পরিচ্ছেদ : মযী বা শুক্ররস ধোয়া ও উহার কারণে অজু করা প্রসঙ্গে
حَدَّثَنَا أَبُو الْوَلِيدِ، قَالَ حَدَّثَنَا زَائِدَةُ، عَنْ أَبِي حَصِينٍ، عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ، عَنْ عَلِيٍّ، قَالَ كُنْتُ رَجُلاً مَذَّاءً فَأَمَرْتُ رَجُلاً أَنْ يَسْأَلَ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم لِمَكَانِ ابْنَتِهِ فَسَأَلَ فَقَالَ " تَوَضَّأْ وَاغْسِلْ ذَكَرَكَ ".
অনুবাদ: হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (রা.) বলেন, আমার খুব শুক্রপাত হতো। আমি একজনকে এ বিষয়ে আল্লাহর রাসূল (সা.)-কে প্রশ্ন করতে অনুরোধ করি। কেননা তাঁর কন্যা ফাতিমা আমার অধীনে ছিল। সে প্রশ্ন করলো। তিনি বললেন, অজু করবে এবং যৌনাঙ্গ ধুয়ে ফেলবে।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য স্পষ্ট।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ২৪-২৫, ৩০ ও ৪১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
পূর্বের সাথে যোগসূত্র: উভয় বাবের মধ্যে সামঞ্জস্য হলো এভাবে যে, পূর্বের বাবে مني বা বীর্যের হুকুম বর্ণনা করা হয়েছিল, আর এ বাবে مذي-র হুকুম বর্ণনা করা হচ্ছে। আর মযী হলো মনীর অনুবর্তী বস্তু এবং তারই মত নাপাক। পার্থক্য শুধু এতটুকু যে, মনীর ক্ষেত্রে গোসল ফরজ হয়, আর মযীর ক্ষেত্রে অজু ফরজ হয়।
বাবের উদ্দেশ্য: এ বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো তিনটি মাসআলার দিকে ইঙ্গিত করা:
১. মযী নাপাক। তাই তা ধৌত করা জরুরী। একথা বুঝানোর জন্য غسل المذي শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
২. ঐ সমস্ত লোকদের মত খণ্ডন করা যারা মযী নির্গত হলে পানির ছিটা দেওয়াই যথেষ্ট মনে করেন।
৩. মযী বের হওয়া দ্বারা শুধুমাত্র অজু ভঙ্গ হয়; গোসল ফরজ হয় না। তিনি والوضوء منه বলে সেদিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
৪. হযরত শাহ ওয়ালিউল্লাহ (র.) বলেন এ বাবের উদ্দেশ্য এও হতে পারে যে, ইস্তিঞ্জার জন্য পাথর ব্যবহার শুধুমাত্র সে ক্ষেত্রেই যথেষ্ট হবে যে সমস্ত নাপাকি নিয়মিত তথা মল-মূত্র দ্বার হতে বের হয় অর্থাৎ প্রস্রাব-পায়খানা। আর এর ব্যতিক্রমগুলোতে পানি ব্যবহার করা এবং ধৌত করা আবশ্যক।
বিস্তারিত বিবরণের জন্য দেখুন নাসরুল বারী প্রথম খণ্ড, পৃ. ৫৩৫ হাদীস নং ১৩২; তেমনিভাবে দ্বিতীয় খণ্ডের হাদীস নং ১৭৬
কোন মন্তব্য নেই