Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল গোসলঃ বা গোসল পর্ব

بسم الله الرحمن الرحيم

كتاب الغسل

কিতাবুল গোসল বা গোসল পর্ব

وقول الله تعالي (وان كنتم جنبا فاطهروا وان كنتم مرضي او علي سفر او جاء احد منكم من الغائط او لا مستم النساء فلم تجدوا ماء فتيمموا صعيدا طيبا فامسحوا بوجوهكم وايديكم منه مايريد الله ليجعل عليكم من حرج ولكن يريد ليطهركم وليتم نعمته عليكم لعلكم تشكرون وقوله جل ذكره يا ايها الذين آمنوا لا تقربوا الصلاة وانتم سكاري حتي تعلموا ما تقولون ولا جنبا الا عابري سبيل حتي تغتسلوا وان كنتم مرضي او علي سفر او جاء احد منكم من الغائط او لا مستم النساء فلم تجدوا ماء فتيمم وا صعيدا طيبا فامسحوا بوجوهكم وايدكم ان الله كان عفوا غفورا

পূর্বের সাথে যোগসূত্র: আল্লামা আইনী (র.) বলেন, ইমাম বুখারী (র.) طهارت صغري  [ছোট পবিত্রতা] তথা অজুর বর্ণনা থেকে ফারেগ হওয়ার পর طهارت كبري [গোসলের] বর্ণনা শুরু করছেন। طهارت صغري তথা অজু কে আগে আনার কারণ হলো তাহারাطهارت كبري [বড় পবিত্রতা] তথা গোসলের তুলনায় তার প্রয়োজন বেশি হয়। طهارت صغري দ্বারা উদ্দেশ্য হলো অজু, আর طهارت كبري দ্বারা উদ্দেশ্য হলো গোসল।

আয়াত উল্লেখ করার উদ্দেশ্য: ইমাম বুখারী (র.) তার স্বভাবসূলভ জানাবাতের গোসলের অধ্যায়ও আয়াতে কারীমা দ্বারা শুরু করেছেন। যেমন তাঁর অভ্যাস হলো সকল অধ্যায়ের শুরুতে ঐ অধ্যায়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ আয়াত উল্লেখ করা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো:

বরকত হাসিল করা। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, কিতাবুল গোসলে যত পরিচ্চেদ আসবে, তার সবগুলি হলো এ আয়াতের বিশ্লেষণ ও ব্যাখ্যাস্বরূপ।

আল্লামা আইনী বলেন, তার উদ্দেশ্য জুনুবী ব্যক্তির গোসল ফরয হওয়ার বিধান কুরআনের আয়াত:وان كنتم جنبا فاطهروا দ্বারা হয়েছে, এটা প্রমাণ করা। اي اغسلوا ابدانكم علي وجه المبالغة

গোসল ফরযকারী বিষয়গুলো জানাবাত ব্যতীত হায়েয-নিফসাও রয়েছে। কিন্তু এগুলি হলো মহিলাদেও সাথে সম্পৃক্ত।

ইমাম বুখারী গোসল ফরয হওয়ার বিষয়াবলী হতে জানাবাতকে আগে উল্লেখ করেছেন; কারণ এটা পুরুষ-মহিলা উভয়ের সাথে সম্পৃক্ত।

ইমাম বুখারী দুটি আয়াত উল্লেখ করেছেন। একটি সূরা নিসার, অপরটি সূরা মা-ইদার। তারতীব হিসেবে সূরা নিসা পূর্বে, সূরা মা-ইদা পরে। কিন্তু তিনি সূরা মা-ইদার আয়াত আগে এনেছেন, অথচ নিয়ম হিসেবে সূরা নিসার আয়াত আগে আনা উচিত ছিল।

ইবনে হাজার আসকালানী (র.) বলেন, একটি সূ² রহস্যের প্রতি লক্ষ্য করে তিনি এমনটি করেছেন। তা হলো, সূরা মা-ইদার শব্দ فالطَّهَّرُوْا এটি মুজমাল, যা গোসল ও অজু উভয়কে অন্তর্ভুক্ত করে। কিন্তু সূরা নিসার শব্দ تغتسلوا এটি হলো مفسَّر বা স্পষ্ট।

কিন্তু আল্লামা আইনী বলেন: لا اجمال في فالطهروا لان معني فاطهروا اغسلوا ابدانكم  অর্থাৎ فالطَّهَّرُوا-এর মধ্যে কোনো অস্পষ্টতা নেই। কারণ, فالطهروا অর্থ হলো তোমরা তোমাদের শরীরকে ধৌত কর।

মূলতঃ হাফিয ইবনে হাজার এ কথা বলে নিজ মাযহাবকে হিফাজতের দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করেছেন। কারণ, তাদের (শাফেয়ীদের) মতে গোসলে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া ফরয নয়। তাই তিনি اطهروا শব্দটিকে مبالغة-এর সীগা বলেননি; বরং একথা বলে পার হয়ে গেছেন যে, এখানে মুজমাল রাখা হয়েছে এবং حتي تغتسلوا দ্বারা তা স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। ইহা যে মুবালাগার সীগাহ তা উল্লেখই করেননি।

অধিকতর সম্ভাবনা ইহাই যে, ইমাম বুখারী সূরা মা-ইদার আয়াতকে সুরা নিসার আয়াতের পূর্বে উল্লেখ করে এদিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, জানাবাতের গোসলের মধ্যে مبالغة করা চাই।

সুতরাং নাকে পানি দেয়া ও কুলি করা যদি অযুতে সুন্নত হয় তাহলে গোসলে অবশ্যই ফরয হবে।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.