অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত মায়মুনা (রা.) বলেন, আমি আল্লাহর নবী (সা.)-এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তিনি ডান হাত দিয়ে বাম হাতে পানি ঢেলে উভয় হাত ধুয়ে ফেললেন। তারপর গোপনস্থান ধুলেন। তারপর হাতটি মাটিতে রগড়ারেন এবং ধুয়ে ফেললেন। তারপর কুলি করলেন ও নাকে পানি দিলেন। তারপর মুখমণ্ডল ধুলেন এবং মাথায় পানি ঢাললেন এবং সে স্থান থেকে সরে গিয়ে পা দু'টি ধুলেন। এরপর তাঁকে শরীর মোছার জন্য এক টুকরা কাপড় দেয়া হলো। কিন্তু তিনি তা ব্যবহার করলেন না।
বাবের উদ্দেশ্য: এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, জানাবাতের গোসলের মধ্যে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়া ফরজ। যেমনটি ইমাম আবু হানিফারও মাযহাব। কারণ, জানাবাতের গোসলের কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার হাদীস বর্ণনা করার জন্য তিনি পৃথক বাব কায়েম করেছেন। এর দ্বারা বুঝা যায় অজুর মধ্যে কুলি করা এবং নাকে পানি দেওয়ার যে বিধান গোসলের মধ্যে তার মতে এগুলোর সে বিধান নয়। অজুর মধ্যে তো এগুলো সুন্নত। কিন্তু গোসলের মধ্যে এগুলো ফরজ হবে।
ইমাম বুখারী বাহ্যত এখানে হানাফী ও হাম্বলীদের মতের সমর্থন করছেন। নতুবা কুলি করা ও নাকে পনি দেয়ার জন্য পৃথক পৃথক শিরোনাম কায়েম করতেন না।
হানাফীদের দলীল: আল্লামা আইনী বলেন: ولا شك ان النبي صلي الله عليه وسلم لم يتركهما فدل علي المواظبة وهي تدل علي الوجوب (عمدة) এতে কোনো সন্দেহ নেই যে, এ দুটিকে তিনি (জানাবাতের গোসলে) কখনও বজর্হন করেননি। আর বর্জন না করাটা নিয়মানুবর্তিতাকে বুঝায়। আর নিয়মানুর্তিতা দ্বারা ওয়াজিব হওয়া সাব্যস্ত হয়।
বাদায়ে’ সানায়ে’ গ্রন্থকার লিখেছেন অযুতে মুখ ধৌত করার কথা কুরআনে বর্ণিত আছে, যা দ্বারা উদ্দেশ্য হলো চেহারার বাহ্যিক অংশ, সুতরাং মুখ ও নাকের ভিতরের অংশ তার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত নয়। পক্ষান্তরে জানাবাতের গোসলের ক্ষেত্রে তাতে কুরআনে মুবালাগার সাথে শরীর পবিত্র করার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং যথাসম্ভব শরীরের জাহেরী ও বাতেনী সকল অঙ্গগুলি ধৌত করাও ফরয হবে। : ফতহুল মুলহিম
আল্লামা উসমানী (র.) লিখেছেন: শরীয়ত প্রবক্তা নবী করীম (সা.) কুরআন মাজিদ স্পর্শ করা তো পবিত্রতা ব্যতীত নিষিদ্ধ করেছেন, আর কুরআন তিলাওয়াত করা শুধুমাত্র জানাবাত অবস্থায় নিষেধ করেছেন, হদছ অবস্থায় নিষিদ্ধ করেননি। আবার এটাও বর্ণিত আছে যে, হুযুর (সা.)-কে কুরআন তিলাওয়াত থেকে জানাবাত ব্যতীত কোনো জিনিস বিরত রাখত না ।
এ বিস্তারিত বিবরণ দ্বারা জানাবাত ও হদছে আসগারের মাঝে পার্থক্য বুঝা গেল। যার কারণ হলো জানাবাত তথা হদছে আকবারটা শরীরের অভ্যন্তরেও সংক্রমিত হয়। সুতরাং গোসলে ঐ অংশেও পানি পৌঁছানো জরুরী যেখানে বিনা কষ্টে পানি পৌঁছতে পারে। তাই অযুর মধ্যে অযুর অঙ্গগুলির ভিতরের অংশ ধৌত করা জরুরী হবে না, তাই অযুতে কুলি করা ও নাকে পানি দেয়া ফরযের চেয়ে কম স্তরের, অর্থাৎ সুন্নত সাব্যস্ত করা হবে।
কোন মন্তব্য নেই