Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল অযুঃ মসজিদের ভিতরে প্রস্রাব


باب تَرْكِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالنَّاسِ الأَعْرَابِيَّ حَتَّى فَرَغَ مِنْ بَوْلِهِ فِي الْمَسْجِدِ

পরিচ্ছেদ: এক গ্রাম্য লোক মসজিদের ভিতরে প্রস্রাব করতে শুরু করলে নবী করীম (সা.) ও সাহাবায়ে কেরাম তাকে প্রস্রাব সমাপ্ত করতে সুযোগ দিয়েছিলেন, এমনকি সেই লোকটি প্রস্রাব করা সমাপ্ত করেছিল।

পূর্বের সাথে যোগসূত্র : উভয় বাবের মাঝে যোগসূত্র স্পষ্ট। তা হলো পূর্বের বাব হলো প্রস্রাব ধৌত করা সম্পর্কে, আর এ বাবেও প্রস্রাব ধৌত করা সম্পর্কে।

حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، قَالَ حَدَّثَنَا هَمَّامٌ، أَخْبَرَنَا إِسْحَاقُ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم رَأَى أَعْرَابِيًّا يَبُولُ فِي الْمَسْجِدِ فَقَالَ ‏ "‏ دَعُوهُ ‏"‏‏.‏ حَتَّى إِذَا فَرَغَ دَعَا بِمَاءٍ فَصَبَّهُ عَلَيْهِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আনাস (রা.) বলেন, নবী (সা.) একজন বেদুইনকে মসজিদে প্রস্রাব করা অবস্থায় দেখে বললেন, তাকে প্রস্রাব শেষ করা পর্যন্ত ছেড়ে দাও। তারপর তিনি পনি আনিয়ে প্রশাবের ওপর ছিটিয়ে দিলেন।

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য يَبُولُ فِي الْمَسْجِدِ -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৩৫, ৩৫, ৮৯০ পৃষ্ঠায়, এবং মুসলিম ১৩৮, নাসাঈ ৯, ৩৭, আবু দাউদ ৫৪ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

বাবের উদ্দেশ্য: এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো একটি জটিল প্রশ্নের উত্তর দেওয়া।

প্রশ্ন: পূর্বের বাবগুলোতে বর্ণিত হয়েছে যে, প্রস্রাবের বিষয়টি খুবই কঠিন এবং গুরুত্বপূর্ণ। এর নাপাকী হতে পবিত্র হতে ধৌত করা ভিন্ন কোনো উপায় নেই। অধিকন্তু প্রস্রাব হতে অসতর্ক থাকলে কবরে শাস্তির আশঙ্কা রয়েছে। এ গুরুত্ব এবং কঠোরতার চাহিদা ছিল পবিত্র স্থান মসজিদে প্রস্রাবকারী গ্রাম্য লোকটিকে কঠোরভাবে বাধা প্রদান করা। কিন্তু এখানে ঘটেছে তার উল্টোটা।

উত্তর: এ প্রশ্নের জবাবে ইমাম বখারী (র.) বলতে চাচ্ছেন যে, কখনো কিছু বড় ধরনের খারাবী ও অনিষ্টতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য  তদপেক্ষা ক্ষুদ্র অন্য খারাবীকে অবলম্বন করা হয়। মূলত তিনি এ প্রশ্নের নিরসনের জন্য একটি মূলনীতির সাহায্য গ্রহণ করেছেন। সেটি হলো: اذا ابتلي الانسان ببليَّتين فليخترْ أهوَنهما ‘যখন মানুষ একই সাথে দুটি বিপদের সম্মুখীন হয় তখন সে যেন সেই দুটির মধ্য হতে সহজটা অবলম্বন করে।’ কারণ, এটিই বিবেকের চাহিদা। দেখুন! এখানে দুটি সমস্যা। এক. মসজিদ নাপাক হওয়া। দুই. (প্রস্রাব আটকে রাখার দরুন) গ্রাম্য ব্যক্তির জীবনের আশঙ্কা বা জটিল রোগের সম্ভাবনা। মসজিদ তো ইতোমধ্যে অপবিত্র হয়ে গেছে। কারণ, গ্রাম্য লোকটি প্রস্রাব করা আরম্ভ করে দিয়েছে। মসজিদের মাঝখানে নয়; বরং এক প্রান্তে। যেমন পরবর্তী হাদীসে রয়েছে فبال في طائفة المسجد এবং আবু দাউদ শরীফে স্পষ্ট রয়েছে: لم يلبث ان بال في ناحية المسجد ‘সে গ্রাম্য লোকটি মসজিদে এসেই মসজিদের এক প্রান্তে প্রস্রাব করতে লাগল।’ সুতরাং মসজিদের যতটুকু অপবিত্র হওয়ার তা তো হয়েই গেছে। তা পরিষ্কার ও পবিত্র করাও কঠিক কোনো কাজ নয়। কিন্তু যদি তাকে কঠোরভাবে বাধা প্রদান করা হত তাহলে দুটি খারাবীর সম্ভাবনা ছিল। এক. হয়ত সে ভীত-সন্ত্রস্ত হয়ে দিকবিদিক ছুটোছুটি করে দিত, যার ফলে তার দেহ এবং কাপড় তো অপবিত্র হতোই, পাশাপাশি সারা মসজিদেও তা ছড়িয়ে পড়ত। দুই. প্রস্রাব করার মাঝে প্রস্রাব আটকে দিলে তা জটিল রোগের কারণ হত। তাই হালকা মসিবত মেনে নিয়ে বললেন: دعوه তোমরা তাকে ছেড়ে দাও। অতঃপর তার প্রস্রাব করা শেষ হলে নবীজী (স া.) সাহাবাদেরকে মসজিদের নাপাক স্থান পাক করার পদ্ধতি বলে দিলেন। এবং সেই গ্রাম্য লোকটিকে ডেকে নরম সুরে বলে দিলেন, দেখ! মসজিদ হলো  নামায, কুরআন তিলাওয়াত এবং আল্লাহর যিকিরের স্থান।

মোটকথা, ইমাম বুখারী এ ব্যাপারে সতর্ক করে দিলেন যে, হাদীস দ্বারা জানা গেল যে, কোনো খারাবীকে প্রতিহত করার জন্য খুবই বিচক্ষণতা ও বিবেক-বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করা উচিত।

اعرابي- কাকে বলে? اعرابي শব্দটি একবচন, এর বহুবচন হলো اعراب; গ্রাম ও বনে-জঙ্গলে বসবাসকারীদেরকে اعراب বলা হয়, তারা আরবের অধিবাসী হোক বা অনারব হোক। পক্ষান্তরে عربي বলা হয় عرب-এর অধিবাসীদেরকে।

মসজিদে প্রস্রাবকারী গ্রাম্য লোকটি কে? এ সম্পর্কে ওলামায়ে মুহাদ্দিসীনের বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। ১. যুল খুওয়াইসারা ইয়েমেনী। ২. আকরা’ বিন হাবিস তামীমী। ৩. উয়াইনা বিন হাসান। শেষ উক্তিটি প্রাধান্য।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.