Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ আসরের সময়ের বর্ণনা

 باب وَقْتِ الْعَصْرِ

 
পরিচ্ছেদ: আসরের সময়ের বর্ণনা

 
حَدَّثَنَا إِبْرَاهِيمُ بْنُ الْمُنْذِرِ، قَالَ حَدَّثَنَا أَنَسُ بْنُ عِيَاضٍ، عَنْ هِشَامٍ، عَنْ أَبِيهِ، أَنَّ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ لَمْ تَخْرُجْ مِنْ حُجْرَتِهَا‏.‏ وَقَالَ أَبُو أُسَامَةَ عَنْ هِشَامٍ مِنْ قَعْرِ حُجْرَتِهَا‏.‏

 
অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বর্ণনা করেন, আল্লাহর নবী (সা.) যখন আসরের নামাজ আদায় করতেন সূর্য কিরণ তখনও তার কামরার মধ্যে থাকত।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য  يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ لَمْ تَخْرُجْ مِنْ حُجْرَتِهَا -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৫, ৭৭, ৭৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، قَالَ حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلَّى الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا، لَمْ يَظْهَرِ الْفَىْءُ مِنْ حُجْرَتِهَا‏.‏
অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) এমন সময় আসরের নামাজ আদায় করতেন যে সূর্যরশ্মি তার ঘরে থাকতো এবং তখনও ঘরের মধ্যে ছায়া দেখা যেতো না।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য صَلَّى الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ فِي حُجْرَتِهَا، لَمْ يَظْهَرِ الْفَىْءُ مِنْ حُجْرَتِهَا‏.‏  -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৭-৭৮, ৭৮, ৪৩৭ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا أَبُو نُعَيْمٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا ابْنُ عُيَيْنَةَ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، عَنْ عُرْوَةَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي صَلاَةَ الْعَصْرِ وَالشَّمْسُ طَالِعَةٌ فِي حُجْرَتِي لَمْ يَظْهَرِ الْفَىْءُ بَعْدُ‏.‏ وَقَالَ مَالِكٌ وَيَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ وَشُعَيْبٌ وَابْنُ أَبِي حَفْصَةَ وَالشَّمْسُ قَبْلَ أَنْ تَظْهَرَ‏.‏
অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) আসরের নামাজ এমন সময় আদায় করতেন যে, তখন আমার কামরার মধ্যে সূর্যের আলো থাকতো এবং ঘরের মধ্যে ছায়া পড়তো না।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য يُصَلِّي صَلاَةَ الْعَصْرِ وَالشَّمْسُ طَالِعَةٌ فِي حُجْرَتِي لَمْ يَظْهَرِ الْفَىْءُ بَعْدُ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৫, ৭৭, ৭৮  পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ مُقَاتِلٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَوْفٌ، عَنْ سَيَّارِ بْنِ سَلاَمَةَ، قَالَ دَخَلْتُ أَنَا وَأَبِي، عَلَى أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ، فَقَالَ لَهُ أَبِي كَيْفَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ فَقَالَ كَانَ يُصَلِّي الْهَجِيرَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الأُولَى حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي الْعَصْرَ، ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ ـ وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي الْمَغْرِبِ ـ وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ الْعِشَاءَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الْعَتَمَةَ، وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا، وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ الرَّجُلُ جَلِيسَهُ، وَيَقْرَأُ بِالسِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ‏.‏
অনুবাদ: হযরত সাইয়্যার ইবনে সালামাহ (রা.) বলেন, আমি এবং আমার পিতা আবু বারযা আসমামীর কাছে গেলাম। আমার পিতা তাঁর কাছে জানতে চাইলেন, রাসূল (সা.) কিভাবে কখন ফরয নামাজসমূহ আদায় করতেন? জবাবে তিনি বললেন, নবী (সা.) যুহরের নামাজ যাকে তোমরা আল-উলা বলে থাকো ঠিক সেই সময় আদায় করতেন, যখন সূর্য মাথার ওপর থেকে ঢলে পড়তো। আসরের নামাজ এমন সময় আদায় করতেন যে, আমাদের কেউ ইচ্ছা করলে মদিনার প্রান্তভাগে তার বাসস্থানে যেয়ে সূর্যের তেজ থাকতে থাকতে আবার ফিরে আসতে পারতেন। সাইয়্যার বলেন, মাগরিব সম্পর্কে আবু বারযাহ কি বলেছিলেন, আমি তা ভুলে গিয়েছি, ইশার নামাজ-যাকে তোমরা আতামাহ বলো- আদায়ে বিলম্বকে তিনি উত্তম বলে মনে করতেন। এর আগে নিদ্রা যাওয়া বা পরে কথাবার্তা বলা অপছন্দ করতেন। আর ফজরের নামাজ আদায় করে যখন ফিরতেন তখন মানুষ তার পাশের জনকে চিনতে পারতো। তিনি ফজরের নামাজে ষাট থেকে একশ' আয়াত পর্যন্ত পাঠ করতেন।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য ، وَيُصَلِّي الْعَصْرَ، ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى رَحْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ  -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৭, ৭৮, ৮০, ৮৪, ১০৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي طَلْحَةَ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَخْرُجُ الإِنْسَانُ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ فَنَجِدُهُمْ يُصَلُّونَ الْعَصْرَ‏.‏
অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমরা আসরের নামাজ আদায় করার পর লোকজন বনী আমর ইবনে ‘মাওফ গোত্রের এলাকা পর্যন্ত পৌঁছেও দেখতো তারা আসরের নামায় আদায় করছে।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَخْرُجُ الإِنْسَانُ إِلَى بَنِي عَمْرِو بْنِ عَوْفٍ  -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৮, ১০৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا ابْنُ مُقَاتِلٍ، قَالَ أَخْبَرَنَا عَبْدُ اللَّهِ، قَالَ أَخْبَرَنَا أَبُو بَكْرِ بْنُ عُثْمَانَ بْنِ سَهْلِ بْنِ حُنَيْفٍ، قَالَ سَمِعْتُ أَبَا أُمَامَةَ، يَقُولُ صَلَّيْنَا مَعَ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ الظُّهْرَ، ثُمَّ خَرَجْنَا حَتَّى دَخَلْنَا عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فَوَجَدْنَاهُ يُصَلِّي الْعَصْرَ فَقُلْتُ يَا عَمِّ، مَا هَذِهِ الصَّلاَةُ الَّتِي صَلَّيْتَ قَالَ الْعَصْرُ، وَهَذِهِ صَلاَةُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم الَّتِي كُنَّا نُصَلِّي مَعَهُ‏.‏
অনুবাদ: হযরত আবু উমামা (রা.) বলেন, আমরা ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের সাথে যুহরের নামাজ আদায় করে বের হলাম এবং আনাস ইবনে মালেকের কাছে গেলাম। দেখলাম তিনি আসরের নামাজ আদায় করছেন। আমি জিজ্ঞেস করলাম, চাচাজান! আপনি এ কোন ওয়াক্তের নামাজ আদায় করলেন? তিনি বললেন, আসর। আর এভাবেই আমরা আল্লাহর রাসূল (সা.)-এর সাথে নামাজ আদায় করেছি।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য تُكَفِّرُهَا الصَّلاَةُ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৫, ১৬৩, ২৫৪, ৫০৭, ১০৫১ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَذْهَبُ الذَّاهِبُ مِنَّا إِلَى قُبَاءٍ، فَيَأْتِيهِمْ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ‏.‏
 
অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) এমন সময়ে আসরের নামাজ আদায় করতেন যে, সূর্য তখনো (আকাশের) অনেক ওপরে থাকতো। সুতরাং পথচারী বা মদিনার উপকন্ঠে আওয়ালী নামক স্থানের দিকে যাত্রা করতো এবং সেখানকার লোকজনের কাছে পৌঁছার পরও সূর্য (আকাশে) অনেক ওপরে থাকতো। অথচ মদিনার (উপকণ্ঠে অবস্থিত) আওয়ালী নাম জায়গার কোনো কোনো অংশ মদিনা থেকে চার মাইল বা অনুরূপ দূরত্বে অবস্থিত।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য كُنَّا نُصَلِّي الْعَصْرَ ثُمَّ يَذْهَبُ الذَّاهِبُ مِنَّا إِلَى قُبَاءٍ -এর সাথে।
حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ حَدَّثَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ، قَالَ كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ، فَيَذْهَبُ الذَّاهِبُ إِلَى الْعَوَالِي فَيَأْتِيهِمْ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ، وَبَعْضُ الْعَوَالِي مِنَ الْمَدِينَةِ عَلَى أَرْبَعَةِ أَمْيَالٍ أَوْ نَحْوِهِ‏.‏
অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর নবী (সা.)-এর যুগে এমন সময় আসরের নামাজ আদায় করতাম যে নামাজের পর আমাদের কেউ কুক্ষা পর্যন্ত গিয়ে সেখানকার লোকজনের সাথে মিলিত হতো কিন্তু তখনও সূর্য (আকাশে) অনেক ওপরেই থাকতো।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য يُصَلِّي الْعَصْرَ وَالشَّمْسُ مُرْتَفِعَةٌ حَيَّةٌ -এর সাথে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: পূর্বের বাবে এটা অতিবাহিত হয়েছে যে, জোহরের ওয়াক্ত শেষ হতেই আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়। সেখানে আছে-وقت الظهر ما لم يحضر العصر যা দ্বারা ইমাম বুখারীর মনোভাব ও ঝোঁক বুঝা গেছে যে, জোহর ও আসরের মাঝে না কোনো সম্মিলিত ওয়াক্ত আছে না আছে কোনো অস্পষ্ট ওয়াক্ত। বরং জোহরের ওয়াক্ত শেষ হতেই আসরের ওয়াক্ত শুরু হয়ে যায়। অর্থাৎ ইমাম বুখারী আসরের আউয়াল ওয়াক্ত বর্ণনা করে দিয়েছেন, এখন এ বাবে তিনি মুস্তাহাব ও উত্তম ওয়াক্ত সম্পর্কে আলোচনা করছেন যে, আসরের নামাজে তাড়াতাড়ি উত্তম না বিলম্বে?
ইমাম বুখারীর ঝোঁক বাহ্যতঃ তাড়াতাড়ির দিকেই মনে হচ্ছে। তিনি এ বাবে আটটি রেওয়ায়েত উল্লেখ করেছেন, কিন্তু এ রেওয়ায়েতসমূহের কোনো একটি রেওয়ায়েত এমন নেই যা তাড়াতাড়ি বা আউয়াল ওয়াক্তে পড়ার কথা স্পষ্ট আছে। এ কারণে তিনি এ সমস্ত সম্ভাব্য হাদীস দ্বারাই দলীল দিয়ে চলেছেন।  


ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ: প্রথম তিনটি রেওয়ায়েত হযরত আয়েশা (রা.) হতে বর্ণিত। যার সারমর্ম হলো রাসূল  (সা.)  আসরের নামাজ এমন সময়ে আদায় করেছেন যখন রোদ হযরত আয়েশা (রা.)-এর কক্ষের মেঝের উপর ছিল, বাহিরে বের হতো না। দ্বিতীয় ও তৃতীয় রেওয়ায়েতে আছে ছায়া হুজরা থেকে দেয়ালের উপর ওঠেনি।
জবাব:
১.    ইমাম ত্বহাবী বলেন, হুজরাটি ছিল ছোট, তাই রোদ সূর্যূাস্তের কাছাকাছি সময় পর্যন্ত ঘরের ভিতর থাকত। ( ত্বহাবী আউয়াল- باب صلوة العصر هل تعجل او تؤخر
২.    والشمس في حجرتها দ্বারা এমন রোদ উদ্দেশ্য যা হুজরা শরীফের দরজার দিক থেকে আসছিল। হযরত আয়েশা (রা.)-এর কক্ষের দরজা ছিল পশ্চিমে। তবে যেহেতু ছাদ নীচু ছিল এবং দরজা ছিল ছোট। তাই সূর্যের আলো এ কক্ষে তখনই পৌঁছতে পারে যখন সূর্য পশ্চিমে কিছুটা নীচুতে এসে পড়ে। অতএব এ হাদীস হানাফী মতানুসারে আসরের নামাজ বিলম্বে আদায় করার প্রমাণ হলো, জলদি আদায় করার নয়।
৩.    হযরত আলী বিন শাইবানী (র.) বলেন, আমরা মদিনা শরীফে হুযুর (সা.)-এর দরবারে হাজির হলাম, দেখতে পেলাম যে, তিনি আসর পড়তে বিলম্ব করতেন, যতক্ষণ সূর্য স্পষ্ট ও পরিষ্কার থাকত। (আবু দাউদ খ. ১, পৃ. ৫৯) এ হাদীস আসর নামায বিলম্বে আদায়ের ব্যাপারে একেবারেই স্পষ্ট।
৪.    হযরত উম্মে সালামা (রা.)-এর এ হাদীস- হযরত উম্মে সালামা (র.) বলেন, রাসূলুল্লাহ  (সা.)  তোমাদের চেয়ে জোহরের নামাজ অধিক জলদি আদায় করতেন, আর তোমরা তার চেয়ে অধিক জলদি আসরের নামাজ আদায় কর।
মোটকথা, হাদীস উভয় পক্ষেই আছে, কোনো হাদীস দ্বারা আসরের নামায জলদি আদায় কারা আবার কোনো হাদীস দ্বারা বিলম্বে আদায় করা বুঝায়।
হুযুর (সা.)-এর অকাট্য হুকুম কোনো এক দিকে নয়। তাই মুজতাহিদ ইমামগণ কারীনা ও ইশারা দেখে ইজতিহাদ দ্বারা এক দিককে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন। ইমাম শাফেয়ীর একটি মূলনীতি হলো আউয়াল ওয়াক্তে আদায় করা উত্তম। তাই তিনি আসরের নামায তাড়াতাড়ি পড়াকে মুস্তাহাব বলেন।
ইমাম আবু হানিফা (রা.)-এর দৃষ্টি সর্বপ্রথম কুরআনের দিকে গিয়ে পড়েছে। তিনি রেওয়ায়েতের বিভিন্নতার সময় ঐ রেওয়ায়েতকে প্রাধান্য দেন, যেগুলি কুরআনের সাথে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ।
৫.    কুরআনের আয়াত- وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس و قبل غروبها তোমরা সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের পূর্বে আপন প্রতিপালকের তাসবীহ পাঠ কর। সূর্যাস্তের পূর্বে ফজরের নামাজ, আর সূর্যোদয়ের পূর্বে আসরের নামাজ পড়া হয়। পরিভাষায় قبل ও بعد দ্বারা সংযুক্ত কালই উদ্দেশ্য হয়। অধিক পূর্ব বা পর বুঝায় না। এ আয়াতের দাবী হলো ফজর ও আসর বিলম্বে পড়া মুস্তাহাব হওয়া। যা হানাফীদের মাযহাব।
৬.    اقم الصلوة طرفي النهار অর্থাৎ দিনের দুই প্রান্তে নামাজ কায়েম কর। এ দ্বারাও আসর বিলম্বে পড়া বুঝা  যায়।
৭.    কিয়াস- অর্থাৎ কিয়াসের দাবীও হলো  আসর বিলম্বে পড়া।  কারণ, আসরের পরে নফল নামাজ নিষিদ্ধ। তাই তার বিলম্বের সূরতে নফল নামাজের জন্য অধিক সময় পাওয়া যায়। আর আসর তাড়াতাড়ি পড়ার সূরতে নফল নামাজের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
চতুর্থ রেওয়ায়েতে আছে
শাফেয়ীগণ এ হাদীসটি আসরের নামাজ জলদি আদায় করা মুস্তাহাব- এ মতের সমর্থনে পেশ করেন। কিন্তু হাদীসটি নিয়ে চিন্তা করলে দেখা যায়। তাদের এ প্রমাণ পূর্ণাঙ্গ হচ্ছে না। কারণ حجــره শব্দটি মূলত ছাদহীন ঘরের জন্য ব্যবহৃত হয়। অবশ্য কখনো ছাদযুক্ত ঘরের জন্যও ব্যবহৃত হয়ে থাকে। এখানে উভয়টার সম্ভাবনাই রয়েছে। হাফিজ ইবনে হাজার (র.) বলেন, এখানে ছাদযুক্ত ঘরই উদ্দেশ্য। আর এ কক্ষ দ্বারা হযরত আয়েশা (রা.)-এর কক্ষ উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে এটা সুস্পষ্ট যে, সূর্যের আলো কক্ষের অভ্যন্তরে পৌছাঁর পথ কেবল দরজাই হতে পারে। হযরত আয়েশা (রা.)-এর কক্ষের দরজা ছিল পশ্চিমে। তবে যেহেতু ছাদ নীচু ছিল এবং দরজা ছিল ছোট। তাই সূর্যের আলো এ কক্ষে তখনই পৌঁছতে পারে যখন সূর্য পশ্চিমে কিছুটা নীচুতে এসে পড়ে। অতএব এ হাদীস হানাফী মতানুসারে আসরের নামাজ বিলম্বে আদায় করার প্রমাণ হলো, জলদি আদায় করার নয়। আর যদি এর দ্বারা ছাদহীন ঘর উদ্দেশ্য নেয়া হয়- যেমন আল্লামা সামহূদী (র.) وفاء الـوفـاء بـاخـبـار دارالـمـصـطـفـى নামক কিতাবে লিখেছেন, এ হাদীছে حـجـر দ্বারা ছাদহীন ঘর উদ্দেশ্য। এক্ষেত্রে সূর্যের আলো ঘরে পৌঁছার পথ ছাদের দিক থেকে হবে। তবে যেহেতু দেয়ালগুলো ছোট ছিল, তাই অনেকক্ষণ পর্যন্ত সূর্য কক্ষের উপরে থাকত। সূর্যের আলো দেয়ালে ওঠা একেবারে শেষ সময়ে হত। তাই এর দ্বারা আসরের নামাজ জলদি আদায় করার প্রমাণ দেয়া যায় না।
আসরের নামাজ বিলম্বে আদায় করা মুস্তাহাব- হানাফীদের এ মতের দলিল-
১.    
قـالـت كـان رسـول اللـه صلـى اللـه علـيـه وسلـم اشـد تـعـجـيـلا للـظـهـر مـنكـم وانـتـم اشـد تـعـجـيـلا للـعـصـر منه -
২.    মুসনাদে আহমাদে উল্লেখিত হযরত রাফে ইবনে খাদীজ (রা.) হাদীস, যদ্বারা আসরের নামাজ বিলম্বে আদায় করা মুস্তাহাব বুঝা যায়। হাদীসটি এরূপ :
ان رسـول اللـه صلـى اللـه علـيـه وسلـم كـان يامـر بـتـاخـيـر صـلاة الـعـصـر ـ
রাসূূলুল্লাহ  (সা.)   আসরের নামাজ বিলম্বে আদায় করার নির্দেশ দিতেন।
৩.    মু‘জামে তাবারানীতে বর্ণিত হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রা.)-এর আমল- তিনি আসরের নামাজ বিলম্বে আদায় করতেন। আল্লামা হায়ছামী (র.) মাজমাউয যাওয়ায়েদ। কিতাবে লিখেছেন- رجـالـه مـوثـقـون এ হাদীসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য। এছাড়াও মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা ইত্যাদিতে হযরত আলী (রা.)-এর অনুরূপ আমলের কথা পাওয়া যায়।
৪.    কুরআনের আয়াত- وسبح بحمد ربك قبل طلوع الشمس و قبل غروبها তোমরা সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের পূর্বে আপন প্রতিপালকের তাসবীহ পাঠ কর। সূর্যাস্তের পূর্বে ফজরের নামাজ, আর সূর্যোদয়ের পূর্বে আসরের নামাজ পড়া হয়। পরিভাষায় قبل ও بعد দ্বারা সংযুক্ত কালই উদ্দেশ্য হয়। অধিক পূর্ব বা পর বুঝায় না। এ আয়াতের দাবী হলো ফজর ও আসর বিলম্বে পড়া মুস্তাহাব হওয়া। যা হানাফীদের মাযহাব।
৫.    اقم الصلوة طرفي النهار অর্থাৎ দিনের দুই প্রান্তে নামাজ কায়েম কর। এ দ্বারাও আসর বিলম্বে পড়া বুঝা  যায়।
৬.    কিয়াস- অর্থাৎ কিয়াসের দাবীও হলো  আসর বিলম্বে পড়া।  কারণ, আসরের পরে নফল নামাজ নিষিদ্ধ। তাই তার বিলম্বের সূরতে নফল নামাজের জন্য অধিক সময় পাওয়া যায়। আর আসর তাড়াতাড়ি পড়ার সূরতে নফল নামাজের দরজা বন্ধ হয়ে যায়।
চতুর্থ হাদীসে আছে  أَقْصَى الْمَدِينَةِ আর পঞ্চম  হাদীসে আছে الي بني عمرو بن عوف এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো কুবাবাসী।
এ উভয় রেওয়াযেত দ্বারা বাহ্যত আসরের নামায জলদি আদায়ের দলীল সঠিক নয়। কারণ, তাদের বাসস্থান ছিল কুবায়। যা মসজিদে নববী হতে তিন মাইল দূরে অবস্থিত। যা অতিক্রম করতে বেশী থেকে বেশী এক ঘণ্টা সময় লাগার কথা। সুতরাং দুই মিছলে আসরের নামাজ পড়ে গিয়ে অতি সহজেই আবার সেখান হতে ফিরে আসা সম্ভব।
সর্বশেষ হাদীসে আছে عوالي  
الْعَوَالِي : এটি عالية-এর বহুবচন। অর্থ, উঁচু। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো মদিনার আশপাশের জনপদসমূহ, যা নজদের দিকে উপরের দিকে অবস্থিত। এর বিপরীত তিহামার দিককে سوافل বলা হয়।
أَرْبَعَةِ أَمْيَالٍ : এটি হলো ইমাম যুহরীর কওল। আর এটা স্পষ্ট যে, সকল বস্তীই চার মাইল দূরে ছিল না। আবু দাউদের রেওয়ায়েতে দুই বা তিন মাইলের কথা স্পষ্ট রয়েছে। তাছাড়া এটা মানুষের চলার গতির উপর নির্ভর করে। দ্রতগামী ব্যক্তির জন্য এক ঘণ্টায় চার মাইল অতিক্রম করা কঠিন কিছু নয়। তাছাড়া গরমকাল ও শীতকালের পার্থক্য হবে। প্রবল ধারণা যে, عوالي দ্বারাও উদ্দেশ্য হলো কুবা। তাহলে তো আর কোনো প্রশ্নই থাকে না।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.