Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল গোসলঃ যে ব্যক্তি নির্জনে একাকী উলঙ্গ হয়ে গোসল করে

باب مَنِ اغْتَسَلَ عُرْيَانًا وَحْدَهُ فِي الْخَلْوَةِ، وَمَنْ تَسَتَّرَ فَالتَّسَتُّرُ أَفْضَلُ وَقَالَ بَهْزٌ عَنْ أَبِيهِ عَنْ جَدِّهِ عَنِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ اللَّهُ أَحَقُّ أَنْ يُسْتَحْيَا مِنْهُ مِنَ النَّاسِ

পরিচ্ছেদ : যে ব্যক্তি নির্জনে একাকী উলঙ্গ হয়ে গোসল করে, (তা জায়েয আছে) আর যে ব্যক্তি  কাপড় পরিধান করে গোসল করে তা উত্তম। বাহয তার পিতা হাকীম হতে, তিনি বাহজের দাদা মুআবিয়া হতে তিনি নবী করীম (সা.) হতে বর্ণনা করেন যে, আল্লাহ তা‘আলা এর অধিক উপযুক্ত যে, তাকে মানুষের তুলনায় অধিক লজ্জা করা হবে।

وقال بهز الخ : এ হাদীসটি ইমাম বুখারী তা’লীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এটি দীর্ঘ একটি হাদীসের অংশবিশেষ, যা আবু দাউদ ছানী ৫৫৭, তিরমিযী ছানী ১০১ ও ইবনে মাজাহ ১৩৯ পৃষ্ঠায় অবিচ্ছিন্ন সনদে বর্ণিত হয়েছে। হাদীসটি আল্লামা আইনী ও ইবনে হাজার আসকালানী নিজ নিজ কিতাবে এভাবে বর্ণনা করেছেন:

بهز بن حكيم عن ابيه عن جده قال: قلت يا نبي الله عوراتنا ما نأتي منها و ما نذر؟ قال: احفظ عورتك الا من زوجتك أو ما ملكت يمينك قلت : يا رسول الله أحدنا اذا كان خاليا؟ قال : الله  أحق أن يستحي منه من الناس

হাকীম বিন বাহাযের দাদা মু‘আবিয়া বিন হীদা (রা.) বর্ণনা করেন যে, আমি আরজ করলাম ইয়া রাসূলাল্লাহ“ আমরা আমাদের লজ্জাস্থান কার থেকে গোপন রাখব, আর কার থেকে গোপন রাখব না? জবাবে নবী করীম (সা.) ইরশাদ করলেন, তোমরা তোমাদের লজ্জাস্থান স্ত্রী এবং দাসী ব্যতীত অন্য সবার থেকে গোপান রাখ। আমি বললাম ইয়া রাসূলাল্লাহ! যখন আমাদের কেউ নির্জনে একাকী থাকে তখন? তিনি বললেন আল্লাহ তা‘আলা এর অধিক উপযুক্ত যে, তাকে মানুষের তুলনায় অধিক লজ্জা করা হবে।  অর্থাৎ নির্জনেও সতর না খোলা উচিত।

প্রশ্ন : আল্লাহ তা‘আলা যদি অধিকতর হকদার হয়ে থাকেন তাহলে তো خلوة তথা নির্জনে অধিক সতর হওয়া উচিত। অথচ جلوة তথা জনসম্মুখে সতর করা ফরজ আর নির্জনে মুস্তাহাব।

উত্তর: جلوة বা জনসম্মুখে তো আল্লাহ এবং মানুষ উভয়ের সামনে থাকতে হয়, তাই এখানে গুরুত্ব অধিক। পক্ষান্তরে, خلوة বা নির্জনে শুধু আল্লাহর সামনে। তাই সেখানে গুরুত্ব কম। 


حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ نَصْرٍ، قَالَ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّزَّاقِ، عَنْ مَعْمَرٍ، عَنْ هَمَّامِ بْنِ مُنَبِّهٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ "‏ كَانَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ يَغْتَسِلُونَ عُرَاةً، يَنْظُرُ بَعْضُهُمْ إِلَى بَعْضٍ، وَكَانَ مُوسَى يَغْتَسِلُ وَحْدَهُ، فَقَالُوا وَاللَّهِ مَا يَمْنَعُ مُوسَى أَنْ يَغْتَسِلَ مَعَنَا إِلاَّ أَنَّهُ آدَرُ، فَذَهَبَ مَرَّةً يَغْتَسِلُ، فَوَضَعَ ثَوْبَهُ عَلَى حَجَرٍ، فَفَرَّ الْحَجَرُ بِثَوْبِهِ، فَخَرَجَ مُوسَى فِي إِثْرِهِ يَقُولُ ثَوْبِي يَا حَجَرُ‏.‏ حَتَّى نَظَرَتْ بَنُو إِسْرَائِيلَ إِلَى مُوسَى، فَقَالُوا وَاللَّهِ مَا بِمُوسَى مِنْ بَأْسٍ‏.‏ وَأَخَذَ ثَوْبَهُ، فَطَفِقَ بِالْحَجَرِ ضَرْبًا ‏"‏‏.‏ فَقَالَ أَبُو هُرَيْرَةَ وَاللَّهِ إِنَّهُ لَنَدَبٌ بِالْحَجَرِ سِتَّةٌ أَوْ سَبْعَةٌ ضَرْبًا بِالْحَجَرِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, বনী ইসরাইল উলঙ্গ হয়ে গোসল করতো এবং একে অপরকে দেখতো। কিন্তু মূসা একা গোসল করতেন, এ কারণে তারা বলতো, আল্লাহর শপথ! অন্ডকোষ বৃদ্ধির রোগ থাকার কারণে মূসা আমাদের সাথে গোসল করে না। একবার মূসা পাথরের উপর কাপড় রেখে গোসল করতে লাগলেন। এমন সময় পাথর কাপড়টি নিয়ে পালিয়ে গেল। তিনি পাথরের পিছনে পিছনে, পাথর আমার কাপড় দাও, পাথর আমার কাপড় দাও' বলে দৌড়াতে লাগলেন। ফলে বনী ইসরাইল তাঁকে দেখে ফেললো। তারা বললো আল্লাহর শপথ! মূসার দেহে কোনো ত্র“টি নেই। তিনি নিজের কাপড় নেয়ার পর পাথরে আঘাত করতে লাগলেন। আবু হুরাইরা বলেন, আল্লাহর শপথ! সেই পাথরটিতে এখনও ছয়-সাতটি আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য وَكَانَ مُوسَى يَغْتَسِلُ وَحْدَهُ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৪২ ও ৪৮৩ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

وَعَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ بَيْنَا أَيُّوبُ يَغْتَسِلُ عُرْيَانًا فَخَرَّ عَلَيْهِ جَرَادٌ مِنْ ذَهَبٍ، فَجَعَلَ أَيُّوبُ يَحْتَثِي فِي ثَوْبِهِ، فَنَادَاهُ رَبُّهُ يَا أَيُّوبُ، أَلَمْ أَكُنْ أَغْنَيْتُكَ عَمَّا تَرَى قَالَ بَلَى وَعِزَّتِكَ وَلَكِنْ لاَ غِنَى بِي عَنْ بَرَكَتِكَ ‏"‏‏.‏ وَرَوَاهُ إِبْرَاهِيمُ عَنْ مُوسَى بْنِ عُقْبَةَ عَنْ صَفْوَانَ عَنْ عَطَاءِ بْنِ يَسَارٍ عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏"‏ بَيْنَا أَيُّوبُ يَغْتَسِلُ عُرْيَانًا ‏"‏‏.‏

 আবু হুরাইরা বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, একবার আইয়ূব (আ.) উলঙ্গ হয়ে গোসল করছিলেন। এমন সময় তাঁর ওপর সোনার পঙ্গপাল পড়তে লাগলো। তিনি সেগুলো কাপড়ে ভরতে লাগলেন। এমন সময় আল্লাহ তাঁকে ডেকে বললেন, হে আইয়ূব! আমি কি তোমাকে এসব থেকে অমুখাপেক্ষী করিনি? জবাবে তিনি বললেন, হে রব! নিশ্চয়ই তুমি আমাকে এসব থেকে অমুখাপেক্ষী করেছো। কিন্তু আমি তোমার বরকত থেকে অমুখাপেক্ষী নই।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য بَيْنَا أَيُّوبُ يَغْتَسِلُ عُرْيَانًا -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৪২, ৪৮০, ১১১৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

বারেব উদ্দেশ্য: শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) বলেন, এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা বর্ণনা করা যে, নির্জনে উলঙ্গ হয়ে গোসল করার বৈধতা প্রমাণ করা; তবে নির্জনেও সতর ঢেকে গোসল করা উত্তম। 

ব্যাখ্যা:

وعن ابي هريرةالخ : এটি প্রথম সনদের উপর আত্ফ হয়েছে।

শব্দ-বিশ্লেষণ:

آدَرُ  : শব্দটি সিফাতের সীগাহ। অর্থ বড় অণ্ডকোষবিশিষ্ট। বাবে سمع يسمع  হতে; অর্থ বড় অণ্ডকোষবিশিষ্ট হওয়া।

ندب : ক্ষতের চি‎হ্ন। বাবে سمع অর্থ ক্ষতে দাগ হওয়া।

ثَوْبِي يَا حَجَرُ  : শব্দটি মূলত হবে اعطني ثوبي অর্থাৎ ফি’ল উহ্য আছে।

বিবস্ত্র হয়ে গোসল করার বৈধতার প্রমাণ: কেউ কেউ বিবস্ত্র হয়ে গোসল করাকে অবৈধ বলেন। ইমাম বুখারী তাদের মত খণ্ডন করার জন্য দু’টি হাদীস উল্লেখ করেছেন।

প্রথম হাদীসে হযরত মূসা (আ.)-এর আমল উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি বিবস্ত্র হয়ে গোসল করতেন। তাই প্রমাণিত হল যে, বিবস্ত্র হয়ে গোসল জায়েয আছে; নচেৎ মূসা (আ.) এমন করতেন না।

দ্বিতীয় হাদীস দ্বারা হযরত আইয়ুব (আ.)-এর বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা প্রমাণিত।

এ উভয় হাদীস দ্বারা প্রমাণ হলো যে, নির্জনে যেখানে কেউ নেই; কিংবা বদ্ধ গোসলখানায় বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা জায়েয। কারণ, উসূলে ফিকহর মূলনীতি হলো:

شرائع من قبلنا شرائع لنا اذا قص الله ورسوله من غير انكار

আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল (সা.) যদি পূর্বেকার শরিয়ত অপছন্দ করা ব্যতীত উল্লেখ করেন তাহলে তা আমাদের জন্যও শরিয়ত। যেহেতু নবী করীম (সা.) এ আমল উল্লেখ করেছেন কিন্তু তা অস্বীকার বা অপছন্দ করেননি তাই তা আমাদের শরিয়তেও ধর্তব্য হবে। যদি আমাদের শরিয়তে হুকুম ভিন্ন হত তাহলে আল্লাহর রাসূল (সা.) অবশ্যই এ বিষয়ে সতর্ক করতেন। তদুপরি পবিত্র কুরআনে আছে:

اولئك الذين هداهم الله فبهداهم اقتده

এদেরকে আল্লাহ তা‘আলা হিদায়াপ্রাপ্ত করেছেন; আপনি তাদের অনুসরণ করুন। আর এখানে আল্লাহর রাসূল (সা.) দু’জন রাসূলের আমল উল্লেখ করেছেন এবং তা অপছন্দ করেননি। তাই তা অনুসরণযোগ্য এবং জায়েয।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.