অনুবাদ : হযরত ইবনে উমার (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সাঃ) বলেছেন, এমন একটি গাছ আছে যার পাতা ঝরে পড়ে না। সেটা হচ্ছে মুসলিমের দৃষ্টান্ত। তোমরা আমাকে বলতে পারো, সেটা কি? তখন সাহাবায়ে কেরাম বনের বৃক্ষ, তরুলতা নিয়ে চিন্তায় পড়লেন। আব্দুল্লাহ (রাঃ) বলেন, আমার মনে হলো সেটা খেজুর গাছ। কিন্তু আমি তা বলতে লজ্জাবোধ করছিলাম। পরিশেষে সাহাবায়ে কেরাম বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! আপনিই বলে দিন, সেটা কি গাছ। তিনি বললেন, সেটা খেজুর গাছ।
পূর্বের সাথে যোগসূত্র : পূর্বের বাবের সাথে এ বাবের সামঞ্জস্যতা স্পষ্ট। কারণ পূর্বের বাবে বৃক্ষসংক্রান্ত যে হাদীস ছিল, সেটি এ বাবেও একই সাহাবী থেকে বর্ণিত হয়েছে। শুধুমাত্র শিরোনাম ভিন্ন হওয়ার কারণে হাদীস পুনরুলেখ হয়েছে। তাছাড়া একটি অতিরিক্ত ফায়েদা এই হলো যে, এর দ্বারা ইমাম বুখারী (রা.)-এর মাশায়েখ এবং হাদীসটির বর্ণনাসূত্রের আধিক্য সম্পর্কে অহিতকরণ হয়ে গেল। এমনকি ইমাম বুখারী (র.) অনেক ক্ষেত্রে একই হাদীসকে বিভিন্ন শায়েখ থেকে বর্ণনা করেন। : উমদাতুল কারী
বাবের উদ্দেশ্য : এ তরজমাতুল বাব দ্বারা ইমাম বুখারী (র.)-এর উদ্দেশ্য কি? এ সম্পর্কে ওলামায়ে কেরামের বিভিন্ন উক্তি রয়েছে।
১. পূর্বে একটি পরিচ্ছেদে এটা বলা হয়েছিল যে, দীনের যে কোনো বিষয় বর্ণনার জন্য সনদ বর্ণনা করা আবশ্যক। এখন এ ঈরিচ্ছেদে এটা বলা হচ্ছে যে, যেমনিভাবে দীনের কথা বর্ণনার জন্য পূর্ণ সচেতনতা ও সাবধানতার প্রতি লক্ষ্য রাখা আবশ্যক, তেমনিভাবে শিক্ষার্থীদেরকেও সচেতন রাখার চেষ্টা করতে হবে। তার উত্তম পন্থা হলো তাদেরকে ক্লাশে মাঝে মাঝেই বিভিন্ন বিষয়ে প্রশ্ন করা। যেন তারা সর্বদা সচেতন থাকতে পারে।
২. সম্ভবত এদিকেও ইঙ্গিত করা উদ্দেশ্য হতে পারে যে, ছাত্রদেরকে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা যাচাই করে ভর্তি করা উচিত। যা মানসম্পন্ন মাদরাসাগুলোতে করা হয়ে থাকে। যদিও ইদানিং এতদসংক্রান্ত কিছুটা শৈথিল্য পরিদৃশ্য হচ্ছে, যা কোনোক্রমেই কাম্য নয়।
৩. আবু দাউদ শরীফে হযরত মুয়াবিয়া (রা.) থেকে একটি রেওয়ায়েত বর্ণিত হয়েছে:نهي رسول الله عن الاغلوطات (ابو داؤد كتاب العلم) যার দ্বারা পরীক্ষার নিষেধাজ্ঞার সংশয় সৃষ্টি হতে পারে। ইমাম বুখারী (র.) এ পরিচ্ছেদ গঠন করে এ সংশয় নিরসন করে এটা প্রমাণ করে দিয়েছেন যে, মেধা যাচাই ও সচেতনতা সৃষ্টির জন্য পরীক্ষা নেওয়া জায়েয আছে। এর দ্বারা শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়।
বাকি রইল হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর হাদীস। সুতরাং এর উদ্দেশ্য হলো,যদি পরীক্ষা দ্বারা উদ্দেশ্য হয় নিজের বড়ত্ব প্রকাশ করা, আর বিষয়কে পেচিয়ে বিভ্রান্তিকররূপে পেশ করা হয়, আলেম-ওলামা ও মুফতি সাহেবদের অবমাননা উদ্দেশ্য হয়, সেটি হযরত মুয়াবিয়া (রা.)-এর হাদীসের আলোকে নিষিদ্ধ। অন্যথায় শিক্ষার মানোন্নয়ন ও মেধা যাচাইয়ের জন্য ধাঁধা ইত্যাদি জিজ্ঞেস করা জায়েয হবে।
হাদীসের সামঞ্জস্য: হাদীসের অংশ ان من الشجر شجرة ..... الي قوله حدثوني ما هي؟ এখানে হুযুর (স.) সাহাবাদের মেধা যাচাইয়ের জন্য ধাঁধা জিজ্ঞেস করেছিলেন।
হাদীসের বিস্তারিত আলোচনা পূর্বোক্ত পরিচ্ছেদের হাদীসে দ্রষ্টব্য।
কোন মন্তব্য নেই