হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী (র.) وحـي -এর সংজ্ঞায় বলেনঃ والـوَحْـيُ لُـغَـة الإِعْـلام فِـي خِـفَـاء(فـتـح) অহী শব্দের শাব্দিক অর্থ গোপনে কাউকে কিছু বলা। ইমাম রাগেব ইস্পাহানী মুফরাদাতুল কুরআনে লিখেছেনঃواَصْـلُ الـوَحْـيِ الإشَـارَةُ الـسـرِيـعَـة অহীর মূল অর্থ হলো দ্রæত ইঙ্গিত/ইশারা করা। দীর্ঘ বাক্যকে সংক্ষেপে ব্যক্ত করাকে ইশারা বলা হয়। যেমনঃ خ দ্বারা বুখারী শরীফ, م দ্বারা মুসলিম শরীফ, و দ্বারা আবু দাউদ, ت দ্বারা তিরমিযী শরীফ, س দ্বারা নাসায়ী শরীফ। স্বয়ং বুখারী শরীফের হাশিয়ায়ঃ ك দ্বারা কিরমানি ف দ্বারা ফতহুল বারী ع দ্বারা উমদাতুল কারীর দিকে ইশারা করা হয়েছে। তাছাড়া ইশারা কখনো হাত বা মাথা নেড়ে, আবার কখনো জবানে হয়ে থাকে। যেমন نعم (হ্যাঁ) لا (না) ইত্যাদি।
রাজা-বাদশাদের ইশারা-ইঙ্গিত নৈকট্যশীল দরবারী লোকেরাই বুঝতে পারে। তেমনিভাবে অহীয়ে ইলাহী বুঝা কেবলমাত্র নবী-রাসূলগণেরই কাজ, যারা আল্লাহর দরবারের নৈকট্যশীল ব্যক্তিবর্গ। পয়গাম্বরগণের মস্তিষ্ক এতটা তীক্ষ ও উচ্চমানের হয়ে থাকে যে, তাঁরা তাৎক্ষণিক অহীর গভীরে প্রবেশ করে তার মর্ম উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হন। সে দৃষ্টিকোণ থেকে ইমাম রাগেব অহীর সংজ্ঞায় اِعْـلام -এর পরিবর্তে اشـارة শব্দ এনে তাৎপর্যপূর্ণ উক্তি করেছেন যে, অহীর মধ্যে ইঙ্গিত হয়ে থাকে। তথা বিস্তারিত বিষয়কে সংক্ষিপ্তাকারে বর্ণনা করা হয়।
এ প্রসঙ্গে একটি ঘটনাঃ একদা বাদশা শেরশাহ এক বিশেষ মজলিসে বসে মাটিতে একের পর এক রেখা আঁকতে থাকেন। লোকেরা ভাবতে লাগল বাদশা শিশুদের ন্যায় একি আচরণ করছেন। কিন্তু মন্ত্রী বললেন “জাহাঁপনা ঠিক আছে এরকমই হবে” এবং তিনি একটি বড় রাস্তা তৈরি করে দিলেন। এমনিভাবে নবী-রাসূলগণও ইঙ্গিত বুঝতে পারতেন।
আর একটি শব্দ হলো الـسـريـعـَة (দ্রæত) অর্থাৎ অহী ক্ষণিকের মধ্যে অবতীর্ণ হয়ে যেত। ইবনুল আরাবী বলেনঃ নবীগণ একই মুহূর্তে অহীর বাণী শ্রবণও করতেন, বুঝতেনও আবার মুখস্তও করে ফেলতেন।
ইমাম রাগেব ইস্পাহানী (র.) যদিও সংজ্ঞায় خـفـيـة বা গোপনতার শব্দ উল্লেখ করেননি, কিন্তু গোপনতার অর্থ তাতে বিদ্যমান। কেননা ইঙ্গিতের ক্ষেত্রে অপরিচিত ভিন লোক থেকে বিষয়কে গোপনও করা হয়। তাছাড়া ভাষাবিদগণ এক্ষেত্রে خـفـاء তথা গোপনতার শর্তারোপ করেছেন। এর উদাহরণ তারবার্তা/এস এম এস-এর ন্যায় মনে করতে পারেন যে, দুজন ব্যক্তি এস এম এস-এর মাধ্যমে কথা বলছে অথচ পাশের লোক কিছুই বুঝতে পারে না। (বুঝা গেল যে, অহীর মধ্যে তিনটি জিনিস বিদ্যমান, ১. الاعـلام او الاشـارة ২ . الـسـريـعـة ৩. خـفـاء )
وحي শব্দের প্রয়োগক্ষেত্র
শব্দগতভাবে অহীর প্রয়োগ প্রাণী ও প্রাণহীন উভয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
১. প্রাণহীনের উদাহরণঃ
بِـان رَبـكَ اَوحـي لَـهَـا (এই কারণে যে, আপনার প্রতিপালক তার (ভূমির) প্রতি অহী প্রেরণ করেছেন, অর্থাৎ তাকে নির্দেশ দিয়েছেন) এতে অহীর সম্বন্ধ ভূমির প্রতি করা হয়েছে। অতপর প্রাণীর মধ্যে জ্ঞানবিশিষ্ট এবং জ্ঞানহীন উভয়ের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
২. জ্ঞানহীনের উদাহরণঃ واَوْحَـي رَبـكَ إلَـي الـنـحْـل ان اتـخِـذِي مِـنَ الـجِـبَـالِ بُـيُـوتًـاالـخ (আপনার প্রতিপালক মৌমাছির নিকট অহী প্রেরণ করেছেন (তাকে নির্দেশ দিয়েছেন) যে, তুমি পাহাড়ে তোমার ঘর নির্মাণ কর, সূরা নাহ্ল পারাঃ ১৪) এখানে মৌমাছির প্রতি অহীর সম্বন্ধ করা হয়েছে।
অতপর জ্ঞানবিশিষ্টের মধ্যে রয়েছে মানুষ ও জিন, উভয়ের ক্ষেত্রেই অহীর প্রয়োগ হয়েছে।
৩. জিনের উদাহরণঃ يُـوحِي بَـعْـضُـهُـم اِلَـي بَـعْـضٍ زُخْـرُفَ الـقَـولِ غُـرُورًا(سـورة انعـام) (তাদের কতিপয় অপর কতিপয়কে প্রতারণার উদ্দেশ্যে চমকপ্রদা বাক্য দ্বারা অহী করত (তথা কুমন্ত্রণা দিত)। মানুষের মধ্যে রয়েছে নবী ও গায়রে নাবী। উভয়ের ক্ষেত্রেই অহীর প্রয়োগ হয়েছে।
৪. গায়রে নবীর উদাহরণঃ واَوْحَـيـنَـا الَـي ام مُـوسَـي الخ (قـصـص) واِذْ اَوْحَـيْـتُ اِلَـي الـحَـوَارِيـيـنَ(مَـائِـدَة) এখানে মুসা (আ.)-এর মা এবং হাওয়ারী যারা নবী নন তাদের ক্ষেত্রে অহীর প্রয়োগ হয়েছে।
৫. সর্বশেষ নবীদের ক্ষেত্রে অহী শব্দ প্রয়োগের দৃষ্টান্ত এ বাবে বর্ণিত আয়াত অর্থাৎঃ انـا اَوْحَـيْـنَـا اِلَـيْـكَ كَـمَـا اَوْحَـيْـنَـا اِلَـي نُـوح والـنـبِـيِـيـنَ مِـنْ بَـعْـدِه(سـورة الـنـسـاء) (নিশ্চয়ই আমি আপনার প্রতি অহী প্রেরণ করেছি যেমনিভাবে অহী প্রেরণ করেছিলাম নূহ এবং তৎপরবর্তী নবীগণের প্রতি)
উল্লেখ্য যে, উপরে বর্ণিত উদাহরণসমূহের মধ্যে কেবলমাত্র সর্বশেষটিই শরীয়তের দৃষ্টিতে অহী বলে গণ্য হবে। গায়রে নবীর প্রতি যে অহীর প্রয়োগ হয়েছে তা কেবলমাত্র শাব্দিকভাবে।
শরীয়তের পরিভাষায় অহী বলা হয় আল্লাহর তা‘আলার এমন কালাম বা বার্তা যা কোনো নবীর প্রতি আল্লাহর পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। (উমদাতুলকারী খঃ ১, পৃঃ ১৪, ফতহুল বারী খঃ ১, পৃঃ ৫)
আল্লামা কুসতুল্লানী বলেনÑ وفِـي اصْـطِـلاح الـشـرْع اعْـلام الـلـه تَـعَـالَـي انْبِـيَـائَـهُ الـشـئ امـا بِـكِـتَـاب او بِـرِسَـالَـةِ مَـلِـك او مَـنَـام او اِلْـهَـام
অর্থাৎ শরীয়তের পরিভাষায় অহী হলো আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক নবীগণকে লিখিত আকারে বা ফেরেশতা পাঠিয়ে কিংবা স্বপ্নযোগে অথবা ইলহামের মাধ্যমে কোনো কিছু সম্পর্কে অবগত করিয়ে দেওয়াকে অহী বলা হয়। (কুসতুল্লানীখঃ ১, পৃঃ ৮৩) মোটকথা অহী হলো আল্লাহর নির্দেশ, পয়গাম বা ম্যাসেজ যা পয়গাম্বরগণের নিকট প্রেরণ করা হয়।
অহীর প্রকারভেদ:
আম্বিয়া (আ.) -এর ক্ষেত্রে অহী কত প্রকার? এ ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। আল্লামা হালীমী (র.) -এর মতে অহী ৪৬ প্রকার। দলীলস্বরূপ তিনি বুখারী শরীফে উদ্বৃত আবু হুরায়রা (র.) ও উবাদা বিন সামিত (র.) থেকে বর্ণিত হাদীসটি বর্ণনা করেন, রাসূল (স.) ইরশাদ করেনÑ رُؤيَـاالـمُـؤمِـن جُـزْء مِـن سِـتـة وارْبَـعِـيـنَ جُـزْء مِـنَ الـنـبُـوة তথা মুমিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের ৪৬তম অংশ। (বুখারী ছানী, পৃঃ ১০৩৫)
(অর্থাৎ নবীগণের স্বপ্ন যেহেতু অহীরই একটি প্রকার, আর তাকে ৪৬তম প্রকার সাব্যস্ত করা হয়েছে, বুঝা গেল যে, অহীর কমপক্ষে ৪৬টি প্রকার অবশ্যই রয়েছে।
পবিত্র কুরআনে নবীগণের প্রতি তিন প্রকার অহীর বিবরণ পাওয়া যায়ঃ
ومَـاكَـانَ لِـبَـشَـرٍاَن يُـكَـلـمَـهُ الـلـه الا وَحْـيًـا اوْ مِـنْ وَرَاءِ حِـجَـابٍ اَوْ يُـرْسِـلَ رَسُـولًا- الا وَحْـيًا اي فِـي الـمَـنَـام او بِـالالْـهَام - (আল্লাহ তা‘আলা মানুষের সাথে কথা বলেন না, কিন্তু অহীর মাধ্যমে, অথবা পর্দার অন্তরাল থেকে অথবা দূত প্রেরণ করে (কথা বলেন)। এখানে مِـنْ وَرَاءِ حِـجَـاب দ্বারা উদ্দেশ্য হলো প্রত্যক্ষ কথোপকথন, যেমন মূসা (আ.) -এর সাথে তূর পাহাড়ে এবং নবী করীম (স.) -এর সাথে মিরাজ রজনীতে।
অহী অবতীর্ণ হওয়ার পদ্ধতিসমূহ:
আল্লামা সুহাইলি (র.) অহী অবতীর্ণ হওয়ার সাতটি পদ্ধতি বর্ণনা করেছেন। অর্থাৎ অহী সাতটি পদ্ধতিতে অবতীর্ণ হয়।
১. رؤياء صادقة : সত্য স্বপ্ন। অর্থাৎ নবীগণের স্বপ্ন অহী হিসেবে গণ্য। যেমন হযরত ইবরাহীম (আ.) স্বপ্নযোগে ইসমাইল (আ.) কে কুরবানী করার প্রতি আদিষ্ট হন। এবং ইবরাহীম (আ.) তার বাস্তবায়নও শুরু করে দিয়েছিলেন। এ কারণেই ওলামায়ে কিরাম বলেছেন নবীগণ ঘুমিয়ে থাকলে তাদেরকে জাগ্রত করা উচিত নয়। কেননা হতে পারে স্বপ্নযোগে তখন তাদের প্রতি অহী অবতীর্ণ হচ্ছিল।
২. القاء في القلب : অন্তরে কোনো কিছু প্রক্ষিপ্ত করা বা ঢেলে দেওয়া দ্বারা, যাকে اِلْـقَـاء فِـي الـقَـلْـب বলা হয়। যেমন হাদীসে রয়েছেঃ قَـالَ صَـلـي الـلـه عَـلَـيـهِ وسَـلـم اِن رُوحَ الـقُـدس نَـفَـثَ فِـي رَوعِـي (الـحَـدِيـث) রাসূল (স.) বলেছেনঃ জিবরাঈল (আ.) আমার আন্তরে এ কথা ঢেলে দিয়েছেন বা প্রক্ষিপ্ত করেছেন যে, কোনো ব্যক্তি তার জন্যে বরাদ্দকৃত রিযিক পূর্ণরূপে ভোগ না করে মৃত্যুবরণ করবে না।
উম্মতে মুহাম্মদীর কোনো ওলী বা বুযুর্গ ব্যক্তির অন্তরে কোনো বিষয় প্রক্ষিপ্ত হলে পরিভাষায় তাকে ইলহাম বা কাশ্ফ বলা হয়। সুতরাং উভয় الـقَـاء فِـي الـقَـلْـب বা অন্তরে প্রক্ষিপ্তকরণের মধ্যে পার্থক্য হলো নবীগণের الـقَـاء কে অহী বলা হয়, যা সর্বৈব সত্য তাতে মিথ্যা বা ভুলের সম্ভাবনা নেই। পক্ষান্তরে ওলীগণের الـهـام -এর ক্ষেত্রে সঠিক বা ভুল উভয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইলহামের ক্ষেত্রে আল্লাহর ওলীগণ শরীক থাকেন, যদিও তাদের ইলহামে সঠিক বা ভুল উভয়ের সম্ভাবনা রয়েছে; কিন্তু নবীগণের ইলহাম সঠিক ব্যতীত কোনো কিছুর সম্ভাবনা নেই। (নূরূল আনওয়ার মুজতাবাঈ Ñ পৃঃ ২১৪)
৩. كلام الله تعالي من وراء حجاب পর্দার অন্তরাল থেকে আল্লাহর বাণী শ্রবণ করা। যেমন মূসা (আ.) তূর পর্বতে এবং হুযুর (স.) মিরাজ রজনীতে শ্রবণ করেছিলেন।
৪. صلصلة الجرس ঘন্টির আওয়াজের আকৃতিতে অহী আসা। যার বিস্তারিত বিবরণ ২ নং হাদীসে আসছে।
৫. تمثل ملك ফেরেশতা মানবাকৃতি ধারণ করে আল্লাহর কালাম নিয়ে আসা। যেমন জিবরাঈল (আ.) হযরত দিহইয়ায়ে কালবীর আকৃতি ধারণ করে অহী নিয়ে আসা অনেক হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
৬. ফেরেশতা নিজ আকৃতিতে রাসূল (স.)-এর নিকট অহী নিয়ে আসা। যেমন ইবনে মাসউদ (র.)-এর রেওয়ায়েতে আছেঃ انـه رَأي جِـبْـرَئِـيـل لَه سِـتـمِـأة جَـنَـاح তিনি জিবরাঈল (আ.) কে দেখেছেন, তার ছয়শত ডানা রয়েছে। অপর একটি রেওয়ায়েতে আছেÑ لَـه سِـتـمِـأة جَـنَـاح يَـنْـتَـشِـرُ مِـنْـهَـا الـلـؤلُـؤ والـيَـاقُـوت তার ছয়শত ডানা রয়েছে, যা থেকে মণি-মুক্তা ঝরতে থাকে। এরকম দুবার হয়েছে। যেমন সূরা নাজম এ আছেঃ ولَـقَـد رَأهُ نَـزْلَـة اُخْـرَي
৭. ইসরাফিল (আ.)-এর অহী। যেমন মুসনাদে আহমদের একটি রেওয়ায়েতে আছেঃ
মুসনাদে আহমাদ বিন হাম্বলে সহীহ সনদে হযরত শা’বী থেকে বর্ণিত রাসূল (স.)-এর ৪০ বছর বয়সকালে সর্বপ্রথম তাঁর উপর অহী অবতীর্ণ হয়। এরপর থেকে তিন বছর পর্যন্ত অহীর ধারাবাহিকতা বন্ধ থাকে। এরপর আল্লাহ তা‘আলা হযরত ইসরাফিল (আ.) কে তার জন্যে নিযুক্ত করে দেন। তিনি মাঝে মাঝে তার নিকট এসে বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা দিতেন। তিন বছর পর পুনরায় জিবরাঈল (আ.)কে নিযুক্ত করা হয়, এবং ধারাবাহিকভাবে অহীর আগমন চলতে থাকে। (উমদাতুল কারীঃ খঃ ১, পৃঃ ৪০)
إلَـي رَسُـولِ الـلـه صَـلـي الـلـه عَـلَـيـهِ وسَـلـم ঃ رسول الله এটি যদিও ব্যাপক শব্দ, সকল রাসূলকে রাসূলুল্লাহ বলা যাবে। কিন্তু এখানে এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো শেষ নবী মুহাম্মদ রাসূলুল্লাহ (স.)। কেননাঃ
একটি প্রসিদ্ধ মূলনীতি রয়েছেঃ الـمُـطْـلَـقُ اِذَايُـطْـلَـقُ يُـرَادُ بِـه االـفَـرْدُ الـكَـامِـل ব্যাপক জিনিসকে ব্যাপক রাখা হলে তার দ্বারা পূর্ণাঙ্গটিই উদ্দেশ্য হয়। (আর নবী-রাসূলদের মধ্যে মুহাম্মদ (স.) হলেন সর্বশ্রৈষ্ঠ)
২. অথবা বলা হবে যে, رَسُـولِ الـلـه -এর মধ্যে যে ইযাফত হয়েছে তা হলো عـهـدِي সুতরাং আমাদের রাসূল উদ্দেশ্য।
৩. যেহেতু অন্যান্য সকল নবী-রাসূলদের দীন রহিত হয়ে গেছে, কিয়ামত পর্যন্ত তিনিই রাসূল হিসেবে পরিগণিত হবেন। এমনকি কিয়ামতপূর্বমুহূর্তে হযরত ঈসা (আ.) যে আসবেন তিনিও আমাদের নবীর উম্মত হয়ে আসবেন। তাই তিনি সমসমায়িক রাসূল হওয়ার কারণে এখানে মুহাম্মদ (স.)-ই উদ্দেশ্য।
৪. অথবা বলা হবে যে, এ কিতাবটি আমাদের নবী হযরত মুহাম্মদ (স.)এর হাদীসই সংগ্রহ করার জন্যে রচিত হয়েছে। তাই মুহাম্মদ (স.)ই উদ্দেশ্য।
কোন মন্তব্য নেই