পরিচ্ছেদ : মুহাদ্দিসের উক্তি: حَدَّثَنَا-اَخْبَرَنَا ও اَنْبَأَنَا সম্পর্কে। শায়খ হুমাইদি (র.) বলেন, সুফিয়ান ইবনে উয়ায়না (র.) এর মতে মুহাদ্দিসের উক্তি حدثنا (আমাদের কাছে বর্ণনা করেছেন),
اخبرنا (আমাদেরকে সংবাদ দিয়েছেন), انبأنا (আমাদেরকে বলেছেন) ও سمعتُ (আমি শ্রবণ করেছি) এ সবগুলি একই অর্থবোধক। (অর্থাৎ এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই, বর্ণনাকারীর অধিকার আছে এর যেকোনোটি দ্বারা হাদীস বর্ণনা করতে পারবেন।) এবং ইবনে মাসউদ (রা.) রাসূল (স.) থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেন: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَهُوَ الصَّادِقُ الْمَصْدُوقُ ‘রাসূলুল্লাহ (স.) বলেছেন, আর তিনি সত্যবাদী এবং তার থেকে যা বর্ণিত হয়েছে তাও সত্য। হযরত শাকীক (আবু ওয়াইল কূফী) হযরত আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেন: سَمِعْتُ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَلِمَةً (আমি নবী করীম (স.) থেকে এরূপ উক্তি শুনেছি।’ হযরত হুযাইফা (রা.) হুযুর (স.) থেকে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে বলেন: حَدَّثَنَا رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حَدِيثَيْنِ ‘রাসূলুল্লাহ (স.) আমাদের কাছে দুটি হাদীস বর্ণনা করেছেন।’ হযরত আবুল আ-লিয়া (র.) ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বণনার ক্ষেত্রে বলেন: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَرْوِي عَنْ رَبِّهِ (আমি নবী করীম (স.) থেকে এবং নবী করীম (স.) তার রব থেকে।) হযরত আনাস (রা.) বলেন, عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْوِيهِ عَنْ رَبِّهِ عَزَّ وَجَلَّ (আমি এ হাদীসটি নবী (স.) থেকে বর্ণনা করছি, তিনি তাঁর রব থেকে বর্ণনা করেছেন)
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) হুযুর থেকে হাদীস বর্ণনা ক্ষেত্রে বলেন: عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَرْوِيهِ عَنْ رَبِّكُمْ عَزَّ وَجَلَّ (আমি এ হাদীসটি নবী (স.) থেকে বর্ণনা করছি, তিনি তোমাদের সুমহান রব থেকে বর্ণনা করেছেন)
পূর্বের সাথে যোগসূত্র : পূর্বের বাবে বলা হয়েছিল যে, আলেম-ওলামাদেরকে ইলমী কথাবার্তা উচ্চস্বরে বলা উচিত, যেন উপস্থিত সকল শ্রোতামণ্ডলী তা শুনতে ও বুঝতে পারে। এবং তা অপরের নিকট পৌঁছে দিতে পারে। এখন এ পরিচ্ছেদে তিনি ঐ সকল শব্দ শিক্ষা দিচ্ছেন যা দ্বারা কথা অন্যের নিকট পৌঁছাতে হবে। সুতরাং উভয় বাবের মধ্যে সম্পর্ক সুস্পষ্টভাবেই প্রমাণিত হলো।
বাবের উদ্দেশ্য :
১. ইমাম বুখারী (র.) এ পরিচ্ছেদ গঠন করে এদিকে ইঙ্গিত করেছেন যে, তিনি স্বীয় কিতাবের ভিত্তি ঐ সমস্ত মুসনাদ হাদীসের উপর রেখেছেন যা হুযুর (স.) থেকে বর্ণিত হয়েছে। এবং সতর্ক করছেন যে, এ ময়দানে সকলের যেমন খুশী তেমন কথা বলার অধিকার দেওয়া যেতে পারে না। কোনো কথা গ্রহণযোগ্য ও নির্ভরযোগ্য হওয়ার জন্য সনদ বা বর্ণনাসূত্র আবশ্যক। আমীরুল মুমিনীন ফিল হাদীস হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক বলেন:الاسناد من الدين ولو لا الاسناد لقال من شاء ما شاء সনদ বা বর্ণনাসূত্র হলো দীনের অংশ, যদি সনদ না থাকতো তাহলে যার যা ইচ্ছা হত তাই বলে দিত।
২. হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.) বলেন, এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারী (র.)-এর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, উপরোক্ত শব্দাবলীর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসীন, ইমাম চতুষ্টয় ও ইমাম বুখারী (র.)-এর মতে حدثنا-اخبرنا ও انبأنا এ শব্দাবলীর যে কোনোটি দ্বারা হাদীস বর্ণনার অধিকার রয়েছে। তবে পরবর্তী মুহাদ্দিসীন ও ইমাম মুসলিম (র.)-এর মতে এগুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।
تَحَمُّل الحَدِيث বা হাদীস সংগ্রহের পদ্ধতি: উস্তাদ থেকে হাদীস সংগ্রহ করাকে পরিভাষায় تحمل الحديث বলা হয়। হাদীস সংগ্রহের ৬টি পদ্ধতি রয়েছে। যথা:
১. قرأة الشيخ তথা উস্তাদ পড়বেন, ছাত্র শুনবে।
২. قرأة علي الشيخ তথা ছাত্র পড়বে আর উস্তাদ শুনবেন।
এ দু পদ্ধতিতে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে কি বলবে? কোন শব্দ ব্যবহার করতে হবে?
ইমাম বুখারী (র.)-এর মতে উভয় পদ্ধতিতে সংগৃহিত হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে حدثنا-اخبرنا ও انبأنا-এর যোকোনোটিই বলতে পারবে। এগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। পূর্ববর্তী মুহাদ্দিসীন ও ইমাম চতুষ্টয়-এর মতও এটিই।
ইমাম মুসলিম (র.) حدثنا ও اخبرنا-এর মধ্যে পার্থক্য করে বলেন, প্রথম পদ্ধতি অবলম্বনে সংগৃহিত হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে حدثنا শব্দ ব্যবহার করতে হবে। আর দ্বিতীয় পদ্ধতি অবলম্বনে সংগৃহিত হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে اخبرنا বলতে হবে।
আরো বিশ্লেষণ করে কেউ কেউ বলেছেন যদি ছাত্র মাত্র একজন থাকেন তাহলে একবচনের সীগাহ حدثني বলতে হবে, আর যদি ছাত্র একাধিক হয় তাহলে حدثنا বহুবচনের সীগাহ ব্যবহার করবেন। তবে কেউ কেউ এ অবকাশ দিয়েছেন সর্বাবস্থায় حدثنا ব্যবহার করতে পারবেন, কারণ আরবি ভাষায় এর বৈধতা রয়েছে। আবার ইচ্ছা করলে حدثنيও বলতে পারবেন। কারণ মুহাদ্দিস একমাত্র তাকেই হাদীস বর্ণনা করেছেন।
এর উপর কিয়াস করে কেউ কেউ বলেন, قرأة التلميذ-এর পদ্ধতিতেও ছাত্র যদি নিজে পড়ে থাকে, তাহলে সে حدثني একবচনের সীগাহ বলবে, আর অন্য শ্রোতারা اخبرنا বহুবচনের সীগাহ ব্যবহার করবে। আবার কেউ কেউ বলেছেন প্রতেক্যেরই اخبرني ও اخبرنا বলার অবকাশ রয়েছে।
৩. الاجازة : তৃতীয় সূরত হলো সমানাসামনি অনুমতিপ্রদান, এটিকে الانباء বলা হয়। অর্থাৎ না ছাত্র পড়েছে, না উস্তাদ পড়েছেন; কেউই পড়েননি; বরং উস্তাদ সামনাসামনি অনুমতি দিয়ে দিয়েছেন, এমতাবস্থায় বর্ণনাকারী অর্থাৎ যাকে শায়খ অনুমতি দিয়েছেন তিনি انبأني বা انبأنا বলবেন।
৪. مُناوَلَة : (অর্থাৎ উস্তাদ তার লিখিত হাদীসের পাণ্ডুলিপি কোনো ছাত্রকে সামনাসামনি প্রদান করা, যাকে مناولة বলা হয়। এর আলোচনা সামনে আসছে।)
৫. مكاتبة বা مراسلة : এর আলোচনাও সামনে আসছে।
৬. وِجَادة : অর্থাৎ উপরোক্ত কোনো পদ্ধতিই এতে অবলম্বিত হয়নি; বরং কোথাও থেকে কোনো মুহাদ্দিসের কিতাব আমাদের হস্তগত হয়ে গেল, আমরা এ কিতাব থেকে হাদীস বর্ণনা করি এবং সেই মুহাদ্দিসের দিকে হাদীসের নিসবত করি। তবে এ শব্দটি হলো নব আবিস্কৃত, আরবদের থেকে এরকম শব্দ শোনা যায়নি। এমতাবস্থায় হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে বলতে হবেوجدت في كتاب فلان অমুকের কিতাবে এ হাদীসটি পেয়েছি।
মোটকথা এগুলি হলো মুহাদ্দিসীনে কেরামের হাদীস বর্ণনার বিভিন্ন পদ্ধতি। তন্মধ্যে حدثنا ও اخبرنا-এর দলীলের জন্য কুরআনের আয়াত يومئذ تحدث اخبارها এবং انبأنا-এর দলীলের জন্য কুরআনের অপর আয়াত:لا ينبئك مثل خبير উপস্থাপন করে থাকেন।
আরেকটি বিষয় হলো تحديث ও اخبار-এর মধ্যে কোনটি উত্তম? অর্থাৎ قرأة الشيخ উত্তম না قرأة التلميذ উত্তম? এ সম্পর্কে ইমাম আবু হানিফা ও ইমাম মালিক (র.)-এর দুটি উক্তি রয়েছে। এক. উভয়টিই সমান। দুই. قرأة التلميذ অর্থাৎ اخبار উত্তম। কেননা যখর ছাত্র নিজে পড়ে শোনাবে তখন খুব সতর্কতা অবলম্বন করবে, আর যদি উস্তাদ পড়ে শোনান, সেক্ষেত্রে অতটা গুরুত্বারোপ করবে না।
এতদসংক্রান্ত উত্তম সিদ্ধান্ত দিয়েছেন, হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.)। তিনি বলেন, অবস্থা বিভিন্ন ধরনের রয়েছে। কোথাও قرأة الشيخ উত্তম, আবার কোথাও قرأة التلميذ উত্তম। যেখানে যেটি ভুল থেকে নিরাপদ বিবেচিত হবে সেখানে সেটি উত্তম হবে। অতএব, একতরফা সিদ্ধান্ত দেওয়া যাবে না। ইমাম বুখারী (র.) উভয়টিকে একইরকম মনে করেন।
অনুবাদ : হযরত ইবনে উমর (রাঃ) বলেছেন, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেন, এমন একটি বৃক্ষ আছে যার পাতা ঝরে পড়ে না। সেটা হচ্ছে মুসলিমের উপমা। তোমরা আমাকে বলতে পারো, সেটা কি? তখন সাহাবায়ে কেরাম বনের বৃক্ষ, তরু-লতা (সম্পর্কে) চিন্তা করতে থাকলেন। আব্দুল্লাহ বলেন, আমার মনে হলো সেটা খেজুর গাছ। কিন্তু আমি তো বলতে লজ্জাবোধ করছিলাম। পরিশেষে সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! আপনিই বলে দিন, সেটা কি গাছ? তিনি বললেন, সেটা খেজুর গাছ।
শিরোনামের সাথে মিল:
শিরোনামের সাথে হাদীসের মিল এভাবে প্রমাণ হতে পারে যে, হুযুর (স.) হলেন শায়খ, আর সাহাবায়ে কেরাম হলেন ছাত্র। সাহাবাদেরকে একটি কথা বলার জন্য হুযুর فحدثوني ما هي দ্বারা ব্যক্ত করেছেন, আর সাহাবায়ে কেরামও হুযুর (স.)কে বলে দেওয়ার জন্য فحدثنا ما هي শব্দ দ্বারা ব্যক্ত করেছেন। সুতরাং বুঝা গেল যে, قرأة الشيخ এবং قرأة التلميذ উভয় ক্ষেত্রেই تحديث শব্দ ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ভিত্তিতে উভয়টির সমষ্টিই প্রমাণ হিসেবে ধর্তব্য হবে।
হাফিয ইবনে হাজার আসকালানী (র.) ভিন্নভাবে প্রমাণ করেছেন, তিনি বলেন মূলত ইমাম বুখারী (র.)-এর দৃষ্টি এ হাদীসের বিভিন্ন সূত্রের সমস্ত শব্দাবলীর প্রতিই ছিল। এখানে রাসূলে আকরাম (স.)-এর ইরশাদ حدثوني ماهي রয়েছে, আর কিতাবুত্তাফসীর (২/৬৮১) এবং কিতাবুল আদব (৯০৭ পৃ:)-এ হযরত নাফে’-এর সূত্রে আছে اخبروني ما هي; আর ইসমাঈলের সূত্রে আছে انبئوني ; তাছাড়া সাহাবায়ে কেরামের পক্ষ থেকেও কোনো রেওয়ায়েতে حدثنا ماهي-এর পরিবর্তে اخبرنا بها আছে। সুতরাং বুঝা গেল যে, তিনটি শব্দই সমান, একটির স্থলে অপরটি ব্যবহৃত হতে পারে।
হাদীসটির পুনরাবৃত্তি : এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (র.) কিতাবুল ইলমে ৪ স্থানে, ১৪, ১৪, ১৬, ২৪, ২৯৪, ৬৮১, ৮১৯, ৮১৯, ৯০৪ ও ৯০৭ সর্বমোট দশ স্থানে উলেখ করেছেন।
মুসলমানকে খেজুর গাছের সাথে উপমা প্রদানের কারণ: রাসূলুল্লাহ (স.)-এর উক্তি وانها مثل المسلم দ্বারা বুঝে আসে যে, তিনি মুসলমানদেরকে খেজুর সাথে উপমা দিয়েছেন। এর অনেকগুলি কারণ বর্ণনা করা হয়ে থাকে।
১. কারো কারো মতে যেমনিভাবে মানুষের মাথা কেটে ফেললে সে আর জীবিত থাকেনা, তেমনিভবে খেজুর গাছও মাথা কাটলে আর বাচেনা।
২. কারো কারো মতে খেজুর গাছও মানুষের ন্যায় পুরষ-মহিলা আছে। যা পরাগায়ন ব্যতীত ফলবান হয় না।
৩. কেউ বলেছেন খেজুর গাছ হলো মানুষের ফুফী। কেননা কোনো কোনো রেওয়ায়েতে আছে হযরত আদম (আ.)-এর বেঁচে থাকা মাটি থেকে খেজুর গাছ সৃষ্টি করা হয়েছে।
উপরিউক্ত সবগুলি কারণের একটিও সঠিক নয়। কারণ, প্রথম দুটি সকল প্রাণীর মধ্যে আর তৃতীয়টি অমুসলিমের মধ্যে পাওয়া যায়। এতে মুসলিমের বৈশিষ্ট্য নেই। আর তৃতীয় কারণটি সর্বাধিক বাজে মত। কারণ, এ হাদীস প্রমাণিত নয়। শুধুমাত্র নিম্নে বর্ণিত দুটি কারণ সঠিক বিবেচিত হতে পারে। তাহলো:
৪. খেজুর গাছের কোনো অঙ্গই বেকার নয়; তার কাঠ, পাতা, ডাল, কাণ্ড ইত্যাদি সবকিছুই মানুষের প্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। তেমনিভাবে একজন পরিপূর্ণ মুসলিমের প্রতিটি কাজ কল্যাণকর হয়ে থাকে। যার প্রমাণ হলো ইমাম বুখারী কর্তৃক বর্ণিত হাদীস, যা তিনি كتاب الاطعمة-য় রয়েছে: عن ابن عمر قال بينا نحن عند النبي صلي الله عليه وسلم اذ اتي بجمار فقال ان من الشجر لما بركته كبركة المسلم الخ
৫. যা অতিবাহিত হয়েছে যে, রাসূল (সা.) বলেছেন: لا تسقط لها انملة ولا تسقط لمؤمن دعوة (ارشاد القاري) যেমনিভাবে খেজুর গাছের পাতা ঝরে পড়ে নষ্ট হয়ে যায় না। তেমনিভাবে মুমিন ব্যক্তি দোয়া করলে তা কখনো বিফলে যায় না।
প্রশ্ন : এ গুণাবলী অন্য গাছের মধ্যেও পাওয়া যেতে পারে?
উত্তর : প্রথমত এ গুণাবলী অন্য গাছের মধ্যে নেই। দ্বিতীয়ত আরবের গাছের মধ্যে এ গুণাবলীর ধারক অধিক পরিমাণে খেজুর গাছই ছিল। তাই খেজুর গাছের কথা বলা হয়েছে।
قال عبد الله فوقع في نفسي انها النخلة فاستَحيَيْتُ : হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) বলেন, আমি বুঝতে পেরেছিলাম যে, সেটি হলো খেজুর গাছ, কিন্তু আমি যেহেতু ছিলাম সেই মজলিসের সর্বকণিষ্ট ব্যক্তি, সেখানে ছিলেন আবু বকর, উমর (রা.) প্রমুখের ন্যায় বড় বড় সাহাবায়ে কেরাম। তাই লজ্জায় আমি বলিনি। একথা শুনে তার পিতা হযরত উমর (রা.) বলেন, তুমি যদি বলে দিতে তাহলে তা আমার জন্য লাল উটের চেয়ে মূল্যবান হতো। হযরত উমর (রা.)-এর এ উক্তির কারণ হলো হুযুর (স.) এরকম ব্যক্তিদের জন্য দোয়া করে থাকেন।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা.)-এর জেহেনে যে খেজুর গাছের কথা এসেছিল এর জন্য নিদর্শনও রয়েছে। যেমন তখন রাসূল (স.)-এর নিকট খেজুর গাছের মজ্জা রাখা ছিল। যেমন কোনো কোনো রেওয়ায়েতে আছে, আবার কোনো রেওয়ায়েতে আছে তখন হুযুর (স.) এ আয়াতটি তিলাওয়াতও করেছিলেন:الم تر كيف ضرب الله مثلا كلمة طيبة كشجرة طيبة اصلها ثابت وفرعها في السماء অধিকাংশ মুফাসসিরীনের মত হলো شجرة طيبة দ্বারা খেজুর গাছ উদ্দেশ্য। এ আয়াত তিলাওয়াতের দ্বারা এখানে আরো একটি উপমার কারণ জানা গেল যে, যেমনিভাবে খেজুর গাছের গোড়া জমিনে প্রোথিত, আর ডালপালা আকাশের দিকে উত্থিত, তেমনিভাবে মুমিনের ইমান তার অন্তরে বদ্ধমূল, অর্থাৎ আন্তরিক বিশ্বাস যা ইমানের গোড়া। আর আমলগুলো ডাল-পালার পর্যায়ভুক্ত। এগুলো কবুলিয়াতের আকাশ পর্যন্ত পৌঁছে যায়।
কোন মন্তব্য নেই