অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, একজন বেদুইন মসজিদে দাঁড়িয়ে প্রস্রাব করায় লোকজন তাকে ধমক দিয়ে উঠলো। তখন আল্লাহর নবী (সা.) লোকজনকে বললেন, ওকে ছেড়ে দাও এবং ওর প্রশাবের উপর এক বালতি বা এক টিন পানি ঢেলে দাও। কারণ আল্লাহ তোমাদেরকে মানুষের সাথে কোমল ব্যবহার করার জন্য সৃষ্টি করেছেন, কঠোর ব্যবহারের জন্য নয়।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য وَهَرِيقُوا عَلَى بَوْلِهِ-এর সাথে।
حَدَّثَنَا عَبْدَانُ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنَا يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، عَنِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلمبهذا
ح وحَدَّثَنَا خَالِدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا سُلَيْمَانُ، عَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَنَسَ بْنَ مَالِكٍ، قَالَ جَاءَ أَعْرَابِيٌّ فَبَالَ فِي طَائِفَةِ الْمَسْجِدِ، فَزَجَرَهُ النَّاسُ، فَنَهَاهُمُ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم، فَلَمَّا قَضَى بَوْلَهُ أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِذَنُوبٍ مِنْ مَاءٍ، فَأُهْرِيقَ عَلَيْهِ.
অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, একজন বেদুইন এসে মসজিদের এক প্রান্তে প্রস্রাব করায় লোকজন তাকে ধমক দিল। কিন্তু আল্লাহর নবী (সা.) তাদেরকে নিষেধ করলেন এবং যখন সে প্রস্রাব শেষ করলো, তখন আল্লাহর নবী (সা.) লোকজনকে তার প্রস্রাবের ওপর এক বালতি পানি ঢেলে দেবার আদেশ দিলেন। তা অনুসারে পানি ঢেলে দেয়া হলো।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য أَمَرَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم بِذَنُوبٍ مِنْ مَاءٍ، فَأُهْرِيقَ عَلَيْهِ-এর সাথে।
فَزَجَرَهُ النَّاسُ : এ হাদীসে আছে فجزره الناس এর পূর্বের হাদীসে রয়েছে فتناوله الناس এবং মুসলিম শরীফের রেওয়ায়েতে আছে فصاح به الناس এ সব শব্দের উদ্দেশ্য হলো সাহাবায়ে কেরাম মৌখিকভাবেই কিছু একটা বলেছেন। এতদ্ভিন্ন কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি তারা সাথে করেননি।
এ সকল হাদীস দ্বারা এটা স্পষ্ট ভাবেই বুঝে আসে যে, নাপাকী হতে বেঁচে থাকার মনোভাব সাহাবায়ে কেরামের অন্তরে পূর্ব হতেই বদ্ধমূল ছিল। এ কারণেই নবী করীম (সা.)-এর উপস্থিতিতে তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকেই গ্রাম্য লোকটিকে বাধাপ্রদান করেছেন। অধিকন্তু এর দ্বারা এটাও বুঝা গেল যে, সৎ কাজের আদেশের পাশাপাশি অসৎ কাজ হতে বাধাপ্রদান করা শরীয়ত ও ইসলামের এক গুরুত্বপূর্ণ দাবী।
নবী করীম (সা.)-এর মমতাময়ী উপদেশ: নবী করীম (সা.)-এর শিক্ষার ধরণ এবং দরদমাখা উপদেশ দ্বারা এটা জানা গেল যে, অজ্ঞ ব্যক্তিকে উপদেশ দেওয়ার ক্ষেত্রে নম্রতা অবলম্বন করা উচিত। কঠোরতা এবং ক্রোধপ্রদর্শন না করে তাকে প্রয়োজনীয় শিক্ষা দেওয়া কর্তব্য, যেমনটা নবী করীম (সা.) এ নব-মুসলিম গ্রাম্য লোকটির সাথে করেছেন। পবিত্র কুরআনে কারীমেও এ নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে: ادع الي سبيل ربك بالحكمة والموعظة الحسنة
জমিন পাক করার পদ্ধতি সম্পর্কে ইমামগণের মতামত:
ইমাম আবু হানিফা (র.)-এর মতে জমিন পবিত্র করার তিনটি পদ্ধতি রয়েছে।
জমিনের যে অংশে নাপাক লেগেছে তা যদি নরম হয় তাহলে তার উপর পানি ঢেলে দিতে হবে, তাহলে তা নিচের দিকে নেমে যাবে। আর জমিনের উপর অংশে যদি কোনো নাপাকীর চিহ্ন না থাকে তাহলে জমিনের উপরের অংশ পাক হয়ে যাবে। প্রবাহিত পানি জমিনের নিচের দিকে চলে যাওয়া কাপড় নিংড়ানোর পর্যায়ের ধর্তব্য হবে। যেমনি নাপাক কাপড় পাক করার সময় নিংড়ানো জরুরী তেমনিভাবে এখানে পানি নিচে চলে যাওয়া কাপড় নিংড়ানোর স্থলাভিষিক্ত।
জমিন যদি শক্ত হয় তবে তা হয়ত ঢালু হবে অথবা সমতল হবে। জমিন যদি ঢালু হয় তাহলে নিম্নদিকে একটি গর্ত খনন করা হবে। আর ঐ নাপাকির উপর তিনবার পানি প্রবাহিত করা হবে। তারপর গর্তটিকে মাটি দিয়ে ভরাট করা হবে। (যেন সে স্থানও পাক হয়ে যায়।)
আর যদি জমিন সমতল হয় তাহলে পানি ঢালা দ্বারা জমিন পাক হবে না। সে নাপাক জায়গার মাটি খনন করে ফেলে দিতে হবে। আর নাপাকীর আর্দ্রতা মাটির যতটুকু নিচ পর্যন্ত গিয়েছে ততটুকু পরিমাণ খনন করতে হবে।
ইমামত্রয়-এর মতে প্রত্যেক প্রকার জমিন পানি প্রবাহিত করা দ্বারা পবিত্র হয়ে যায়। তাদের মতে জমিন খনন করার প্রয়োজন নেই। আবার তাদের মতে মাটি শুকানো দ্বারা জমিন পাক হয় না। তারা এ বাবের হাদীস দ্বারা দলীল পেশ করেন।
হানাফীদের দলীল: এ গ্রাম্য লোকটির ঘটনার বর্ণনায় আবু দাউদ শরীফের একটি রেওয়ায়েত রয়েছে: خذوا ما بال عليه من التراب فالقوه দেখুন! এখানে স্পষ্ট রয়েছে যে, নবী করীম (সা.) প্রস্রাবের স্থানের মাটি খনন করে ফেলে দিতে এবং এদিক সেদিক পানি প্রবাহিত করে দাও। তারপর ইমাম আবু দাউদ (র.) باب طهور الارض اذا يبست শিরোনামে একটি পৃথক বাব গঠন করেছেন, এবং তাতে ইবনে ওমর (রা.) বর্ণিত হাদীস উলেখ করেছেন। যাতে রয়েছে: كانت الكلاب تبول و تدبر في المسجد فلم يكونوا يرشون شيئا
ইমাম বায়হাকী (র.) এ হাদীসটি তার কিতাব ‘সুনানুল কুবরা’য় কিতাবুসসালাতের অধীনে উলেখ করেছেন। তাছাড়াও মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বায় আবু জাফর মুহাম্মদ বিন আলী আলবাকেরের আছর বর্ণিত হয়েছে: قال زكوة الارض يبسها ; অধিকন্তু মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বায় মুহাম্মদ ইবনুল হানাফিয়া এবং আবু কালাবার আছরও রয়েছে:اذا جفت الارض فقد زكت তাছাড়া আবু কালাবার আরেকটি আছর মুসান্নাফে আব্দুর রযযাকে রয়েছে:جفوف الارض طهورها এ আছারগুলো কিয়াসের পরিপন্থি হওয়ায় মারফু’ হাদীসের হুকুমে হবে।
বাবের হাদীসের উত্তর: পবিত্র অর্জনের বিভিন্ন পদ্ধতির মধ্য হতে এটি একটি পদ্ধতি, যা হানাফিদের নিকটও স্বীকৃত। কাজেই বাবের হাদীস হানাফীদের পরিপন্থি নয়। আর হানাফীরা স্ব-স্ব স্থানে সকল রেওয়ায়েত অনুযায়ী আমল করে। পক্ষান্তরে শাফেয়ীগণ এবং অন্যান্যরা জমিন পবিত্র করা পানি প্রবাহিত করে দেওয়ার মধ্যে সীমিত করে দিয়েছেন। সুতরাং তারা যেন কতকের উপর আমল করলেন এবং কতক ছেড়ে দিলেন।
বিস্ময়ের ব্যাপার হলো, এরপরও তারা নিজেদেরকে আহলে হাদীস দাবী করেন এবং হানাফীদেরকে আহলে রায় বলে আখ্যায়িত করেন। যা কিনা সম্পূর্ণরূপে ইনসাফের পরিপন্থি।
কোন মন্তব্য নেই