাকৃতিক প্রয়োজনে বের হতেন, তখন আমি পানি নিয়ে তাঁর সাথে যেতাম। তিনি তা দিয়ে শৌচ কাজ করতেন।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য بِهِ‏ إِذَا تَبَرَّزَ لِحَاجَتِهِ أَتَيْتُهُ بِمَاءٍ فَيَغْسِلُ-এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ২৭ (তিনবার), ৩৫, ৭১ পৃষ্ঠায় এবং মুসলিম শরীফ, নাসাঈ শরীফ ও আবু দাউদ শরীফেও বর্ণিত হয়েছে।


বাবের উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারী (র.)-এর উদ্দেশ্য স্পষ্ট। তা হলো মানুষের প্রস্রাব নাপাক, যার নাপাকি ধৌত করা ব্যতীত যায় না। এর পাশাপাশি তিনি এটাও বলতে চাচ্ছেন যে, নবী করীম (সা.) কবরবাসীর সম্পর্কে لا يستتر من بوله  বলেছিলেন। এ লোকটি তার নিজের প্রস্রাবের ছিঁটা থেকে সতর্ক থাকত না। তার উদ্দেশ্য হলো এই যে, মানুষের প্রস্রাব নাপাক; কেননা, بول-এর ইযাফত তারই দিকে করা হয়েছে; সকল প্রাণীর প্রস্রাবের দিকে করা হয়নি।

কোনো কোনো রেওয়ায়েতেمن بوله(তার প্রস্রাব)-এর পরিবর্তে ইযাফতবিহীনمن البول  (যো কোনো প্রস্রাব) ব্যাপকভাবে উলে­খ রয়েছে। যার ব্যাপকতা দ্বারা বুঝা যায় সকল প্রকার প্রস্রাব নাপাক। মানুষের হোক বা  যে কোনো প্রাণীর। ইমাম বুখারী এখানে ইঙ্গিত করছেন যে, এ ব্যাপকতা দ্বারাও উদ্দেশ্য হলো বিশেষ প্রস্রাব। বণনাকারী روايت بالمعني হিসেবে من البول (আলিফ লাম যুক্ত করে) বলে দিয়েছেন। এ আলিফ লামটি হলো عهد خارجي ; এটি استغراقي নয়। এ আলিফ লামটি হলো যমীরের পরিবর্তে। তিনি এ থেকে মাসআলা উদ্ভাবন করে বলেন, যেহেতু মানুষ হলো غير ماكول (যার গোশত খাওয়া যায়না) সুতরাং এর হুকুমের মধ্যে অন্যান্য غير ماكول  প্রাণী অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে; কিন্তু ঐ সমস্ত প্রাণী তার অন্তর্ভুক্ত হতে পারবে না যার গোশত খাওয়া জায়েয।

প্রস্রাব নাপাক:তা মানুষের হোক প্রাণীর: মানুষ ও যে সমস্ত প্রাণীর গোশত খাওয়া হয়না তাদেও প্রস্রাব সর্বসম্মতিক্রমে নাপাক। মতভেদ শুধুমাত্র ماكول اللحم প্রাণীর প্রস্রাবের ব্যাপারে। হানাফী ও শাফেয়ীদের সকল প্রকার  প্রস্রাবই নাপাক। তবে তাদের প্রস্রাব নাজাসাতে গালীজা না খাফীফা এ ব্যাপারে তারা পার্থক্য করে থাকেন। তবে যে কোনো প্রকার প্রস্রাব পবিত্র হওয়ার উক্তি সঠিক নয়। নবী করীম (সা.) বলেছেন استنزهوا من البول فان عامة عذاب القبر منه তোমরা প্রস্রাব থেকে বাঁচো, কারণ কবরের অধিকাংশ আযাব প্রস্রাবের কারণেই হয়ে থাকে। এ হাদীসে প্রস্রাবকে عام রাখা হয়েঢছে। ماكول اللحم ও غير ماكول اللحم সবই এর অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। তাছাড়া হাদীসের শানে উরূদও একথার সমর্থন করে। তা হলো: এক আনসারী সাহাবীর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর যখন তাকে কবরে শাস্তি দেওয়া হচ্ছিল তখন তার স্ত্রীকে তার কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন সে বলেছিল আমার স্বামী উট-বকরী চরাত; কিন্তু তাদের প্রস্রাবের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করত না। তার ব্যাপারে নবী করীম (সা.) বলেছিলেন: استنزهوا من البول فان عامة عذاب القبر منه

এ ঘটনায় স্পষ্ট হয়ে গেল যে, কবরের শাস্তি বকরির প্রস্রাব থেকে না বাঁচার কারণে হয়েছে, যা হলো ماكول اللحم প্রাণী। হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদের একটি রেওয়ায়েত বুখারী (২৭ পৃষ্ঠায়) আছে: اخذ الحجرين والقي الروثة وقال هذا ركس যা দ্বারা স্পষ্ট বুঝা গেল তার গোবরও নাপাক।

৩. সঠিক  কেয়াসও ماكول اللحم-এর প্রস্রাব নাপাক হওয়া বুঝায়। কেননা, পবিত্রতা-অপবিত্রতার কোনো সম্পর্ক গোশতের সাথে নেই। দেখুন! মানুষের গোশত পবিত্র; কিন্তু তা ভক্ষণযোগ্য নয়।

এূলত নাপাকীর মূল হলো দুর্গন্ধ, পরিবর্তন ও নষ্ট হওয়া। দেখুন! আমরা পবিত্র-পরিচ্ছন্ন ও সুস্বাদু খাবার খাই। কিন্তু তা পাকস্থলীতে গিয়ে যখন পরিবর্তন হয়ে দুর্গন্ধ হয়ে যায়, তখন তা হারাম হয়ে যায়। কিন্তু যখন পরিবর্তন হয়ে সির্কায় পরিণত হয়ে যায় তখন তা পবিত্র ও হালাল থাকে।

৪. ইমাম ত্বহাবী  বলেন, যেমনিভাবে মানুষের গোশত সর্বসম্মতিক্রমে পবিত্র, এবং তার রক্ত ও প্রস্রাব অপবিত্র। তেমনিভাবে ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর গোশতও পবিত্র তাহলে তার রক্তের ন্যায় প্রস্রাব নাপাক হওয়া চাই।

মালেকী ও হাম্বলীগণের মতে ভক্ষণযোগ্য প্রাণীর প্রস্রাব পবিত্র। এটিই  ইমাম মুহাম্মদ (র.)-এর মাযহাব।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.