অনুবাদ: হযরত সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) নামাজ শুরু করার সময় কাঁধ বরাবর দুই হাত উঠাতেন। রুক‚র জন্য তাকবীর বলার সময় এবং রুক‚ থেকে মাথা উঠানোর সময় অনুরূপভাবেই দুই হাত উঠাতেন এবং সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ ও রাব্বান লাকাল হামদ বলতেন। কিন্তু সিজদার সময় তিনি অনুরূপ (হাত উঠানোর কাজ) করতেন না।
পরিচ্ছেদ: তাকবীরে তাহরীমায় নামাজ শুরুর সাথে সাথে দুই হাত উত্তোলন করা; (অর্থা)ৎ দুই হাত উত্তোলন না আগে হবে না পরে; বরং সাথে সাথে হবে)
অনুবাদ: হযরত সালেম ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) তার পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন। আল্লাহর রাসূল (সা.) নামাজ শুরু করার সময় কাঁধ বরাবর দুই হাত উঠাতেন। রুক‚র জন্য তাকবীর বলার সময় এবং রুক‚ থেকে মাথা উঠানোর সময় অনুরূপভাবেই দুই হাত উঠাতেন এবং সামি আল্লাহু লিমান হামিদাহ ও রাব্বান লাকাল হামদ বলতেন। কিন্তু সিজদার সময় তিনি অনুরূপ (হাত উঠানোর কাজ) করতেন না।
শিরোনামের উদ্দেশ্য: শাহ ওয়ালিউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী (র.) বলেন, ইমাম বুখারীর উদ্দেশ্য হলো এটা প্রমাণ করা যে, দুই হাত উত্তোলন হবে তাকবীরে তাহরীমার সাথে সাথে। আগেও নয় পরেও নয়। এটা জুমহূরের মতে সুন্নত।
ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ
‘রফয়ে ইয়াদাইন’ কখন করতে হবে?
১. জুমহূরের মতে ‘রফয়ে ইয়াদাইন’ নামাজ শুরুর সাথে সাথে সুন্নত।
২. ইমামত্রয় (শাফেয়ী, মালেক ও আহমদের এক কওল) ‘রফয়ে ইয়াদাইন’ ও তাকবীরের তাহরীমার মধ্যে مقارنت ও معيت হতে হবে। তাকবীরের সাথে সাথে ‘রফয়ে ইয়াদাইন’ করতে হবে। কতক হানাফীও এ মতকে গ্রহণ করেছেন।
৩. হানাফীদের প্রাধান্যযোগ্য কওল হলো আগে ‘রফয়ে ইয়াদাইন’ করবে তারপর তাকবীরে তাহরীমা বলতে হবে।
ইমাম বুখারী যে রেওয়ায়েত উলেখ করেছেন : كان يرفع يديه حدو منكبيه اذا افتتح الصلوة এর দ্বারা ‘রফয়ে ইয়াদাইন’-এর ক্ষেত্রে معيت ও مقارنة প্রামাণিত হয়। কেননা ‘রফয়ে ইয়াদাইন’-এর জন্য افتتح الصلوة হলো যরফ। আর ظرف ও مظروف একই সঙ্গে হওয়া আবশ্যক। এর দ্বারা বুঝা গেল যে, এ মাসআলায় ইমাম বুখারী শাফেয়ী ও মালেকীদের সাথে রয়েছেন।
হানাফীদের দলীল: আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.)-এর রেওয়ায়েত :كان رسول الله (ص) اذا قام للصلوة رفع يديه حتي تكونا يحذو منكبيه ثم كبَّر (মুসলিম খ. ১, পৃ. ১৬৮)
এ হাদীসে স্পষ্ট রয়েছে যে, প্রথমে দুই হাত কাঁধ বরাবর উঠাতেন, তারপর তাকবীর বলতেন।
এ হাদীসে ‘রফয়ে ইয়াদাইন’-এর তিনটি স্থানের কথা উলেখ রয়েছে। ১. তাকবীরে তাহরীমার সময়। যা উপরে উলিখিত হয়েছে। ২. রুকুতে যাওয়ার সময়। ৩. রুকু হতে মাথা উঠানোর সময়। শেষোক্ত দুটির আলোচনা পরবর্তী বাবের অধীনে আসছে। ইনশাআল্লাহ
‘রফয়ে ইয়াদাইন’-এর হেকমত: এ সম্পর্কে তিনটি হেকমত বর্ণিত হয়েছে। যথা:
১. হিদায়া গ্রন্থকার বলেন, প্রথমে ‘রফয়ে ইয়াদাইন’ করবে, এর দ্বারা غير الله-র নফী হবে। অর্থাৎ হাত উত্তোলন করে গায়রুল্লাহ থেকে বড়ত্বের নফী হয়ে গেল। এরপর তাকবীর অর্থাৎ الله اكبر বলার দ্বারা আল্লাহর তা‘আলার বড়ত্ব, মাহাত্ম্য ও শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ হবে। আর মূলনীতি হলো نفي অগ্রবর্তী হয় اثبات-এর উপর। যেমন لا اله الا الله-এর মধ্যে প্রথমে নফী রয়েছে পরে اثبات ; তাই কিয়াসের দৃষ্টিতেও ‘রফয়ে ইয়াদাইন’কে তাকবীরের উপর অগ্রবর্তী করা উচিত।
২. নামাজ আদায়কারীদের কতেক আছে বধির, আবার কতেক অন্ধ। তাই উভয়টিকে জমা করে দেওয়া হয়েছে যেন, বধির যেহেতু ইমামের তাকবীর শুনতে পায় না, তাই ইমামের ‘রফয়ে ইয়াদাইন’ দেখে বুঝে নিবে নামাজ শরু হয়েছে।
৩. কেউ কেউ বলেছেন: اشارة الي طرح الدنيا خلف المصلي والاقبال بكليته الي الله تعالي অর্থাৎ এর দ্বারা ইঙ্গিত হলো দুনিয়াকে পশ্চাতে ফেলে পূর্ণাঙ্গরূপে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করার প্রতি। আরো জানতে শায়খুল হাদীস (র.)-এর আওজায দেখুন।
কোন মন্তব্য নেই