নবী ও রাসূলের মধ্যে পার্থক্য:কারো কারো মতে নবী ও রাসূল সমার্থক শব্দ।
কিন্তু প্রাধান্য উক্তি হলো উভয়ের মাঝে পার্থক্য রয়েছে। দলীল হলো আল্লাহর বাণীঃ ومَـا اَرْسَـلْـنَـا مِـنْ قَـبْـلِـكَ مِـنْ رَسُـولٍ ولا نَـبِـي الآيَـة এখানে নবী শব্দটির আত্ফ হয়েছে রাসূলের উপর। আত্ফ ভিন্নতার প্রমাণ।
(যারা বলেন পার্থক্য আছে তাদের মতে পার্থক্য হলো)
সাধারণত একটি পার্থক্য বলা হয়ে থাকে যে, যার উপর কিতাব ও শরীয়ত অবতীর্ণ হয়েছে তিনি হলেন রাসূল। নবীর জন্যে এটা জরুরী নয়, তাই যে কোনো পয়গাম্বরকেই নবী বলা যাবে, কিতাব ও শরীয়ত অবতীর্ণ হোক বা না হোক। কিন্তু এর উপর প্রশ্ন হয় যে, হযরত ইসমাঈল (আ.) -এর প্রতি কোনো স্বতন্ত্র কিতাব অবতীর্ণ হয়নি, তা সত্তেও কুরআনে তাকে وكَـانَ رَسُـولًا نَـبِـيـا বলা হয়েছে। (সূরা মারইয়াম)
হাফিয ইবনে তাইমিয়াহ (র.) কিতাবুন্নাবুয়্যাহ গ্রন্থে এর সুন্দর পার্থক্য বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন যাকে মানবাজাতির সংশোধনের জন্যে প্রেরণ করা হয়েছে তিনি হলেন নবী, আর যাকে এর সাথে সাথে শত্রুর সাথে মোকাবেলারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে তিনি হলেন রাসূল, তাকে কিতাব দেওয়া হোক বা না হোক। মোটকথা নবী ও রাসূলের মাঝে عـمـوم خـصـوص مـن وجـه এর নিসবত হবে। কিন্তু সাধারণত নবীকে عـام এবং রাসূলকে خـاص বলা হয়ে থাকে। কারণ মানবীয় নবী ও রাসূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে। সুতরাং এ অবস্থায় عـمـوم خـصـوص مـطـلـق -এর নিসবত হবে।
সর্বপ্রথম শত্রুর সাথে মোকাবেলার সুযোগ এসেছিল হযরত নূহ (আ.)-এর। এ কারণে তার থেকে رسـالـة -এর যুগ শুরু হয়। كَـانَ الـنـاس اُمـة وَاحِـدَة فَـبَـعَـثَ الـلـه الـنـبِـيـيـن এ আয়াত দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, শুরুতে কোনো মতবিরোধ ছিল না; ইবনে আব্বাস (র.) বলেন হযরত আদম (আ.) ও নূহ (আ.)-এর মাঝে ১০ যুগ অতিবাহিত হয়েছে। যার মধ্যে কারো সাথে কখনো কোনো মতবিরোধ ছিল না। এর দ্বারাও বুঝে আসে যে, সর্বপ্রথম মতবিরোধ শুরু হয়েছিল হযরত নূহ (আ.)-এর যুগ থেকে। তাহলে প্রমাণ হলো যে, সর্বপ্রথম রাসূল হলেন হযরত নূহ (আ.)। সহীহ বুখারী كـتـابُ الـرقـاق -এর শাফাআতের হাদীসে আছেঃ ائْـتُـوا نُـوحـا اول رسُـول بَـعَـثَـه الـلـه তোমরা নূহ-এর নিকট যাও, তিনি হলেন সর্বপ্রথম রাসূল যাকে আল্লাহ তা‘আলা প্রেরণ করেছিলেন। বুখারী ২/৯৭১, মুসলিমঃ ১/১০৮
ফায়েদা: আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (স.), হযরত নূহ, ইবরাহীম, মূসা ও ঈসা (আ.) এরা সকলে নবী এবং রাসূল উভয়টিই ছিলেন। পক্ষান্তরে জিবরাঈল (আ.) প্রমুখ, তাঁরা রাসূল কিন্তু নবী নন। এ কথাও স্মরণ রাখা দরকার যে, ফেরেশতাদের রিসালাত হলো খাস। জিবরাঈল (আ.) নবীগণের নিকট আগমন করেন অহী নিয়ে বা কখনো শাস্তির জন্যে অথবা বিশেষ কল্যাণ বা বিশেষ নির্দেশসহ প্রেরিত হন। তাদেরকে সরাসরি কোনো জাতি বা সম্প্রদায়ের পথপ্রদর্শনের জন্যে প্রেরণ করা হয় না। এ কারণেই যখন رسُـول শব্দ সাধারণভাবে বলা হবে, তা দ্বারা মানব রাসূল উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, ফেরেশতা রাসূল উদ্দেশ্য হয় না।
: صَـلـي الـلـه عَـلَـيـهِ وسَـلـم
আল্লামা আইনী (র.) বলেনঃ এটি জুমলায়ে খবরিয়াহ, কিন্তু যখন দোয়ার জন্যে হয় তখন জুমলায়ে ইনশায়িয়্যাহ হয়ে যায়। কারণ তখন তার অর্থ হয়ঃالـلـهـم صَـل عَـلَـي مُـحـمـد তেমনিভাবে سـلـم -এরও একই বিধান। (উমদাতুলকারী খঃ ১, পৃঃ ১৫)
একটি মাসআলাঃ হাকীমূল উম্মত হযরত থানবী (র.) লিখেছেন যে, জীবনে একবার দরূদ পাঠ করা ফরজ। কারণ এর প্রতি আল্লাহর নির্দেশ রয়েছেঃ صـلـوا (তোমরা দরুদ পাঠ কর) যা দ্বিতীয় হিজরীর শা’বান মাসে নাযিল হয়। যদি এক মজলিসে কয়েকবার হুযুর (স.)-এর নাম মুবারক পুনরুক্ত হয় (যেমন হাদীসের দরসে অধিকতর এরকম হয়ে থাকে) তাহলে ইমাম তাহাবী (র.)-এর মতে বক্তা এবং শ্রোতা উভয়ের উপর প্রতিবার পাঠ করা ওয়াজিব। কিন্তু ফতওয়া হলো সেরকম ক্ষেত্রে একবার পড়া ওয়াজিব এরপর মুস্তাহাব। এটিই হলো ইমাম কারাখীর তাহকীক।
قَـول الـلـه عَـز وجَـل : যদি قـول শব্দকে রফা পড়া হয় তখন তার আত্ফ হবে باب-এর উপর। আর جر-এর সূরতে باب-এর অধীনে হবে। এবং كيف-এর উপর আত্ফ হবে।
কোন মন্তব্য নেই