باب الصَّلاَةِ خَلْفَ النَّائِمِ
পরিচ্ছেদ: ঘুমন্ত ব্যক্তির পিছনে নামায পড়ার বর্ণনা
حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا هِشَامٌ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبِي، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي وَأَنَا رَاقِدَةٌ مُعْتَرِضَةٌ عَلَى فِرَاشِهِ، فَإِذَا أَرَادَ أَنْ يُوتِرَ أَيْقَظَنِي فَأَوْتَرْتُ.
অনুবাদ: উম্মুল মুমিনীন হযরত আয়িশা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) নামায আদায় করতেন এবং আমি তার বিছানার ওপর আড়াআড়ি শুয়ে ঘুমাতাম। তিনি যখন বিতর আদায় করতে ইচ্ছা করতেন, তখন আমাকে জাগাতেন। আমি (তার সাথে) বিতর আদায় করতাম।
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য يُصَلِّي وَأَنَا رَاقِدَةٌ مُعْتَرِضَةٌ -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৫৫৬, ৭২, ৭৩, ৭৪, ১৩৬, ১৬১, ৯২৮ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
প্রশ্ন: শিরোনাম হলো الباب خلف النائم ‘ঘুমন্ত পুরুষের পিছনে নামায পড়া’ আর হাদীসে আছে خلف النائمة ‘ঘুমন্ত মহিলার পিছনে নামায পড়ার কথা’ তাহলে উভয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য হলো কিভাবে?
উত্তর:
১. শরিয়তের বিধিবিধানে পুরুষ-মহিলা সমান। কিন্তু ঐ সমস্ত বিধান ব্যতিক্রম যা দলীল দ্বারা বিশিষ্ট হয়েছে।
২. যখন ঘুমন্ত মহিলার পিছনে নামায পড়া জায়েয হবে, তাহলে ঘুমন্ত পুরুষের পিছনে নামায পড়া তো আরো উত্তমরূপেই জায়েয হবে।
৩. শিরোনামেরخلف النائم দ্বারা উদ্দেশ্য হলো خلف الشخص ‘ব্যক্তির পিছনে’ সে পুরুষ হোক বা মহিলা। - ওমদাতুল কারী
শিরোনামের উদ্দেশ্য: যেহেতু আবু দাউদ, ইবনে মাজাহর রেওয়ায়েতে ঘুমন্ত ও নামাযী ব্যক্তির পিছনে নামায পড়ার নিষেধাজ্ঞা বুঝা যায়, তাই ইমাম বুখারী স্পষ্ট করে দিলেন যে, এ নিষেধাজ্ঞাটা সাধারণভাবে নয়; বরং তা বিশ্লেষণমূলক। অর্থাৎ যদি ঘুমন্ত ব্যক্তির কোনো আচরণ দ্বারা নামাযী ব্যক্তির ধ্যান নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আবু দাউদে হযরত ইবনে আব্বাস (রা.)-এর রেওয়ায়েত রয়েছে-قال النبي (ص) لا تصلوا خلف النائم ولا المتحدث নবী করীম (সা.) ইরশাদ করেছেন- ঘুমন্ত ব্যক্তি ও কথোপকথনরত ব্যক্তির পিছনে নামায পড়োনা। (আবু দাউদ খ. ১, পৃ. ১০১)
ইবনে মাজায় হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) হতে রেওয়ায়েত রয়েছে-نهي رسول الله (ص) ان يصلي خلف المتحدث والنائم ‘নবী করীম (সা.) ঘুমন্ত ব্যক্তির পিছনে নামায পড়তে নিষেধ করেছেন।
ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এ রেওয়ায়েতসমূহেও ঐ ব্যাখ্যা করতে হবে। উদাহরণতঃ ঘুমন্ত ব্যক্তি জোরে জোরে নাক ডাকাচ্ছে। অথবা আলাপরত ব্যক্তি জোরে জোরে কথা বলছে। যা দ্বারা নামাযীর ধ্যান নষ্ট হয়ে যায়। অথবা ঘুমন্ত ব্যক্তি হতে বায়ু ইত্যাদি নির্গত হতে পারে। যা দ্বারা খুশু’তে ব্যাঘাত সৃষ্টি হতে পারে। তাহলে এমন সূরতসমূহে নামায না পড়া চাই। কারণ, এতে নামাজের মধ্যে আল্লাহর সাথে সম্পর্কের ব্যাঘাত সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পক্ষান্তরে ঘুমন্ত বা আলাপরত ব্যক্তি হতে এ ধরনের কোনো কাজের সম্ভাবনা না থাকে তাহলে নামায পড়া জায়েয হবে। যেমন ইমাম বুখারী হযরত আয়েশা (রা.)-এর রেওয়ায়েত দ্বারা প্রমাণ করে দিয়েছেন, এরকম হাদীস আরো সামনে আসছে।
কোন মন্তব্য নেই