Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুস সলাহঃ ইশার পর গল্প-গুজব করা মাকরূহ হওয়ার বর্ণনা

 باب مَا يُكْرَهُ مِنَ السَّمَرِ بَعْدَ الْعِشَاءِ

 
পরিচ্ছেদ: ইশার পর গল্প-গুজব করা মাকরূহ হওয়ার বর্ণনা
السَّامِرُ مَنَ السَّمَرِ و الجَمِيعُ السَّمَّارُ و السَّامِرُ ههُنَا فِي مَوضع الجَمِيعِ
سَامِر শব্দটি (কুরআনের সূরা মুমিনূনের শব্দ) سمر হতে উ™ভূত। যার বহুবচন سُمَّار ও سَامِر ; এ আয়াতে বহুবচনের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْمِنْهَالِ، قَالَ انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي إِلَى أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ فَقَالَ لَهُ أَبِي حَدِّثْنَا كَيْفَ، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ قَالَ كَانَ يُصَلِّي الْهَجِيرَ وَهْىَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الأُولَى حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي الْعَصْرَ، ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى أَهْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ، وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي الْمَغْرِبِ‏.‏ قَالَ وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ الْعِشَاءَ‏.‏ قَالَ وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا، وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ أَحَدُنَا جَلِيسَهُ، وَيَقْرَأُ مِنَ السِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু মিনহাল (রা.) বর্ণনা করেন। আমি ও আমার পিতা আবু বারযা আসলামীর কাছে গেলাম। আমার পিতা তাকে বললেন, আল্লাহর রাসূল (সা.) কিভাবে (কখন কখন) ফরয নামাজসমূহ আদায় করতেন তা আমাদের কাছে বর্ণনা করুন। তিনি (আবু বারযা আসলামী) বললেন, তিনি যুহরের নামাজ যাকে তোমরা আলউলা বলে থাকো এমন সময় আদায় করতেন যখন সূর্য ঢলে পড়তো, আসরের নামাজ এমন সময় আদায় করতেন যে, আমাদের কেউ (ইচ্ছা করলে নামাজের পর) মদিনার প্রান্ত ভাগে তার বাসস্থানে পরিবার-পরিজনদের কাছে গিয়ে সূর্যের উষ্ণতা থাকতে থাকতে আবার ফিরে আসতে পারতো। (আবুল মিনহাল বলেন,) মাগরিব সম্পর্কে তিনি কি বলেছিলেন তা আমি ভুলে গিয়েছি। ইশার নামাজ দেরীতে আদায় করা তিনি উত্তম মনে করতেন এবং এশার নামাজের পূর্বে ঘুমানো বা পরে কথাবার্তা বলা মাকরুহ বা অপছন্দনীয় মনে করতেন। আর ফজরের নামাজ আদায় করে যখন ফিরতেন তখন লোকে তার পাশের ব্যক্তিকে দেখে চিনতে পারতো। তিনি ফজরের নামাজে ষাট থেকে একশ আয়াত পর্যন্ত কিরা'আত তিলাওয়াত করতেন।
প্রাসঙ্গিক আলোচনা
হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য হবে وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا -এর সাথে।
হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৭৭, ৭৮, ৮০, ৮৪ ও ১০৬ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: এ শিরোনাম দ্বারা ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো বাবে বর্ণিত হাদীসাংশের ব্যাখ্যা করা। তাহলো- وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا ইমাম বুখারী শিরোনামে السمر শব্দ উল্লেখ করে ইঙ্গিত করে দিলেন যে, ইশার পর কথা বলার নিষেধাজ্ঞা দ্বারা যে কোনো কথা উদ্দেশ্য নয়; বরং নিষিদ্ধ ও মাকরূহ হলো سمر তথা গল্প-গুজব বা অনর্থক কথাবার্তা, যাতে কল্যাণের কোনো দিকই নেই, না দীনী না দুনিয়াবী না সমাজগঠনমূলক। বরং তা জাহিলীযুগের ন্যায় অনর্থক কল্প-কাহিনী ইত্যাদি হয়।
ব্যাখ্যা:
হাফিয আসকালানী (র.) বলেন- المراد بالسمر في الترجمة ما يكون في امر مباح الخ অর্থাৎশিরোনামের শব্দ سمر দ্বারা উদ্দেশ্য হলো জায়েয কথা বলা মাকরূহ হওয়া। নতুবা হারাম কথা-বার্তা তো সবসময়ই নিষিদ্ধ। যেমন গীবত, মিথ্যা ইত্যাদি।
السَّامِرُ مَنَ السَّمَرِ : যেহেতু ইমাম বুখারী হলেন একজন বিশেষজ্ঞ হাফিজুল কুরআন। তাই যখন হাদীসের মধ্যে কোথাও কুরআনের শব্দ এসে যায় তখন ইমাম বুখারীর জেহেন সেদিকে দ্রুত ধাবিত হয়। এবং স্বীয় স্বভাবসূলভ তার তাফসীরের প্রতি মনোনিবেশ করেন। যেমন এ শব্দটি সূরা মুমিনূনে আছে+-
قَدْ كَانَتْ اٰيٰتِىْ تُتْلٰى عَلَيْكُمْ فَكُنْتُمْ عَلٰۤى اَعْقَابِكُمْ تَنْكِصُوْنَ مُسْتَكْبِرِيْنَۖ ق بِه سٰمِرًا تَهْجُرُوْنَ     [আমার আয়াতসমূহ তোমাদেরকে আবৃত্তি করে শুনানো হতো, তখন তোমরা পশ্চাৎ দিকে ধাবিত হতে। অহংকার করতে করতে, কুরআনকে খোশ-গল্পের উপকরণে পরিণত করতে করতে, (এবং এর প্রতি) অযথা উক্তি করতে করতে।]
ইমাম বুখারী বলতে চাচ্ছেন যে, আয়াতে কারিমায় যে سامر শব্দ এসেছে তা سمر হতে উ™ভূত, যার অর্থ হলো রাতের বেলা কিস্সা-কাহিনী বলা। তিনি আরো বলেন কুরআনে سامر শব্দটি বহুবচনের অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.