باب إِثْمِ مَنْ فَاتَتْهُ الْعَصْرُ
পরিচ্ছেদ: আসরের নামাজ কাযা করার গুনাহ
حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ نَافِعٍ، عَنِ ابْنِ عُمَرَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ " الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ "
অনুবাদ: হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বলেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) বলেছেন, যার আসরের নামাজ ফউত (কাযা) হলো তার যেন পরিবার ও সম্পদ সবই ধ্বংস হয়ে গেলো।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য الَّذِي تَفُوتُهُ صَلاَةُ الْعَصْرِ كَأَنَّمَا وُتِرَ أَهْلَهُ وَمَالَهُ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ বাব এবং সামনে আগত বাব দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো আসরের নামাজের গুরুত্ব ও ফযীলত বর্ণনা করা। বিশেষভাবে উৎসাহ প্রদানের কারণ হলো আসরের নামাজকে صلوة الوسطي বলা হয়েছে। যার সংরক্ষণের জন্য পবিত্র কুরআনে বিশেষভাবে নির্দেশ রয়েছে- حافظوا علي الصلوات والصلوة الوسطي
আসরের নামাজের বিশেষত্বের কারণ: আসরের সময়টি হলো সকল মৌসুমে ব্যস্ততার সময়। ব্যবসায়ী বা কৃষক, শ্রমিক হোক বা কারিগর সবশ্রেণীর লোকের ব্যস্ততার সময়। তাছাড়া এটি হলো ফেরেশতাদের উপস্থিতি এবং বরকত অবতীর্ণ হওয়ার সময়। তাই শরয়ী ওজর ও অপরাগতা ব্যতীত আসরের নামাজ ফওত হওয়া গুনাহের কারণ। এ নামাজে গাফলতী ও অবহেলার উপর শাস্তির ধমক এসেছে। তাই ইমাম বুখারী এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
وتـراهـلـه ومـالـه : আল্লামা নবভী বলেন- بنصب اللامين ورفعهما والنصب هو الصحيح المشهور الذي عليه الجمهور (شرح مسلم)
একই কথা বলেছেন আল্লামা আইন (র.)- بنصب اللامين في رواية الاكثرين لانه مفعول ثان لقوله وُتِرَعلي صيغة المجهول الخ
অর্থাৎ اَهْلَهُ و مالَهُ উভয়ের লামকে নসব ও রফা উভয়ই দেয়া দুরস্ত আছে। কিন্তু জমহূরের মতে প্রসিদ্ধ হলো নসব। আর اهـلـه ومـالـه-কে নসব দিয়ে পড়া হলে তখন وُتِرَ অর্থ হবে হ্রাস করা; কমানো। তখন দুই মাফউলের দিকে মুতাআদ্দী হবে। আর اهـلـه ومـالـه দ্বিতীয় মাফউল হওয়ার কারণে মানসূব হবে। আর وُتِرَ-এর নায়েবে ফায়েল অর্থাৎ مفعول ما لم يسم فاعله গোপন হবে। যা الذي-এর দিকে প্রত্যাবর্তিত হবে। যেমন কুরআনে আছে- لن يتِرَكم اعمالكم اي لن ينقصكم اعمالكم এর দ্বারা ইমাম বুখারী ইঙ্গিত করেছেন দুই মাফউলের দিকে মুতাআদ্দী হওয়ার প্রতি।
দ্বিতীয় সূরত হলো রফার সাথে। অর্থাৎ وُتِرَ اهلُهُ ومالُهُ রফার সাথে পড়া হবে। তখন এক মাফউলের দিকে মুতাআদ্দী হবে। অর্থাৎ اهلُهُ و مالُهُ নায়েবে ফায়ের হওয়ার কারণে মারফূ’ হবে। এমতাবস্থায় অর্থ হবে তার পরিবার-পরিজন ও সম্পদ ছিনিয়ে নেয়া হয়েছে, তার বাড়িঘর লুণ্ঠিত হয়েছে। এদিকে ইঙ্গিত করেছেন ইমাম বুখারী وتر الرجل الخ দ্বারা।
প্রশ্ন : فوت দ্বারা কি উদ্দেশ্য?
উত্তর: এর অনেকগুলি উত্তর রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বাধিক গস্খহণযোগ্য করল হলো- المراد بقواتها تاخيرها عن وقت الجواز بغير عذر الخ অর্থাৎ বিনা ওযরে আসরের নামাযকে জায়েয ওয়াক্ত হতে বিলম্ব করা। (অর্থাৎ সময় শেষ হওয়ার পর পড়া)
প্রশ্ন: এ ধমক ও গুনাহ ইচ্ছাকৃত ফওতকারী না অনিচ্ছাকৃত ফওতকারীর জন্য?
উত্তর: অধিকাংশের মতে এটি ساهي তথা ভুলক্রমে ফওতকারীর জন্য প্রযোজ্য হবে। এর কারণ হলো ইমাম তিরমিযী এ হাদীসের উপর বাব গঠন করেছেন- باب ماجاء في السهو عن وقت العصر তাছাড়া ইমাম বুখারীর ঝোঁকও সেদিকেই মনে হচ্ছে। কারণ, ইচ্ছাকৃত ফওতকারীর জন্য তিনি নিচেই পৃথক বাব কায়েম করেছেন+- باب اثم من ترك العصر
এ দ্বারা ঐ সমস্ত লোকদের অভিযোগও খণ্ডন হয়ে যাবে, যারা ইমাম বুখারীর উপর শিরোনাম বারংবারের অভিযোগ করে থাকেন। কেননা, প্রথম শিরোনাম হবে অনিচ্ছাকৃতের জন্য, আর পরের বাবটি হবে ইচ্ছাকৃত ফওতকারীর জন্য।
প্রশ্ন: যদি এর দ্বারা উদ্দেশ্য অনিচ্ছাকৃত ফওতকারী হয় - যা একটি غير اختياري বিষয়। তাহলে ناسي-র উপর গুনাহ হওয়ার কি উদ্দেশ্য? যে সম্পর্কে হাদীসে এসেছে- ان الله رفع عن امتي الخطاء والنسيان
উত্তর: ফওত যদিও অনিচ্ছাকৃত, কিন্তু যে সমস্ত কারণে অবহেলা হয়েছে সেই কারণগুলি তো অনিচ্ছাকৃত নয়। ধন-সম্পদ, পরিবার-পরিজন ইত্যাদির জন্য ব্যস্ততা এ কারণে না হওয়া চাই যে, এর কারণে আসরের নামাজ ফওত হয়ে যায়। তাই তো যে দুটি কারণে এ অবহেলা হয়েছে হাদীসে তাদেরই আলোচনা হয়েছে- وتر اهله و ماله
কোন মন্তব্য নেই