Header Ads

সহীহ বুখারীঃ কিতাবুল আজানঃ তাকবীরে (তাহরীমা) ওয়াজিব হওয়া

باب إِيجَابِ التَّكْبِيرِ وَافْتِتَاحِ الصَّلاَة

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، عَنِ الزُّهْرِيِّ، قَالَ أَخْبَرَنِي أَنَسُ بْنُ مَالِكٍ الأَنْصَارِيُّ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم رَكِبَ فَرَسًا، فَجُحِشَ شِقُّهُ الأَيْمَنُ، قَالَ أَنَسٌ ـ رضى الله عنه ـ فَصَلَّى لَنَا يَوْمَئِذٍ صَلاَةً مِنَ الصَّلَوَاتِ وَهْوَ قَاعِدٌ، فَصَلَّيْنَا وَرَاءَهُ قُعُودًا، ثُمَّ قَالَ لَمَّا سَلَّمَ ‏ "‏ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا صَلَّى قَائِمًا فَصَلُّوا قِيَامًا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ‏.‏ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ ‏"‏‏.‏

পরিচ্ছেদ: তাকবীরে (তাহরীমা) ওয়াজিব হওয়া এবং নামাজ শুরু করার বর্ণনা

ব্যাখ্যা: আল্লামা আইনী (র.) বলেন, ইমাম বুখারী যখন জামাতের আহকাম ও কাতার সোজার করা সম্পর্কিত ১২২টি হাদীস উলে­খ করা হতে ফারেগ হয়েছেন, (তন্মধ্যে ৯৬টি মুত্তাসিল হাদীস, ২৬টি তা’লীক, ১৭টি সাহাবী ও তাবেয়ীগণের আছর) এখন তিনি নামাজের সিফত ও তার যাবতীয় বিধিবিধান সম্পর্কিত আলোচনা শুরু করছেন।

আমাদের পাক-ভারত-বাংলাদেশী কপিতে এখানে স্বতন্ত্র্য কোনো শিরোনাম উলে­খ নেই। বাবসমূহের ধারাবাহিকতা চলে আসছে। কিন্তু বুখারী শরীফের মহান ব্যাখ্যাতা আল্লামা আইনী (র.) তার জগদ্বিখ্যাত শরাহ ওমদাতুল কারীতে যে কপি উলে­খ করেছেন তা হলো নিম্নরূপ:

بسم الله الرحمن الرحيم

ابواب صفة الصلوة

باب ايجاب التكبير و افتتاح الصلوة

আল্লামা কুস্তুল্লানী (র.) বলেন, এখানে ايجاب [ওয়জিবকরণ] দ্বারা রূপকার্থে وجوب [ওয়াজিব হওয়া] উদ্দেশ্য। কেননা, ايجاب-এর সম্পর্ক হলো শরিয়ত প্রবর্তকের সাথে; বান্দার সাথে নয়, আর وجوب-এর সম্পর্ক হলো বান্দার সাথে। তাই এখানে ايجاب দ্বারা وجوب উদ্দেশ্য হবে।

অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক আনসারী (রা.) বলেন, এক সময়ে আল্লাহর রাসূল (সা.) ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে যান এবং ডান পাঁজরে আগাত পান। আনাস বলেন, সে সময় তিনি বসে বসে এক (ওয়াক্ত) নামাজ পড়ান। আমরাও বসে বসেই তাঁর পিছনে নামাজ আদায় করলাম। পরে সালাম ফিরে তিনি বললেন, অনুসরণ করার জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হয়। সুতরাং ইমাম দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করলে তোমরাও দাঁড়িয়ে আদায় করবে। রুক‚ করলে তোমরাও রুক‚ করবে, রুক‚ থেকে উঠলে তোমরাও উঠবে, সিজদা করলে তোমরাও সিজদা করবে এবং যখন سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ  (কেউ আল্লাহর প্রশংসা করলে তিনি তা শুনে থাকেন) বলবে, তখন তোমরা رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ (হে আমাদের প্রভু সকল প্রশংসা তোমার জন্যই নির্দিষ্ট) বলবে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: ইসমাঈলী সাহেব তো এখানে প্রশ্ন উত্থাপন করে দিয়েছেন যে, শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য নেই। কারণ, এতে তাকবীরের কোনো আলোচনা-ই নেই।

উত্তর: তার এ অভিযোগ সঠিক নয়। কারণ, ইমাম বুখারী (র.) আনাস বিন মালিক (রা.)-এর এ রেওয়ায়েতটিকে দুটি সনদে উলে­খ করেছেন। প্রথম হাদীসটি শুআইন সংক্ষিপ্ত করে দিয়েছেন। এ হাদীসটিই যা হযরত লাইছ বর্ণনা করেছেন তাতে স্পষ্ট আছে:فاذا كبر فكبروا তাহলে আর কোনো প্রশ্ন রইল না।

কিন্তু প্রশ্ন হয় যে, ইমাম বুখারী শুআইবের হাদীসটি কেন প্রথমে উলে­খ করলেন। তার উত্তর হলো, কারণ এতে হযরত আনাস (রা.) হতে ইমাম যুহরীর শ্রবণের কথা স্পষ্ট রয়েছে। পক্ষান্তরে দ্বিতীয় সনদ যা লাইছ হতে বর্ণিত, তাতে আছে : عن انس بن مالك এতে শ্রবণের কথা স্পষ্ট নেই।

তাছাড়া ইমাম বুখারীর অভ্যাস হলো তিনি অন্যান্য হাদীসের দিকে ইঙ্গিত করে থাকেন। এখানেও তেমনই করেছেন। দুই বাব পরে হযরত ইবনে ওমর (রা.)-এর রেওয়ায়েত আসছে: رأيت النبي (ص) افتتح التكبير في الصلوة الخ

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৫৫৫৫, ৯৬, ১১০-১১১, ১৫০, ২৫৬, ৩৩৫, ৭৮৩, ৭৯৭, ৯৮৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ بْنُ سَعِيدٍ، قَالَ حَدَّثَنَا لَيْثٌ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، أَنَّهُ قَالَ خَرَّ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ فَرَسٍ فَجُحِشَ فَصَلَّى لَنَا قَاعِدًا فَصَلَّيْنَا مَعَهُ قُعُودًا، ثُمَّ انْصَرَفَ فَقَالَ ‏ "‏ إِنَّمَا الإِمَامُ ـ أَوْ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ ـ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا رَفَعَ فَارْفَعُوا، وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ‏.‏ فَقُولُوا رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ‏.‏ وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত আনাস ইবনে মালেক (রা.) বর্ণনা করেছেন, এক সময় আল্লাহর রাসূল (সা.) ঘোড়ার পিঠ থেকে পড়ে গিয়ে ডান পাঁজরে আঘাত পান। সে সময় তিনি বসে বসে আমাদের নামাজে ইমামতি করেন। আমরাও বসেই তাঁর পিছনে এক্তেদা করি। (নামাজ শেষে) তিনি আমাদের দিকে ফিরে বললেন, অনুসরণের জন্যই ইমাম নিযুক্ত করা হয়। সুতরাং সে তাকবীর বললে তোমরাও তাকবীর বলবে, রুক‚ করলে রুক‚ করবে, রুক‚ থেকে মাথা উঠালে তোমরাও উঠাবে, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বললে رَبَّنَا لَكَ الْحَمْدُ বলবে। এবং সিজদা করলে তোমরাও সিজদা করবে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ৫৫, ৯৬, ১১০, ১৫০, ২৫১, ৩৩৫, ৭৮৩, ৭৯৭, ৯৮৯ পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

حَدَّثَنَا أَبُو الْيَمَانِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعَيْبٌ، قَالَ حَدَّثَنِي أَبُو الزِّنَادِ، عَنِ الأَعْرَجِ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ "‏ إِنَّمَا جُعِلَ الإِمَامُ لِيُؤْتَمَّ بِهِ، فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا، وَإِذَا رَكَعَ فَارْكَعُوا، وَإِذَا قَالَ سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ‏.‏ فَقُولُوا رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ‏.‏ وَإِذَا سَجَدَ فَاسْجُدُوا، وَإِذَا صَلَّى جَالِسًا فَصَلُّوا جُلُوسًا أَجْمَعُونَ ‏"‏‏.‏

অনুবাদ: হযরত আবু হুরাইরা (রা.) বলেন, আল্লাহর নবী (সা.) বলেছেন, ইমাম এ জন্য নিযুক্ত হয় যে, তাঁকে অনুসরণ করা হবে। সুতরাং ইমাম তাকবীর বললে, তোমরাও তাকবীর বলবে, রুক‚ করলে রুক‚ করবে, سَمِعَ اللَّهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বললে رَبَّنَا وَلَكَ الْحَمْدُ বলবে, সিজদা করলে সিজদা করবে এবং বসে নামাজ আদায় করলে তোমরাও সবাই বসে নামাজ আদায় করবে।

প্রাসঙ্গিক আলোচনা

হাদীসের সামঞ্জস্য: শিরোনামের সাথে হাদীসের সামঞ্জস্য فَإِذَا كَبَّرَ فَكَبِّرُوا -এর সাথে।

হাদীসের পুনরাবৃত্তি: হাদীসটি বুখারী শরীফে ১০০, ১০১-১০২,  পৃষ্ঠায় বর্ণিত হয়েছে।

শিরোনামের উদ্দেশ্য: বাহ্যত্যঃ এ শিরোনামের দুটি অংশ রয়েছে। এক. তাকবীরে তাহরীমা ওয়াজিব প্রমাণ করা। দুই. নামাজ শুরু করা। এটা তখনই হবে যদি মধ্যবর্তী وটিকে আতফের জন্য ধরা হবে। সুতরাং যদি ওয়াওটিকে আতফের জন্য ধরা হয় তাহলে ইমাম বুখারী হানাফীদের সঙ্গে রয়েছেন। কেননা, আত্ফ مغايرت-কে কামনা করে। অর্থাৎ معطوف عليه  ও معطوف-এর মধ্যে পার্থক্য হবে। তখন উদ্দেশ্য হবে তাকবীরে তাহরীমা افتتاح صلوة থেকে ভিন্ন তথা নামাজের শর্ত, এবং তা নামাজের বাইরের জিনিস। কারণ, মূলনীতি হলো شرط الشئ خارج الشئ

ইমামত্রয়ের নিকট তাকবীরে তাহরীমা হলো নামাজের ভিতরের জিনিস, অর্থাৎ নামাজের রুকন।

হানাফীদের দলীল: হানাফীদের দলীল হলো وذكر اسم ربه فصلي বুঝা গেল মাতূফ আলাইহি মাতূফের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। তাই তাকবীরে তাহরীমা প্রথমে হবে, তারপর নামাজ শুরু হবে। আর একথা স্পষ্ট যে, নামাজ শুরু হওয়ার পূর্বে যা জরুরী ও আবশ্যক সাব্যস্ত করা হবে তা নামাজের শর্ত হবে, রুকন হবে না।

মূলতঃ এটি কোনো জটিল ধরনের মতভেদ নয়। কারণ, শর্ত হোক বা রুকন হোক উভয়টিই ফরজ। একটি হলো ভিতরের ফরজ, আরেকটি হলো বাইরের ফরজ। ইমাম বুখারী শিরোনামে প্রথমে ايجاب التكبير এবং তারপর افتتاح الصلوة উলে­খ করেছেন। যদি তাকবীর নামাজের ভিতরের জিনিস হতো তাহলে তাকবীরের সাথেই নামাজ শুরু হতো।

হাফিজ ইবনে হাজার আসকালানী (র.) বলেন, শিরোনামের ওয়াও টি مع-এর অর্থে নেওয়া হবে। তখন শিরোনাম একটিই হবে। অর্থাৎ তাকবীর তাহরীমা ও নামায শুরুর বাব। এমতাবস্থায় ইমাম বুখারীর ঝোঁক ইমামত্রয়ের সাথে হবে।

তৃতীয় সূরত হলো শিরোনামে ওয়াওটি لام অর্থে হবে। তখন অর্থ হবে নামাজ শুরু করার জন্য তাকবীরে তাহরীমা ‘আল্লাহু আকবার’ বলা ওয়াজিব। আর একথা স্পষ্ট যে, তাকবীরে তাহরীমা ফরজ হওয়ার ব্যাপারে ইমামচতুষ্টয়ের ঐকমত্য রয়েছে। চাই তা ভিতরের ফরজ হোক বা বাইরের ফরজ হোক। তবে এ ওয়াওটি لام অর্থে হওয়াটা সঠিকতার অধিক নিকটবর্তী।

তাকবীরে তাহরীমার শব্দ:

এ তাকবীরে তাহরীমার শব্দ নিয়ে মতভেদ রয়েছে যে, তাকবীরে তাহরীমা কোন শব্দাবলী দ্বারা বলা হবে? এ ব্যাপারে ইমামগণের চারটি মাযহাব রয়েছে।

১. ইমাম মালেক ও আহমদ (র.)-এর মতে তাকবীরের শব্দ হলো শুধু الـلـه اكـبر ইমাম বুখারীর ঝোঁকও এদিকে।

২. ইমাম শাফেয়ী (র.) اللـه الا كـبـر কেও এর অন্তর্ভুক্ত করেন।

৩. ইমাম আবূ ইউসুফ (র.) পূর্বোক্ত দু’টির সাথে اللـه الـكـبـيـر এবং الله كبيرও বলার অবকাশ  আছে।

৪. ইমাম আবূ হানীফা ও ইমাম মুহাম্মদ, ইবরাহীম নখয়ী প্রমুখের মতে, আল্লাহ তা’আলার বড়ত্ব প্রকাশ করে এমন যে কোনো যিকর দ্বারা তাহরীমার ফরজ আদায় হয়ে যায়। যেমন اللـه اعـظـم ـ اللـه اجـل এ জাতীয় শব্দ ব্যবহার করলে নামাজের ফরজ আদায় হয়ে যাবে ।

মোটকথা ইমামত্রয়ের দলীল হলো খবরে ওয়াহিদ, আর ইমাম আবু হানিফার দলীল হলো কুরআনের আয়াত:  وذكـراسـم ربـه فـصلـى ২. ربك فكبر (سورة المدثر) ৩. ولله الاسماء الحسني فادعوه بها (سورة الاعراف)- সে তার প্রভুর নাম স্মরণ করে ও নামাজ পড়ে। এখানে শুধু আল্লাহর নাম লওয়ার কথা বলা হয়েছে, তাকবীরের শব্দের কোনো বিশেষত্ব নেই।

তাছাড়া হাদীসে আছে: امرت ان اقاتل الناس حتي يقولوا لااله الاالله يا لااله الا الرحمن ইত্যাদি দ্বারা ইমান প্রমাণিত হয়ে যায়, যা হলো ইসলামের মূল বিষয়। তাহলে এগুলি দ্বারা ইসলামের শাখা-বিষয় নামায ইত্যাদি তো আরো উত্তমভাবেই সহীহ হওয়া চাই। : উমদাতুল কারী

আর সুনানে ইবনে আবী শাইবায় আছে আবুল  আলিয়ার নিকট  প্রশ্ন করা হয়েছিলযে, আম্বিয়ায়ে কেরাম (আ.) কি দ্বারা নামায আরম্ভ করতেন?

তিনি বললেন তাওহীদ, তাসবীহ ও তাহলীল দ্বারা। : উমদাহ

কিন্তু যেহেতু الله اكبر বলা ওয়াজিব তাই ওয়াজিব তরক করার কারণে নামায পুনরায় পড়া ওয়াজিব হবে। واللـه اعـلـم


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.